এইডস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লাল ফিতা, এইচ.আই.ভি. পজিটিভ ব্যক্তি ও এইডসে আক্রান্তদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশের প্রতিক।

এইডস (ইংরেজি: AIDS, পূর্ণ রূপ: Acquired Immunodeficiency Syndrome) হচ্ছে এইচ.আই.ভি. (HIV) নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এক ব্যাধী, যা মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। এতে করে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে।

এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু এইডস হয়না। কিন্তু যেহেতু একবার সংক্রামক এইচ.আই.ভি. শরীরে ঢুকলে তাকে পুরোপুরি দূর করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তাই এইচ.আই.ভি. সংক্রমণ হলে এইডস প্রায় অনিবার্য। তবে বিনা চিকিৎসায় এইডস পর্যায়ে পৌছতে যদি লাগে গড়ে দশ বছর তবে চিকিৎসার দ্বারা তাকে আরো কিছু বছর পিছিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু "হার্রট"(HAART) নামে এইডস এর যে কম্বিনেশন ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা পদ্ধতি তা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ।

এইচ.আই.ভি. কিভাবে ছড়ায়[সম্পাদনা]

  • এইচ.আই.ভি. তে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে, বা তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে।
  • এইচ.আই.ভি. তে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গর্ভধারণের শেষদিকে বা প্রসবের সময় হতে পারে। তবে জিডোভুডিন ওষুধ ব্যবহার করে এই সম্ভাবনা কিছুটা কম করা যায়, এবং তা করলে মায়ের দুধও বাচ্চাকে দেওয়া যেতে পারে (কারণ মার দুধ না পেলে গরিব ঘরে জন্মানো বাচ্চার মৃত্যুসম্ভাবনা আরো বেশী)
  • এইচ.আই.ভি. তে আক্রান্ত কারো সাথে অসংরক্ষিত (কনডম ব্যবহার না করে) যৌন সম্পর্ক করলে।

আসলে শরীর জাত অধিকাংশ তরল ক্ষরণে এইচ.আই.ভি. নিষ্কৃত হয়। তবে স্নেহপদার্থের আবরণ (envelop) থাকায় এইচ.আই.ভি. অত্যন্ত ভঙ্গুর। তাই এইচ.আই.ভি. শরীরের বাইরে বেশীক্ষণ বাঁচেনা। এই কারণে সরাসরি রক্ত বা যৌন নিঃসরণ শরীরে প্রবেশ না করলে এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সম্ভাবনা খুব কম। শুধুমাত্র স্পর্শ, একসাথে খাওয়া, এমনকি একই জামাকাপড় পরা, বা মশার কামড়ে কখনো এইচ.আই.ভি. ছড়ায়না। তাই এইচ.আই.ভি. সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়(not contageous)

এইডস একটি ভয়ানক ব্যাধি। ১৯৮১ সালে এই রোগ প্রথম সনাক্তকরণ হয় যুক্তরাষ্ট্রের সি ডি সি (Center of Disease Control and Prevention) দ্বারা। Pneumocystis carinii এবং Kaposi's sarcoma নামে দূটি বিরল রোগের ভয়াবহ বৃদ্ধি CDC কে সতর্কিত করে। অবশেষে ১৯৮৪ সালে ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এই মহামারী রোগের ভাইরাস সনাক্ত করেন। ফ্রেঞ্চ বৈজ্ঞানিকরা এর নাম দেয় Lymphadenopathy-associated virus (LAV)। আর যুক্তরাষ্ট্র এর নাম দেয় Human T-cell Lymphotropic virus, strain III (HTLV III)। ১৯৮৬ সালে এই ভাইরাসের পুনঃনামকরণ হয় Human ImmunoDeficiency Virus (HIV)। HIV ভাইরাস মানুষের শরীরের T-helper cell কে আক্রান্ত করে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।

এইডস এখন বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পরেছে। ২০০৭ সালে শুমারি অনুযায়ী বিশ্বব্যাপি আনুমানিক ৩৩.২ মিলিয়ন মানুষ এইডস এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে যার মধ্যে ৩৩০,০০০ জন ছিলো শিশু। এর ত্রি-চতুর্থাংশ মৃত্যুই ঘটেছে আফ্রিকার সাব-সাহারান অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধি অঞ্চলে।

বেশীর ভাগ HIV রোগীই কোন লক্ষন ছাড়া এই রোগ বাহন করে। তবে কখনো কখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ৬ থেকে ৬ সপ্তাহ পরে কিছু অনির্দিষ্ট লক্ষন দেখা দিতে পারে যেমন জ্বর, গলা ব্যাথা, মাথা ব্যথা, enlarged lymph node, ইত্যাদি। এইসব লক্ষন কোনরকম চিকিতসা ছাড়াই সেরে যায়, যার কারণে রোগী এ ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হয়না। HIV কোনরকম লক্ষন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ বছর মানুষের শরীরে নিরবে বাস করতে পারে।

এইডস রোগের কোন চিকিতসা এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গবেষকরা এ পর্যন্ত অনেক ঔষধ আবিষ্কার করেছে। প্রথম গ্রুপ এর ঔষধের নাম Nucleoside reverse transcriptase inhibitors, যা HIV সংক্রমনকে বিলম্বিত করে। দ্বিতীয় গ্রুপ এর নাম Protease inhibitors যা HIV ভাইরাস replication এ বাধা সৃষ্টি করে। যেহেতু এদের শুধু যে কোন একটি গ্রুপ এর ঔষুধ একা শরীরে কার্যকর হয়না, তাই সম্বিলিত ঔষধ দেয়া হয়। এই চর্চাকে বলা হয় HAART, Highly Active Antiretroviral Therapy. যদি ও HAART এইডস উপশম করেনা, তবে এইডস রোগীর মৃত্যুসংখ্যা কমাতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে।