অ্যান্টন মারে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অ্যান্টন মারে
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামঅ্যান্টন রোনাল্ড অ্যান্ড্রু মারে
জন্ম(১৯২২-০৪-৩০)৩০ এপ্রিল ১৯২২
গ্রাহামসটাউন, কেপ প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু১৭ এপ্রিল ১৯৯৫(1995-04-17) (বয়স ৭২)
কেপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি স্লো-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৮৬)
৫ ডিসেম্বর ১৯৫২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৭/৪৮ - ১৯৫৫/৫৬ইস্টার্ন প্রভিন্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১০ ৬৪
রানের সংখ্যা ২৮৯ ২,৬৮৫
ব্যাটিং গড় ২২.২৩ ২৯.৮৩
১০০/৫০ ১/১ ৪/১৫
সর্বোচ্চ রান ১০৯ ১৩৩
বল করেছে ২,৩৭৪ ১৪,৮০৭
উইকেট ১৮ ১৮৮
বোলিং গড় ৩৯.৪৪ ২৪.৯০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/১৬৯ ৭/৩০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/– ৩২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

অ্যান্টন রোনাল্ড অ্যান্ড্রু মারে (ইংরেজি: Anton Murray; জন্ম: ৩০ এপ্রিল, ১৯২২ - মৃত্যু: ১৭ এপ্রিল, ১৯৯৫) কেপ প্রদেশের গ্রাহামসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন অ্যান্টন মারে

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত অ্যান্টন মারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেছেন। প্রাণোচ্ছল ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও নিখুঁতমানের মিডিয়াম পেস বোলার ছিলেন।

দীর্ঘদেহী ও চটপটে ক্রিকেটার হিসেবে অ্যান্টন মারের সুনাম ছিল। মাঝারি কিংবা নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও ডানহাতে স্লো থেকে মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে বিচিত্র পেস বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। প্রথম মৌসুমেই ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে দূর্দান্ত খেলা উপহারে সচেষ্ট হন। কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ১৩৩ রান তুলেন। এ সংগ্রহটিই পরবর্তীকালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ প্রথম-শ্রেণীর রান হিসেবে চিত্রিত হয়ে যায়।[১] ঐ মৌসুমের শেষ দিকে ব্লুমফন্তেইনে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে ৭/৩০ পান। এটিই তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল।[২]

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ইংল্যান্ড ও তারপর ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দলের দক্ষিণ আফ্রিকা আগমন ঘটলে পরবর্তী দুই মৌসুমে কারি কাপ প্রতিযোগিতা স্থগিত থাকে। তন্মধ্যে, প্রথম মৌসুমে মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন তিনি। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে পুনরায় ঘরোয়া প্রতিযোগিতা চালু হলে একটি ইনিংস বাদে বাদ-বাকী খেলাগুলোয় খুবই সাধারণমানের ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। এছাড়াও, সাধারণমানের বোলিং করেন। ব্যতিক্রম হিসেবে ট্রান্সভালের বিপক্ষে ৭/১০৯ বোলিং উল্লেখযোগ্য ছিল। এটি তার খেলোয়াড়ী জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো সাত উইকেট লাভের ঘটনা ছিল। আটটি উইকেটের মধ্যে ঐ সাত উইকেট পান তিনি। খেলায় ইস্টার্ন প্রভিন্স দল ১০ উইকেটে পরাজিত হয়।[৩]

১৯৫১-৫২ মৌসুমেও রান সংগ্রহ ও উইকেট প্রাপ্তির সম্ভার গড়েছিলেন তিনি। তবে, কোন শতরান কিংবা ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পাননি তিনি।[৪][৫] কিন্তু, মৌসুমের শেষদিকে জে. ই. চিদাম একাদশ বনাম ডি. জে. ম্যাকগ্লিউ একাদশের খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ খেলার মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট দল নির্বাচকমণ্ডলী পরবর্তী শীতকালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে দল গঠন করেন। প্রথম দুইদিন বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। অ্যান্টন মারে ৪/৩৬ পান। এটিই খেলায় সেরা বোলিং ছিল। ফলশ্রুতিতে, তাকে ঐ সফরে রাখা হয়।[৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দশটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন অ্যান্টন মারে। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

এক বছরের অল্প বেশি সময় নিয়ে ডিসেম্বর, ১৯৫২ সাল থেকে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ১০ টেস্টে অংশ নেন। চারবার অস্ট্রেলিয়া ও ছয়বার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ টেস্টগুলো খেলেন। ১৯৫৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করলেও কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। চার টেস্টে অংশ নেন। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কারণ চতুর্থ টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। তার প্রত্যাবর্তনের ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দ্বিতীয় টেস্টে ৫১ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, ৪২ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের সন্ধান পায়। ঐ সফরের শেষে ওয়েলিংটনে একমাত্র শতরানের ইনিংস খেলেন।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা দল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করে। পূর্বেকার টেস্ট সাফল্যকে তারা ছাড়িয়ে যায়। পূর্বের সকল সিরিজে তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজিত হলেও এবার তারা ড্র করে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় করে। এ সাফল্যে দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার হিউ টেফিল্ডের অবদান সর্বাধিক হলেও অ্যান্টন মারেসহ অনেকেই রান তুলে অবদান রাখেন, উঁচুমানের ফিল্ডিং করেন ও মাঝে-মধ্যেই উইকেট সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখেন।

টেস্ট অভিষেক[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অ্যান্টন মারের অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে বেশ কয়েকজন অল-রাউন্ডারের প্রাচুর্যতা থাকায় তাকে নয় নম্বরে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়। ১৮ ও অপরাজিত ১১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। সিরিজের একটি খেলায় অস্ট্রেলীয় স্পিনার ডগ রিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাকানিচুবানি খাওয়ালেও অ্যান্টন মারে কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন।[৭]

ব্যাটসম্যান সমৃদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে দ্বিতীয় টেস্টে অ্যান্টন মারেকে পুনরায় নয় নম্বরে নামানো হয়। ১২৬/৭ থাকা অবস্থায় পার্সি ম্যানসেলের সাথে জুটি গড়েন। ৫১ রান সংগ্রহ করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন তিনি। ফিব্রোসাইটিসের কারণে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র তিন ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রান করেন। হিউ টেফিল্ডের বলে কলিন ম্যাকডোনাল্ডের ক্যাচ তালুবন্দী করে তাকে সপ্তম উইকেট ও খেলায় ১৩ উইকেট পেতে সহযোগিতা করেন।[৮]

পুরো সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বাপেক্ষা বাজে খেলা ছিল। রে লিন্ডওয়ালকিথ মিলারের দূর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে তার দল মাত্র ১৭৭ রানে গুটিয়ে যায়। এবার মারেকে ব্যাটিংয়ের অবস্থান পরিবর্তন ঘটিয়ে সাত নম্বরে নিয়ে আসা হয়। তিনি মাত্র ৪ রান তুলতে সমর্থ হন। অস্ট্রেলিয়া দল ব্যাটিংয়ে নামে। নীল হার্ভে ১৯০ রান তোলা অবস্থায় টেফিল্ড তার বামহাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙ্গে ফেলেন। তাসত্ত্বেও বোলিং করে কিছুটা রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান। এ পর্যায়ে মারে দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। হার্ভের উইকেসহ চার উইকেট পান। ৮ বল নিয়ে গড়া ৫১.২ ওভারে তিনি ১৬৯ রান খরচ করে ফেলেন। এটিই তার টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা বোলিংয়ে পরিণত হয়। পুনরায় ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকানরা ২৩২ রান তুলে ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হয়। মারে করেন ১৭ রান।[৯]

পরবর্তী তিন সপ্তাহ ক্রিকেট খেলা দূরে থাকেন। তন্মধ্যে, চতুর্থ টেস্ট ছিল। কিন্তু, পঞ্চম টেস্টে দলে ফিরে আসলেও দক্ষিণ আফ্রিকা জয়লাভ করে সিরিজে সমতা আনে। তার অবদানও সীমিত পর্যায়ের ছিল। এক উইকেট পান ও একমাত্র ইনিংসে ১৭ রান তুলেন।[১০]

নিউজিল্যান্ড গমন[সম্পাদনা]

এরপর তিনি নিউজিল্যান্ড গমন করেন। দুই টেস্টের সিরিজে অংশগ্রহণের পূর্বে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা সময়সূচীতে রাখা হয়। কিন্তু, তিনি প্রথম খেলায় অংশ নেননি। দ্বিতীয় খেলায় ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। ১৫৫/৮ থাকা অবস্থায় ক্যান্টারবারির ১৯০ রান পিছিয়ে থেকে উইকেটে নামেন। জ্যাক চিদামের সাথে ১২১ রানের জুটি গড়েন। দশম উইকেটে মাইকেল মেলের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ৮০ রান তুলেন। ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকাবস্থায় দলের ইনিংস ঘোষণা করা হয়।[১১]

প্রথম টেস্টে দূর্বলতম দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ ২৫৫ রানে অপরাজিত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন সর্বোচ্চ রান তুলে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন। মারে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেম ম্যাকগ্লিউ’র সাথে যোগ দেন। এ পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ছিল ২৩৮/৬। ১০৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি। এটিই তার প্রথম ও একমাত্র টেস্ট শতরান ছিল। ২৪৬ রানের জুটি গড়েন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সপ্তম উইকেটে পূর্বতন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডের দ্বিগুণ সংগ্রহ করেন। ঐ সময়ে এটিই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সপ্তম উইকেটে সেরা সংগ্রহ ছিল ও ২০০৯ সাল পর্যন্ত চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের মর্যাদা পায়। এ টেস্টে বল হাতে নিয়েও সফল হন। সর্বমোট ৫১ ওভারে ৩/৩০ ও ২/১৯ লাভ করেন। নিউজিল্যান্ড দল ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হয়।[১২]

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের অতি ধীরগতির পিচে অনুষ্ঠিত হয় ও খেলাটি অতি নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল। অ্যান্টন মারে ছয় রান সংগ্রহ করেন ও ৩১ ওভার বোলিং করে ১/২৯ পান।[১৩]

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসে। দলটি পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেয়। ফলশ্রুতিতে, ঘরোয়া কারি কাপ প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়। তন্মধ্যে, মারে চার টেস্ট খেলেন ও চতুর্থ টেস্টে অংশ নেননি। তবে, সফল হননি। পাঁচ ইনিংসে তিনি মাত্র ৩৩ রান তুলেন। সর্বোচ্চ করেন মাত্র তেরো রান। দ্বিতীয় টেস্টে এ সংগ্রহটি নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জন ওয়েটের আঘাতপ্রাপ্তির ফলে করেছিলেন। উদীয়মান নিল অ্যাডককের ফাস্ট বোলার হিসেবে উত্থানে স্পিনের উপর দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফেলে। এ সিরিজে তিনি মাত্র ছয় উইকেট পান।[১৪][১৫] এ সিরিজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অ্যান্টন মারের টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে কারি কাপ প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হয়। এ মৌসুমেই নিজস্ব অন্যতম স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪২ গড়ে রান তুলেন। মাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে উইকেট প্রতি মাত্র ১৫.১০ রান খরচ করেন।[৪][৫] ফলশ্রুতিতে, ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্য করা হয়।

ইংরেজ গ্রীষ্মের শুষ্ক ও শক্ত উইকেটে অ্যান্টন মারে স্লো থেকে মিডিয়াম পেস বোলিং কাউন্টি খেলাগুলোয় বেশ মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন। কিন্তু, উইকেট লাভের দিকে মনোযোগী ছিলেন না তিনি। সামগ্রীকভাবে এ সফরে বোলিং গড়ের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ৩১ উইকেট লাভ করেন তিনি। ব্যাট হাতে নিয়ে নিরাশ করেন। মাত্র ১৬ গড়ে রান তুলেছিলেন। সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষক ক্রিস্টোফার ডাকওয়ার্থের সাথে তিনিও এ সফরে কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।[৪][৫] বৃদ্ধাঙ্গুলে আঘাত পাওয়ায় জুলাই মাসের অধিকাংশ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন। দলে প্রত্যাবর্তন করে মাইনর কাউন্টিজ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ঠিক ১০০ রান তুলেন। কিন্তু, ঐ খেলাটি প্রথম-শ্রেণীর ছিল না।[১৬] গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায ৫১ রানের সেরা সংগ্রহ করেন। এ পর্যায়ে তিনি ইনিংস উদ্বোধনে নামেন।[১৭] এ সফরের অন্যান্য খেলায় তিনি ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রত্যাবর্তন করে অ্যান্টন মারে ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে কারি কাপে আর মাত্র তিনটি খেলায় অংশ নেন। ৪০ গড়ে ২৪১ রান ও নয় উইকেট লাভ করেন তিনি। ঐ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলার বাইরে প্রিটোরিয়াভিত্তিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন ও শিক্ষকতা পেশা অবলম্বন করেন। পেশাগত দিক দিয়ে অ্যান্টন মারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। প্রিটোরিয়াভিত্তিক বিকাশমান বোর্ডিং স্কুল হিসেবে সেন্ট অ্যালব্যান্স কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধানশিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ২০ বছর এ দায়িত্বে ছিলেন।

দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ১৭ এপ্রিল, ১৯৯৫ তারিখে ৭২ বছর বয়সে কেপ টাউন এলাকায় অ্যান্টন মারে’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Western Province v Eastern Province"। www.cricketarchive.com। ২৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০০৯ 
  2. "Orange Free State v Eastern Province"। www.cricketarchive.com। ২৭ মার্চ ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০০৯ 
  3. "Transvaal v Eastern Province"। www.cricketarchive.com। ১৯ জানুয়ারি ১৯৫১। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০০৯ 
  4. "First-class Batting and Fielding in each Season by Anton Murray"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯ 
  5. "First-class Bowling in each Season by Anton Murray"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯ 
  6. "J. E. Cheetham's XI v D. J. McGlew's XI"। www.cricketarchive.com। ২১ মার্চ ১৯৫২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯ 
  7. "Australia v South Africa"। www.cricketarchive.com। ৫ ডিসেম্বর ১৯৫২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯ 
  8. "Australia v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯ 
  9. "Australia v South Africa"। www.cricketarchive.com। ৯ জানুয়ারি ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯ 
  10. "Australia v South Africa"। www.cricketarchive.com। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০০৯ 
  11. "Canterbury v South Africans"। www.cricketarchive.com। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০০৯ 
  12. "New Zealand v South Africa"। www.cricketarchive.com। ৬ মার্চ ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০০৯ 
  13. "New Zealand v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৩ মার্চ ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০০৯ 
  14. "Test Batting and Fielding in each Season by Anton Murray"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০০৯ 
  15. "Test Bowling in each Season by Anton Murray"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০০৯ 
  16. "South Africa in England, 1955"। Wisden Cricketers' Almanack (1956 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 252 
  17. "South Africa in England, 1955"। Wisden Cricketers' Almanack (1956 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 256 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]