জুমারবাড়ী ইউনিয়ন
| জুমারবাড়ী | |
|---|---|
| ইউনিয়ন | |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| বিভাগ | রংপুর বিভাগ |
| জেলা | গাইবান্ধা জেলা |
| উপজেলা | সাঘাটা উপজেলা |
| সরকার | |
| • চেয়ারম্যান | আমিরুল ইসলাম |
| আয়তন | |
| • মোট | ১,৮১২ বর্গকিমি (৭০০ বর্গমাইল) |
| জনসংখ্যা (২০১১) | |
| • মোট | ২৫,৯৬৭ |
| • জনঘনত্ব | ১৪/বর্গকিমি (৩৭/বর্গমাইল) |
| সময় অঞ্চল | বিএসটি (ইউটিসি+৬) |
| পোস্ট কোড | ৫৭৫০ |
| ওয়েবসাইট | দাপ্তরিক ওয়েবসাইট |
জুমারবাড়ী বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন।
[সম্পাদনা]প্রশাসনিক অঞ্চল
[সম্পাদনা]জুমাববাড়ী ইউনিয়নের গ্রামসমূহ
| ক্রমিক নং | গ্রামের নাম | ওয়ার্ড নং | ভোটার সংখ্যা | মোট ভোটার |
| ১ | আব্দুল্যারপাড়া | ১ | 594 | 2613 |
| ২ | বাদিনারপাড়া | 2019 | ||
| ৩ | থৈকরেরপাড়া | 2 | 3066 | 3742 |
| ৪ | বেঙ্গারপাড়া | 676 | ||
| ৫ | আমদিরপাড়া | ৩ | 2977 | |
| ৬ | চাঁন্দুপাড়া | ৪ | 651 | 3403 |
| ৭ | মামুদপুর | 2744 | ||
| ৮ | জুমারবাড়ী | ৫ | 1290 | 2322 |
| ৯ | কাঠুর | 1032 | ||
| ১০ | বসন্তেরপাড়া | ৬ | 1922 | 2857 |
| ১১ | কুন্দপাড়া | 935 | ||
| ১২ | কামারপাড়া | ৭ | 3433 | 3433 |
| ১৩ | দহিচড়া | ৮ | 783 | 2313 |
| ১৪ | বগারভিটা | 1530 | ||
| ১৫ | মেছট | ৯ | 1695 | 3670 |
| ১৬ | বাজিতনগর | 1975 |
জনপ্রতিনিধি
[সম্পাদনা]- চেয়ারম্যানগণের তালিকা
| ক্রমিক নং | চেয়ারম্যানের নাম | সময়কাল |
|---|---|---|
| ০১* | ... | ১৯৭৩-১৯৭৭ |
| ০২* | ... | 1৯৭৭-১৯৮৩ |
| ০৩ | ... | 1983-1987 |
| ০৪ | বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী (সাজু) | ১৯৮৭-১৯৯২ |
| ০৫ | বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাদী | ১৯৯২-১৯৯৮ |
| ০৬ | বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ জাহান আলী (সাজু) | ১৯৯৮-২০০৩ |
| ০৭ | আমিনুল ইসলাম (আমরুল) | ২০০৩-২০১১ |
| ০৮ | মাহফুজার রহমান (মাফু) | ২০১১-২০১৬ |
| ০৯ | আমিনুল ইসলাম (আমরুল) | ২০২২-বর্তমান |
আয়তন
[সম্পাদনা]১৮১২ কি.মি(৭০০ বর্গমাইল)
নামরকরণ
[সম্পাদনা]জুমারবাড়ী ইউনিয়নের নামকরণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]সাঘাটা উপজেলার ইউনিয়নগুলোর মধ্যে জুমারবাড়ী একটি অতি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ, যার শিকড় বহু শতাব্দী পেছনে প্রোথিত। এই অঞ্চলের নামকরণ একদিকে যেমন একজন সুফি সাধকের স্মৃতির সাথে জড়িত, তেমনি এর প্রাচীন ইতিহাসে জড়িয়ে আছে এক সমৃদ্ধ নদীবন্দর এবং বাণিজ্যের গৌরবময় অধ্যায়ও।
সুফি সাধকের স্মৃতিতে নামকরণ
[সম্পাদনা]স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, অর্থাৎ ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে, বগুড়ার শিবগঞ্জে অবস্থিত প্রাচীন প্রত্নস্থল মহাস্থানগড়ে ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) এর আগমন ঘটে। এই সময়কালের কাছাকাছি সময়েই বর্তমান জুমারবাড়ী এলাকায় আগমন ঘটে "জুম্মার" নামে পরিচিত এক সুফি সাধকের, যিনি একাকী একটি বাড়িতে বসবাস করতেন এবং সাংসারিক জীবন থেকে দূরে থেকে ইবাদতবন্দেগি ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। কালক্রমে এই নিভৃতচারী সুফির নামানুসারেই এলাকাটি লোকমুখে "জুম্মারবাড়ী" নামে পরিচিতি লাভ করে।
জুমারবাড়ী বন্দর
[সম্পাদনা]তবে জুমারবাড়ীর ইতিহাস কেবল ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রবীণদের মুখে প্রচলিত তথ্য ও স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই এলাকায় এক সময় প্রাচীন নদীবন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল "জুমারবাড়ী বন্দর" নামে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থানগত সুবিধার কারণে এই স্থানটি একসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর হিসেবে গড়ে ওঠে। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে অত্র অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল ব্যাপক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড, যেখান থেকে নৌপথে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই বন্দর থেকে এক সময় সরাসরি কলকাতা পর্যন্ত নৌ-চলাচলের একটি প্রতিষ্ঠিত পথ ছিল, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত বাণিজ্য পরিচালনা করতেন। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত এই জলপথ ধরে স্থানীয় কৃষিপণ্য, স্বর্ণ-রৌপ্য শিল্প , হস্তশিল্প ও অন্যান্য সামগ্রী কলকাতার বাজারে পৌঁছাত, আর সেখান থেকে আসত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। এই নৌ-বাণিজ্য পথ তৎকালীন সময়ে জুমারবাড়ীকে পরিণত করেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ কেন্দ্রে, যা এই জনপদের সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল। কালের পরিক্রমায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পলি জমে নাব্যতা হ্রাস এবং পরবর্তীতে স্থলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারের ফলে এই নদীবন্দরের গুরুত্ব ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসে। তবে "বন্দর" শব্দটি এই এলাকার প্রাচীন বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের একটি স্মারক হিসেবে দীর্ঘদিন লোকমুখে টিকে ছিল, যা আজও এই অঞ্চলের প্রবীণদের স্মৃতিতে এবং মৌখিক ইতিহাসে জীবন্ত হয়ে আছে।
নামের রূপান্তর ও বর্তমান পরিচিতি
[সম্পাদনা]সময়ের সাথে সাথে "জুমারবাড়ী বন্দর" নামটি সংক্ষিপ্ত হয়ে শুধু "জুমারবাড়ী" নামে প্রচলিত হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে সরকারি নথিপত্র ও প্রশাসনিক কাঠামোতে এই নামেই স্থায়ী স্বীকৃতি পায়। এভাবে একটি সুফি সাধকের আধ্যাত্মিক সাধনা এবং একটি সমৃদ্ধ নদীবন্দরের বাণিজ্যিক ঐতিহ্য উভয়ই মিলেমিশে গড়ে তুলেছে আজকের জুমারবাড়ী ইউনিয়নের পরিচয়, যা সাঘাটা উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে বিবেচিত।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]প্রাথমিক বিদ্যালয়
[সম্পাদনা]- জুমারবাড়ী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- বসন্তেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- বাদিনারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- থৈকরেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- আমদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- দহিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- বাজিতনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- মেছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- বেঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- আব্দুল্যারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- কাঠুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- মামুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- কুন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- বগারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কিন্ডারগার্ডেনঃ
- সৃজনী প্রত্যয় কেজি ও কোচিং সেন্টার
- ডা. আবদুর রাজ্জাজ শিশু নিকেতন,জুমারবাড়ী।
- মাহবুবর রহমান কেজি স্কুল,জুমারবাড়ী।
- মায়ের কোল কেজি স্কুল,বগারভিটা।
- পাঞ্জারী একাডেমি স্কুল,বাজিতনগর।
- আমদিরপাড়া কেজি স্কুল,আমদিরপাড়া।
- ইকরা ইসলামিক একাডেমী,জুমার বাড়ী
উচ্চ বিদ্যালয়ঃ
- জুমারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়।
- জুমারবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
- দহিচড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
- কু্ন্দপাড়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়।
- বাদিনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
মহাবিদ্যালয়
[সম্পাদনা]- জুমারবাড়ী আদর্শ ডিগ্রি কলেজ,জুমারবাড়ী।
- জুমারবাড়ী মহিলা কলেজ, জুমারবাড়ী।
মাদ্রাসা
[সম্পাদনা]- জুমারবাড়ী দারুল হাদিস সালাফিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা
- থৈকরেরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা
- জুমারবাড়ী জাঙ্গালিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- বসন্তেরপাড়া তাহফিযিল কুরআন মাদ্রাসা
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]
বসন্তেরপাড়া ইদগাহ ময়দান- জুমারবাড়ী ইদগাহ ময়দান
- কামারপাড়া ইদগাহ ময়দান
- বগারভিটা ইদগাহ ময়দান
- বাদিনারপাড়া ইদগাহ ময়দান
- আমদিরপাড়া ইদগাহ ময়দান
- কাঠুর ইদগাহ ময়দান
- মেছট ইদগাহ ময়দান
সাংস্কৃতিক সংগঠন
[সম্পাদনা]- জুমারবাড়ী শিল্পী গোষ্ঠী।
- আমদিরপাড়া শিল্পী গোষ্ঠী।
সিনেমা হল
[সম্পাদনা]জুমারবাড়ী রোমা সিনেমা হল
হাসপাতাল
[সম্পাদনা]নূরা জাহিম দাতব্য হাসপাতাল (বর্তমানে অচল)
কমিউনিটি ক্লিনিক: ৫টি
ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান
[সম্পাদনা]রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
এজেন্ট ইসলামী ব্যাংক
এজেন্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক
এজেন্ট ব্যাংক এশিয়া
পেশাজীবি সংগঠন
[সম্পাদনা]জুমারবাড়ী বাজার বনিক সমবায় সমিতি
আশ্রম কেন্দ্র
[সম্পাদনা]- থৈকরের পাড়া আশ্রম কেন্দ্র
- মেছট (আদর্শ গ্রাম) আশ্রম কেন্দ্র
নদ-নদী
[সম্পাদনা]- ব্রক্ষপুত্র নদ
- যমুনা নদী
- বাঙালী নদি
ইউনিয়নেরগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম:
[সম্পাদনা]মোঃ আবদুল ওয়ারেছ (সংসদ সদস্য-গাইবান্ধা-05)