জাভি হার্নান্দেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাভি হার্নান্দেজ
Xavi Euro 2012 vs France 02.jpg
ইউরো ২০১২তে স্পেনের হয়ে খেলছেন জাভি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম জাভিয়ের হার্নান্দেজ আই ক্রেউজ
জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৯৮০ (1980-01-25) (বয়স ৩৩)
জন্ম স্থান তেরাসা, স্পেন
উচ্চতা ১.৭০ মিটার (৫–৭)[১]
মাঠে অবস্থান মাঝমাঠ
ক্লাবের তথ্য
বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনা
জার্সি নম্বর
তারূণ্যের কর্মজীবন
১৯৯১–১৯৯৭ বার্সেলোনা
বলিষ্ঠ কর্মজীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
১৯৯৭–২০০০ বার্সেলোনা বি ৬১ (৪)
১৯৯৮– বার্সেলোনা ৪৩৭ (৫৩)
জাতীয় দল
১৯৯৭ স্পেন অনুর্ধ্ব ১৭ ১০ (২)
১৯৯৭–১৯৯৮ স্পেন অনুর্ধ্ব ১৮ ১০ (০)
১৯৯৯ স্পেন অনুর্ধ্ব ২০ (২)
১৯৯৮–২০০১ স্পেন অনুর্ধ্ব ২১ ২৫ (৭)
২০০০ স্পেন অনুর্ধ্ব ২৩ (২)
২০০০– স্পেন ১১৯ (১২)
১৯৯৮– কাতালুনিয়া ১০ (২)
* পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা

শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে এবং তারিখ অনুযায়ী সঠিক ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

‡ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সংখ্যা এবং গোল তারিখ অনুযায়ী সঠিক ২ জানুয়ারি ২০১৩

জাভিয়ের ‘‘জাভি’’ হার্নান্দেজ আই ক্রেউজ (কাতালান: ˈ(t)ʃaβi ərˈnandəz i ˈkɾɛws, স্পেনীয়: ˈtʃaβi erˈnandeθ i ˈkɾewθ; জন্ম: ২৫ জানুয়ারি ১৯৮০) একজন স্পেনীয় ফুটবলার যিনি মাঝমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় দলে খেলছেন।

জাভি বার্সেলোনার যুব প্রকল্প লা মাসিয়াহতে তার শৈশব কাটিয়েছেন। প্রথম দলে তার অভিষেক হয় ১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট, ১১ বছর বয়সে। জাভিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি বার্সেলোনার হয়ে ১৫০টি আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহন করেছেন।[২]

২০০০ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকে তিনি স্পেনের হয়ে ১১৯টি খেলায় মাঠে নেমেছেন। তিনি স্পেনের হয়ে ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ ইউরো জিতেছেন। ২০০৮ ইউরোতে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।[৩] জাভি অন্য কোন স্পেনীয় খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক শিরোপা জিতেছেন।[৪] তিনি পাঁচবার ব্যালন দি’অর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন যার মধ্যে ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে তৃতীয় হয়েছেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রারম্ভিক জীবন [সম্পাদনা]

জাভি বার্সেলোনার তেরাসাতে জন্মগ্রহন করেন। তিনি বার্সেলোনার যুব প্রকল্প লা মাসিয়াহ থেকে উঠে এসেছেন এবং মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই ক্যাম্প ন্যুতে নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিনত হয়েছেন। তার বাবা জাকুইম প্রথম শ্রেণীর দল সাবাদেলে খেলতেন।[৫] তিনি বার্সেলোনা বি দলে খেলার সময় কোচ জর্দি গোনজালোভের ট্রাম্প কার্ড ছিলেন। তিনি দলকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত করেন।

ক্লাব ক্যারিয়ার [সম্পাদনা]

বার্সেলোনা [সম্পাদনা]

১৯৯৮–২০০১ [সম্পাদনা]

তার পর্যায়ক্রমিক উন্নতি তাকে প্রথম দলে জায়গা করে দেয়। ১৯৯৮ সালের ১২ মে, সাউদাম্পটনের বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। প্রথম প্রতিযোগীতামূলক খেলায় তার অভিষেক হয় ১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট, মায়োর্কার বিপক্ষে স্পেনীয় সুপার কোপায়। ৩ অক্টোবর, ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগায় তার অভিষেক হয়। খেলায় বার্সেলোনা ৩–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। অভিষেক মৌসুমে তিনি ২৬টি খেলায় মাঠে নামেন। ঐ মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগা শিরোপা জেতে। ১৯৯৯–০০ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার ইনজুরির কারনে তিনি বার্সেলোনার প্রধান প্লেমেকারে পরিনত হন।

২০০১–২০০৩ [সম্পাদনা]

এই বছরগুলোতে বার্সেলোনা দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল এবং লিগেও তাদের অবস্থান ভাল ছিলনা। ঐ সময়ে জাভি মাঝমাঠে খেললেও কিছুটা রক্ষনশীশ ভূমিকায় ছিলেন। এই দুই মৌসুমে জাভি ২০টি গোলে সহায়তা করেন এবং ৭টি গোল করেন। ২০০২ সালের ১৬ মার্চ, জাভি এল ক্ল্যাসিকোতে তার প্রথম গোল করেন।

২০০৪–২০০৮ [সম্পাদনা]

২০০৪–০৫ মৌসুমে জাভিকে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগা এবং স্পেনীয় সুপার কোপা শিরোপা জেতে। ২০০৫ সালে জাভিকে লা লিগা স্পেনীয় বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার দেওয়া হয়।

২০০৫–০৬ মৌসুমে অনুশীলনের সময় জাভির বাম পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ফলে চার মাসের জন্য তিনি মাঠের বাহিরে চলে যান। এপ্রিলে মাঠে ফিরলেও ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে তাকে বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়। তিনি বার্সেলোনার হয়ে আবারো লা লিগা এবং ২০০৬ স্পেনীয় সুপার কোপা শিরোপা জেতেন।

২০০৮–০৯ মৌসুম [সম্পাদনা]

২০০৮–০৯ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ে জাভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অ্যাথলেটিক বিলবাও-এর বিপক্ষে কোপা দেল রে’র ফাইনালে ফ্রি-কিক থেকে একটি গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ৪–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। ২ মে, লা লিগার এল ক্ল্যাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনা ৬–২ ব্যবধানে জয় লাভ করে। খেলায় ছয়টি গোলের চারটিতেই জাভি সহায়তা করেন (পুয়েলের একটি, হেনরির একটি এবং মেসির দুইটি)।[৬] ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়েও জাভির ভূমিকা ছিল। খেলায় বার্সেলোনা ২–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। দ্বিতীয় গোলটিতে সহায়তা করেন তিনি। তার পাস থেকেই হেডে গোল করেন লিওনেল মেসি[৭] তাকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা মাঝমাঠের খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়। ২০০৮–০৯ লা লিগায় তিনি সর্বোচ্চ সহায়তাকারী ছিলেন। মৌসুমে তিনি ২০টি গোলে সহায়তা করেন। চ্যাম্পিয়ন্স লীগেও তিনি সর্বোচ্চ সহায়তাকারী ছিলেন। সেখানে তিনি ৭টি গোলে সহায়তা করেন। মৌসুমে জাভি মোট ২৯টি গোলে সহায়তা করেন।

এই মৌসুমে জাভি বার্সেলোনার সাথে তার চুক্তির মেয়াদ ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে নেন। এই চুক্তিতে তার বাত্‍সরিক পারিশ্রমিক রাখা হয়েছিল ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো।

২০০৯–১০ মৌসুম [সম্পাদনা]

২০০৯–১০ মৌসুমেও জাভি মৌসুমের সর্বোচ্চ সহায়তাকারী ছিলেন। ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল, স্যান্তিয়াগো বের্ন্যাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্ল্যাসিকোতে বার্সেলোনা ০–২ ব্যবধানে জয় লাভ করে। খেলায় দুইটি গোলেই সহায়তা করেন জাভি।[৮] বার্সেলোনা এই মৌসুমেও লা লিগা শিরোপা জেতে এবং জাভিকে মৌসুমে বার্সেলোনার দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়। ২০১০ সালের ৩ জুন, মাদ্রিদ ভিত্তিক সংবাদপত্র মার্কা জাভিকে ট্রফিও অ্যালফ্রেডো দি স্টিফানো পুরষ্কারে তৃতীয় অবস্থানে রাখে। পুরষ্কারটি জেতেন লিওনেল মেসি এবং দ্বিতীয় হন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো[৯]

২০১০–১১ মৌসুম [সম্পাদনা]

২০১০ সালের ৯ জুন, জাভি বার্সেলোনার সাথে নতুন করে চুক্তি সাক্ষর করেন। এতে তার চুক্তির মেয়াদ বেড়ে দাড়ায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত।[১০] ২৯ নভেম্বর, চীর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জাভি একটি গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ৫–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। এটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জাভির তৃতীয় গোল। ১৮ ডিসেম্বর, এস্প্যানিওলের বিপক্ষেও তিনি একটি গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ১–৫ ব্যবধানে জয় লাভ করে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ঘরের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে খেলায়ও তিনি ডেভিড ভিয়ার সহায়তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন।

২০১০ ফিফা ব্যালন দি’অরের তিনজন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর মধ্যে ক্লাব সতীর্থ ইনিয়েস্তা এবং মেসির সাথে তিনিও ছিলেন। পুরষ্কারটি জেতেন মেসি এবং জাভি হন তৃতীয়।[১১]

২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি, অ্যাথলেটিক বিলবাও-এর বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে জাভি তার ৫৫০তম খেলায় মাঠে নামেন। এতে করে, বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি খেলায় মাঠে নামার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।[১২]

২০১১–১২ মৌসুম [সম্পাদনা]

দূর্দান্ত গোল করার ফর্ম নিয়ে ২০১১–১২ মৌসুমে শুরু করেন জাভি। ২৩ নভেম্বর, চ্যাম্পিয়ন্স লীগের প্রথম পর্বের খেলায় মিলানের বিপক্ষে তিনি জয়সূচক গোলটি গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ২–৩ ব্যবধানে জয় লাভ করে।[১৩]

১৮ ডিসেম্বর, স্যান্তোসের বিপক্ষে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে জাভি একটি গোল করেন। খেলায় বার্সেলোনা ৪–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে।[১৪] এই মৌসুমে জাভি ১৪টি গোল করেন।

২০১২–১৩ মৌসুম [সম্পাদনা]

২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর, বার্সেলোনা জাভির সাথে তাদের চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করে। এতে করে, তার চুক্তির মেয়াদ বেড়ে দাড়ায় ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।[১৫]

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার [সম্পাদনা]

ইউরো ২০১২ শিরোপা হাতে জাভি এবং স্পেন অধিনায়ক ইকার কাসিয়াস

২০০০ সালের নভেম্বরে জাভির স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক হয়। তিনি জাতীয় দলের হয়ে ২০০০ সিডনি অলিম্পিক, ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০০৪ উয়েফা ইউরো, ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০০৮ উয়েফা ইউরো, ২০০৯ ফিফা কনফেডারেন্স কাপ, ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০১২ উয়েফা ইউরোতে অংশগ্রহন করেন।

উয়েফা ইউরো ২০০৮ [সম্পাদনা]

ফাইনালে জার্মানিকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ১৯৬৪ ইউরোর পর এটিই ছিল স্পেনের প্রথম শিরোপা। জাভি মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলেন। প্রতিযোগীতার সেমি ফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে খেলার প্রথম গোলটি করেন তিনি। খেলায় স্পেন ৩–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। ফাইনালে তারই বাড়ানো বল থেকে খেলার একমাত্র গোলটি করেন তরেস। জাভিকে প্রতিযোগীতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০১০ [সম্পাদনা]

স্পেনের ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জাভি। মোট ৭টি খেলায় তার করা ৬৬৯টি পাসের মধ্যে ৫৯৯টি পাসই সফলতা পায়। শুধুমাত্র ফাইনালেই তিনি ৫৭টি সফল ফরোয়ার্ড হাফ পাস করেছিলেন।[১৬]

বিশ্বকাপের সাত খেলায় তিনি ৮০.২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন। গড় হিসেবে এর পরিমান প্রতি খেলায় প্রায় ১১.৫ কিলোমিটার।[১৭] এর মধ্যে শুধু ফাইনালেই তিনি ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন।[১৮]

রাউন্ড ১৬-তে পর্তুগালের বিপক্ষে খেলার ৬৩তম মিনিটে জাভির পাস থেকে বল নিয়ে বাম পায়ে শট নেন ডেভিড ভিয়া। শটটি রুখে দেন পতুগিজ গোলরক্ষক এডুয়ার্ডো। ডান পায়ের ফিরতি শটে জয়সূচক গোলটি করেন ভিয়া।[১৯] সেমি ফাইনালেও জার্মানির বিপক্ষে জাভির পাস থেকে হেডে গোল করেন কার্লোস পুয়োল। খেলায় স্পেন ১–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং প্রতিযোগীতার ফাইনালে পৌছায়।[২০]

উয়েফা ইউরো ২০১২ [সম্পাদনা]

ইউরো ২০১২-এর ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে খেলছেন জাভি।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম পর্বের খেলায় জাভি ১৩৬টি পাসের প্রয়াস চালান, যার মধ্যে ১২৭টি সফল হয় (৯৪%)। এটি ছিল ইউরো কাপের একটি খেলায় সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড। খেলায় স্পেন ৪–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে।

প্রতিযোগীতার ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে জাভি দুইটি গোলে সহায়তা করেন। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুইটি ইউরো কাপের ফাইনালে গোলে সহায়তা করেছেন।[২১] খেলায় ইতালিকে ৪–০ ব্যবধানে হারায় স্পেন। ফলে জাভি স্পেনীয় ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়ে পরিনত হন। এই প্রতিযোগীতার আগ পর্যন্ত জাভির সাথে এই কৃতিত্বের ভাগীদার ছিলেন কার্লোস পুয়োল, কিন্তু হাঁটুর ইনজুরির কারনে পুয়োল ইউরো ২০১২-তে স্পেন দলে ছিলেন না।[২১]

আন্তর্জাতিক উপস্থিতি [সম্পাদনা]

১৬ অক্টোবর ২০১২ অনুসারে[২২]
জাতীয় দল মৌসুম উপস্থিতি গোল
স্পেন ২০০০–০১
২০০১–০২
২০০২–০৩
২০০৩–০৪
২০০৪–০৫
২০০৫–০৬ ১৩
২০০৬–০৭
২০০৭–০৮ ১৬
২০০৮–০৯ ১৪
২০০৯–১০ ১৭
২০১০–১১
২০১১–১২ ১৪
২০১২–১৩
সর্বমোট ১১৯ ১২

আন্তর্জাতিক গোল [সম্পাদনা]

খেলার ধরন [সম্পাদনা]

জাভিকে তার সময়ের সেরা, এমনকি সর্বকালের সেরা মাঝমাঠের খেলোয়াড়ও বলা হয়।[২৩][২৪] তার চমত্‍কার দৃষ্টিশক্তি, বিশ্বমানের বল নিয়ন্ত্রন এবং পাসিং দক্ষতা তাকে খেলার ধারা নিয়ন্ত্রনের সক্ষমতা প্রদান করে। এজন্য তাকে ‘‘দ্য পাপেট মাস্টার (The Puppet Master)’’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।[২৫][২৬]

ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান [সম্পাদনা]

২০০৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে কর্ণার কিক নিচ্ছেন জাভি।

৫ মে ২০১৩ অনুসারে।[২৭][২৮]

ক্লাব মৌসুম লীগ কাপ ইউরোপ অন্যান্য[২৯] সর্বমোট
উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল উপস্থিতি গোল
বার্সেলোনা বি ১৯৯৭–৯৮ ৩৯ ৩৯
১৯৯৮–৯৯ ১৮ ১৮
১৯৯৯–২০০০
সর্বমোট ৬১ ৬১
বার্সেলোনা ১৯৯৮–৯৯ ১৭ ২৭
১৯৯৯–২০০০ ২৪ ১০ ৩৮
২০০০–০১ ২০ ৩৬
২০০১–০২ ৩৫ ১৬ ৫২
২০০২–০৩ ২৯ ১৪ ৪৪
২০০৩–০৪ ৩৬ ৪৯
২০০৪–০৫ ৩৬ ৪৫
২০০৫–০৬ ১৬ ২২
২০০৬–০৭ ৩৫ ৫৪
২০০৭–০৮ ৩৫ ১২ ৫৪
২০০৮–০৯ ৩৫ ১৪ ৫৪ ১০
২০০৯–১০ ৩৪ ১১ ৫২
২০১০–১১ ৩১ ১২ ৫০
২০১১–১২ ৩১ ১০ ৫১ ১৪
২০১২–১৩ ২৭ ১১ ৪৫
সর্বমোট ৪৪১ ৫৩ ৬২ ১০ ১৫০ ১২ ২০ ৬৭৩ ৮০
ক্যারিয়ারে সর্বমোট ৫০২ ৫৭ ৬২ ১০ ১৫০ ১২ ২০ ৭৩৪ ৮৪

সম্মাননা [সম্পাদনা]

বার্সেলোনা [সম্পাদনা]

স্পেন [সম্পাদনা]

একক [সম্পাদনা]

সম্মানসূচক পদক [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. "Xavier Hernández Creus"FC Barcelona। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১৩ 
  2. "Xavi, 150 international games with Barça"। FC Barcelona। ২৩ অক্টোবর ২০১২http://www.fcbarcelona.com/football/first-team/detail/article/xavi-150-international-games-with-barca। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১৩
  3. "Xavi emerges as EURO's top man"। UEFA। ৩০ জুন ২০০৮http://en.euro2008.uefa.com/news/kind=1/newsid=729378.html#xavi+emerges+euros। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১৩
  4. "Xavi - a record title winner"। Fcbarcelona.com। ৭ জুলাই ২০১২http://www.fcbarcelona.com/football/first-team/detail/article/xavi-a-record-title-winner। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১৩
  5. "Euro 2012: Spain – the secrets behind the players"। The Guardian। ৪ জুন ২০১২। সংগৃহীত ৮ জানুয়ারি ২০১৩ 
  6. Lowe, Sid (২ মে ২০০৯)। "Barcelona run riotat Real Madrid and put Chelsea on notice"। The Guardian। সংগৃহীত ১১ জানুয়ারি ২০১৩ 
  7. McNulty, Phil (২৭ মে ২০০৯)। "Barcelona 2-0 Man Utd"। BBC Sport। সংগৃহীত ১১ জানুয়ারি ২০১৩ 
  8. Smith, Rory (১০ এপ্রিল ২০১০)। "Real Madrid 0 Barcelona 2: match report"। The Telegraph। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ 
  9. Malek, Cyrus C. (৩ জুন ২০১০)। "Barcelona Star Lionel Messi Wins The Trofeo Alfredo Di Stefano"। Goal.comhttp://www.goal.com/en/news/12/spain/2010/06/03/1957099/barcelona-star-lionel-messi-wins-the-trofeo-alfredo-di। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩
  10. "Xavi extends deal until 2016"। FC Barcelona। ৯ জুন ২০১০http://www.fcbarcelona.com/web/english/noticies/futbol/temporada09-10/06/09/n100609111479.html। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩
  11. "Lionel Messi, Xavi and Andrés Iniesta shortlisted for Ballon d'Or"। The Guardian। ৬ ডিসেম্বর ২০১০http://www.guardian.co.uk/football/2010/dec/06/ballon-dor-messi-xavi-iniesta-barcelona। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩
  12. "Xavi: "I feel privileged""। FC Barcelona। ২ জানুয়ারি ২০১১http://www.fcbarcelona.cat/web/english/noticies/futbol/temporada10-11/01/02/n110102114899.html। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩
  13. "Xavi clinches top spotfor Barcelona in Milan"। UEFA। ২৩ নভেম্বর ২০১১। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ 
  14. "Barcelona 4 Santos 0: match report"। The Telegraph। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ 
  15. "Barça has renewed the contracts of Carles Puyol, Xavi Hernández and Leo Messi"। FC Barcelona। ১৮ ডিসেম্বর ২০১২http://www.fcbarcelona.com/football/first-team/detail/article/carles-puyol-xavi-hernandez-and-leo-messi-renew-their-contract-with-fc-barcelona। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩
  16. "Accurate Forward Half Passes in World Cup Final 2010"ফিফা। ২৩ আগস্ট ২০১০http://www-958.ibm.com/software/data/cognos/manyeyes/files/thumbnails/8d41dba8-8d43-11df-a224-000255111976.wm.png। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩
  17. "Distance"ফিফা। ২৪ আগস্ট ২০১০http://www.fifa.com/worldcup/archive/southafrica2010/statistics/players/distanceandspeed.html। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩
  18. "Players Heat Map"ফিফা। ২৬ আগস্ট ২০১০http://www.fifa.com/mm/document/tournament/competition/01/27/28/20/64_0711_ned-esp_playersheatmap.pdf। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩
  19. "Spain–Portugal"ফিফা। ২৭ আগস্ট ২০১০http://www.fifa.com/worldcup/archive/southafrica2010/matches/round=249717/match=300061498/report.html। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩
  20. "Germany – Spain"ফিফা। ২৮ আগস্ট ২০১০http://www.fifa.com/worldcup/archive/southafrica2010/matches/round=249719/match=300111114/report.html। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩
  21. ২১.০ ২১.১ "Casillas, Torres & Xavi amongst record-breakers for Spain"। Goal.com। ১ জুলাই ২০১২http://www.goal.com/en/news/2898/euro-2012/2012/07/01/3204471/casillas-torres-xavi-amongst-record-breakers-for-spain। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩
  22. "Fútbol en la Red" (in স্পেনীয়)। Futbol.sportec.es। সংগৃহীত ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ 
  23. Garganese, Carlo (৩০ নভেম্বর ২০১০)। "Is Barcelona star Xavi the best centre midfielder of all time?"। Goal.com। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  24. "CL Special: Xavi - TheBest Centre Midfielder In The World, The Symbol Of Pure Football"। Goal.com। ২৮ মে ২০০৯। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  25. "Lionel Messi wins Ballon d'Or for second time"। Football-news.org। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  26. Ali, Ruksana (২৩ ডিসেম্বর ২০১১)। "Xavi - 'The Puppet Master'"। Footballspeak.com। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  27. "Official site statistics"। FC Barcelona। সংগৃহীত ২৬ জানুয়ারি ২০১৩ 
  28. "Transfermarkt player statistics"। Transfermarkt। সংগৃহীত ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ 
  29. অন্যান্য এর মধ্যে রয়েছে স্পেনীয় সুপার কোপা, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ
  30. [[cite web|url=http://www.csd.gob.es/csd/competicion/06distincionesDeporte/real-orden-del-merito-deportivo/galardonados-2010/%7Ctitle=Real Orden del Mérito Deportivo 2010|accessdate=১৩ মে ২০১৩}}



বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]