নুরুল ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নুরুল ইসলাম
Nurul Islam.jpg
নুরুল ইসলাম
জন্ম (১৯২৮-১১-২৫)২৫ নভেম্বর ১৯২৮
ঢাকা, ইস্ট বেঙ্গল,
(এখন বাংলাদেশ), ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৭ অক্টোবর ২০০৬(২০০৬-১০-০৭) (৭৭ বছর)
সারে, ইংল্যান্ড
বাসস্থান লন্ডন, ইংল্যান্ড
জাতীয়তা বাংলাদেশী
বংশোদ্ভূত বাংলা
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ
শিক্ষা অর্থনীতি এবং রাজনীতি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স
পেশা সাংবাদিক,
রেডিও প্রযোজক, উপস্থাপক
কার্যকাল ১৯৪৯–১৯৮৮

অধ্যাপক নুরুল ইসলাম (জন্ম: ১ এপ্রিল, ১৯২৮ - মৃত্যু: ২০১৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক যিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যাপনা জন্য বিশেষ খ্যাতিমান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত হয়েছিলেন।[১] তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত চিকিত্‍সক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ডা. নুরুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার মোহাস্মদপুর গ্রামে। তাঁর পিতার নাম সৈয়দুর রহমান মায়ের নাম গুলমেহের। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট৷ গাছবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৪৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেন৷ এমবিবিএস পরীক্ষা দেন ১৯৫০ সালে৷

পরিবার[সম্পাদনা]

ডা. নুরুল ইসলাম ১৯৬২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা শিক্ষা সম্প্রসারণ কেন্দ্রের শিক্ষক আনোয়ারার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির বড় মেয়ে নূর-এ-জান্নাত আয়েশা ইসলাম দীনা, ছেলে আহমেদ ইফতেখারুল ইসলাম বর্তমানে সাফল্যের সাথে কাজ করছেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

নুরুল ইসলাম পিএসসির ইন্টারভিউ দিয়ে ১৯৫২ সালে মেধা তালিকার শীর্ষে থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বক্ষব্যাধি বিভাগের আউটডোরে নিয়োগ পান৷ ১৯৫৪ সালের পয়লা এপ্রিল লন্ডনের হুইটিংটন হাসপাতালে এমআরসিপি কোর্স শুরু হয়৷ মেডিসিনে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর ১৯৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ে টিডিডি কোর্সে যোগদান করেন ও সে বছর জুনে পরীক্ষা দেন৷ ১৯৫৬ সালের মার্চ মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগে সুপি ডিউটিতে পোস্টিং করা হলো৷ ছয়মাস এভাবে কাজ করার পর মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলে মেডিসিনের লেকচারার হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন৷ একই সাথে টিবি ওয়ার্ডের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান৷ ১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়োগ পান। চিকিত্‍সা বিজ্ঞানে তত্‍কালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে তিনি সর্বপ্রথম 'নাফিল্ড স্কলারশিপ' পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন ১৯৬৩ সালে৷ ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে বিলাতে কাজ করে ১৯৬৪ সালের মাঝামাঝি দেশে ফিরে আসেন৷ চাকরি জীবনের অল্প সময় (দুবছর) নিজ জেলা চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও সেখানকার স্মৃতি তাঁর কাছে মধুময় ও অম্লান রয়েছে৷ ১৯৬৫ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিত্‍সা মহাবিদ্যালয়ে যুগ্ম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান৷ ১৯৮৭ সালে পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন৷ দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মেধা, শ্রম ও মনন দিয়ে এমনভাবে গড়ে তোলেন যে এটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল, (১৯৬৩)
  • সিতার ই ইমতিয়াজ পদক, (১৯৭০)
  • চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যারিটোরিয়াস সার্ভিস গোল্ড মেডেল, (১৯৮২)
  • বাংলা একাডেমী অব সায়েন্স গোল্ড মেডেল, (১৯৮২)
  • কলকতা মেডিকেল কলেজ ফর এম এন ডি ওরেশন অন প্রেসক্রিপশন অ্যান্ড প্রফেশনালস, (১৯৮৫)
  • বঙ্গবন্ধু একাডেমী অ্যাওয়ার্ড, (১৯৮৬)
  • জাতীয় অধ্যাপক, (১৯৮৭)
  • ডা. শাহিদউল্লাহ স্মৃতি গোল্ড মেডেল, (১৯৯০)
  • ডব্লিউএইচও অ্যাওয়ার্ড ফর টোবাকো কন্ট্রোল, (১৯৯০ ও ১৯৯২)
  • ভাসানী মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল, (১৯৯৩)
  • ইবনে সিনা মেডেল, (১৯৯৫)
  • এম কে গান্ধি অ্যাওয়ার্ড, (১৯৯৬)
  • স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, (১৯৯৭)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]