আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী (১৯১৪-১৯৬৫) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন জ্যেষ্ঠ বাঙালি সেনা কর্মকর্তা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রশিক্ষণ রেজিমেন্টের অধিনায়ক। বাঙালি রেজিমেন্টে "টাইগার কমান্ডার" নামে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। [১][২]

মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী
মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী.jpeg
জন্ম১ ফেব্রুয়ারি ১৯১৪
দরিয়াপুর,হবিগঞ্জ ,সিলেট
মৃত্যু১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫ (৫১ বছর)
মাতৃশিক্ষায়তন
পরিচিতির কারণ প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা
উপাধিটাইগার কমান্ডার
পিতা-মাতাখান সাহেব আবদুর রব চৌধুরী (বাবা)

প্রাথমিক পরিচয়[সম্পাদনা]

মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী ১৯১৪ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার দরিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা খান সাহেব আবদুর রব চৌধুরী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী সর্বমহলে মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।[১]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী ১৯৩১ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৩৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৫ সালে অর্থনীতি বিষয়ে বি.এ অনার্স এবং ১৯৩৭ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী পড়াশোনা শেষ করে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ব্রিটিশ ভারতের দেরাদুন মিলিটারি একাডেমি থেকে অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ১৯৪১ সালের ১৫ মে ভারতবর্ষের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহি রেজিমেন্ট চতুর্থ মাদ্রাজ রেজিমেন্টে জরুরি যুদ্ধ কমিশনড অফিসার হিসেবে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট পদে পদোন্নতি লাভ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জেনারেল স্যার এডওয়ার্ড কুইনিনের অধীনে ব্রিটিশ দশম আর্মি গঠিত হলে তিনি সহ তাঁর রেজিমেন্ট ইরাকের বসরায় অবস্থিত ব্রিটিশ দশম আর্মির সাব এরিয়া হেডকোয়ার্টারে নিযুক্ত হন। ব্রিটিশ দশম আর্মি বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি যুদ্ধরত বার্মা কেম্পেইনের সেলোন (শ্রীলঙ্কা) সাব হেড কোয়ার্টারে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১ম পাঞ্জাব রেজিমেন্টের কর্মকর্তা হিসেবে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মুলতান ঝোহাব ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ কিয়ানার অধীনে ব্রিগেড ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রূপান্তর ও সংহতিকরণের জন্য দিল্লিতে অবস্থিত সুপ্রিম আর্মি হেডকোয়ার্টারের পাকিস্তান সেলে যোগ দেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর রাওালপিণ্ডীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা ডকট্রেনে তাঁকে বদলি করা হয়। ১৯৪৭-১৯৪৮ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ কালীন সময়ে মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রশিক্ষণ রেজিমেন্টের অধিনায়েকত্ব ও গঠনের দায়িত্ব লাভ করেন। যোগদান করেন। পরবর্তীতে মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধু্রী[৩] ১ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রশিক্ষণ রেজিমেন্টের সর্ব প্রথম বাঙালী অধিনায়ক (অফিসার কম্যান্ডিং) হিসেবে কমান্ড লাভ করেন । তিনি অনেক প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা সত্বেও সিনিয়র টাইগার্সের ভিত্তি রচনা করেন।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় অবদান[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের অনুমোদন লাভ করে পাকিস্তান ও ভারত উভয় সেনাবাহিনীর যৌথ কমান্ড সুপ্রীম কমান্ডারস হেডকোয়ার্টার পাকিস্তান সেল দিল্লীতে ইনফেন্ট্রী ডিরেকটরিয়েটে চাকুরিকালিন মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধু্রী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল ক্লাদে আচিনলেক কে পূর্ব বাংলায় একটি বাঙালী প্রধান রেজিমেন্ট গঠনের সামরিক গুরুত্বের বিষয়টি উত্থাপন করলে তিনি সেনাপ্রধানকে তা বোঝাতে সক্ষম হন এবং সেনাপ্রধান ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের অনুমোদন প্রদান করেন। পরবরতীতে মেজর আব্দুল ওয়াহেদ চৌধু্রী প্রথম বাঙালী অধিনায়ক হিসেবে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠণ ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব লাভ করেন এবং প্রথম প্রশিক্ষন রেজিমেন্টকে কমান্ড করেন ও ১ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে উত্থাপন করেন।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

এই নির্ভীক বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ১৯৬৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিলো মাত্র ৫১ বছর। তাঁকে ঢাকার নীলক্ষেত এলাকার বাবুপুরা শাহ সাহেব বাড়িতে "মরিয়ম ছালেহা মসজিদ" প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দিগন্ত, Daily Nayadiganta-নয়া। "লড়াকু বাঙালি মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী"Daily Nayadiganta (নয়া দিগন্ত) : Most Popular Bangla Newspaper। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৫-০৬ 
  2. দিগন্ত, Daily Nayadiganta-নয়া। "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ভাষা আন্দোলন"Daily Nayadiganta (নয়া দিগন্ত) : Most Popular Bangla Newspaper। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৫-০৭ 
  3. দিগন্ত, Daily Nayadiganta-নয়া। "লড়াকু বাঙালি মেজর এ ডব্লিউ চৌধুরী"Daily Nayadiganta (নয়া দিগন্ত) : Most Popular Bangla Newspaper। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৫-০৬