মায়া ডেরেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Maya Deren থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মায়া ডেরেন
Елеоно́ра Деренко́вська
Maya Deren.jpg
১৯৪৩ সালের মেশেজ অব দি আফটারনুন চলচ্চিত্রের দৃশ্যে ডেরেন
জন্ম
ইলিয়েনোরা ডেরেনকোওস্কা

(১৯১৭-০৪-২৯)২৯ এপ্রিল ১৯১৭
মৃত্যুঅক্টোবর ১৩, ১৯৬১(1961-10-13) (বয়স ৪৪)
নিউ ইয়র্ক সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তামার্কিন
নাগরিকত্বমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
শিক্ষাস্নাতকোত্তর (ইংরেজি সাহিত্য)
মাতৃশিক্ষায়তন
পেশা
  • চলচ্চিত্র নির্মাতা
  • চলচ্চিত্র সম্পাদক
  • কবি
  • লেখক
  • আলোকচিত্রী
  • নৃত্যশিল্পী
  • প্রভাষক
কর্মজীবন১৯৪০–৫০-এর দশক
পরিচিতির কারণআভঁ-গার্দ প্রচারণা
উল্লেখযোগ্য কর্ম
আন্দোলনআভঁ-গার্দ
দাম্পত্য সঙ্গী
পিতা-মাতা
  • সলোমন ডেরেনকোওস্কা (পিতা)
  • মেরি ফিদলার (মাতা)
পুরস্কার

মায়া ডেরেন (এপ্রিল ২৯, ১৯১৭ – অক্টোবর ১৩, ১৯৬১; জন্ম ইলিয়েনোরা ডেরেনকোওস্কা, ইউক্রেনীয়: Елеоно́ра Деренко́вська), ছিলেন ইউক্রেনিয়-বংশদ্ভুত মার্কিন পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্রনির্মাতা এবং ১৯৪০ থেকে ১৯৫০-এর দশকে আভঁ-গার্দ আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রচারক। ডেরেন ছিলেন চলচ্চিত্র সম্পাদক, চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক, কবি, প্রভাষক, লেখক, আলোকচিত্রী এবং নৃত্যশিল্পী।

ডেরেন মনে করতেন, চলচ্চিত্রের ফাংশন বা সম্পাদন হয়েছিল মূলত অভিজ্ঞতা পরীক্ষার জন্য।[১] তিনি চিত্রগ্রহণ, নৃত্য, আফ্রিকান হাইতিয় ভুডু ধর্মাচার, প্রতীকী কবিতা এবং বিষয়গত মনোবিজ্ঞানের একাধিক পরাবাস্তব, ধারণাগত সাদাকালো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তার আগ্রহের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। সম্পাদনা, একাধিক এক্সপোজার, জাম্প-কাটিং, সুপারইমপজিশন, ধীর-গতি এবং ক্যামেরার অন্যান্য কৌশলগুলি ব্যবহার করে সেগুলির সম্পূর্ণ সুবিধা অর্জনের জন্য ডেরেন বস্তুগত স্থান এবং সময়ের প্রতিষ্ঠিত ধারণাগুলি ত্যাগ করেছিলেন, ফলে তার চলচ্চিত্রে চেতনা পদ্ধতির প্রবাহ ঘটে।

মার্কিন চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে একটি ছিল আলেকজান্ডার হামিদের সাথে নির্মিত মেশেজ অব দি আফটারনুন (১৯৪৩), যেটি ছিল ডেরেনের প্রথম চলচ্চিত্র। তার অ্যাট ল্যান্ড (১৯৪৪), আ স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর ক্যামেরা (১৯৪৫), এবং রিচুয়্যাল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম (১৯৪৬) সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণে, রচনা, প্রযোজনা, পরিচালনা, সম্পাদনা এবং সেগুলির চিত্রায়ন কেবল চিত্রগ্রাহক হ্যালা হেইম্যানের সহায়তায় রূপ পেয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রকাশিত বিবিসির "দ্য হান্ড্রেট গ্রেটেস্ট ফিল্ম ডিরেক্টেড বাই ওমেন" তালিকায় ৮২তম স্থানে অ্যাট ল্যান্ড এবং ৯৫তম স্থানে রিচুয়্যাল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম অর্ন্তভূক্ত হয়েছে।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ডেরেনের জন্ম ১৯১৭ সালের ২৯ এপ্রিল ইউক্রেনের কিয়েভের (তৎকালীন রুশ প্রজাতন্ত্র) একটি ইহুদি পরিবারে, মনোবিজ্ঞানী সলোমন ডেরেনকোওস্কা এবং মেরি ফিদলারের ঘরে, যিনি তার নামকরণ করেছিলেন ইতালিয় অভিনেত্রী ইলিয়েনোরা ডুসের নামে।[৩]

১৯২২ সালে, সাদা স্বেচ্ছাসেবক সেনাবাহিনী দ্বারা চালিত সেমিটিক বিরোধী কার্যক্রমের কারণে তাদের পরিবার সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং নিউ ইয়র্কের সিরাকিউসে চলে আসে। তার বাবা নিউ ইয়র্কে আসার পরেই তাদের পরিবারের পদবীনাম সংক্ষিপ্ত করে "ডেরেন" করেছিলেন।[৪] পরবর্তীতে সলোমন সিরাকিউজে ফিবেল-মাইন্ডেডের স্টেট ইনস্টিটিউটে স্টাফ সাইকিয়াট্রিস্ট হয়েছিলেন।

১৯২৮ সালে, ডেরেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব জেনেভায় পড়াশুনার সময় তার মা তার বোনের সাথে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে পাড়ি জমান।

ডেরেন সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন, যেখানে তিনি সাংবাদিকতা[৩][৫] এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ট্রটস্কিবাদী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত সক্রিয় সমাজতান্ত্রিক নেতা হয়ে উঠেছিলেন।[৬] ডেরেন ইয়াং পিপলস সোসালিস্ট লিগের জাতীয় ছাত্র কার্যালয়ে সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সিরাকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সমস্যা ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ক্লাবটির মাধ্যমে তার গ্রেগরি বারদেকের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল, যার সাথে তিনি ১৯৩৫ সালের জুনে আঠারো বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন।[৬] ১৯৩৫ সালে স্নাতক শেষ করার পর তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলে আসেন। ১৯৩৬ সালের জুনে তিনি নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্যে বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে স্কুল শেষ করেন[৪] এবং পরে শরতের সময়ে সিরাকিউসে ফিরে আসেন। তিনি এবং তার স্বামী নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক কারণে সক্রিয় হয়েছিলেন এবং একসময় তিনি বারডাকি থেকে পৃথক হতে শুরু করেন। ১৯৩৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়েছিল।

তিনি নিউ রিসার্চ ফর সোশ্যাল রিসার্চে অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে স্মিথ কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।[৩] তার স্নাতোকোত্তরের গবেষণাপত্র ছিলো অ্যাংলো-আমেরিকান কবিতায় ফরাসি প্রতীকবাদী বিদ্যালয়ের প্রভাব (১৯৩৯)। সে বছরই গ্রেগরি বারদেকের সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।[৩]

প্রাথমিক কর্মজীবন[সম্পাদনা]

স্মিথ কলেজ থেকে স্নাতক শেষ হওয়ার পরে, ডেরেন নিউ ইয়র্কের গ্রিনউইচ গ্রামে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি ইউরোপিয় অভিবাসী শিল্পের দৃশ্যে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী ১৯৩৭–১৯৩৯ সাল ছিল তার কর্মজীবনের সূচনামূলক সময়, কারণ ডেরেন সে সময়ে বেতার শো এবং বিদেশী ভাষার সংবাদপত্রগুলির জন্য ফ্রি-ল্যান্স অবদান রাখবেন ঠিক করেছিলেন। সেই সময়ে তিনি বিখ্যাত মার্কিন লেখক এডা লু ওয়ালটন, ম্যাক্স ইস্টম্যান এবং তারপরে উইলিয়াম সিব্রুকের সম্পাদকীয় সহকারী হিসাবেও কাজ করেছিলেন।[৬] তিনি তার ইউরোপিয় শৈলীর হাতে তৈরি পোশাক, বন্য, কোঁকড়ানো চুল এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।[৪] ১৯৪০ সালে, ডেরেন তার কবিতা এবং ফ্রি-ল্যান্স আলোকচিত্রশিল্পে মনোযোগ দেবার জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন। ১৯৪১ সালে, ডেরেন আফ্রিকার মার্কিন নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার এবং ক্যারিবিয় সংস্কৃতি এবং নৃত্যেরর নৃতাত্ত্বিক ক্যাথরিন ডানহ্যামের কাছে শিশুদের একটি বই লেখার পরামর্শ করেছিলেন এবং পরে তার সহকারী ও প্রচারবিদ হয়ে ওঠেন। ডানহামের কাজ পরবর্তীতে হাইতির সংস্কৃতি এবং ভুডু পুরাণের উপর ডেরেনের অধ্যয়নকে প্রভাবিত করেছিল।[৭] নতুন কেবিন ইন দ্য স্কাই শেষে ডানহাম নৃত্য সংস্থা হলিউডে কাজ করার জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক মাস কার্যক্রম বন্ধ রাখে। সেখানেই ডেরেনের সাথে সাক্ষাত হয়েছিল আলেক্সান্দার হ্যাকেন্সচমিডের (পরে হামিদ), একজন চেক বংশোদ্ভূত আলোকচিত্রী এবং চিত্রগ্রাহক, যিনি ১৯৪২ সালে ডেরেনে দ্বিতীয় স্বামী হয়ে উঠেন।[৩] হ্যাকেন্সচমিডের হিটলারের অগ্রযাত্রার পরে ১৯৩৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়া থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। তারা লরেল ক্যানিয়নে একসাথে থাকত যেখানে হ্যাকেন্সচমিড তাকে তার আলোকচিত্রশিল্পে সাহায্য করেছিলেন যা লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় ফল বাছাইকারীদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।[৬]

চলচ্চিত্র কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ডেরেন চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, চলচ্চিত্র উপভোগের জন্য একটি বৌদ্ধিক প্রসঙ্গ সরবরাহ করেছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাধীন চলচ্চিত্র সমাজগুলির জন্য তাত্ত্বিক শূন্যস্থান পূরণ করেছিলেন।[৮] যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং কিউবাতে আভঁ-গার্দ চলচ্চিত্র তত্ত্বের পাশাপাশি ভুডু বিষয়ক বক্তৃতা প্রদান, লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র বিতরণ শুরু করার মধ্য দিয়ে ডেরেনের উদ্যমী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রভিন্সটাউন প্লেহাউস গ্রামে থ্রি আবানডন ফিল্ম শিরোনামে একটি প্রধান গণ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, যেখানে তিনি মেশেজ অব দি আফটারনুন (১৯৪৩), অ্যাট ল্যান্ড (১৯৪৪) এবং আ স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর ক্যামেরা (১৯৪৫) প্রদর্শন করেছিলেন। ঘটনাট আমোস ভোগলের ১৯৫০-এর দশকের সর্বাধিক সফল চলচ্চিত্র সমাজ সিনেমা সিক্সটিন গঠনের অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে।

১৯৪৬ সালে, ডেরেন "মোশন পিকচারের ক্ষেত্রে সৃজনশীল কাজের" জন্য গুগেনহেম ফেলোশিপে ভূষিত হয়েছেন, এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে মেশেজ অব দি আফটারনুন (১৯৪৩) ১৬ মিলিমিটার পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্রের জন্য গ্র্যান্ড প্রিক্স ইন্টারন্যাশল জিতেছেন। এরপরে তিনি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য ক্রিয়েটিভ ফিল্ম ফাউন্ডেশন নামে একটি বৃত্তি চালু করেছিলেন।[৯]

১৯৫৮ সালে, ডেরেন মেট্রোপলিটন অপেরা ব্যালে স্কুল এবং অ্যান্টনি টিউডারের সাথে দ্য ভেরি আই অব নাইট তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন।

কুর্তিস হ্যারিংটন, স্টান ব্র্যাখেজ এবং কেনেথ অ্যাঙ্গারের মতো আসন্ন আভ-গার্দ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য ডেরেন ছিলেন ধ্যান এবং অনুপ্রেরণা, যারা তার স্বাধীন, উদ্যোক্তা চেতনার অনুকরণ করেছিলেন। ক্যারোলি স্নিমান, বারবারা হ্যামার এবং সু ফ্রেডরিচের চলচ্চিত্রেও তার প্রভাব দেখা যায়।[৭]

প্রধান চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

মেশেজ অব দি আফটারনুন (১৯৪৩)[সম্পাদনা]

মেশেজ অব দি আফটারনুন (১৯৪৩) চলচ্চিত্রের দৃশ্যে ডেরেন

১৯৪৩ সালে, হৃদরোগের কারণে তার বাবার মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকার হিসাবে কিছু অর্থ লাভ করেন ডেরেন এবং একটি ব্যবহৃত ১৬ মিলিমিটার বোলেক্স ক্যামেরা কেনেন। সে বছর এই ক্যামেরাটি হ্যামিদের সহযোগিতায় তার লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে $২৫০ ডলার বাজেটে নির্মিত তার প্রথম এবং সর্বাধিক পরিচিত চলচ্চিত্র, মেশেজ অব দি আফটারনুন (১৯৪৩) চিত্রায়নে ব্যবহৃত হয়েছিল।[১০] মেশেজ অব দি আফটারনুন, আঞ্চলিক মার্কিন আভা-গার্দ চলচ্চিত্র হিসাবে স্বীকৃত। এটি আঁভ-গার্দ মার্কিন চলচ্চিত্রের আখ্যান রচনার প্রথম উদাহরণ; সমালোচকরা চলচ্চিত্রে আত্মজীবনীমূলক উপাদানগুলির পাশাপাশি নারী এবং ব্যক্তি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য করেছেন। প্রাথমিকভাবে সংলাপবিহীন নির্বাক চলচ্চিত্রটিতে ১৯৫২ সালে ডেরেনের তৃতীয় স্বামী তেজি ইতো সুরারোপ করেছিলেন। চলচ্চিত্রটি একটি বর্ণনামূলক "ট্রান্স চলচ্চিত্র" হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে, যেটি নাটকীয় আঙ্গিক এবং অভিনব সম্পাদনায় পূর্ণ। চলচ্চিত্রটি অধিবক্তার অবচেতন মনে প্রভাব বিস্তার, এবং বস্তু ও পরিস্থিতির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার সংক্ষিপ্ত উপায় চিত্রায়ন করেছে বলে মনে করা হয়। একটি মহিলা, মায়া ডেরেন অভিনীত, লস অ্যাঞ্জেলেসে তার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন এবং একটি স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে এক রহস্যময় ছায়ামূর্তিকে অনুসরণ করতে করতে ছায়াযুক্ত পথের পাশে একটি সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসেন তিনি। দোতলায়, জানালার পাশে আরামকেদারায় ঘুমিয়ে পড়েন এবং এরপর তার পর স্বপ্ন আর বাস্তব এক হয়ে যায়।[৩] রাস্তায় গেটের সামনে হাঁটার এই দৃশ্যটি বারবার দেখানো হয়, প্রচলিত বর্ণনামূলক প্রত্যাশাগুলির বিরুদ্ধে এগিয়ে যায় এবং বাড়ির অভ্যন্তরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরিসমাপ্তিতে পৌছায়। বাতাসের আন্দোলন, ছায়া এবং সঙ্গীত স্বপ্নের হৃৎস্পন্দন ধরে রাখে। আয়নায় আবদ্ধ একটি মুখের দৃশ্য এবং একটি চাবির পড়ে যাওয়া সহ কয়েকটি চিহ্ন পর্দায় পুনরাবৃত্তি করা হয়।

স্বাধীন পুনরাবৃত্তি এবং ছন্দ স্বপ্নের মতো গুণাবলীকে আরও বাড়িয়ে তোলে, প্রচলিত আখ্যানগুলির প্রত্যাশা কমিয়ে দেয়। কোনও নির্দিষ্ট মহিলার সাথে পরিচয় ঘটানোর আগ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ক্যামেরা তার মুখ এড়িয়ে চলে। একাধিক স্বত্তার উপস্থিত ঘটতে থাকে, প্রথম এবং তৃতীয় ব্যক্তির মধ্যে স্থান পরিবর্তনের দৃশ্য সুপারিশ করে যে সুপার-ইগো পর্যায় চলছে, যা মনোবিশ্লেষণকারী ফ্রয়েডিয় সিঁড়ি এবং ফুলের মোটিফের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ধরনের ফ্রয়েডিয় ব্যাখ্যার সাথে ডেরেন দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, যা তেজি ইতো রচিত সাউন্ড চলচ্চিত্রে যুক্ত করতে নির্দেশ করেছিলেন। আরেকটি ব্যাখ্যা হল প্রতিটি চলচ্চিত্র একটি "ব্যক্তিগত চলচ্চিত্র"-এর উদাহরণ। তার প্রথম অংশটি কোনও মহিলার আত্মনিষ্ঠ এবং বাহ্যিক বিশ্বের সাথে তার সম্পর্ক অন্বেষণ করে। জর্জেস সাদুল বলেছিলেন যে ডেরেন সম্ভবত "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যক্তিগত, স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।"[১১] চলচ্চিত্র নির্মাতাকে ঘরোয়া জায়গাতেই যার স্তরের সাবজেক্টিভিটি অন্বেষণ করা হয়েছে এমন চরিত্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীবাদী হতাশাকে "ব্যক্তিগত রাজনৈতিক" বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্ব-প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কিত তার অন্যান্য চলচ্চিত্রের মতো, ডেরেন নিজেকে এবং "অন্যান্য"দের দ্বন্দ্বপ্রবণ প্রবণতাগুলি দিকনির্দেশনা করেছেন, চলচ্চিত্রে মহিলাকে দ্বিগুণ, চারগুণ এবং একীকরণের মাধ্যমে। রূপক জটিলতার সাথে স্বপ্নের মত সন্ধানের পরে, মেশেজ অব দি আফটারনুন চলচ্চিত্রে একটি ছদ্মবেশী কাঠামো এবং নোয়া চলচ্চিত্র ও গার্হস্থ্য মেলোড্রামার সাথে একটি স্বাধীন সম্পর্ক রয়েছে।[৪] চলচ্চিত্রটি কীভাবে ডেরেনের নিজের জীবন এবং উদ্বেগের সাথে অনুরণিত হয়েছিল সে জন্য বিখ্যাত। দ্য মুভিং ইমেজের একটি পর্যালোচনা অনুসারে, "চলচ্চিত্রটি উদ্বেগ এবং উত্সাহী প্রতিশ্রুতিগুলির একটি সেট থেকে উদ্ভূত যা ডেরেনের জীবন এবং তার গতিপথের সহজাত। এই সহজাতগুলির মধ্যে প্রথমটি হল তার যুবক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বছরগুলিতে সমাজতন্ত্রের প্রতি ডেরেনের আগ্রহ"।[১২]

১৯৯০-এর দশকে, নথিভুক্ত হবার জন্য দ্বিতীয় বছরে ভোটের মাধ্যমে মেশেজ অব দি আফটারনুন, লাইব্রেরি অব কংগ্রেস কর্তৃক "সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিকভাবে, বা নান্দনিকভাবে উল্লেখযোগ্য" হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় চলচ্চিত্র রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়। ২০১৫ সালে বিবিসি চলচ্চিত্রটিকে সর্বকালের সেরা মার্কিন চলচ্চিত্রের তালিকায় ৪০তম স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছে।[১৩]

অ্যাট ল্যান্ড (১৯৪৪)[সম্পাদনা]

অ্যাট ল্যান্ড (১৯৪৪) চলচ্চিত্রের দৃশ্য ডেরেন

১৯৪৪ সালের গ্রীষ্মে নিউ ইয়র্কের পোর্ট জেফারসন এবং আমাগানসেটে অ্যাট ল্যান্ড-এর চিত্রগ্রহণ করা হয়। পরিবেশের মনোবিজ্ঞানীদের দৃষ্টিকোণ থেকে, ডেরেন "বাহ্যিক বিশ্বের লুকানো গতিশীল বিষয়কে প্রকাশ করেছে...যেন কেউ মাছের জীবন নিয়ে উদ্বেগ থেকে সমুদ্রের প্রতি উদ্বেগের দিকে এগিয়ে চলে যা মাছ এবং জীবন এই দুটি চরিত্রের জন্যই দায়ী।"[১১] চলচ্চিত্রে ডেরেন সমুদ্র সৈকতের তীরে স্রোতে ভেসে একটি ভাসমান কাঠের টুকরোর উপরে উঠে আসে এবং সেখান থেকে দৃশ্যটি ঝাড়বাতি প্রজ্জ্বলিত একটি ঘরের দৃশ্যের অবতাড়না করে। যেখানে খাবারের টেবিলে বসা পুরুষ-মহিলাদের ধূমপানের কারণে ঘরটি ধোঁয়াময় থাকে। ডেরেন টেবিলে সংকোচমুক্ত হামাগুড়ি দিতে থাকে, যদিও ঘরের বাকি লোকদের কাছে তাকে অদৃশ্য মনে হয়। টেবিল জুড়ে হামাগুড়ি দিতে বাধা দেওয়ার কারণে ডেরেনের দেহ ঝাঁকুনির মধ্যে দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে আবার নতুন নতুন ফ্রেমে অবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। এরপর পাথরে জল প্রবাহিত হবার দৃশ্যের পর; একটি খামারে একজন লোককে বিছানায় রেখে, একের পর এক দরজা দিয়ে অবশেষে বাইরে চূড়া থেকে পতনের দৃশ্য দেখা যায়। তিনি প্রশস্ত ফ্রেমে সঙ্কুচিত হয়ে ক্যামেরা থেকে আরও দূরে হেঁটে বালির টিলার উপর পৌছান, তারপরে তীর থেকে শিলা সংগ্রহ করেন। দু'জন মহিলাকে বালিতে দাবা খেলতে দেখলেও তার অভিব্যক্তি বিভ্রান্ত বলে মনে হয়। তিনি পূর্বের ধারাবাহিকতায় ফিরে আসেন, এবং জাম্প-কাটগুলির কারণে, মনে হয় যেন তিনি দ্বৈত বা "ডপ্পেলগার", যেখানে তার আগের স্ব-স্ব দৃশ্যের মধ্য দিয়ে তার অন্য স্ব-স্ব চরিত্র দেখছেন। তার কিছু গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা একটি নাটকীয়তা, দক্ষ নর্তকীর মতো, আবার কারও কারও কাছে প্রায় পশুত্বের সংবেদনশীলতা মনে হয়, কারণ তিনি আপাতদৃষ্টিতে বিদেশী পরিবেশের মধ্য দিয়ে হামাগুরি দিতে থাকেন। এটি ডেরেনের এমন একটি চলচ্চিত্র যেখানে তার শারীরিক পরিবেশে, তার ভিতরে এবং তার অবচেতন মনে বাইরের চরিত্রটির অনুসন্ধানের উপরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে, যদিও তার অন্যান্য চলচ্চিত্রের তুলনায় এটিরও একইরকম নিরাকার গুণ রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত বিবিসির "দ্য হান্ড্রেট গ্রেটেস্ট ফিল্ম ডিরেক্টেড বাই ওমেন" তালিকায় চলচ্চিত্রটি ৮২তম স্থানে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে।[২]

"আ স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর ক্যামেরা" (১৯৪৫)[সম্পাদনা]

১৯৪৫ সালের বসন্তে তিনি আ স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর ক্যামেরা তৈরি করেছিলেন, যা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন "আন্দোলনের শক্তির মূলনীতিকে আলাদা এবং উদযাপন করার চেষ্টা।"[১১] ফ্রেমের অভ্যন্তরে দৃশ্যরচনা ও বিভিন্ন গতিপথে ডেরেনের সূক্ষ্ম সম্পাদনাগুলি এবং চলচ্চিত্র্রের গতি ও গতিবিধির সাথে একটি নৃত্য তৈরির জন্য মিথস্ক্রিয়া করে যা ডেরেন বলেছিলেন যে কেবল চলচ্চিত্রে থাকতে পারে। চলচ্চিত্রের অভ্যন্তরের যে কোনও কিছুর চেয়ে আন্দোলনের গতিশীলতা যেভাবে বেড়েছে তাতে উচ্ছ্বসিত মায়া নৃত্যশক্তির গতিবেগকে সময় ও স্থান উভয়ের ধারণাকে অতিক্রম করে এবং হস্তান্তরিত করায় "ভূগোল" শব্দের সম্পূর্ণ নতুন জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করে।[১১] মাত্র ৩ মিনিট স্থিতিকালের আ স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর ক্যামেরা একটি খণ্ড, তবে একজন ব্যক্তির খুব যত্ন সহকারে নির্মিত অন্বেষণ, যিনি বনে নাচেন এবং তারপরে বাড়ির অভ্যন্তরে তার অবিচ্ছিন্ন চলনের কারণে তাকে টেলিপোর্ট বলে মনে হয়। চলচ্চিত্রের কোরিওগ্রাফি পুরোপুরি মেলানো হয়েছে কারণ তিনি নির্বিঘ্নে একটি বহিরঙ্গন উঠোনে উপস্থিত হন এবং তারপরে একটি উন্মুক্ত, প্রাকৃতিক স্থানে ফিরে আসেন। এটি প্রকৃতি থেকে সমাজের সীমাবদ্ধতায় পুনরায় প্রকৃতির দিকে ফিরে আসে। এই চরিত্রে নৃত্যশিল্পী এবং কোরিওগ্রাফার ট্যালি ব্যাটি অভিনয় করেছেন, যার শেষ আন্দোলনটি পর্দা জুড়ে তাকে প্রাকৃতিক বিশ্বে ফিরে যেতে দেখা যায়। চলচ্চিত্রটির ভাঙ্গা, অস্থির সম্পাদনা, বিভিন্ন কোণ এবং রচনাগুলি দেখায় এবং ধীর গতির অংশগুলির সাথে ডেরেনের ঠোটমেলানোর গুণমানকে মসৃণ এবং আপাতদৃষ্টিতে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সক্ষম করে।

রিচুয়্যাল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম (১৯৪৬)[সম্পাদনা]

তার চতুর্থ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, ডেরেন একটি আনগ্রামে আলোচনা করেছিলেন যে, তিনি অনুভব করেছিলেন যে সময়ের অনন্য সম্ভাবনার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং গঠনটি সামগ্রিকভাবে আচারগত হতে হবে। রিচুয়্যাল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম আগস্টে চিত্রায়ন শুরু হয়েছিল এবং ১৯৪৬ সালে এটি সম্পূর্ণ হয়েছিল। এটি প্রত্যাখ্যানের ভীতি এবং আচার-অনুষ্ঠান ত্যাগের মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার সন্ধান করে, বিশদভাবে সেইসাথে পরিবর্তনের প্রকৃতি এবং প্রক্রিয়ার বৃহত্তর ধারণাগুলি তুলে আনে। মূল ভূমিকায় ডেরেন এবং নৃত্যশিল্পী হিসাবে রিতা ক্রিস্টিয়ানি এবং ফ্র্যাঙ্ক ওয়েস্টব্রুক অভিনয় করেছিলেন।[১৪] ২০১৯ সালে প্রকাশিত বিবিসির "দ্য হান্ড্রেট গ্রেটেস্ট ফিল্ম ডিরেক্টেড বাই ওমেন" তালিকায় চলচ্চিত্রটি ৯৫তম স্থানে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে।[২]

মেডিটেশন অন ভায়োলেন্স (১৯৪৮)[সম্পাদনা]

১৬ মিলিমিটারে নির্বাক সাদাকালো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মেডিটেশন অন ভায়োলেন্স নির্মিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। চাউ-লি চির অভিনয় এতে সহিংসতা এবং সৌন্দর্যের মধ্যে পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে তোলে। এটি ছিল "চলমান রূপান্তর নীতিটি বিমূর্ত করার চেষ্টা", যা ইতোপূর্বে রিচুয়্যাল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম (১৯৪৬)-এ দেখা যায়। যদিও ডেরেন অনুভব করেছিলেন যে এটি এই ধারণার স্পষ্টতায় এতটা সফল ছিল না।[১১]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৩ সালে, তিনি হলিউডের কিংস রোডের একটি বাংলোতে চলে আসেন এবং নামের প্রথমাংশে হামিদের দেয়া "মায়া" নাম যুক্ত করেন।[১৫][৩] মায়া ঐতিহাসিক বুদ্ধের মাতার নাম, পাশাপাশি বাস্তবতার মায়াজাল প্রকৃতির নাটকীয় ধারণা। গ্রিক পুরাণে মাইয়া হলেন হর্মিসের মা যিনি পাহাড় ও ক্ষেতের দেবী

১৯৪৪ সালে, ডেরেন নিউ ইয়র্ক শহরে ফিরে আসেন, সেখানে তার সামাজিক বৃত্তে মার্সেল ডুচাম্প, আন্দ্রে ব্রেটন, জন কেজ এবং আনাস নিন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একই বছর, ডেরেন পেগি গগেনহেইমের আর্ট অব দ্য সেঞ্চুরি গ্যালারিতে ডুচাম্পের সাথে দ্য উইচ'স ক্রেডল চিত্রায়িত করেছিলেন এবং যিনি সম্ভবত চলচ্চিত্রটির পরিচালনায়ও ডেরেনকে সহায়তা করেছিলেন।

অনেক বন্ধু তার চেহারাটিকে বিদেশী রুশ ইহুদি হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং তার বোহেমিয়ান গ্রিনউইচ গ্রামীণ জীবনধারাকে আকর্ষণ করার একটি অংশ হিসাবে অবদান রেখেছিলেন। ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বর মাসে এস্কায়ার ম্যাগাজিনের সংখ্যায়, তার আলোকচিত্রের জন্য একটি ক্যাপশন তুলে ধরেছিল যে তিনি "অবচেতনদের গতিময় ছবি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, কিন্তু এখানে তার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফটোজেনিকের সীমাবদ্ধতার প্রমাণ রয়েছে।"[১৬] ১৯৪৭ সালে হামিদের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। হাইতিতে থাকাকালীন মায়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে জাপানি সঙ্গীত পরিচালক তেইজি ইতোর সঙ্গে। বহু পরে ১৯৬০ সালে তারা বিয়ে করেছিলেন।[৩] তেজি ইতো বলেছিলেন "মায়া ছিলেন সর্বদা একজন রুশ। হাইতিতেও তাই ছিলেন। তিনি সর্বদা পোশাক পরিধান, কথা বলার ধরন, একাধিক ভাষায় কথা বলার মাধ্যমে একজন রুশ হিসাবে নিজেকে প্রদর্শন করতেন।"[১৬]

হলিউডের সমালোচনা[সম্পাদনা]

ইতালিয় নয়াবাস্তববাদের প্রতি বিরূপ থাকার পাশাপাশি তিনি ছিলেন হলিউডের মূল ধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বিরোধী।[৩] ১৯৪০ এবং ৫০-এর দশক জুড়ে মার্কিন চলচ্চিত্রের শৈল্পিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক একচেটিয়া আচরণের জন্য ডেরেন হলিউডকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বিবৃতি দিয়েছিলেন, "হলিউড যে পরিমাণ অর্থ লিপস্টিকের জন্য ব্যয় করে তা দিয়ে আমি আমার চলচ্চিত্র তৈরি করি" এবং তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন যে হলিউড "সৃজনশীল সূক্ষ্ম-শিল্প রূপ হিসাবে মোমন চলচ্চিত্রগুলির সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং বিকাশে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।" তিনি নিজেকে হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের মান এবং অনুশীলনের বিরোধি মনে করেছিলেন।[১৭] স্বাধীন চলচ্চিত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে ডেরেন বলেছেন:

Artistic freedom means that the amateur filmmaker is never forced to sacrifice visual drama and beauty to a stream of words...to the relentless activity and explanations of a plot...nor is the amateur production expected to return profit on a huge investment by holding the attention of a massive and motley audience for 90 minutes...Instead of trying to invent a plot that moves, use the movement of wind, or water, children, people, elevators, balls, etc. as a poem might celebrate these. And use your freedom to experiment with visual ideas; your mistakes will not get you fired.[১৮]

হাইতি এবং ভুুডু[সম্পাদনা]

হাইতিতে একটি নৃতাত্ত্বিক চলচ্চিত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডেরেন। সে সময়ে তিনি আঁভ-গার্দ চলচ্চিত্র ছেড়ে দেওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন, তবে শিল্পী হিসাবে নতুন স্তরে প্রসারিত হতে প্রস্তুত ছিলেন।[১৯] তিনি ১৯৪৭ সালে বালিতে গ্রেগরি বেটসনের নৃতাত্ত্বিক ফুটেজ অধ্যয়ন করেছিলেন এবং এটি তার পরবর্তী চলচ্চিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী ছিলেন।[৬] সেপ্টেম্বরে, হামিদের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি হাইতিতে নয় মাস অবস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ১৯৪৭ সালে গুগেনহাইম ফেলোশিপ অনুদান ডেরেনকে তার ভ্রমণের জন্য অর্থ ব্যয় করতে এবং তার চলচ্চিত্র মেডিটেশন অন ভায়োলেন্স (১৯৪৮) সম্পূর্ণ করতে সক্ষম করে। এছাড়াও ভুডুর অনুষ্ঠানাদি নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে তিনি ১৯৫৪ সালে আরো তিনবার হাইতি ভ্রমণ করেছিলেন।

এই আচার-অনুষ্ঠানের নৃত্যে ডেরেনের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন ক্যাথরিন ডানহাম, যিনি হাইতিয় নৃত্যে তার স্নাতকত্তোর থিসিস লিখেছিলেন ১৯৯৯ সালে, যেটির সম্পাদনা করেছিলেন ডেরেন। এরপর ডেরেন হাইতিতে তার প্রথম যাত্রার পূর্বে নৃত্যের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অধিকার সম্পর্কে বেশ কয়েকটি নিবন্ধ লিখেছিলেন।[২০] ডেরেন চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সেখারকারআচার-অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ভুডু অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং এবং ছবি তোলেন। ভুুডু সম্পর্কে তার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা ১৯৫৩ সালে নিউ ইযর্কের ভ্যানগার্ড প্রেস থেকে ডিভাইন হর্সম্যান: দা লিভিং গড্‌স অব হাইতি প্রকাশিত হয়। জোসেফ ক্যাম্পবেল সম্পাদিত এই পাকাশনটি ভুডু সম্পর্কিত একটি চূড়ান্ত উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। তিনি ভুডু অধিকৃত অনুষ্ঠান, পরিবর্তনবাদ, নাচ, নাটক, খেলা এবং বিশেষত আচার সম্পর্কে তার আকর্ষণ বর্ণনা করেছিলেন যা আত্ম, অহং এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে প্রচলিত চিন্তাভাবনা ভাঙার প্রয়োজনীয়তার উপর তার দৃঢ় অনুভূতি থেকেই উদ্ভুত।[৪] তার অ্যান অ্যানাগ্রাম অব আইডিয়াস অন আর্ট, ফর্ম, অ্যান্ড ফিল্ম বইয়ে তিনি লিখেছেন:

আনুষ্ঠানিক রূপ মানুষকে নাটকীয়তার উৎস হিসাবে নয়, বরং নাটকীয়ভাবে পুরোপুরি কিছুটা হতাশার উপাদান হিসাবে বিবেচনা করে। এই ধরনের হতাশার অভিপ্রায় ব্যক্তির ধ্বংস নয়; বিপরীতে, এটি তাকে ব্যক্তিগত মাত্রার বাইরেও বিস্তৃত করে এবং ব্যক্তিত্বের বিশেষীকরণ ও আবদ্ধকরণ থেকে তাকে মুক্তি দেয়। তিনি একটি গতিশীল অংশে পরিণত হন যা এই জাতীয় সৃজনশীল সম্পর্কের মতো ঘুরে ফিরে এর অংশগুলিকে তার বৃহত্তর অর্থ প্রকাশ করে।[১]

ডেরেন হাইতিতে ১৮,০০০ ফুট ভুডু ধর্মাচার এবং তার সাথে পরিচিত ব্যক্তিদের চিত্রায়িত করেছেন। ফুটেজটি মরণোত্তর প্রামাণ্যচিত্র ডিভাইন হর্সম্যান: দা লিভিং গড্‌স অব হাইতি নামে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এটির প্রযোজনা করেছিলেন ডেরেনের বন্ধু জেমস মেরিল এবং সম্পাদনা করেছিলেন দম্পতি তেজি ইতো এবং চেরেল উইনেট ইতো।[২১][২২][২৩]}} সমস্ত রেকর্ডিং, আলোকচিত্র এবং টীকাসমূহ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওয়ার্ড গটলিব আর্কাইভাল রিসার্চ সেন্টারে "মায়া ডেরেন সংগ্রহে" সংগৃহীত রয়েছে। চলচ্চিত্রের ফুটেজটি নিউ ইয়র্ক শহরের অ্যান্টোলজি ফিল্ম আর্কাইভে সংগৃহীত করা হয়েছে।

১৯৫৩ সালে সদ্য গঠিত ইলেকট্রা রেকর্ডস ভয়েসেস অব হাইতি শিরোনামে ডেরেনের রেকর্ডিংগুলির একটি এলপি সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। তেজি ইতো অ্যালবামটির প্রচ্ছদ নকশা করেছিলেন।[২৪]

নৃবিজ্ঞানী মেলভিল হারকোভিৎজ এবং হ্যারল্ড করল্যান্ডার ডিভাইন হর্সম্যানের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন, এবং সমসাময়িক গবেষণায় এটি প্রায়শই একটি প্রামাণ্য কণ্ঠ হিসাবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে ডেরেনের পদ্ধতিটির বিশেষত প্রশংসা করা হয়েছে কারণ "ভুডো সমস্ত গোঁড়ামিকে প্রতিহত করেছে, কখনও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার জন্য ভূপৃষ্ঠের উপস্থাপনাকে ভুল করেনি।"[২৫]

ডেরেনের একই শিরোনামের বইয়ে "ভুডুয়ান" বানান ব্যবহারের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন:[২৬] Deren uses the spelling Voudoun, explaining: "Voudoun terminology, titles and ceremonies still make use of the original African words and in this book they have been spelled out according to usual English phonetics and so as to render, as closely as possible, the Haitian pronunciation. Most of the songs, sayings and even some of the religious terms, however, are in Creole, which is primarily French in derivation (although it also contains African, Spanish and Indian words). Where the Creole word retains its French meaning, it has been written out so as to indicate both the original French word and the distinctive Creole pronunciation." ডেরেন তার ক্রেওল শব্দ অভিধানে 'ভুডুন' অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান একই ধরনের ফরাসি শব্দ ভুডক্সের[২৭] প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

চরম অপুষ্টিজনিত কারণে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারণে ১৯৬১ সালে ৪৪ বছর বয়সে ডেরেন মারা যান।[৩] চিকিৎসক ম্যাক্স জ্যাকবসন কর্তৃক নির্ধারিত অ্যাম্ফিটামিন এবং ঘুমের বড়িতে তার দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরতার কারণে তার অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল,[৪] যিনি পরে রাষ্ট্রপতি কেনেডির চিকিৎসক হিসাবে বিখ্যাত হয়েছিলেন। ডেরেনের বাবা উচ্চ রক্তচাপে ভুগেছিলেন, যা তিনিও পেতে পারেন।

তার ভস্ম জাপানের ফুজি পর্বতে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

ডেরেনের সামাজিক প্রতিশ্রুতি এবং নৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুরাগী ধারণা ছিল যা তাকে বিনোদন শিল্পের কম অনুকূল মূল্যবোধ থেকে তাকে আলাদা রেখেছিল। যা তাকে তার পরাবাস্তববাদী ও দাদার পূর্বসূরীদের উদাসীন, বিদ্রূপাত্মক মনোভাব; তার বিট উত্তরসূরিদের শীতল ও হিপ মনোভাব; স্টাইলাইজড চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পরোক্ষ নান্দনিক; এবং সমসাময়িক চলচ্চিত্র তাত্ত্বিকদের দাম্ভিক মনোভাব থেকে এসেছে।[৪] প্রাথমিক রাজনৈতিক সমাজতান্ত্রিকতাবাদ ডেরেনের সাংগঠনিক এবং সৃজনশীল প্রচেষ্টার ভিত্তি হিসাবে কাজ করেছিল; তার শিল্পের অনুধাবন তার দৃঢ় নৈতিকতা, নৈতিক ও সামাজিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল।[১]

ডেরেন একটি নতুন মার্কিন চলচ্চিত্র তৈরির প্রধান ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ব্যক্তিগত, পরীক্ষামূলক, অপ্ররিচিত চলচ্চিত্রকে তুলে ধরেছিলেন। ১৯৮৬ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সম্মানের জন্য মায়া ডেরেন পুরস্কার প্রচলন করে।

দ্য লিজেন্ড অব মায়া ডেরেন (২০০৬), ১ম ও ২য় খণ্ডে শতাদিক নথি, সাক্ষাৎকার, মৌখিক ইতিহাস, চিঠি এবং আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি রয়েছে।[৪]

ডেরেন এবং তার রচনাগুলি সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিক সৃষ্টিকর্ম রয়েছে:

  • ১৯৮৭ সালে জো আন কাপলান ডেরেন সম্পর্কিত একটি জীবনী সংক্রান্ত তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছিলেন, শিরোনাম: ইনভোকেশন: মায়া ডেরেন (৬৫ মিনিট)
  • ১৯৯৪ সালে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক হর্স অ্যান্ড ব্যাম্বো থিয়েটার ইউরোপ জুড়ে ড্যান্স অব হোয়াইট ডার্কনেস তৈরি ও সফর করেছিল যার গল্প ছিল ডেরেনের হাইতি আগমনের ঘটনা।
  • ২০০২ সালে, মার্টিনা কুডলেচেক ডেরেন সম্পর্কে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের প্রমাণ্যচিত্র পরিচালনা করেছিলেন, শিরোনাম: ইন দ্য মিরর অব মায়া ডেরেন (ইম স্পিগেল ডার মায়া ডেরেন), যেটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন জন জর্ন
  • ২০০৪ সালে, ব্রিটিশ রক ব্যান্ড সাবটেরেনিয়ান্স কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের বার্ষিক চলচ্চিত্র উৎসবে কমিশনের অংশ হিসাবে ডেরেনের ছয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সাউন্ডট্র্যাক তৈরি করেছিল। অ্যাট ল্যান্ড সাউন্ড ডিজাইনের জন্য উৎসবে পুরস্কার জিতেছিল।
  • ২০০৮ সালে, পর্তুগিজ রক ব্যান্ড মাও মুর্তা কুর্তাস ভিলা ডু কনডির বার্ষিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে কমিশনের অংশ হিসাবে ডেরেনের চারটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সাউন্ডট্র্যাক তৈরি করেছিলেন।
  • ২০১৫ সালে, ইংরেজ রক সঙ্গীতজ্ঞ এবং পিংক ফ্লয়েডের প্রাক্তন সদস্য ডেভিড গিলমোর তার "ফেসেস অব স্টোন" গানের চিত্রায়ণে ডেরেনের অ্যাট ল্যান্ড (১৯৪৪) চলচ্চিত্রটির দৃশ্য ব্যবহার করেছিলেন, যেটির পরিচালনা করেছিলেন হিপনোসিসের অব্রে পাওয়েল[২৮]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

সূত্র
মৃত্যুপরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র উল্লেখ করে মৃত্যুপরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র
শিরোনাম বছর কৃতিত্ব টীকা সূত্র
পরিচালক লেখক প্রযোজক সম্পাদক
মেশেজ অব দি আফটারনুন ১৯৪৩ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ আলেক্সান্ডার হামিদ সহ-পরিচালিত এবং সহ-প্রযোজিত [২৯][৩০]
দ্য উইচ'স ক্রেডল ১৯৪৩ হ্যাঁ হ্যাঁ না না অসমাপ্ত [২৯]
অ্যাট ল্যান্ড ১৯৪৪ হ্যাঁ হ্যাঁ না না [২৯]
আ স্টাডি ইন কোরিওগ্রাফি ফর ক্যামেরা ১৯৪৫ হ্যাঁ না না না ট্যালি ব্যাটি চলচ্চিত্র্রে একক অভিনয় করেন। [২৯]
রিচুয়্যাল ইন ট্রান্সফিগার্ড টাইম ১৯৪৬ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ আলেক্সান্ডার হামিদ সহ-সম্পাদিত [২৯]
দ্য প্রাইভেট লাইফ অব আ ক্যাট ১৯৪৭ হ্যাঁ না না না আলেক্সান্ডার হামিদ সহ-যোগে [৩০]
মেডিটেশন অন ভায়োলেন্স ১৯৪৮ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না [২৯]
মেদুসা ১৯৪৯ হ্যাঁ না না না অসমাপ্ত [৩০]
অনসম্বল ফর সমনামবুলিস্ট ১৯৫১ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ না টরোন্টো ফিল্ম সোসাইটির কর্মশালার অংশ, অসমাপ্ত [৩০]
দ্য ভেরি আই অব নাইট ১৯৫৮ হ্যাঁ হ্যাঁ না হ্যাঁ মেট্রোপলিটন অপেরা ব্যালে স্কুলের সহযোগিতায় নির্মিত [২৯][৩০]
সিজন অব স্ট্রেঞ্জার্স ১৯৫৯ হ্যাঁ না না না হাইকু চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত, অসমাপ্ত [৩০]
ডিভাইন হর্সম্যান: দা লিভিং গড্‌স অব হাইতি ১৯৮৫ হ্যাঁ না না না [২৯]

ডিস্কোগ্রাফি[সম্পাদনা]

ভিনাইল এলপি[সম্পাদনা]

বছর শিল্পী শিরোনাম লেবেল টীকা
১৯৫৩ মায়া ডেরেন ভয়েসেস অব হাইতি ইলেক্ট্রা রেকর্ডস প্রচ্ছদ নকশা: তেজি ইতো; recorded during ceremonials near Croix-des-Missions and Pétion-Ville, Haiti[৩১]
১৯৭৮ অজানা মেরিনগুজ অ্যান্ড ফোল্ক ব্যালাড্‌স অব হাইতি লিরিকর্ড ডিস্ক মায়া ডেরেন কর্তৃক রেকর্ডকৃত[৩২]
১৯৮০ অজানা ডিভাইন হর্সম্যান: দা ভুডু গড্‌স অব হাইতি লিরিকর্ড ডিস্ক মায়া ডেরেন কর্তৃক রেকর্ডকৃত; প্রচ্ছদ নকশা: তেজি ইতো[৩৩]

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

  • এন অ্যানাগ্রাম অব আইডিয়াস অস আর্ট, ফর্ম, অ্যান্ড দা ফ্লিল্ম (১৯৪৬, নিউ ইয়র্ক)
  • ডিভাইন হর্সম্যান: দা লিভিং গড্‌স অব হাইতি (১৯৫৩, ভ্যানগার্ড প্রেস, নিউ ইয়র্ক)
  • ডিভাইন হর্সম্যান: ভুডু গড্‌স অব হাইতি (১৯৭০, নিউ ইয়র্ক)

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ডেরেন ১৯৪৬
  2. "The 100 greatest films directed by women" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি। ২৬ নভেম্বর ২০১৯। ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২০ 
  3. জোয়ারদার, কৌশিক (২৫ নভেম্বর ২০১৮)। "সিনেমায় উপেক্ষিতা"। ভারত: আনন্দবাজার পত্রিকাএবিপি। ১০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২০ 
  4. নিকোল্স ২০০১, পৃ. ৩–১০, ২৬৮।
  5. "Maya Deren"Answers.com। মে ৪, ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৮, ২০১৫ 
  6. ক্লার্ক, হডসন এবং নেইমন ১৯৮৪
  7. বার্জার ২০১০, পৃ. ৩০১।
  8. রাবিনোউইজ ১৯৯১, পৃ. ৪৯-৯১।
  9. "Maya Deren | biography - American director and actress"Britannica.com। মে ৫, ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৪, ২০১৫ 
  10. ক্লার্ক, হডসন এবং নেইমন ১৯৮৮
  11. জেরাল্ড ১৯৭৭
  12. Gadassik, Alla (২০১২-০৭-১১)। "Meshes of the Afternoon (review)"The Moving Image (ইংরেজি ভাষায়)। 12 (1): 139–142। আইএসএসএন 1542-4235ডিওআই:10.1353/mov.2012.0015 
  13. "The 100 Greatest American Films" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে, BBC Culture, July 20, 2015.
  14. নিকোল্স ২০০১, পৃ. ১৪১।
  15. ভেভে, মিলিসেন্ট এবং ক্যাটরিনা ১৯৪৫
  16. প্রামাজ্ঞীওরে, মারিয়া (১৯৯৭)। "Performance and Persona in the U.S. Avant-Garde: The Case of Maya Deren"। সিনেমা জার্নাল। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস প্রেস। ৩৬ (২): ১৭–৪০। 
  17. Timeline at 2010 MoMA exhibit.
  18. ডরেন, মায়া (১৯৬৫)। "অ্যামেচার ভার্সেস প্রফেশনাল"। ফিল্ম কালচার (৩৯): 45–46। 
  19. নিকোল্স ২০০১, পৃ. ১৮, ২০৭: (p18) According to Nichols, "Taking up another neglected dimension of Maya Deren's work, Moira Sullivan's "Maya Deren's Ethnographic Representation of Ritual and Magic in Haiti" relies on primary source material in the Maya Deren Archive in Boston and Anthology Film Archives in New York."(প্রাথমিক উৎস)
  20. সুলিভান ১৯৯৭, পৃ. ১৯৯-২১৮।
  21. নিকোল্স ২০০১, পৃ. ২০৭-২২৯।
  22. "Program notes" from screening at Pacific Film Archive at UC Berkeley.
  23. হাউকে ও হকলি ২০১২, পৃ. ২৫৩–২৬৫।
  24. "Voices of Haiti — Various Artists (Not credited)"ইলেকট্রা রেকর্ডস (ইংরেজি ভাষায়)। ইলেকট্রা রেকর্ডস। মার্চ ১৯৫৩। ১৩ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২০ 
  25. নিকোল্স ২০০১, পৃ. ২২৫।
  26. ডেরেন ১৯৫৩, পৃ. ২৬, ৩০৫।
  27. সংক্ষিপ্ত অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান (৩য় সংস্করণ)। ১৯৭৩।  আরো দেখুন: হাইতিয় ভুডু
  28. Blistein, Jon (২৮ অক্টোবর ২০১৫)। "David Gilmour Mulls Life, Death in Somber 'Faces of Stone' Video"Rolling Stone। ১৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৯ 
  29. Haslem, Wendy (১২ ডিসেম্বর ২০০২)। "Great Directors: Maya Deren"Senses of Cinema (23)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১১ 
  30. "In the Mirror of Maya Deren" (PDF)Zeitgeist Films। জুন ৬, ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ১৯, ২০১১ 
  31. "Maya Deren – Voices Of Haiti"Discogs। ৩ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫ 
  32. "Meringues And Folk Ballads Of Haiti"Discogs। ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫ 
  33. "Divine Horsemen - The Voodoo Gods Of Haiti"। Discogs.com। ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫ 

উৎস[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]