আন শিঁয়েন আন্দালিও

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আন শিঁয়েন আন্দালিও
আন শিঁয়েন আন্দালিও (১৯২৯).jpg
পরিচালকলুইস বুনুয়েল
প্রযোজক
রচয়িতা
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকাররিশার্ড ভাগণার
চিত্রগ্রাহক
  • এলবার্ট ড্যুবার্গেন
  • জিমি বার্লিয়েট (অস্বীকৃত)
সম্পাদকলুইস বুনুয়েল
পরিবেশকলেস গ্র্ন্দ্স ফিল্মস ক্লাসিক্স (ফ্রান্স)
মুক্তি
  • ৬ জুন ১৯২৬ (1926-06-06) (স্থান)
দৈর্ঘ্য২১ মিনিট
ভাষানির্বাক চলচিত্র (ফরাসি ইন্টারটাইটেল)
নির্মাণব্যয়< ১০০,০০০ ফ্রাঙ্ক

আন শিঁয়েন আন্দালিও (ফরাসি: Un Chien Andalou (ফরাসি উচ্চারণ: ​[œ̃ ʃjɛ̃ ɑ̃dalu], ইংরেজি: An Andalusian Dog) স্প্যানিশ পরিচালক লুইস বুনুয়েল এবং শিল্পী সালভাদোর দালির ১৯২৯ সালের ফরাসি নির্বাক পরাবাস্তববাদী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র[১] এটি বুনুয়েলের প্রথম চলচ্চিত্র, যা সর্বপ্রথম প্যারিসের স্টুডিও দেস আর্সুলাইন্সে সীমিত প্রদর্শনের মাধ্যমে ১৯২৯ সালে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এর প্রদর্শনী আট মাসব্যাপী স্থায়ী হয়।[২]

প্রচলিত অর্থে চলচ্চিত্রটির কোনো কাহিনি বা গল্প নেই। "একদা এক সময়" থেকে "আট বছর পরে" বলে একলাফে চলচ্চিত্রের কাহিনি পরিবর্তিত হয়ে যায়, কিন্তু সে অর্থে ঘটনা বা চরিত্রের কোনো বিকাশ ঘটতে দেকা যায় না। এছাড়াও এর কাহিনি বা চরিত্রায়নে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয় নি। খুবই আলগাভাবে সম্পর্কযুক্ত কয়েকটি দৃশ্যের সমন্বয়ে নির্মত এই চলচ্চিত্রে দালির স্বপ্ন যুক্তির পাশাপাশি ফ্রয়েডিয় জনপ্রিয় মুক্তানুষঙ্গ বিশ্লেষণকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

সংক্ষিপ্তসার[সম্পাদনা]

"একদা এক সময়" শিরোনাম কার্ডের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র শুরুর পরবর্তীকালে দেখা যায়, মধ্যবয়স্ক এক লোক (লুইস বুনুয়েল) ব্যালকনির দরজার নিকট একটি ক্ষুর ধার দিচ্ছেন এবং নিজের বুড়ো আঙুলে ক্ষুরের ধার পরিক্ষা করে দেখছেন। ধার দেয়া শেষে তিনি দরজা খোলেন এবং ব্যালকনি থেকে তার মাথার উপরে মেঘে ঢাকা চাঁদ নজরে আসে। এরপর ক্লোজআপ দৃশ্যে একটি শান্ত-স্নিগ্ধ তরুণীকে তরুণী সিমন মারেইল দেখা যায়। এবার চাঁদটি মেঘমুক্ত অবস্থায় দেখা যায় এবং দেখা যায় লোকটি ক্ষুর দিয়ে তরুণীর চোখ কাটছে এবং সেখান থেকে ভিট্রেয়াস হিউমার বা কাচিক হাস্যরস উপচে পড়ে। দৃশ্যত এ থেকে বোঝানো হয় যে তরুণীর চোখ এটি কাটা হয়েছে।

পরবর্তী "আট বছর পর" শিরোনাম নানদের মতো পোশাক পরিহিত এক তরুণকে (পিয়েরে বাচেফ) বাইসাইকেল চালিয়ে শান্ত শহুরে পথ ধরে যেতে দেখা যায়। আরেকটি দৃশ্যে পূর্বের তরুণীকে দেখা যায় দামী আসবাবে সাজানো উপরতলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট দ্রুত বই পড়ছে। সে তরুণের বাইসাইকেলে শব্দ শুনতে পেলে বইটি (বইটি হল জোহানস্‌ ভারমিরের দ্য লেইসমেকার) একপাশে সরিয়ে রাখে।

অভিনয়ে[সম্পাদনা]

  • সিমন মারেইল – তরুণী (সিমন মারেইল হিসেবে)
  • পিয়েরে বাচেফ – তরুণ এবং দ্বিতীয় তরুণ (পিয়েরে বাচেফ হিসেবে)
  • লুইস বুনুয়েল – প্রস্তাবনার ব্যক্তি (অস্বীকৃত)
  • সালভাদোর দালি – সিমিনারিস্ট এবং সৈকতে লোক (অস্বীকৃত)
  • রবার্ট হোমেট – তৃতীয় তরুণ (অস্বীকৃত)
  • মার্ভাল – সেমিনারিস্ট (অস্বীকৃত)
  • ফানো মেসান – উভলিঙ্গ যুবতী (অস্বীকৃত)
  • জেইমি মিরাভেইল্স – মোটা সেমিনারিস্ট (অস্বীকৃত)

উৎপাদন[সম্পাদনা]

ক্রমবিকাশ[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রের শুরুর একটি দৃশ্যে সিমন মারেইল
চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য

চলচ্চিত্রের ধারণাটি শুরু হয়েছিল যখন বুনুয়েল ফ্রান্সে জিন এপস্টাইনের সহকারি পরিচালক হিসাবে কাজ করছিলেন। বুনুয়েল একদিন তার এক স্বপ্নের বিষয়ে একটি রেস্তোরাঁয় দালিকে বলেছিলেন যে, তার স্বপ্নে একটি মেঘ চাঁদকে অর্ধেকের করে কাটছে, যেনো চকচকে ব্লেডের একটি চোখ দুই ফালি করা হচ্ছে"। দালি-ও তাকে জানায় যে তিনি তার এক স্বপ্নে একটি কিশোর হাতের তালু থেকে অনেক পিঁপড়া বের হয়ে আসাতে দেখেছিলেন। তখন উত্তেজিতভাবে, বুনুয়েল জানিয়েছিলেন যে : "এখানেই চলচ্চিত্র, চলো এবং এটি নির্মান করি।"[৩] অবচেতন মনস্তত্ব কী কী তৈরি করতে পারে তা নিয়ে তারা মুগ্দ হয়েছিলেন এবং অবদমিত মানব আবেগগুলির ধারণার উপর ভিত্তি করে একটি স্ক্রিপ্ট লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।[৩]

১৯৩২ সালের আত্মজীবনীতে বুনুয়েল বলেন: "এই চলচ্চিত্রে পরাবাস্তববাদের নান্দনিকতা ফ্রয়েডের আবিষ্কারগুলির সাথে মিলে যায়। চলচ্চিত্রটি মূলত ধারণাটির মৌলিক নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল, যা পরাবাস্তববাদকে 'মনস্তাত্ত্বিক অটোমেটিজম' হিসাবে তুলে ধরে, অবচেতনভাবে, মনকে তার আচরণগত প্রত্যাবর্তনের দিকে প্রভাবিত করে, নৈতিকতা বা নান্দনিকতার দ্বারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ফিরে যেতে সক্ষম করে তোলার কারণে।"[৪]

সাউন্ডট্র্যাক[সম্পাদনা]

১৯২৯ সালে প্যারিসের চলচ্চিত্রটির মূল প্রদর্শনীর সময়, বুনুয়েল যে সঙ্গীত বেছে নিয়েছিলেন তা তিনি গ্র্যামোফোনে লাইভ বাজিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটির আধুনিক সংস্করণে একটি সাউন্ডট্র্যাক রয়েছে যা রিশার্ড ভাগনারের ট্রিসেন এন্ড ইসোল্ডে অপেরা "লাইবেস্টোড" থেকে উদ্ধৃত হয়েছে এবং ভিসেন্টে আলভারেজ ও কার্লোস ওটারোর "রিকার্ডডোস" থেকে। তারা প্রথম বুনুয়েলের তত্ত্বাবধানে ১৯৬০ সালে চলচ্চিত্রের সুপারভিশন সংস্করণে যুক্ত হয়েছিল।[৫]

প্রভাব[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্র বোদ্ধা কেন ড্যান্সিগার যুক্তি দিয়েছেন যে আন শিঁয়েন আন্দালিও বর্তমানে আধুনিক সঙ্গীত ভিডিওতে উপস্থিত চলচ্চিত্র নির্মাণ শৈলীর উৎস হতে পারে।[৬] অন্যদিকে রজার ইবার্ট এটিকে স্বল্প বাজেটের স্বাধীন চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।[৭]

প্রিমিয়ার র‌্যাংকাাক কর্তৃক চলচ্চিত্রটি The 25 Most Shocking Moments in Movie History তালিকায় ১০ম স্থান রয়েছে।[৮]

পিক্সারের গান "Debaser" আন শিঁয়েন আন্দালিও-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত।[৯]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Un Chien Andalou"। আইএমডিবি। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১১ 
  2. "Un Chien Andalou"। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০০৮ 
  3. Etherington-Smith, Meredith (১৯৯৫)। The Persistence of Memory: A Biography of Dalí। New York: Da Capo Press। পৃষ্ঠা 94। আইএসবিএন 0-306-80662-2 
  4. "The Collection: Museo Nacional Centro de Arte Reina Sofia"। Aldeasa। পৃষ্ঠা 52। আইএসবিএন 9-788480-030809 
  5. Buñuel, 1968
  6. Dancyger, Ken (জুলাই ২০০২)। The Technique of Film and Video Editing: History, Theory, and PracticeFocal Pressআইএসবিএন 0-240-80420-1 
  7. Ebert, Roger (১৬ এপ্রিল ২০০০)। "Un Chien Andalou (1928)"Chicago Sun-Times। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০২-২৮ 
  8. "The 25 Most Shocking Moments in Movie History"PremiereHachette Filipacchi Media U.S.। ২০০৭-০৪-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-২২ 
  9. Wieërs, Dag। "Pixies/Debaser - About Debaser"dag.wiee.rs (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-১৩ 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Buñuel, Luis; Salvador Dalí (১৯৬৮)। Classic Film Scripts: L'Age d'Or and Un Chien Andalou। Marianne Alexandre (trans.)। New York: Simon and Schuster। আইএসবিএন 0-85647-079-1 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]