ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডিম্বাশয় ক্যান্সার
Ovarian cancer
Mucinous lmp ovarian tumour intermed mag.jpg
Micrograph of a mucinous ovarian carcinoma stained by H&E.
বিশেষায়িত ক্ষেত্রক্যান্সারবিজ্ঞান, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিজ্ঞান
উপসর্গপ্রাথমিক: অস্পষ্ট[১]
পরে: ফুলে যাওয়া, শ্রোণী ব্যথা, পেটে ফোলাভাব, ক্ষুধা হ্রাসe[১]
সূত্রপাতসাধারণ রোগ নির্ণয়ের বয়স ৬৩ বছর[২]
প্রকারভেদডিম্বাশয় কার্সিনোমা, জীবাণু কোষ টিউমার, সেক্স কর্ড স্ট্রোমাল টিউমার[৩]
ঝুঁকিসমূহNever having children, হরমোন থেরাপির পরে রজোনিবৃত্তি, fertility medication, অতিস্থূলতা, genetics[৩][১][৪][৫]
রোগনির্ণয়টিস্যু বায়োপসি[১]
চিকিৎসাঅস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি[১]
রোগের পূর্বাভাসপাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার c. ৪৫% (উইএস/US)[৬]
ব্যাপকতার হার১.২ মিলিয়ন (২০১৫)[৭]
মৃত্যু১৬১, ১০০ (২০১৫)[৮]

ডিম্বাশয় ক্যান্সার এমন একটি ক্যান্সার যা ডিম্বাশয়কে সংক্রামিত করে।[৫][৯] এটি একটি কোষের অস্বাভাবিক ফলাফল যা শরীরের অন্যান্য অংশে আক্রমন বা বিস্তারের ক্ষমতা রাখে।[১০] যখন এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, যে কোনো বা শুধুমাত্র অস্পষ্ট উপসর্গ থেকে। তবে শরীরের কোনো অংশ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়।[১] এই লক্ষণগুলির মধ্যে ফুসকুড়ি, শ্রোণীচক্রের ব্যথা, পেটের ফোলা, এবং ক্ষুধা হ্রাস হতে পারে। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন সাধারণ অঙ্গগুলি হচ্ছে পেট, লসিকাগ্রন্থি, ফুসফুস, যকৃত এবং উদরের আবরকঝিল্লী অন্তর্ভুক্ত।[১১]

যেসব মহিলা তাদের আয়ুষ্কালে অধিক ডিম্বাণু উৎপাদন করেন তাদের ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এটি অন্তর্ভুক্ত করে সেসব নারীকে যাদের সন্তান ছিল না, যারা অল্প বয়সে বাচ্চা দেয়া শুরু করে এবং যারা অধিক বয়সে রজোবন্ধে পৌঁছায়। অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলি হলও রজোবন্ধ, প্রজনন চিকিৎসার ওষুধ এবং স্থূলতার পরে হরমোন থেরাপি নেওয়া। আর ঝুঁকি হ্রাসকারী কারণগুলি অন্তর্ভুক্ত করেছে হরমোনাল জন্ম নিয়ন্ত্রণ, টিউবালাইজেশন এবং বুকের দুধ খাওয়ানো।

লক্ষণ ও উপসর্গ[সম্পাদনা]

প্রাথমিক লক্ষণ[সম্পাদনা]

ডিম্বাশয় ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং উপসর্গ অনুপস্থিত বা খুব সূক্ষ্ম হতে পারে।[১২] বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এই রোগ সনাক্তকরণ এবং নির্ণয় করতে কয়েক মাস লেগে যায়, এর মধ্যেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে অনেক। ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথাহীন হতে থাকে।[১৩] লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরে এর উপ্সর্গগুলো পরিবর্তিত হতে থাকে। কম মারাত্মক টিউমারের সাধারণ লক্ষণগুলি পেটে ব্যথা বা শ্রোণীচক্রের ব্যথা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

ডিম্বাশয় ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে ফুসকুড়ি, পেটে বা পেলেভিক ব্যথা বা অস্বস্তি, পেছনে ব্যথা, অনিয়মিত মাসিক বা রজবন্ধ পরবর্তী যোনী রক্তপাত, যৌন সংগমের সময় বা পরে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি, ডায়রিয়া, রক্তচাপ, হৃদরোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব, ভরাপেটী, এবং সম্ভবত প্রস্রাবের লক্ষণের ক্ষেত্রে (ঘন ঘন প্রস্রাব এবং জরুরী প্রস্রাব সহ) হয়ে থাকে।

পরবর্তী লক্ষণ[সম্পাদনা]

এই ক্যান্সারে ওভারিতে ব্যথা বাড়তে পারে । যে উপসর্গগুলিতে দেখা যাবে পেট-শ্রোণীচক্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে।[১৪] যদি এই লক্ষণগুলি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা বেশি গুরুতরভাবে ঘটতে থাকে, বিশেষত এই ধরনের উপসর্গগুলির উল্লেখযোগ্য ভাবে পুর্বের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেটা ডিম্বাশয় ক্যান্সার বিবেচনা করা হয়।

শিশু[সম্পাদনা]

কিশোর বয়সে অথবা শিশুদের যে ডিম্বাশয় টিউমার হলে লক্ষণগুলি হচ্ছে পেট ব্যথা, উদরের আবরকঝিল্লীর জ্বালা, বা রক্তপাত দেখা যায়। যেমন ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার আরও অন্য রকম হতে পারে, এতে পেটে তরল জমা হতে পারে। যদি তীব্রতা প্রাথমিকভাবে নির্ণয় করা না হলে, তারপরে এটি খুব শীঘ্রই নির্ণয় করা দরকার।

ঝুঁকির কারণ[সম্পাদনা]

ডিম্বাশয় ক্যান্সারের হওয়ার ঝুঁকি থাকে মহিলাদের বেশি। সাধারণত যাদের কম মাসিক চক্র, মাসিক না হওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানো, মৌখিক গর্ভনিরোধক ওষুধ, একাধিক গর্ভধারণ করা এবং অল্প বয়সে গর্ভাবস্থা থাকে ইত্যাদি সমস্যা থেকে এই রোগের সম্ভবনা বেশি।

ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করা হয় টিউবাল লাইগেশনে উভয় ডিম্বাশয় অপসারণ করে বা গর্ভাশয় উচ্ছেদন বা হেস্টেরেক্টমি (একটি অপারেশন যা গর্ভাশয়, এবং কখনও কখনও গর্ভাশয়ের সার্ভিক্স অপসারণ করা হয়)। এছাড়াও বয়সও একটি ঝুঁকি কারণ।

হরমোন[সম্পাদনা]

প্রজনন ঔষধ ব্যবহারের কারণে ডিম্বাণুতে টিউমার হতে পারে। প্রজনন ওষুধের সাথে টিউমারের ঝুঁকি যুক্ত থাকে। যাদের প্রজনন অক্ষমতার জন্য হরমনাল চিকিৎসা নিতে হয় তাদের ডিম্বাশয় ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকি থাকে।

রজবন্ধের আগে, স্থূলতা একজন ব্যক্তির ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে, কিন্তু এই ঝুঁকি রজবন্ধের পরে উপস্থিত হয় না।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Ovarian Epithelial Cancer Treatment (PDQ®)"NCI। ২০১৪-০৫-১২। ৫ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৪ 
  2. "What are the risk factors for ovarian cancer?"www.cancer.org। ২০১৬-০২-০৪। ১৭ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১৬ 
  3. World Cancer Report 2014। World Health Organization। ২০১৪। Chapter 5.12। আইএসবিএন 978-9283204299। ২০১৬-০৯-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  4. Ebell, MH; Culp, MB; Radke, TJ (মার্চ ২০১৬)। "A Systematic Review of Symptoms for the Diagnosis of Ovarian Cancer."। American Journal of Preventive Medicine50 (3): 384–94। doi:10.1016/j.amepre.2015.09.023PMID 26541098 
  5. "Ovarian Cancer Prevention (PDQ®)"NCI। ডিসেম্বর ৬, ২০১৩। ৬ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৪ 
  6. "SEER Stat Fact Sheets: Ovary Cancer"NCI। ৬ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৪ 
  7. GBD 2015 Disease and Injury Incidence and Prevalence Collaborators (৮ অক্টোবর ২০১৬)। "Global, regional, and national incidence, prevalence, and years lived with disability for 310 diseases and injuries, 1990–2015: a systematic analysis for the Global Burden of Disease Study 2015."Lancet388 (10053): 1545–1602। doi:10.1016/S0140-6736(16)31678-6PMID 27733282পিএমসি 5055577অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  8. GBD 2015 Mortality and Causes of Death Collaborators (৮ অক্টোবর ২০১৬)। "Global, regional, and national life expectancy, all-cause mortality, and cause-specific mortality for 249 causes of death, 1980–2015: a systematic analysis for the Global Burden of Disease Study 2015."Lancet388 (10053): 1459–1544। doi:10.1016/S0140-6736(16)31012-1PMID 27733281পিএমসি 5388903অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  9. Seiden, Michael (২০১৫)। "Gynecologic Malignancies, Chapter 117"। MGraw-Hill Medical। সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৪, ২০১৭ 
  10. "Defining Cancer"National Cancer Institute। ২০০৭-০৯-১৭। ২৫ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০১৪ 
  11. Ruddon, Raymond W. (২০০৭)। Cancer biology (4th সংস্করণ)। Oxford: Oxford University Press। পৃষ্ঠা 223। আইএসবিএন 9780195175431। ২০১৫-০৯-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  12. "Ovarian Cancer, Inside Knowledge, Get the Facts about Gynecological Cancer" (PDF)। Centers for Disease Control and Prevention। সেপ্টেম্বর ২০১৬। জুন ১৬, ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ১৭, ২০১৭ টেমপ্লেট:CDC
  13. Jayson GC, Kohn EC, Kitchener HC, Ledermann JA (অক্টোবর ২০১৪)। "Ovarian cancer"। Lancet384 (9951): 1376–88। doi:10.1016/S0140-6736(13)62146-7PMID 24767708 
  14. "Ovarian cancer symptoms"www.cancerresearchuk.org। ২০১৫-০৫-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৫-১৬