অলিম্পিক চিহ্ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অলিম্পিক চিহ্নগুলি কিছু আইকন, পতাকা এবং চিহ্ন যা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) কর্তৃক ব্যবহৃত হয় অলিম্পিক গেমসকে উন্নীত করতে। কিছু চিহ্ন - যেমন মশাল, তূর্যনিনাদ ও থিম, সাধারণত শুধু অলিম্পিক প্রতিযোগিতার সময়ই ব্যবহার হয়, কিন্তু পতাকাগুলি সারা বছর ধরে দেখা যায়।

আদর্শবাণী[সম্পাদনা]

অলিম্পিক খেলার আদর্শবাণী Citius, Altius, Fortius (সিটিয়াস, অল্টিয়াস, ফোরটিয়াস) । এই লাতিন বাক্যের অর্থ "দ্রুততর, উচ্চতর, শক্তিশালী"।[১] এটি ১৮৯৪ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির গঠনকালে পিয়ের দে কোবার্টিন কর্তৃক প্রস্তাব হয়েছিল। কোবার্টিন বাণীটি তাঁর ডমিনিকান পুরোহিত বন্ধু হেনরি ডিডন, একজন ক্রীড়া-কৌতূহলী ব্যক্তির থেকে ধার করেছিলেন।[২] কোবার্টিনের কথায় - "এই তিনটি শব্দ ক্রীড়াজগতের নৈতিক সৌন্দর্য প্রকাশ করে। খেলাধুলোর সৌন্দর্য অতুলনীয় ও অবর্ণনীয়।"[২] বাণীটি ১৯২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিক গেমসে চালু করা হয়।[৩] আরেকটি কম ব্যবহৃত কিন্তু সুপরিচিত বাণী - "জেতার চেয়ে অংশ নেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ"। এটিরও স্রষ্টা কোবার্টিন। কোবার্টিন এই উক্তিটি পান পেনসিলভেনিয়ার বিশপ দ্বারা একটি নৈতিক বক্তৃতায়, ১৯০৮ সালের লন্ডন গেমসে।[৪]

চাকতি (রিংস)[সম্পাদনা]

অলিম্পিক গেমসের পাঁচ-চাকতির চিহ্ন।

রিংসগুলি হল সাদা পটভূমির উপর নীল, হলুদ, কালো, সবুজ ও লাল রঙের পাঁচটি পরস্পর-আলিঙ্গনাবদ্ধ চাকতি, যা অলিম্পিক রিংস নামে অধিক পরিচিত। চিহ্নটি ১৯১২ সালে দে কোবার্টিন তৈরী করেন।[৫] প্রচলিত কথা অনুসারে তিনি এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপ - এই পাঁচটি মহাদেশকে একসাথে দেখিয়েছেন এই চিহ্নে।[৬] তাঁর কথা অনুযায়ী পতাকার ছয়টি রঙ (সাদা পটভূমিকেও ধরা হচ্ছে) অংশীদারী সমস্ত দেশকে দেখায়। প্রাথমিক ভূমিকায়, কোবার্টিন Olympique (অলিম্পিক) -এর অগাস্ট ১৯১২ সংস্করণে লিখেছেন:[৭]

...ছয়টি রং পতাকায় এমন ভাবে উপস্থিত যে কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া সবকয়টি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। সুইডেনের নীল ও হলুদ, গ্রীসের নীল ও সাদা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইটালি এবং হাঙ্গারির ত্রিরঙা পতাকা, এবং ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্রাচীন জাপান ও আধুনিক চীনের উদ্ভাবনী পতাকার আশ্চর্য মিলন। এ সত্যিই এক আন্তর্জাতিক চিহ্ন।

কোবার্টিনের নিবন্ধ ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পত্রিকা 'Olympic Revue' (অলিম্পিক রেভিউ)-এ প্রকাশিত হওয়ার পরে মার্কিন ইতিহাসবিদ রবার্ট বার্নি বলেন যে আলিঙ্গনবদ্ধ রিংস-এর ভাবনা কোবার্টিনের মাথায় আসে যখন তিনি ইউএসএফএসএ(USFSA)- ইউনিয়ন দেস সজিয়েটেস ফ্রাঙ্কাইজেস ডি স্পোর্টস অ্যাথলেটিকস্‌, দুইটি ফরাসি ক্রীড়া সংস্থা কর্তৃক তৈরী একটি সংস্থার ভারপ্রাপ্ত ছিলেন ১৯২৫ সাল অবধি এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ফ্রান্সে প্রতিনিধিত্ব করায় তিনিই দায়ী; সে সংস্থার চিহ্ন ছিল দুইটি আলিঙ্গনবদ্ধ চাকতি(অনেকটা ভেসিকা পিসিস বিবাহ আংটির মতন) এবং সেই ভাবনাটি আসলে সুইস মনোবিজ্ঞানি কার্ল জং-এর, যা তাঁর জন্য ধারাবাহিকতা এবং মানবজাতির চিহ্ন।[৮]

১৯১৪ সালের সভা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে স্থগিত রাখা হয়েছিল, কিন্তু চিহ্ন এবং পতাকাটি পরে গ্রহণ করা হয়েছিল। চিহ্নটি সরকারী ভাবে অভিষিক্ত হয়েছিল বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প শহরে, ১৯২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক-এর সময়।[৯]

চিহ্নটির জনপ্রিয়তা ও ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছিল বার্লিনের ১৯৩৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক-এ। ১৯৩৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজন কমিটির ভারপ্রাপ্তাধীন কার্ল ডিয়েন ডেলফিতে একটি মশালবাহিনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন, এর আগেও ডেলফিতে বিখ্যাত ওরাকল্‌ ও পাইথিয়ান গেমসও আয়োজিত করা হয়েছিল। এই জন্য তিনি ডেলফিতে একটি মাইলস্টোন নির্মাণ করতে নির্দেশ দিলেন যার দুই পিঠে অলিম্পিক রিংসের চিত্র খোদাই করা থাকবে এবং একজন মশালধারী, তিনজন সহকারীর সাথে সেখান থেকে মশাল নিয়ে বার্লিন পৌঁছবেন। অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু মাইলস্টোনটি আর সরানো হয়নি। পরে, দুই মার্কিন লেখক লিন এবং গ্রে পুল, ডেলফিতে থাকার সময়, ১৯৫০-এর দশকে মাইলস্টোনটিকে দেখেন এবং History of Ancient Games(প্রাচীন খেলাধুলোর ইতিহাস) -এ প্রতিবেদন লেখেন যে[১০] অলিম্পিক রিংসের উৎপত্তি প্রাচীন গ্রীস। পাথরটির প্রচলিত নাম 'কার্ল ডিয়েনের পাথর'।[১১] প্রতিবেদনটির ফলে লোকমুখে প্রচার হয়ে যায় যে অলিম্পিক রিংসের নকশা আসলে প্রাচীন গ্রীকদের।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির মত এই চিহ্নটি এই মত কে উৎসাহিত করে যে অলিম্পিক খেলা আন্তর্জাতিক এবং সমস্ত দেশকে অংশ নিতে স্বাগত করে।[১২] অলিম্পিক সনদে যেমনটা লেখা আছে, এই পাঁচটি রিংস পৃথিবীর পাঁচটি মহাদেশ গুলির মিলন দেখায় এবং গোটা বিশ্ব থেকে আসা খেলোয়াড়দের দেখায়। যদিও কোনও নির্দিষ্ট চাকতি কোনও নির্দিষ্ট মহাদেশকে বোঝায় না। ১৯৫১ সালের আগে অবধি সরকারী তথ্যবইয়ে লেখা ছিল প্রত্যেকটি চাকতি একটি নির্দিষ্ট মহাদেশকে বোঝায়: ইউরোপের জন্য নীল, এশিয়ার জন্য হলুদ, আফ্রিকার জন্য কালো, অস্ট্রেলিয়া ও ওশিয়ানিয়ার জন্য সবুজ এবং আমেরিকার জন্য লাল, কিন্তু এটি পরে অপসারণ করা হয়েছিল কারণ এটি অপ্রমাণিত যে পিয়ের দে কোবার্টিন এমন কিছুর ভাবনা করেছিল (নির্দিষ্ট মহাদেশের তত্ত্বটি সম্ভবত পরে যোগ করা হয়েছিল)।[১৩] তবে ACNO - Association of National Olympic Committees (জাতীয় অলিম্পিক কমিটির সংস্থা) প্রত্যেকটি মহাদেশের জাতীয় কমিটিগুলির চিহ্ন নির্দিষ্ট চাকতির ভিতরে দেখায়।

পতাকা[সম্পাদনা]

অলিম্পিক গেমসের পতাকার নকসা ১৯২৫ সালে পিয়ের দে কোবার্টিন কর্তৃক তৈরী করা হয়েছিল।

ভিক্টোরিয়া, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডায় অলিম্পিক গেমসের পতাকা, ভ্যানকুভারে ২০১০ শীতকালীন অলিম্পিকের সময়।

পতাকাটিতে একটি সাদা পটভূমি আছে, যার উপর আছে পাঁচটি পরস্পর আলিঙ্গনাবদ্ধ পাঁচটি বিভিন্ন রঙের চাকতি: নীল, হলুদ, কালো, সবুজ ও লাল। এই নকশাটি সাঙ্কেতিক; এটি পাঁচটি মহাদেশকে দেখায় যা অলিম্পিক দ্বারা মিলিত। এবং এই ছয়টি রঙ সেই রংগুলিকে দেখায় যেগুলি বর্তমানে দেশগুলির জাতীয় পতাকায় আছে।

— পিয়ের দে কোবার্টিন (১৯৩১)[১৪]

নির্দিষ্ট পতাকা[সম্পাদনা]

কিছু নির্দিষ্ট পতাকা আছে যা সেই শহর কর্তৃক প্রদর্শন হয় যেই শহরগুলি পরবর্তী অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করবে। প্রত্যেক অলিম্পিক শেষের অনুষ্ঠানে (যাকে অ্যান্টওয়ার্প অনুষ্ঠানও বলা হয়)[১৫] পতাকাটি একটি আয়োজক শহরের মেয়র পরবর্তী আয়োজক শহরের মেয়রকে দেয় এবং তা শহরের হলে প্রদর্শিত হয়। এই পতাকাগুলি অলিম্পিক গেমসের জন্য তৈরী বৃহত্তর পতাকাগুলির সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়, এই বড় পতাকাগুলি প্রত্যেকটি খেলার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী, যা স্টেডিয়ামে উত্তলিত হয় ও খেলার পরে অবনমিত হয়। যেহেতু এই কাজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পতাকা নেই, তাই সাধারণত এই পতাকাগুলির মধ্যে সামান্য এবং সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে - যেমন রঙের মধ্যে সামান্য পার্থক্য, অথবা, আরও উল্লেখযোগ্য ভাবে, প্রত্যেকটি চাকতির সাদা প্রান্তরেখার উপস্থিতি(বা অভাব)।

অ্যান্টওয়ার্প পতাকা[সম্পাদনা]

প্রথম অলিম্পিক পতাকাটি আইওসি-তে উপস্থাপন করা হয়েছিল ১৯২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সময়, অ্যান্টওয়ার্প, বেলজিয়াম কর্তৃক। কিন্তু খেলার শেষে পতাকাটি নিরুদ্দেশ হয়ে যায় ও ১৯২৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক - প্যারিসের জন্য নতুন একটি অলিম্পিক পতাকা বানাতে হয়। যদিও এটি একটি প্রতিস্থাপন ছিল, কিন্তু আইওসি এখনও এটিকে সরকারীভাবে 'প্যারিস পতাকা'র বদলে'অ্যান্টওয়ার্প পতাকা' বলে।[১৬] এটি পরের শীতকালীনগ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজক শহরগুলিতেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ১৯৫২ শীতকালীন অলিম্পিক অসলো, নরওয়ে অবধি, যখন একটি ভিন্ন অলিম্পিক পতাকা তৈরী হয়েছিল শুধুমাত্র শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য। ১৯২৪-এ তৈরী পতাকাটি এখন শুধু গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল সিওল ১৯৮৮ গেমস অবধি।

১৯৯৭ সালে, ইউএস অলিম্পিক কমিটি(যুক্তরাষ্ট্রীয় অলিম্পিক কমিটি) কর্তৃক আয়োজিত এক ভোজসভায় এক সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রীয় অলিম্পিক কমিটির এক সদস্য ১৯২০ সালে প্ল্যাটফর্ম ডাইভিং-এ ব্রোঞ্জ পদক জয়ী হ্যাল হেইগ প্রিষ্টের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। সাংবাদিকটি বললেন যে আইওসি এখনও ঠিক করতে পারেনি যে ১৯২০ সালের আসল অলিম্পিক পতাকাটির ঠিক কী হল। "এই ব্যাপারে আপনাকে আমি সাহায্য করতে পারি", প্রিষ্ট বললেন, "সেটি এখন আমার সুটকেসে!" অ্যান্টওয়ার্প অলিম্পিকের পরে সহ খেলোয়াড় ডিউক কাহানামোকু দ্বারা উৎসাহিত হয়ে প্রিষ্ট একটি পতাকাদণ্ডের উপর চড়ে পতাকাটি চুরি করেন। ৭৭ বছর ধরে পতাকাটি প্রিষ্টের সুটকেসের ভেতরে ছিল। ২০০০ সালের সিডনি গেমসে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে, তখন তাঁর বয়স ১০৩, প্রিষ্ট পতাকাটি আইওসিকে ফেরত দেন।[১৭] আসল অলিম্পিক পতাকাটি এখন লোজান, সুইজারল্যান্ড -এর অলিম্পিক মিউজিয়ামে আছে একটি ফলকের সাথে, যাতে প্রিষ্টকে ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে পতাকাটি দেওয়ার জন্য।[১৮]

অসলো পতাকা[সম্পাদনা]

অসলো পতাকাটি আইওসিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল অসলো, নরওয়ের মেয়র কর্তৃক, ১৯৫২ শীতকালীন অলিম্পিকের সময়। তখন থেকে এটি প্রত্যেক শীতকালীন অলিম্পিকের পরে পরবর্তী শীতকালীন অলিম্পিক গেমস আয়োজক শহরের হাতে ঘুরছে। বর্তমানে এটি একটি বিশেষ বাক্সে রাখা আছে, এবং এটির প্রতিরূপটি বিদায়ী অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে।[১৯]

সিওল পতাকা[সম্পাদনা]

একটি অলিম্পিক পতাকার পাশে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা, অলিম্পিক পার্ক, সিওল

অ্যান্টওয়ার্প পতাকার উত্তরাধিকারী হিসাবে[২০] সিওল পতাকার উপস্থাপন হয়েছিল ১৯৮৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে, সিওল, দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃক। তখন থেকে পতাকাটি পরবর্তী গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজক শহরের হাতে ঘুরছে। সিওল পতাকাটি বর্তমানে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারি ভবন-এ রাখা আছে।

রিও দি জেনেইরো পতাকা[সম্পাদনা]

সিওল পতাকার উত্তরাধিকারী হিসাবে[২১] রিও দি জেনেইরো পতাকার উপস্থাপন করা হয়েছিল ২০১৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে, রিও দি জেনেইরো, ব্রাজিল কর্তৃক এবং পতাকাটি পরের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজক টোকিও -র হাতে দেওয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুর পতাকা[সম্পাদনা]

যুব অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনীর জন্য একটি পতাকা বানানো হয়েছিল। পতাকাটি আসল পতাকারটিই অনুরূপ কিন্তু এই পতাকায় আয়োজক শহরের নাম ও সালের নাম লেখা থাকে এবং এটি উপস্থাপন করা হয়েছিল আইওসি প্রেসিডেন্ট জ্যাকুয়েস রগ কর্তৃক।[২২][২৩] ২৬ অগাস্ট ২০১০ তারিখে বিদায়ী অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ পতাকাটি পরের আয়োজক শহর নানজিং ২০১৪ - কে হস্তান্তর করেন।[২৪]

ইনসব্রুক পতাকা[সম্পাদনা]

শীতকালীন যুব অলিম্পিক গেমসের জন্য একটি পতাকার নকশা আইওসিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল ২০১২ শীতকালীন অলিম্পিক -এর সময় ইনসব্রুক, নরওয়ে কর্তৃক। সেই থেকে পতাকাটি পরের আয়োজক শহরের হাতে হস্তান্তর হচ্ছে।

অগ্নিশিখা এবং মশাল রিলে[সম্পাদনা]

বর্তমানে রিলে পদ্ধতিতে অগ্নিশিখা গ্রীস থেকে আয়োজক স্থানে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছিল বার্লিন গেমস ১৯৩৬ সালে। খেলা শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে মশালটি জ্বালান হয়, পারবোলিক প্রতিফলক ব্যবহার করে সূর্যরস্মি একত্রিত করে, স্থল প্রাচীন অলিম্পিক গেমসের স্থান অলিম্পিয়া, গ্রীস। মশালটি তারপর গ্রীস থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, সাধারণত তারপর সেই মহাদেশ বা দেশের প্রদক্ষিণ করা হয় যেটি অলিম্পিক আয়োজন করতে চলেছে। মশালটি খেলোয়াড়, নেতৃবৃন্দ, সেলেব্রিটি, এবং সাধারণ নাগরীক দ্বারা চালিত হয় কিন্তু মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক ভাবেও চালিত হয় যেমন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক মন্ট্রেয়াল ১৯৭৬-এ ইলেক্ট্রনিক ভাবে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছিল, সিডনি ২০০০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সময় নিবন্ত না হয়েই সমুদ্রগর্ভে ছিল মশালটি, অথবা মহাশূন্য বা উত্তর মেরু-তে, সোচি ২০১৪-এর সময়। মশাল রিলের শেষ দিনে অর্থাৎ অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনে খেলার উদ্বোধন করতে মশালটি দ্বারা মূল স্টেডিয়ামে একটি কড়া জ্বালান হয় স্টেডিয়ামটির কোনও দর্শনীয় স্থানে।

পদক এবং সনন্দ[সম্পাদনা]

পুরষ্কৃত বিজয়ীদের দেওয়া পদকগুলিও অলিম্পিক গেমসের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি চিহ্ন। পদকগুলি স্বর্ণ মুদ্রিত রূপার পদক - স্বর্ণপদক, রূপা এবং ব্রোঞ্জের জন্য, এবং শীর্ষ তিন প্রতিযোগীকে পুরষ্কার করা হয়। একটি অলিম্পিয়াডের পদকের জন্য একটি নির্দিষ্ট নকশা আছে, যা সেই নির্দিষ্ট খেলার আয়োজকদের দ্বারা তৈরী হয়। ১৯২৮ থেকে ২০০০ অবধি পদকটির অভিমুখে খোদাই করা থাকত প্রাচীন গ্রীক বিজয়ের দেবী নিকে, যার বাম হস্তে পাম ও ডান হস্তে বিজয়ীর মুকুট ছিল। এই নকশাটি গিউজেপ্পে কাসিওলি কর্তৃক তৈরী হয়েছিল। প্রত্যেকটি অলিম্পিক গেমসে পদকের বিপরীত দিকে এবং টিকিটে বদল আনা হয়, যেখানে আয়োজক শহর থাকে।

২০০৪ সালে গেমসে আরও গ্রীক চরিত্রের স্পষ্ট রেফারেন্স আনতে পদকে বদল আনা হয়েছিল। এই পদকে দেবী নিকেকে প্যনাথেনিক স্টেডিয়ামে উড়ে আসতে দেখা যাচ্ছে, যা এই খেলার নবীকরণ দেখায়। এই নকশাটি গ্রীক জহরত নকশাকারী এলিনা ভট্‌সি কর্তৃক তৈরী।[২৫]

অলিম্পিক সনন্দ ১৯৪৯ সাল থেকে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রতিযোগীদের এবং ১৯৮১ সাল থেকে সপ্তম ও অষ্টম প্রতিযোগীদের দেওয়া হচ্ছে।

স্তোত্র[সম্পাদনা]

"অলিম্পিক স্তবগান", সরকারী ভাবে "অলিম্পিক স্তোত্র" অলিম্পিক পতাকার উত্তোলনের সময় গাওয়া হয়ে থাকে। এটি 'স্পিরিডন সামারাস' কর্তৃক রচিত হয়েছিল গ্রীক কবি এবং লেখক কোস্টিস পালামাস-এর একটি কবিতা থেকে কিছু শব্দ নিয়ে। কবি এবং গীতিকার দুইজনেই আইওসি'র প্রথম সভাপতি ডিমেট্রিয়াস ভিকেলাস, একজন গ্রীক প্রো-ইউরোপীয় কর্তৃক মনোনিত হয়েছিল। স্তোত্রটি ১৮৯৬ এথেন্স অলিম্পিক গেমস-এর সময় প্রথমবার গাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আইওসি স্তোত্রটিকে অলিম্পিক গেমসের সরকারী স্তোত্রের তকমা দেয় ১৯৫৮ সালে। পরবর্তী বছরগুলিতে প্রত্যেকটি আয়োজক দেশ খেলাটির নিজস্ব সংস্করণের জন্য নির্দিষ্ট স্তোত্র জমা দেয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কোয়াও ভ্যালিতে ১৯৬০ শীতকালীন অলিম্পিক অবধি।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অলিম্পিক স্তবগান ও তূর্যনিনাদ:

১৯৫২ অলিম্পিক তূর্যনিনাদের নির্মাতা আর্‌রে মেরিকান্তো, খেলা চলাকালীন হেলসিঙ্কি অলিম্পিক স্টেডিয়ামে।
  • "Olympische Hymne"("অলিম্পিস্‌চে হিম্নে" অর্থাৎ "অলিম্পিক স্তবক"): রিচার্ড স্ট্রস কর্তৃক অর্কেস্ট্রা ও মিশ্র কোরাস দিয়ে তৈরী ১৯৩৬ বার্লিন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য।
  • ১৯৫২ হেলসিঙ্কি গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের Olympic Fanfare(অলিম্পিক তূর্যনিনাদ) আসলে আর্‌রে মেরিকান্তোর ১৯৪০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য তৈরী তূর্যনিনাদটি ছিল, যা খারিজ করে দেওয়া হয়। মেরিকান্তোর তূর্যনিনাদটি ফিনল্যান্ড-এ ১৯৩৯ সালে আয়োজিত তূর্যনিনাদ প্রতিযোগিতায় সেরা মনোনিত হয়েছিল, কিন্তু স্কোরটি প্রায় এক দশকের জন্য হারিয়ে গেছিল; ১৯৫১ সালে পুনরাবিষ্কৃত হওয়ার পরে এটি ১৯৫২ সালের জন্য ব্যবহার করার কথা ভাবা হয়েছিল। এটি ১৯৫৩ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল।[২৬]
  • "Bugler's Dream"("বিউগল বাদকের স্বপ্ন"): ১৯৫৮ সালে লিও আর্নদ-এর চার্জ স্যুইট-এর অংশ হিসাবে লিখেছিলেন, থিমটি প্রায়ই আমেরিকানদের দ্বারা অলিম্পিক থিম বলে মনে করা হয় ১৯৬৪ সালের অলিম্পিক থেকে শুরু হওয়া এবিসি এবং এনবিসি দ্বারা টেলিভিশন কভারেজের ব্যবহারের কারণে।
  • The "Olympic March"("অলিম্পিকের মার্চ"): এই থিমটি ইয়ুজি কোসেকি কর্তৃক তৈরী হয়েছিল টোকিয়ো ১৯৬৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের থিম গানের জন্য।
  • "Olympic Fanfare 1972"("অলিম্পিক তূর্যনিনাদ ১৯৭২"): মিউনিখ ১৯৭২ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক-এ বিজয়ী থিম, যা জার্মান অলিম্পিক কেন্দ্র(Deutsches Olympia-Zentrum, DOZ)-এর টিভি সুরসংকেতে এবং পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। এটির স্রষ্টা হার্বার্ট রেহ্‌বাইন।[২৭] এটি বাভারিয়ান সম্প্রচার সংস্থার অর্কেস্ট্রা(Orchester des Bayerischen Rundfunks) ও নেউবিবার্গ বায়ুসেনা সঙ্গীত দল দ্বারা অনুষ্ঠিত এবং উইলি মেটস্‌ দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
  • "Olympic Fanfare and Theme"("অলিম্পিক তূর্যনিনাদ ও থিম"): থিমটি জন উইলিয়ামস কর্তৃক গঠিত হয়েছিল ১৯৮৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য, যা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি হেরাল্ড ট্রাম্পেটস দ্বারা অনুষ্ঠিত ও সংস্থাটির তৎকালীন অধিনায়ক ডেভিড ডেইট্রিক কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিল।[২৮] এর প্রথম রেকর্ডটি পূর্ণাঙ্গভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের সঙ্গীতশিল্পীদের দ্বারা গঠিত একটি অর্কেস্ট্রা দ্বারা মুক্তি পেয়েছিল তাদের ফোনোগ্রাফ রেকর্ড ও ক্যাসেট অ্যালবাম The Official Music of the XXIIIrd Olympiad Los Angeles 1984 (২৩তম অলিম্পিয়াড লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারী সঙ্গীত)-এ একটি সমবর্তী জাপান-কেবল সিডির মুক্তিপ্রাপ্তের সঙ্গে (যা ১৯৮৫ সালে একটি গ্র্যামি জয় করে)।[২৯] ফিলিপস অ্যালবাম By Request: The Best of John Williams and the Boston Pops Orchestra(অনুরোধ করে: জন উইলিয়ামস এবং বস্টন পপস্‌ অর্কেস্ট্রার সর্বশ্রেষ্ঠ)-এ একটি সামান্য ভিন্ন অংশটি মুক্তি পায়। ১৯৯৬ সালে, থিমটির একটি বিকল্প সংস্করণ মুক্তি পায় অ্যালবাম Summon the Heroes(নায়কদের ডাকুন)-এ ১৯৯৬ অ্যাটলান্টা অলিম্পিক গেমসের জন্য, যাতে প্রথম অংশটি আর্নদের Bugler's Dream-এর সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। থিমটি ২০১০ ভ্যানকুভার শীতকালীন অলিম্পিকের বিদায়ী অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন সে দেশের পতাকাধারীরা বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে প্রবাশ করে অলিম্পিক মশালের প্রদক্ষিণ করে এবং যখন অলিম্পিক পতাকাটি ভ্যানকুভার মেয়র গ্রেগর রবার্টসন কর্তৃক স্টেডিয়ামে আনা হয়।
  • "The Olympic Spirit"("অলিম্পিকের মর্মটি"): থিমটি জন উইলিয়ামস কর্তৃক লিখিত সিওল ১৯৮৮ অলিম্পিক-এর জন্য এবং এটি অনুরূপ এনবিসি সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয়।
  • "Summon the Heroes"("নায়কদের ডাকুন"): জন উইলিয়ামস কর্তৃক লিখিত আটলান্টা ১৯৯৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক-এর জন্য।
  • "Theme from The Adventures of Brisco County, Jr."("ব্রিস্কো কাউন্টি, জুনিয়ারের অভিযান থেকে থিম"): এই টেলিভিশন শো-এর থিম গান, র‍্যান্ডি এডেলম্যান কর্তৃক গঠিত, ১৯৯৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক থেকে এনবিসি দ্বারা টিজার বাণিজ্যে ও প্রচারস্থানে ব্যবহৃত হচ্ছে।[৩০]
  • "Call of the Champions"("বিজয়ীদের আহ্বান"): থিমটি জন উইলিয়ামস কর্তৃক লিখিত ২০০২ সল্ট লেক সিটি শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য।

এছাড়াও আরও অনেক সুরকার অলিম্পিক সঙ্গীতে অবদান রেখেছেন, যেমন হেনরি মানসিনি, ফ্রান্সিস লাই, মারভিন হামলিস্‌চ, ফিলিপ গ্লাস, ডেভিড ফস্টার, মাইকিস থেওডোরাকিস, রিউইচি সাকামোতো, ভ্যাঞ্জেলিস, বেসিল পলেডোউরিস, মাইকেল কামেন, এবং মার্ক ওয়াটার্স। অবদানগুলির মধ্যে প্রতিজ্ঞাও ছিল: আমরা শপথ নিই যে আমরা আনন্দের প্রতিযোগিতা অলিম্পিক গেমসে অংশ নেব, তাদের নিয়মানুবর্তিতার প্রতি সম্মান দেখাবো এবং আমরা আমাদের দেশের সম্মান ও খেলাধুলার গৌরবের জন্য একজন ক্রীড়াবিদের আদর্শ নিয়ে অংশগ্রহণে আগ্রহী।

কোটিনোস[সম্পাদনা]

কোটিনোস ( গ্রীক: κότινος )[৩১] হচ্ছে একটি জলপাই ডাল, আসল উৎস বন্য জলপাই গাছ থেকে, বিজরিত করা হয় একটি বৃত্ত অথবা একটি নাল বানাতে, যা গ্রীক ঐশ্বরীক নায়ক হেরাক্লেস কর্তৃক উপস্থাপিত হয়েছিল।[৩২] প্রাচীন অলিম্পিক গেমসে কোনো স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জ পদক ছিল না। প্রত্যেক খেলায় শুধু একজন বিজয়ী ছিল যাকে বন্য জলপাই পাতার জয়মাল্য দিয়ে তৈরী মুকুট পরানো হত। জলপাই পাতাগুলির উৎস অলিম্পিয়ায় জিউসের মন্দিরের কাছে একটি পবিত্র বৃক্ষ। প্লুটুস নাটকে অ্যারিস্টোফেন্স একটি বোধগম্য মন্তব্য করে যে কেন বিজয়ীদের সোনার বদলে জলপাই পাতার জয়মাল্যের তৈরী মুকুট দেওয়া হয়।[৩৩] বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের সম্মানিত, প্রণোদিত, এবং প্রশংসিত করা হচ্ছে। তাঁদের কর্মগুলিকে প্রচারিত ও নথিবদ্ধ করা হচ্ছে যাতে তাঁদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁদের কৃতিত্বগুলিকে তারিফ করতে পারে।

জলপাইয়ের জয়মালার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক একটি গল্প হিরোডোটাস কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে। জের্ক্সিস থের্মোপিলাইয়ের যুদ্ধের পরে কয়েকজন আর্কাডিয়ানদের প্রশ্ন করছিল। সে জিজ্ঞেস করে যে থের্মোপিলাইকে এত কম গ্রীক কেন রক্ষা করছে। উত্তর আসল "বাকি সবাই অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করেছে"। এবং যখন জিজ্ঞেস করা হল "বিজয়ী-এর পুরষ্কার কী?", উত্তর আসল "একটি জলপাই জয়মাল্য"। টিগ্রেন্সের একজন সেনাধ্যক্ষ তার সবচেয়ে মহান কথাগুলির একটি উদ্গীর্ণ করলেন: "হায় ঈশ্বর! মার্ডোনিয়াস, এরা কোন ধরণের মানুষ যাদের বিপক্ষে তুমি লড়তে পাঠিয়েছ? এমন মানুষ যারা দখলের জন্য নয়, সম্মানের জন্য লড়ছে।"[৩৪]

তবে পরে এটি আর একমাত্র পুরষ্কার থাকল না, বিজয়ী খেলোয়াড়দের তাদের দেশ থেকে উদার অঙ্কের অর্থ পুরষ্কৃত করা হতে থাকল। কোটিনোসের ঐতিহ্য অ্যাথেন্স ২০০৪ অলিম্পিকের জন্য বিশেষভাবে নতুনকরণ করা হয়েছিল, যদিও এই ক্ষেত্রে এটি স্বর্ণপদকের সঙ্গে একসঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। এটির পুরষ্কার-অনুষ্ঠানে ব্যবহার ছাড়াও কোটিনোসকে ২০০৪ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

অলিম্পিক স্যালুট বা নমষ্কার[সম্পাদনা]

The Olympic Salute(অলিম্পিক স্যালুট) গ্রা রুয়েব কর্তৃক তৈরী, অ্যামস্টারডামে ১৯২৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য।

অলিম্পিক স্যালুটটি রোমান স্যালুট-এর বৈকল্পিক রূপ, যা-তে ডান বাহু ও হাত প্রসারীত ও উর্ধ্বগামী, তালু বাহিরের দিকে ও নিচের দিকে এবং সমস্ত অঙ্গুষ্ঠ পরস্পর-স্পর্শিত। যদিও রোমান স্যালুট ও অলিম্পিক স্যালুটের মধ্যে একটি অমিল রয়েছে, তা হল যে অলিম্পিক স্যালুটটি তূলনামূলকভাবে বেশি উঁচু ও কাঁধ থেকে ডানদিকে একটি কোণে অবস্থিত।[৩৫][৩৬] এই শুভেচ্ছাটি প্যারিস ১৯২৪[৩৫] ও বার্লিন ১৯৩৬ গেমসের সরকারী পোস্টারে দৃশ্যমান ছিল।[৩৭]

স্যালুটটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে অব্যবহৃত কারণ নাৎসি স্যালুটের সঙ্গে এর আশ্চর্য সাদৃশ্য।[৩৮] এটি শেষবারের মত ব্যবহার হয় ফরাসি দল দ্বারা ১৯৪৮ শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। [৩৯]

মাসকট[সম্পাদনা]

১৯৬৮ শীতকালীন অলিম্পিক গ্রনোবল, ফ্রান্স থেকে অলিম্পিক গেমসের একটি করে মাসকট হয়ে আসছে, সাধারণত স্থানীয় কোনও প্রাণী এবং কদাচিৎ কোনও নরমুর্ত্তি যা সেই জায়গার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেখায়। প্রথম প্রধান মাসকট হচ্ছে মিশা, মস্কোতে ১৯৮০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সময়। মিশা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল উদ্বোধনী ও বিদায়ী অনুষ্ঠানে, মিশার একটি টিভি অ্যানিমেটেড কার্টুন ছিল, এবং মিশাকে অনেক পণ্যদ্রব্যের উপরে দেখা গেল। ইদানীং বেশির ভাগ পণ্যদ্রব্য যাদের লক্ষ্য তরুণ-তরুণীরা সেই সব পণ্য অলিম্পিক চিহ্ন ও সংস্থার লোগোগুলির চেয়ে মাসকটের উপরই বেশি গুরুত্ত্ব দেয়।

মেধা সম্পত্তি[সম্পাদনা]

অলিম্পিক নিয়ম তাদের চিহ্নের প্রতি সংরক্ষণশীল, অনেক বিচারব্যবস্থা আন্দোলনকে একচেটিয়া ট্রেডমার্ক দিয়েছে পাঁচটি চাকতির পরস্পর আলিঙ্গনাবদ্ধ ব্যবস্থার ও 'অলিম্পিক' শব্দটির ব্যবহারের জন্য। তবে চাকতিগুলি স্বত্ব-সংরক্ষণের জন্য যোগ্যতাপ্রাপ্ত নয় তাদের সৃষ্টির তারিখের জন্য এবং কারণ পাঁচটি সাজানো চাকতি অভিনবত্বের সীমায় পৌঁছায় না, যা স্বত্ব সংরক্ষণের জন্য জরুরি।

আন্দোলনটি বেশ কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যেগুলি ট্রেডমার্ক অতিক্রান্ত করায় অভিযুক্ত, যেমন: গে গেমস; মিনিয়াপোলিস-ভিত্তিক ব্যান্ড দ্য হোপফুলস্‌ যা পূর্বে অলিম্পিক হোপফুলস্‌ নামে পরিচিত ছিল; রেডনেক অলিম্পিক বা রেডনেক গেমস; আওয়ানা ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল; এক খ্রিষ্টীয় যুব মন্ত্রক যে শব্দটি ব্যবহার করে তার প্রতিযোগিতামূলক খেলার জন্য; এবং উইজার্ডস্‌ অফ দ্য কোস্ট, আইওসির লেজেন্ড অফ দ্য ফাইভ রিংস-এর অভিযোগের সময়ের সমকালীন প্রকাশক।

১৯৩৮ সালে, নরওয়েজিয়ান ভাঁটিখানা ফ্রাইডেনলান্ড তাদের রুট বিয়ারের জন্য একটি লেবেল পেটেন্ট করে যার মধ্যে অলিম্পিক রিংসও ছিল। ১৯৫২ সালে, যখন নরওয়ের অলিম্পিক আয়োজন করার পালা আসল তখন অলিম্পিক কমিটিকে নরওয়ে পেটেন্ট অফিস দ্বারা জানানো হয়েছিল যে ফ্রাইডেনলান্ডের রিংসগুলিতে অধিকার আছে। আজও উত্তরাধিকারী সংস্থা রিংনেস এএস তাদের রুট বিয়ারের জন্য পেটেন্ট করা রিংগুলির অধিকার রাখে।[৪০] এছারাও আরও কয়েকটি সংস্থা অলিম্পিকের নাম ব্যবহার করায় সফল হয়েছে, যেমন অলিম্পিক পেইন্ট, যার লোগোতে একটি মশালের রূপের তুলি আছে; এবং পূর্বের গ্রীক যাত্রীবাহী অলিম্পিক এয়ারলাইন্স।

আরও কিছু ক্রীড়া সংগঠন ও ঘটনাবলীকে আইওসি কর্তৃক অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের নামে 'অলিম্পিক' ব্যবহার করার, যেমন স্পেশ্যাল অলিম্পিক, একটি আন্তর্জাতিক খেলা যা প্রতি চার বছর অন্তর মানসিকভাবে অক্ষমদের জন্য আয়োজিত হয়।

সাম্প্রতিক বছরে, আয়োজক কমিটিগুলিও বেসরকারী নিবেদকদের দ্বারা গোপনে ব্যবসা প্রতিরোধের জন্য আইন প্রণয়ন করার দাবী করেছে। যেমন লন্ডন অলিম্পিক গেমস এবং প্যারাঅলিম্পিক গেমস অ্যাক্ট ২০০৬-যে কোন শব্দ বা চিত্রাবলী ব্যবহার করার উপর গুরুতর বিধিনিষেধগুলি স্থাপন করে যা গেমগুলির সাথে অননুমোদিত সংগঠন গঠন করতে পারে, যেমন আয়োজক শহর, বছর ও অন্যন্যের উল্লেখ।[৪১][৪২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "What is the Olympic motto?"। International Olympic Committee। ২০১৩। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  2. "Opening Ceremony" (pdf)। International Olympic Committee। ২০০২। পৃষ্ঠা 3। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১২ ; "Sport athlétique", 14 mars 1891: "[...] dans une éloquente allocution il a souhaité que ce drapeau les conduise 'souvent à la victoire, à la lutte toujours'. Il a dit qu'il leur donnait pour devise ces trois mots qui sont le fondement et la raison d'être des sports athlétiques: citius, altius, fortius, ‘plus vite, plus haut, plus fort’.", cited in Hoffmane, Simone La carrière du père Didon, Dominicain. 1ল।840 - 1900, Doctoral thesis, Université de Paris IV — Sorbonne, 1985, p. 926; cf. Michaela Lochmann, Les fondements pédagogiques de la devise olympique „citius, altius, fortius“
  3. "Games of the VIII Olympiad - Paris 1924"। ৩ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৮ 
  4. "The Olympic Summer Games" (PDF)। International Olympic Committee। অক্টোবর ২০১৩। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  5. "Olympics: Symbols and Traditions"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৭ 
  6. Lennartz, Karl (২০০২)। "The Story of the Rings" (PDF)Journal of Olympic History10: 32। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০১৬ 
  7. Lennartz, Karl (২০০২)। "The Story of the Rings" (PDF)Journal of Olympic History10: 31। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৬De plus les six couleurs ainsi combinées reproduisent celles de toutes les nations sans exception. Le bleu et jaune de Suède, le bleu et blanc de Grèce, les tricolores français, anglais, américain, allemand, belge, italien, hongrois, le jaune et rouge d'Espagne voisinent avec les innovations brésilienne ou australienne, avec le vieux Japon et la jeune Chine. Voilà vraiment un emblème international. 
  8. Robert Knight Barney (নভেম্বর ১৯৯২)। "This Great Symbol" (PDF)Olympic Review (301)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  9. Findling, John E.; Pele, Kimberly D., সম্পাদকগণ (৩০ মার্চ ২০০৪)। Encyclopedia of the Modern Olympic Movement। Greenwood Press। পৃষ্ঠা 65, 75। আইএসবিএন 978-0313322785। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫(সদস্যতা নেয়া প্রয়োজন (সাহায্য)) 
  10. Poole, Lynn; Poole, Gray Johnson (১৯৬৩-০১-০১)। History of ancient Olympic games, (English ভাষায়)। New York: I. Obolensky। 
  11. "Logos & Mascots"। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০০৭ 
  12. "The Olympic symbols" (PDF)IOC। ২০০২। ১৬ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০০৭  [Broken link]
  13. "Decision adopted by the Executive Committee" (PDF)Bulletin du Comité International Olympique (Olympic Review)। Lausanne: IOC (25): 32। জানুয়ারি ১৯৫১। 
  14. "The Olympic Flag"Extract from: Textes choisis II, p.470. (written in 1931)। ২৮ আগস্ট ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০০৮ 
  15. "Olympic Charter" (PDF)। The International Olympic Committee। ২ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  16. "Vancouver 2010: The Olympic Flags the Closing Ceremony of the Los Angeles 1984 Olympic Games, the flag was passed on to the next Olympic Games city, Seoul, and then retired. [emphasis added]"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১০ 
  17. Sandomir, Richard (১২ সেপ্টেম্বর ২০০০)। "Missing Flag Returns to Glory, Courtesy of a Prankster"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১০ 
  18. "Después de ochenta años le remordió la conciencia" [After Eighty Years, Conscience Kicked Him] (Spanish ভাষায়)। Montevideo: La Red21 Radio। ১২ সেপ্টেম্বর ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  19. "Vancouver 2010: The Olympic Flags and Emblem"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১০Because it is so precious, and must be preserved for years to come, the Oslo flag is not used during the actual Closing Ceremony. Instead, a replica flag is traditionally used. 
  20. "Vancouver 2010: The Olympic Flags and Emblem"। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১০The successor to the Antwerp Flag, the Seoul flag was presented to the IOC at the 1988 Olympic Games by the city of Seoul, South Korea. 
  21. "Olympic Flag arrives in Tokyo ahead of 2020 Games"। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬Rio Mayor Eduardo Paes handed the Flag over to Tokyo Governor Yuriko Koike during the Rio 2016 Closing Ceremony at the Maracanã Stadium on Sunday (August 21). 
  22. "Singapore 2010 Presented With Special Olympic Flag"। Gamebids.com। ১৩ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  23. "S'pore presented with special Olympic flag"Channel NewsAsia। ১৩ আগস্ট ২০১০। ২৮ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  24. "Olympic flag handed to mayor of Nanjing"Sina Corp। ২৭ আগস্ট ২০১০। 
  25. Juergen Wagner (২ জুলাই ২০০৩)। "Olympic Games Winner Medal 2004"। Olympic-museum.de। ১১ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  26. Heikinheimo, Seppo (১৯৮৫)। Aarre Merikanto: Säveltäjänkohtalo itsenäisessä Suomessa [Aarre Merikanto: The fate of the composer in independent Finland] (Finnish ভাষায়)। Helsinki: WSOY। পৃষ্ঠা 465, 467, 473, 479। আইএসবিএন 978-9510133194 
  27. "Herbert Rehbein"Songwriters Hall of Fame। ১৯৯৩। ৭ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  28. Guegold, William K. (জুন ১৯৯৬)। 100 Years of Olympic Music (Music and Musicians of the Modern Olympic Games 1896-1996)। Golden Clef Publishing। পৃষ্ঠা 56–58। আইএসবিএন 978-0965237109 
  29. "The John Williams Web Pages: Olympic Fanfare and Theme"। Johnwilliams.org। ১৯ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  30. http://www.altoriot.com/the-music-behind-nbcs-sochi-olympic-promos-the-greatest-sports-theme-no-one-can-name/
  31. Liddell, Henry George; Scott, Robert (১৯৪০)। κότινος [Olive Branch]। A Greek–English Lexicon (Greek ভাষায়)। Clarendon Press। 
  32. Pausanias, Description of Greece, 5.7.7
  33. Aristophanes, Plutus, 585.
  34. Herodotus, The Histories, Hdt. 8.26
  35. Droit, Jean (১৯২৪)। "Paris 1924 - Jeux Olympiques"। Olympic Games Museum। ২৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১০ 
  36. Schaap, Jeremy (২০০৭)। Triumph: the untold story of Jesse Owens and Hitler's Olympics। Houghton Mifflin Harcourt। পৃষ্ঠা 163–166। আইএসবিএন 978-0-618-68822-7(সদস্যতা নেয়া প্রয়োজন (সাহায্য)) 
  37. "Olympic Games 1936 Berlin: Poster"। Olympic Games Museum। ১৯৩৬। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  38. "The Official Olympic Salute Stopped Being Popularly Used After WWII Due to Strongly Resembling the "Heil Hitler" Salute"Today I Found Out (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১২-০৮-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৯-১৪ 
  39. https://www.youtube.com/watch?v=WfaFnZ6sEnY/%7Ctitle= Full St. Moritz 1948 Official film ; see 13:15 to 13:20
  40. "Norwegian Patent Office record of the Frydenlund patent, showing the design"। ১ নভেম্বর ১৯৩৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৬  Ringnes is the family name of the company's founders.
  41. Anderson, Steve (১৮ জুলাই ২০১২)। "The Debate: Have Olympic sponsorship regulations gone too far?"The Debate (blog)(The Independent)। London। ২১ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১২ 
  42. O'Sullivan, Feargus (১৩ জুন ২০১২)। "The Pettiness of Olympic Branding"The Atlantic। Washington D.C.। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১২