নুরুল ইসলাম
| নুরুল ইসলাম | |
|---|---|
| জীবিকা | জাতীয় অধ্যাপক, ডাক্তার |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| জাতি | বাঙালি |
| নাগরিকত্ব | বাংলাদেশ |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | স্বাধীনতা পদক |
অধ্যাপক নুরুল ইসলাম (জন্ম: ১ এপ্রিল, ১৯২৮ - মৃত্যু: ২০১৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক যিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যাপনা জন্য বিশেষ খ্যাতিমান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত হয়েছিলেন।[১] তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত চিকিত্সক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পরিচ্ছেদসমূহ |
জন্ম ও শিক্ষাজীবন [সম্পাদনা]
ডা. নুরুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার মোহাস্মদপুর গ্রামে। তাঁর পিতার নাম সৈয়দুর রহমান মায়ের নাম গুলমেহের। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট৷ গাছবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৪৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেন৷ এমবিবিএস পরীক্ষা দেন ১৯৫০ সালে৷
পরিবার [সম্পাদনা]
ডা. নুরুল ইসলাম ১৯৬২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা শিক্ষা সম্প্রসারণ কেন্দ্রের শিক্ষক আনোয়ারার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির বড় মেয়ে নূর-এ-জান্নাত আয়েশা ইসলাম দীনা, ছেলে আহমেদ ইফতেখারুল ইসলাম বর্তমানে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন।
কর্মজীবন [সম্পাদনা]
নুরুল ইসলাম পিএসসির ইন্টারভিউ দিয়ে ১৯৫২ সালে মেধা তালিকার শীর্ষে থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বক্ষব্যাধি বিভাগের আউটডোরে নিয়োগ পান৷ ১৯৫৪ সালের পয়লা এপ্রিল লন্ডনের হুইটিংটন হাসপাতালে এমআরসিপি কোর্স শুরু হয়৷ মেডিসিনে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর ১৯৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ে টিডিডি কোর্সে যোগদান করেন ও সে বছর জুনে পরীক্ষা দেন৷ ১৯৫৬ সালের মার্চ মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগে সুপি ডিউটিতে পোস্টিং করা হলো৷ ছয়মাস এভাবে কাজ করার পর মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলে মেডিসিনের লেকচারার হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন৷ একই সাথে টিবি ওয়ার্ডের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান৷ ১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়োগ পান। চিকিত্সা বিজ্ঞানে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে তিনি সর্বপ্রথম 'নাফিল্ড স্কলারশিপ' পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন ১৯৬৩ সালে৷ ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে বিলাতে কাজ করে ১৯৬৪ সালের মাঝামাঝি দেশে ফিরে আসেন৷ চাকরি জীবনের অল্প সময় (দুবছর) নিজ জেলা চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও সেখানকার স্মৃতি তাঁর কাছে মধুময় ও অম্লান রয়েছে৷ ১৯৬৫ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিত্সা মহাবিদ্যালয়ে যুগ্ম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান৷ ১৯৮৭ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন৷ দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মেধা, শ্রম ও মনন দিয়ে এমনভাবে গড়ে তোলেন যে এটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।
পুরস্কার ও সম্মাননা [সম্পাদনা]
- প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল, (১৯৬৩)
- সিতার ই ইমতিয়াজ পদক, (১৯৭০)
- চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যারিটোরিয়াস সার্ভিস গোল্ড মেডেল, (১৯৮২)
- বাংলা একাডেমী অব সায়েন্স গোল্ড মেডেল, (১৯৮২)
- কলকতা মেডিকেল কলেজ ফর এম এন ডি ওরেশন অন প্রেসক্রিপশন অ্যান্ড প্রফেশনালস, (১৯৮৫)
- বঙ্গবন্ধু একাডেমী অ্যাওয়ার্ড, (১৯৮৬)
- জাতীয় অধ্যাপক, (১৯৮৭)
- ডা. শাহিদউল্লাহ স্মৃতি গোল্ড মেডেল, (১৯৯০)
- ডব্লিউএইচও অ্যাওয়ার্ড ফর টোবাকো কন্ট্রোল, (১৯৯০ ও ১৯৯২)
- ভাসানী মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল, (১৯৯৩)
- ইবনে সিনা মেডেল, (১৯৯৫)
- এম কে গান্ধি অ্যাওয়ার্ড, (১৯৯৬)
- স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, (১৯৯৭)