ধূমকেতু (পত্রিকা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ধূমকেতু
ধূমকেতু পত্রিকার প্রচ্ছদ.jpg
ধূমকেতুর প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ
সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম
প্রকাশনা সময়-দূরত্ব দ্বি-সাপ্তাহিক
প্রথম প্রকাশ আগস্ট ১১, ১৯২২ (১৯২২-০৮-১১)
সর্বশেষ প্রকাশ মার্চ ১৯২৩
দেশ বেঙ্গল
ভাষা ্বাংলা

ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত একটি দ্বি-সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট প্রথইম প্রকাশিত হয়।[১]


ধুমকেতু পত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের বিখ্যাত কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাটি হলো;

আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি-আড়াল? স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল। দেবশিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবাদের দিচ্ছে ফাঁসি, ভূ-ভারত আজ কসাইখানা,-আসবি কখন সর্বনাশী? দেব-সেনা আজ টানছে ঘানি তেপান্তরের দ্বীপান্তরে, রণাঙ্গনে নামবে কে আর তুই না এলে কৃপাণ ধরে’?

বিষ্ণু নিজে বন্দী আজি ছয়-বছরী ফন্দী-কারায়, চক্র তাহার চরকা বুঝি ভণ্ড-হাতে শক্তি হারায়! মহেশ্বর আজ সিন্ধুতীরে যোগাসনে মগ্ন ধ্যানে, অরবিন্দ চিত্ত তাহার ফুটবে কখন কে সে জানে! সদ্য অসুর-গ্রাসচ্যুত ব্রহ্মা-চিত্তরঞ্জনে, হায়! কমগুলুর শান্তি-বারি সিঞ্চি যেন চাঁদ নদীয়ায়। শান্তি শুনে তিক্ত এ-মন কাঁদছে আরো ক্ষিপ্ত রবে, মরার দেশের মড়া-শান্তি, সে ত আছেই, কাজ কী তবে? শান্তি কোথায়? শান্তি কোথায় কেউ জানি না। মা গো তোর ঐ দনুজ-দলন সংহারিণী মূর্তি বিনা!

দেবতারা আজ জ্যোতিহারা, ধ্রব তাঁদের যায় না জানা, কেউ বা দেব-অন্ধ মা গো, কেউ বা ভয়ে দিনে কানা। সুরেন্দ্র আজ মন্ত্রণা দেন দানব-রাজার অত্যাচারে, দম্ভ তাঁহার দম্ভোলি ভীম বিকিয়ে দিয়ে পাঁচ হাজারে। রবির শিখা ছড়িয়ে পড়ে দিক হতে আজ দিগন্তরে, সে কর শুধু পশলো না মা অন্ধ কারার বন্ধ ঘরে। গগন-পথে রবি-রথের সাত সারথি হাঁকায় ঘোড়া, মর্ত্যে দানব মানব-পিঠে সওয়ার হয়ে মারছে কোঁড়া। বারি-ইন্দ্র বরুণ আজি করুণ সুরে বংশী বাজায়, বুড়িগঙ্গার পুলিন বুকে বাঁধছে ঘাটি দস্যু-রাজায়। পুরুষগুলোর ঝুঁটি ধরে বুরুশ করায় দানব-জুতো, মুখে ভজে আল্লা হরি, পূজে কিন্তু ডাণ্ডা-গুঁতো। দাড়ি নাড়ে, ফতোয়া ঝাড়ে, মসজিদে যায় নামাজ পড়ে, নাই ক’ খেয়াল গোলামগুলোর হারাম এ-সব বন্দী-গড়ে। লানত গলায় গোলাম, ওরা সালাম করে জুলুমবাজে, ধর্মধ্বজা উড়ায় দাড়ি, গালিছ মুখে কোরান ভাজে। তাজহারা যার নাঙ্গা শিরে, গরমাগরম পড়ছে জ্যোতি, ধর্মকথা বলছে তাঁরাই, পড়ছে তাঁরাই কেতাব পুঁতি। উৎপীড়কে প্রণাম করে শেষে ভগবানে নমী, হিজড়ে হীরুর ধর্মকথার ভণ্ডামিতে আসছে বমি। টিকটিকির ওই লেজুড়সম দ্বিগ্বিদিগে উড়ছে ঠিকই, দেবতার আগে পূজে দানব, তাঁদের কাছে সত্য শিখি ! পুরুষ ছেলে দেশের নামে চুবলি খেয়ে ভরায় উদর, টিকটিকি হয়, বিষ্টা কি নাই ! ছিঃ ছিঃ এদের খাদ্য ক্ষুধার। আজ দানবের রঙ্গমহলে তেত্রিশ কোটি খোজা গোলাম, লাথি খায় আর চেঁচায় শুধু, " দোহাই হুজুর মলাম মলাম । " মাদিগুলোর আদিদোষ ঐ অহিংস বুল নাকি নাকি, খাঁড়ায় কেটে কর মা বিনাশ নপুংসকের প্রেমের ফাঁকি। হান তরবার, আন মা সমর, অমর হবার মন্ত্র শেখা, মাদিগুলোয় কর মা পুরুষ, রক্ত দে মা, রক্ত দেখা। লক্ষ্মী সরস্বতীকে তোর আয় মা রেখে কমলবনে, বুদ্ধিবুড়ো সিদ্ধিদাতা গণেশটনেশ চাইনে রণে, ঘোমটা পরা কলা বউয়ের গলা ধরে দাও করে দূর ঐবুঝি দেবসেনাপতি ময়ূরচড়া জামাই ঠাকুর। দূর করে দে দূর করে দে, এসব বালাই সর্বনাশী, চাই নাকো ভাং খাওয়া সিধ, মেঘ দিয়ে তায় গঙ্গামাসী । তুই একা আয় পাগলী বেটী, তাথৈ তাথৈ নৃত্য করে, রক্ততৃষায় ম্যায় ভুখা হোর কাঁদনকেতন কণ্ঠে ধরে। ম্যায় ভুখা হুর রক্তক্ষেপী ছিন্নমস্তা আয় মা কালী , গরুর ভাগের শিবসেনা তোর হুংকারে ঐ জয়া কালী। এখনো তোর মাটির গড়া মৃণ্ময়ী ওই মূর্তি হেরি, দুচোখ পুড়ে জল আসে মা, আর কতকাল করবে দেরী ? মহিষাসুর বধ করে তুই ভেবেছিলি রইবি সুখে, পারিস নি তা, ত্রেতাযুগে টলল আসন রামের দুঃখে। আর এ ঋণের রুদ্রাণী তুই, জানিনে কেউ ডাকলো কি না, রাজপুতানায় বাজল হঠাৎ ম্যায় ভুখা হোর রক্তবীণা। বৃথাই গেলো সিরাজ-টিপু, মীর কাসিমের প্রাণ বলিদান, চণ্ডীনীলি যুগমায়ারূপ বলল সবাই বিধির বিধান। হঠাৎ কখন উঠল ক্ষেপে,বিদ্রোহিণী ঝানসিরাণী , ক্ষেপা মেয়ের অভিমানেও এলি নে তুই মা ভবানী। এমনি করে ফাঁকি দিয়ে আর কতকাল নিবি পূজা? পাষাণ বাপের পাষাণ মেয়ে আয় মা এবার দশভুজা। বছর বছর এ অভিনয় অপমান তোর পূজা নয়এ, কী দিস আশীষ কোটি ছেলের প্রণাম চুরির বিনিময়ে ? অনেক পাটা মোষ খেয়েছিস, রাক্ষুসী তোর যায় নি ক্ষুধা, আয় পাষাণী, এবার নিবি আপন ছেলের রক্তসুধা। দুর্বলদের বলি দিয়ে ভীরুর এহীন শক্তিপূজা, দূর করে দে, বল মা, ছেলের রক্ত মাগে দশভুজা। সেইদিন হবে জননী তোর সত্যিকারের আগমনী, বাজবে বোধন বাজনা, সেদিন গাইবো নবজাগরণী। ম্যা ভুখা হো মাই বলে আয় এবার আনন্দময়ী, কৈলাস হতে গিরিরাণীর মা দুলালী কণ্যা অয়ী। আয় ও মা আনন্দময়ী ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kazi Nazrul Islam: A Chronology of Life [Islamic Foundation]"www.nazrul.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৬-০১