বিজয় ভারদ্বাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিজয় ভারদ্বাজ
Vijay Bharadwaj.JPG
২০১১ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বিজয় ভারদ্বাজ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরাঘবেন্দ্ররাও বিজয় ভারদ্বাজ
জন্ম১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাবোলার, কোচ, ধারাভাষ্যকার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২২৩)
১০ অক্টোবর ১৯৯৯ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১২৫)
২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ ওডিআই১৯ মার্চ ২০০২ বনাম জিম্বাবুয়ে
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ১০
রানের সংখ্যা ২৮ ১৩৬
ব্যাটিং গড় ৯.৩৩ ২৭.১৯
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ২২ ৪১*
বল করেছে ২৪৭ ৩৭২
উইকেট ১৬
বোলিং গড় ১০৭.০০ ১৯.১৮
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ১/২৬ ৩/৩৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১১ অক্টোবর ২০২০

রাঘবেন্দ্ররাও বিজয় ভারদ্বাজ (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; কন্নড়: ರಾಘವೇಂದ್ರರಾವ್ ವಿಜಯ್ ಭಾರದ್ವಾಜ್; জন্ম: ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন আর বিজয় নামে পরিচিত বিজয় ভারদ্বাজ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিজয় ভারদ্বাজের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত খেলায় অন্ধ্রের বিপক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে অভিষেক হয়। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে একই মাঠে অনুষ্ঠিত ইরানী ট্রফিতে বাদ-বাকী ভারত দলের বিপক্ষে প্রথম খেলেন।

১৯৯০-এর দশকে কর্ণাটক দল তিনবার রঞ্জী ট্রফির শিরোপা জয় করে। ঐ তিনটি আসরেই কর্ণাটক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ও দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন।[১] নব্বুইয়ের দশকে ভারত দলে সাতজন খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কর্ণাটককে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৯৪ সালে কর্ণাটকের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফিতে বিজয় ভারদ্বাজের অভিষেক ঘটে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত চলমান প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ৯৬ খেলায় অংশ নেন। এ পর্যায়ে ৫৫৫৩ রানসহ ৫৯ উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি। ২০০০ সালে শচীন তেন্ডুলকরের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। এ সফরেই তিনি পিঠের ব্যথায় আক্রান্ত হন ও তা পরবর্তীতে তার খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আঘাত থেকে উত্তরণ ঘটলেও তিনি আর তার স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি। তাসত্ত্বেও, ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪৬৩ রান ও ২১টি উইকেট লাভ করে দলকে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। মধ্যপ্রদেশকে পরাজিত করে তার দল শিরোপা জয় করে। এ পর্যায়ে তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের বিশাল সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হয়। পরিচ্ছন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে অফ স্পিন বোলিংয়েও দক্ষতার সাক্ষর রাখেন। এছাড়াও, ১৯৯৭-৯৮ ও ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে শিরোপার কাছাকাছি ছিল তার দল। ২০০৪-০৫ মৌসুমে কর্ণাটকের পক্ষে সর্বশেষ খেলেন তিনি। কর্ণাটক দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক উপেক্ষিত হলে ২০০৫ সালের রঞ্জী ট্রফির প্লেট লীগে ঝাড়খণ্ডের সদস্যরূপে খেলেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্ট ও দশটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন বিজয় ভারদ্বাজ। ১০ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে মোহালিতে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। তবে, তিনি কেবলমাত্র নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে সপ্রতিভ পদচারণ করেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে হতাশাজনক অংশগ্রহণে তিনি বাসি খবরে পরিণত হন।

ঘরোয়া মৌসুমের ভারতীয় ক্রিকেটে সহস্রাধিক রান সংগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ভারতীয় দলে প্রথমবারের মতো আমন্ত্রিত হন বিজয় ভরদ্বাজ। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে কেনিয়া গমন করেন। কেনিয়ায় নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত এলজি কাপ একদিনের ক্রিকেট সিরিজে অংশ নেন। একদিনের ঐ প্রতিযোগিতায় বোলিং করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। ১২.২০ গড়ে ১০ উইকেট পান ও প্রতিযোগিতার সবগুলো খেলায় নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত থাকা অবস্থায় ৮৯ রান সংগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে ও চূড়ান্ত খেলায় ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।[২] তবে, ঐ খেলায় তার দল পরাজয়বরণ করেছিল।

অবসর[সম্পাদনা]

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। কিন্তু, ২০০৩ সালে ভারত এ-দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরের পর আর কোন আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি তিনি। ২০০২ সালে গুয়াহাটিতে সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেন।

চোখের অস্ত্রোপচারের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়।[৩] ৪ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন বিজয় ভারদ্বাজ। এরপর তিনি কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বেঙ্গালুরুভিত্তিক ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমি থেকে তৃতীয় স্তরের কোচ হিসেবে উত্তীর্ণ হন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের প্রথম তিনটি আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন। কর্ণাটক দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। কেএসসিএ’র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরূপে এক বছর মেয়াদে নিযুক্ত থাকেন। ১০ বছর ধরে টিভিনাইন ও নিউজনাইনের বিশ্লেষকের দায়িত্বে রয়েছেন। কানাড়া টেলিভিশন চ্যানেলে ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে অংশ নেন।[১]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কর্ণাটকের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ২০১৬ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় ওমান দলের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকা দলীয় সঙ্গী সুনীল জোশি’র সাথে ওমান ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।[৪]

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

ওডিআইয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ
ক্রমিক প্রতিপক্ষ মাঠ তারিখ অবদান ফলাফল
কেনিয়া জিমখানা ক্লাব গ্রাউন্ড, নাইরোবি ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ ৪১* (৩০ বল: ৩x৪, ১x৬); ৭-০-৩৮-৩, ১ কট  ভারত ৫৮ রানে বিজয়ী।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Vijay Bharadwaj Ranji Success"। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-০৬ 
  2. "South Africa defeat India in LG Cup final"ESPNcricinfo। (Vijay Bharadwaj ODI success)। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  3. "Two coaches, different routes, same destination"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০২-০৩ 
  4. Duleep describes India tour as ‘good learning experience’ for Oman team
  5. "1999-2000 LG Cup - 4th Match - Kenya v India - Nairobi" 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]