ক্রিস লুইস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ক্রিস লুইস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামক্লেয়ারমন্ট ক্রিস্টোফার লুইস
জন্ম (1968-02-14) ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ (বয়স ৫১)
জর্জটাউন, ডেমেরারা, গায়ানা
ডাকনামকার্ল
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৪৪)
৫ জুলাই ১৯৯০ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৬ আগস্ট ১৯৯৬ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১০৬)
১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই২৩ মে ১৯৯৮ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮৭ - ১৯৯১লিচেস্টারশায়ার
১৯৯২ - ১৯৯৫নটিংহ্যামশায়ার
১৯৯৬ - ১৯৯৭সারে
১৯৯৮ - ২০০০লিচেস্টারশায়ার
২০০৮সারে
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩২ ৫৩ ১৮৯ ২৬৬
রানের সংখ্যা ১,১০৫ ৩৭৪ ৭,৪০৬ ৩,৯৫৯
ব্যাটিং গড় ২৩.০২ ১৪.৩৮ ৩০.৭৩ ২৪.৫৯
১০০/৫০ ১/৪ ০/০ ৯/৩৪ ১/১৪
সর্বোচ্চ রান ১১৭ ৩৩ ২৪৭ ১১৬*
বল করেছে ৬,৮৫২ ২,৬২৫ ৩২,০০৪ ১১,৮৪৬
উইকেট ৯৩ ৬৬ ৫৪৩ ৩১২
বোলিং গড় ৩৭.৫২ ২৯.৪২ ২৯.৮৮ ২৬.৩৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ২০
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/১১১ ৪/৩০ ৬/২২ ৫/১৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২৫/– ২০/– ১৫৪/– ১০৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ অক্টোবর ২০১৯

ক্লেয়ারমন্ট ক্রিস্টোফার লুইস (ইংরেজি: Chris Lewis; জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮) ডেমেরারার জর্জটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১][২] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

১৯৯০-এর দশকে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার, লিচেস্টারশায়ারসারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন ক্রিস লুইস

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ক্রিস লুইসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। শুরুতে লিচেস্টারশায়ার, এরপর নটস ও সারে দলে পক্ষে খেলেন। ১৯৯৬ সালে সানডে লীগ ও ১৯৯৭ সালে বিএন্ডএইচ প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ে দলকে সহায়তা করেন। এরপর পুণরায় গ্রেস রোডে ফিরে যান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৩২ টেস্ট ও ৫৩টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন ক্রিস লুইস। ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে ওভালে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

বিশ্বকাপের পর খুব কমই ইংল্যান্ডের পক্ষে বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সর্বদাই টেস্ট দলে আসা-যাওয়ার পালায় ছিলেন। তাসত্ত্বেও, ছয়বার বিদেশ সফরে যাবার সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ইংরেজ দলের সাথে ভারত গমন করেন। তবে, মাদ্রাজ টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকালে দল পরাজিত হয়েছিল। নিজস্ব ২৫তম জন্মদিনে এ সেঞ্চুরিটি করেছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিকে অঙ্গনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা জানান দেন। ১৯৯৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। প্রথম টেস্টে সূর্যের উত্তাপ থেকে নিজেকে রক্ষাকল্পে মাঠের বাইরে অবস্থানে করতে বাধ্য হন ও তিনি এ থেকে রক্ষার্থে কোন প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

১৯৯৯ সালে তিনজন ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটারের পাতানো খেলায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইসিবিকে জানান। ২০০৮ সালের ৪০ বছর বয়সে সারে দলে প্রত্যাবর্তন করেন। টুয়েন্টি২০ কাপে খেলায় অংশগ্রহণের উপর বেতন লাভের বিষয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। তবে, মৌসুমের শুরুতেই আঘাতে জর্জড়িত হন। তাসত্ত্বেও, আঘাত থেকে ফিরে পুণরায় দ্যুতি ছড়ান।

অবসর[সম্পাদনা]

৩২ বছর বয়সে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করে। ২০০৬ সালে সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ক্লিফটন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে অধিনায়কত্ব করেন। ঐ সময়ে তিনি দলের ব্যাটিং ও বোলিং উদ্বোধন করতেন। অবসর সময়ে বার্কশায়ারে শিশুদের প্রশিক্ষণ দিতেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে নিউক্যাসল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে স্টকটনের পক্ষে চার খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।[৩] ২০০৮ সালে সারে দলের পক্ষে বোলিং অভিজ্ঞতার কারণে টুয়েন্টি২০ খেলায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে পুণরায় চুক্তিবদ্ধ হন।[৪] তবে, তার এ ফিরে আসার বিষয়টি স্বল্পকালীন ছিল ও সফলতা পায়নি। ফ্রেন্ডস প্রভিডেন্ট ট্রফির একটি খেলায় অংশ নেন। ছয় ওভারে ৫১ রান খরচ করে ফেলেন। একটি টুয়েন্টি২০ খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কোন ক্ষেত্রেই উইকেটের সন্ধান পাননি তিনি।[৫] কৈশোরের ওয়েম্বলি ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়কত্ব করে ২০১৬ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট লীগে খেলেন।

মূল্যায়ণ[সম্পাদনা]

নিচেরসারির আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিস লুইসের সবিশেষ পরিচিতি ছিল। চমৎকার ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও সফলতা পেয়েছেন। তবে, খেলার জগতে কখনো ধারাবাহিকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।[২] পরবর্তীতে মাদক পাচারের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগের মুখোমুখি হন। সাবেক দলীয় সঙ্গী অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, আমি অনুভব করি যে, একট খেলোয়াড় ক্রিকেট খেলায় একবার বন্ধ রাখলে তার জন্যে কতটা কঠিন ও দুঃসাধ্যকর বিষয় হতে পারে।

বিতর্কিত ভূমিকা[সম্পাদনা]

৮ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে তরল ৩.৩৭ কিলোগ্রাম কোকেন নিয়ে আসার অভিযোগে গ্রেফতার হন। বাজারমূল্যে এর দাম £১৪০০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং। তিনি সেন্ট লুসিয়া থেকে বিমানযোগে যুক্তরাজ্যে ফিরছিলেন।[৬][৭] ২০ মে, ২০০৯ তারিখে লুইস ও বাস্কেটবল খেলোয়াড় চাদ কার্ননকে ক্রয়ডন কোর্টে দোষীসাব্যস্ত করে ১৩ বছরের কারাবাস দণ্ড দেয়া হয়।[৮][৯] ছয় বছরের সাজাভোগ শেষে জুন, ২০১৫ সালে এইচএমপি হাই ডাউনে মুক্তিলাভ করেন।[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Birthdays"। The Guardian। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। পৃষ্ঠা 41। 
  2. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 110। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  3. England A quick Graham Onions joins Stockton
  4. "Veteran Lewis re-signed by Surrey"BBC News। ১৭ মার্চ ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১০ 
  5. Booth, Lawrence (ডিসেম্বর ২০০৮)। "That sinking feeling"The Wisden CricketerCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  6. England cricketer Chris Lewis gets 13 years for cocaine smuggling[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "Cocaine charge cricketer remanded"BBC News। ৯ ডিসেম্বর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  8. Kennedy, Maev (২০ মে ২০০৯)। "Former England cricketer Chris Lewis gets 13 years for cocaine smuggling"The Guardian। London। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯ 
  9. "Drug smuggling cricketer jailed"BBC News। ২০ মে ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০০৯ 
  10. "Lewis released from prison"। ESPN Cricinfo। ৯ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]