ডগ রিং

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডগ রিং
DougRing.jpg
১৯৪৮ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ডগ রিং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডগলাস টমাস রিং
জন্ম(১৯১৮-১০-১৪)১৪ অক্টোবর ১৯১৮
হোবার্ট, তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু২৩ জুন ২০০৩(2003-06-23) (বয়স ৮৪)
মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
উচ্চতা১.৮৩ মিটার (৬ ফুট ০ ইঞ্চি)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ ব্রেকগুগলি
ভূমিকাবিশেষজ্ঞ বোলার, নীচেরসারির ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৮১)
৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২৫ জুন ১৯৫৩ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৩৮-১৯৫৩ভিক্টোরিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৩ ১২৯
রানের সংখ্যা ৪২৬ ৩৪১৮
ব্যাটিং গড় ২২.৪২ ২৩.২৫
১০০/৫০ ০/৪ ১/২০
সর্বোচ্চ রান ৬৭ ১৪৫
বল করেছে ৩০২৪ ২৭৯৫৬
উইকেট ৩৫ ৪৫১
বোলিং গড় ৩৭.২৮ ২৮.৪৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ২১
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৭২ ৭/৮৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/০ ৯৩/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ডগলাস টমাস রিং (ইংরেজি: Doug Ring; জন্ম: ১৪ অক্টোবর, ১৯১৮ - মৃত্যু: ২৩ জুন, ২০০৩) ভিক্টোরিয়া প্রদেশের মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৩ মেয়াদকালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে লেগ ব্রেক ও গুগলি বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে নীচেরসারির কার্যকরী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন ডগ রিং[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী রিং শৈশবেই ভিক্টোরিয়ায় স্থানান্তরিত হন। সেখানে মেলবোর্ন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন।[২] বিদ্যালয়ে থাকাকালীন ক্রিকেট খেলতেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে প্রাহরানের পক্ষে প্রথম স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন। ১৯৩৮ সালে রিচমন্ডের পক্ষে পাঁচ খেলায় অংশ নেয়ার পর ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলার জন্য মনোনীত হন।[৩] ডিসেম্বর, ১৯৩৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়। উদ্বোধনী খেলায় চাক ফ্লিটউড-স্মিথের সাথে বোলিং জুটি গড়ে সিড বার্নসের উইকেটসহ চার উইকেট দখল করেন তিনি। পরবর্তী খেলায় নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ম উইকেট জুটিতে লিন্ডসে হ্যাসেটের সাথে মূল্যবান ১১২ রান তোলেন। এতে তিনি ৫১ রান করেছিলেন।[৪][৫]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনি তাঁর কার্যকরী লেগ স্পিনে ৪২৬ উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৫ রান তোলেন যা তাঁর সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একমাত্র সেঞ্চুরি হিসেবে বিবেচিত।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটে।

কলিন ম্যাককুলের পরিবর্তে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়। ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ১১* থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া দল ৫৭৫/৮ ডিক্লেয়ার করে। আট বলের ৩৬ ওভারে ১০৩ রানে ৩ উইকেট পান। পরের ইনিংসে ১৭ রান দিয়ে আরো ৩ উইকেট দখল করেন।[৬] ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ড সফরের জন্য তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অপরাজেয় দলে খেলেন।[৭] ঐ সফরে তিনি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ওভালে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড মাত্র ৫২ রানে অল-আউট হয়। প্রথম ইনিংসে তিনি বোলিং করার সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮ ওভারের মিতব্যয়ী বোলিং করে অ্যালান ওয়াটকিন্সের উইকেটটি পান।[৮] ব্র্যাডম্যানের চূড়ান্ত টেস্টটি ইনিংসের ব্যবধানে জয় পায়। তবে, ১৯৫১-৫২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বাপেক্ষা অধিক সফলতা লাভ করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে তিনি পুণরায় ইংল্যান্ড সফরে যান।

অবসর[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর ভিক্টোরিয়ার শিল্প-কারখানায় প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রেডিওতে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার ও পরে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ল্ড অব স্পোর্টে উপস্থাপনায় সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।[২]

‘লেসলি’ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির তিন সন্তান ছিল। ২৩ জুন, ২০০৩ তারিখে ৮৪ বছর বয়সে মেলবোর্নে ডগ রিংয়ের দেহাবসান ঘটে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. CricketArchive Player Oracle, Retrieved 29 May, 2017
  2. Haigh, Gideon (২০০৩-০৭-০৩)। "Obituary: Doug Ring"। Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-১২-২৬ 
  3. Allen, Peter (১৯৯৯)। The Invincibles: The Legend of Bradman's 1948 Australians। Mosman, NSW, Australia: Allen and Kemsley। পৃষ্ঠা 76–79। আইএসবিএন 1-875171-06-1 
  4. "Victoria v New South Wales"। www.cricketarchive.com। ১৯৩৮-১২-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-২৬ 
  5. "Victoria v South Australia"। www.cricketarchive.com। ১৯৩৮-১২-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-২৬ 
  6. "Australia v India"। www.cricketarchive.com। ১৯৪৮-০২-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-২৯ 
  7. "Sporting greats - Australia reveres and treasures its sporting heroes."। Australian Government - Culture and Recreation Portal। ২০১১-০৪-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-১২-১৮ 
  8. "England v Australia"। www.cricketarchive.com। ১৯৪৮-০৮-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-৩০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]