হাওর
হাওর বা হাওড় হলো সাগরসদৃশ পানির বিস্তৃত প্রান্তর।[১] প্রচলিত অর্থে হাওর হলো বন্যা প্রতিরোধের জন্য নদীতীরে নির্মিত মাটির বাঁধের মধ্যে প্রায় গোলাকৃতি নিচুভূমি বা জলাভূমি। তবে হাওর সব সময় নদী তীরবর্তী নির্মিত বাঁধের মধ্যে নাও থাকতে পারে। হাওরের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতি বছরই মৌসুমী বর্ষায় বা স্বাভাবিক বন্যায় হাওর প্লাবিত হয়, বছরের কয়েক মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে এবং বর্ষা শেষে হাওরের গভীরে পানিতে নিমজ্জিত কিছু স্থায়ী বিল জেগে উঠে।[২] গ্রীষ্মকালে হাওরকে সাধারণত বিশাল মাঠের মতো মনে হয়, তবে মাঝে মাঝে বিলে পানি থাকে এবং তাতে মাছও আটকে থাকে।
পরিচ্ছেদসমূহ |
নামকরণ [সম্পাদনা]
"সাগর" শব্দটি থেকে "হাওর" শব্দের উৎপত্তি[১] বলে ধরে নেয়া হয়।[৩]
বিবরণ [সম্পাদনা]
হাওর মূলত বিস্তৃত প্রান্তর, অনেকটা গামলা আকৃতির জলাভূমি যা প্রতিবছর মৌসুমী বৃষ্টির সময় পানিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সমগ্র বর্ষাকাল জুড়ে হাওরের পানিকে সাগর বলে মনে হয় এবং এর মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলোকে দ্বীপ বলে প্রতীয়মান হয়। বছরের সাত মাস হাওরগুলো পানির নিচে অবস্থান করে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি শুকিয়ে গিয়ে সেই স্থানে সরু খাল রেখে যায় এবং শুষ্ক মৌসুমের শেষের দিকে সম্পূর্ণ শুকিয়ে যেতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে হাওরের পুরো প্রান্তর জুড়ে ঘাস গজায়, গবাদি পশুর বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠে। হাওরে আগত পানি প্রচুর পলিমাটি ফেলে যায় যা ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপকারী।[৩] বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাওর অঞ্চল দেখতে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশের হাওর [সম্পাদনা]
IUCN-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রায় ৪০০ হাওর রয়েছে।[৪] ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান বা এলাকার বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের হাওরকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়:
- ১. পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়ের কাছাকাছি অবস্থিত হাওর
- ২. প্লাবিত এলাকার হাওর
- ৩. গভীর পানিতে প্লাবিত এলাকার হাওর।
এই তিন শ্রেণীর হাওর এলাকার মৎস্য সম্পদ, পানি সম্পদ, কৃষি এবং আর্থ-সামাজিক শর্তগুলো আলাদা আলাদাভাবে প্রতীয়মান হয়।[২]
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে সিলেট বিভাগে। বাংলাদেশের হাওরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
হাকালুকি হাওর [সম্পাদনা]
- মূল নিবন্ধ: হাকালুকি হাওর
হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর। এটি বৃহত্তর সিলেট জেলার় বড়লেখা (৪০%), কুলাউড়া (৩০%), ফেঞ্চুগঞ্জ (১৫%), গোলাপগঞ্জ (১০%) এবং বিয়ানীবাজার (৫%) জুড়ে বিস্তৃত। ভূতাত্ত্বিকভাবে এর অবস্থান, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশে। ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উজানে প্রচুর পাহাড় থাকায় হাকালুকি হাওরে প্রায় প্রতি বছরই আকষ্মিক বন্যা হয়। এই হাওরে ৮০-৯০টি ছোট, বড় ও মাঝারি বিল রয়েছে।[২] শীতকালে এসব বিলকে ঘিরে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে উঠে গোটা এলাকা।[৩]
টাঙ্গুয়ার হাওর [সম্পাদনা]
- মূল নিবন্ধ: টাঙ্গুয়া হাওর
বৃহত্তর সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর।
আরো দেখুন [সম্পাদনা]
বহিঃসূত্র [সম্পাদনা]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ ১.০ ১.১ ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী, স্বরোচিষ সরকার, ed. "হ" (in বাংলা) (প্রিন্ট). বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (জানুয়ারি ২০০২ খ্রিস্টাব্দ ed.). ঢাকা: বাংলা একাডেমী. পৃ: ১২২৪. আইএসবিএন 984-07-4222-1.
- ↑ ২.০ ২.১ ২.২ কাজী রোজানা আখতার (২০০০). "হাকালুকি হাওর". In কালী প্রসন্ন দাস, মোস্তফা সেলিম (in বাংলা) (প্রিন্ট). বড়লেখা: অতীত ও বর্তমান (ফেব্রুয়ারি ২১, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ ed.). ঢাকা: বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড. পৃ: ১৭৯-১৯২.
- ↑ ৩.০ ৩.১ ৩.২ ফওজুল করিম (তারা) (২০০০). "বড়লেখা সম্পর্কে একটি প্রামাণ্যচিত্র". In কালী প্রসন্ন দাস, মোস্তফা সেলিম (in বাংলা) (প্রিন্ট). বড়লেখা: অতীত ও বর্তমান (ফেব্রুয়ারি ২১, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ ed.). ঢাকা: বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড. পৃ: ৩৮-৩৯.
- ↑ A Directory of Aisan Wetlands: Bangladesh, A. W. Akhand; IUCN, Gland, Switzerland and Cambridge; p. 541-581
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
|
||||||||||||||||||||||||||
|
|||||||||||||||||||||||