ধরন অনুযায়ী ক্যান্সারের তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ক্যান্সার
বিশেষায়িত ক্ষেত্রঅনকোলজি

এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের একটি তালিকা। যেসকল রোগগুলো কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শরীরের অন্যান্য অংশে সেগুলো ছড়িয়ে পড়া বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করার সাথে সংশ্লিষ্ট তাদেরকে সাধারণভাবে ক্যান্সার হিসেবে অভিহিত করা হয়।[১] তবে সকল টিউমার বা পিণ্ড-ই ক্যান্সার নয়। উল্লেখ্য, বেনাইন টিউমারকে ক্যান্সার হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় না, কারণ এ ধরনের টিউমার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে না বা টিউমারের আশেপাশে থাকা কোষ বা তন্ত্রে আক্রমণ করতে পারে না।[১] এখন পর্যন্ত মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে এরকম একশ’রও বেশি ধরনের ক্যান্সার রয়েছে।[১]

ক্যান্সারকে প্রায় সময়ই তা শরীরের যে অংশকে আক্রমণ করেছে বা যে অংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে তার নাম অনুসারে বর্ণনা করা হয়। তবে শরীরে অনেক অংশ যেহেতু বিভিন্ন ধরনের কলা বা টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত তাই অধিকতর সূক্ষ্ণভাবে ক্যান্সারের শ্রেণীবিন্যাস করতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমারের কোষ শরীরে যে ধরনের কোষ থেকে উদ্ভূত হয়েছে তার ধরনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী ক্যান্সারের শ্রেণীবিন্যাস ও নামকরণ করেছেন। ক্যান্সারের এই ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • কার্সিনোমা: এপিথেলিয়াল বা আবরণী কোষ থেকে উদ্ভূত ক্যান্সার। প্রচলতি ক্যান্সারগুলোর মধ্যে একটি বড়ো অংশ এই শ্রেণির ক্যান্সারের অন্তর্গত। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্করা যে ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তার বেশিরভাগ-ই এ ধরনের ক্যান্সারের অন্তর্ভুক্ত। মানব দেহের স্তন, প্রোস্টেট, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, এবং মলাশয়ে যেসকল ক্যান্সারের বিকাশ ঘটে তার প্রায় সব-ই কার্সিনোমা হিসেবে পরিচিত।
  • সার্কোমা: যোজক কলা (যেমন হাড়, তরুণাস্থি, চর্বি, স্নায়ু) থেকে উদ্ভূত ক্যান্সার। এই ধরনের ক্যান্সারের কোষগুলো অস্থি মজ্জার বাইরে থাকা মেসেনকাইমাল কোষ থেকে উদ্ভূত হয়ে ক্যান্সার হিসেবে বিকশিত হয়।
  • লিম্ফোমা এবং লিউকেমিয়া: এই দুটি শ্রেণির ক্যান্সার রক্ত তৈরিকারী কোষ থেকে সৃষ্টি হয়। শিশুরা আক্রান্ত হয় এমন ক্যান্সাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার হচ্ছে লিউকেমিয়া, যার পরিমাণ ৩০%।[২] তবে অনেক বেশি প্রাপ্তবয়স্কদেরও লিম্ফোমা ও লিউকেমিয়া ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
  • জীবাণু কোষের টিউমার বা জার্ম সেল টিউমার: প্লুরিপোটেন্ট কোষ থেকে সৃষ্ট ক্যান্সার, যা প্রায় সময়ই শুক্রাশয়ডিম্বাশয়ে দেখা যায়; চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এদেরকে যথাক্রমে সেমিনোমাডিসজার্মিনোমা নামে অভিহিত করা হয়।
  • ব্লাস্টোমা: অপরিণত ‘পূর্ববর্তী’ (প্রিকার্সর) কোষ বা ভ্রূণীয় কলা (এম্ব্রায়োনিক টিস্যু) থেকে সৃষ্ট ক্যান্সার। ব্লাস্টোমা ধরনের ক্যান্সার প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের মাঝে বেশি দেখা যায়।

ক্যান্সার নামকরণ সাধারণত নামের শেষভাগে -কার্সিনোমা, -সার্কোমা, বা -ব্লাস্টোমা প্রত্যয়যোগে করা হয়। আর নামের প্রথমাংশে থাকে ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গ বা কলার নামের লাতিন বা গ্রিক শব্দ। উদাহরণস্বরূপ, যকৃতের প্যারেনকাইমায় ম্যালিগন্যান্ট এপিথেলিয়াল কোষ থেকে সৃষ্ট ক্যান্সারের নাম হচ্ছে হেপাটোকার্সিনোমা, অপরদিকে যকৃতের আদিম প্রিকার্সর কোষ থেকে সৃষ্ট ম্যালিগন্যান্সিকে বলা হয় হেপাটোব্লাস্টোমা, আর চর্বি থেকে সৃষ্ট ক্যান্সারকে বলা হয় লিপোসার্কোমা। খুব-ই প্রচলিত কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অঙ্গের নাম-ই ব্যবহৃত হয়। যেমন সবচেয়ে প্রচলিত ধরনের স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসাবিজ্ঞানীয় নাম হচ্ছে স্তনের নালীয় কার্সিনোমা বা ম্যামারি ডাক্টাল কার্সিনোমা। এক্ষেত্রে ‘নালীয়’ বিশেষণটির দ্বারা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা ক্যান্সারের উপস্থিতি বা চেহারাকে নির্দেশ করছে, যার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে ক্যান্সারটি দুগ্ধনালী থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

বেনাইন টিউমারগুলোর (যা ক্যান্সার নয়) নামকরণ সাধারণত নামের শেষাংশে -ওমা প্রত্যয়যোগে করা হয়, আর নামের প্রথামাংশে থাকে অঙ্গের নাম। উদাহরণস্বরূপ, মসৃণ পেশী কোষের বেনাইন টিউমারকে বলা হয় লেইয়োমাইওমা (যদিও জরায়ুতে প্রায়শই সৃষ্ট বেনাইন টিউমারের সাধারণ নাম হচ্ছে ফাইব্রোয়েড বা ইউটেরাইন ফাইব্রোয়েড)। তবে কিছু ক্যান্সারে নাম -নোমা প্রত্যয়যোগে করা হয় যা -ওমা প্রত্যয় যোগে করা বেনাইন টিউমারের সাথে প্রত্যয়গত কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। যেমন মেলানোমা এবং সেমিনোমা দুটোর-ই নামকরণ -নোমা প্রত্যয় যোগে এবং দুটোই ক্যান্সার, কোনো বেনাইন টিউমার নয়।[৩][৪]

কিছু ক্যান্সারের নাম অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে দৃশ্যমান টিউমার কোষের আকার ও আকৃতি অনুসারে করা হয়। যেমন জায়ান্ট সেল কার্সিনোমা (বৃহৎ আকৃতির কোষ হওয়ায়), স্পিন্ডল সেল কার্সিনোমা (টাকু বা ঘুর্ণায়মান দণ্ডাকৃতির কোষ হওয়ায়), এবং স্মল সেল কার্সিনোমা (ছোট আকৃতির কোষ হওয়ায়)।

হাড় ও পেশীর সারকোমা[সম্পাদনা]

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র[সম্পাদনা]

স্তন[সম্পাদনা]

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্র[সম্পাদনা]

চোখ[সম্পাদনা]

পরিপাকতন্ত্র[সম্পাদনা]

জেনিটুরিনারি বা যৌন ও মূত্রসংক্রান্ত এবং স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত[সম্পাদনা]

মাথা ও ঘাড়[সম্পাদনা]

হেমাটোপোইটিক বা রক্ত সম্পর্কিত[সম্পাদনা]

ত্বক[সম্পাদনা]

বক্ষ ও শ্বসনতন্ত্র[সম্পাদনা]

এইচআইভি বা এইডস সম্পর্কিত[সম্পাদনা]

এখন পর্যন্ত অবাছাইকৃত[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ক্যান্সারের সংজ্ঞা"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৪ 
  2. ভেরিক্কিও, ক্লডেট জি. (২০০৪)। আ ক্যান্সার সোর্সবুক ফর নার্সেসবস্টন: জোন্স অ্যান্ড বার্টলেট পাবলিশার্স। পৃষ্ঠা ২২৯। আইএসবিএন 0-7637-3276-1 
  3. অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। "মেলানোমা স্কিন ক্যান্সার"অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৭ 
  4. অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। "হোয়াট ইজ টেস্টিকুলার ক্যান্সার"অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

শ্রেণীবিন্যাস