আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ
ICCranking logo.png
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ লোগো
ব্যবস্থাপক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল
খেলার ধরন টেস্ট ক্রিকেট
প্রথম টুর্নামেন্ট ২০০৩
শেষ টুর্নামেন্ট চলমান
প্রতিযোগিতার ধরন notional (ongoing points
accumulation through all matches played)
দলের সংখ্যা ১০
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন  দক্ষিণ আফ্রিকা (১৩৩ পয়েন্ট)
সর্বাধিক সফল Flag of Australia.svg অস্ট্রেলিয়া (৭৪ মাস)

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ (ইংরেজি: ICC Test Championship) একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক পরিচালিত হয়। মূলতঃ র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতির মাধ্যমে দলগত পর্যায়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ নির্ধারিত হয়। ১০টি টেস্ট ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড) এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটির মাধ্যমে সাধারণ র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতির ধারণা জন্মানো হয় যাতে নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেটের সময় নির্দেশিকা অনুসারে দলগুলো একে-অপরের সাথে আন্তর্জাতিক খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে নিজ মাঠ বা প্রতিপক্ষের মাঠে খেলার ফলে টেস্ট ক্রিকেট র‌্যাঙ্কিংয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না।

প্রতিটি টেস্ট সিরিজ শেষে দু’দলই গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জন করে থাকে। প্রতিটি দলের সর্বমোট পয়েন্টকে সর্বমোট খেলা দিয়ে বিভাজন করা হয়, যা টেস্ট ক্রিকেট রেটিং নামে পরিচিত। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর নাম রেটিং অনুযায়ী সাজানো থাকে যা নিচের ছকে তুলে ধরা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সাল পর্যন্ত আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। ২০ আগস্ট, ২০১২ তারিখে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে রেটিংয়ে পরাজিত করে তারা এ সাফল্য লাভ করে।

২০০১ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেস্ট দলকে দণ্ডাকৃতির আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারের মূল্যমান £৩০,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং।[১]

চ্যাম্পিয়নশীপ নির্ধারণে সমীকরণ[সম্পাদনা]

র‌্যাঙ্কিংয়ে নিম্নলিখিত সমীকরণগুলো প্রয়োগ করা হয়:-

  • প্রতিটি দলের রানকে পয়েন্টভিত্তিতে তাদের খেলার ফলাফলে প্রাধান্য পাবে।
  • প্রতিটি দলের রেটিং হবে মোট পয়েন্টকে মোট খেলা ও সিরিজের খেলা দিয়ে ভাগ করে।
  • একটি সিরিজে কমপক্ষে দু’টি টেস্ট ম্যাচ থাকতে হবে।
  • একটি সিরিজের ফলাফল তিন বছর পর্যন্ত গণনা করা হবে।
  • সিরিজ যদি দুই বছর পূর্বেকার হয়, তাহলে এর গুরুত্ব হবে অর্ধেক এবং সাম্প্রতিক খেলাগুলোর মর্যাদা হবে সর্বাধিক।
  • নির্দিষ্ট একটি সিরিজের দলের রেটিং তৈরীর জন্য যা প্রয়োজনঃ
    • সিরিজের ফলাফল
      • প্রতিটি জয়ে ১ পয়েন্ট
      • ড্রয়ে অর্ধ-পয়েন্ট
      • সিরিজ জয়ী হলে অতিরিক্ত ১ পয়েন্ট
      • সিরিজ ড্র হলে অতিরিক্ত অর্ধ-পয়েন্ট
    • সিরিজের ফলাফলকে প্রকৃত রেটিং পয়েন্টে রূপান্তরকরণ

টেস্ট র‌্যাঙ্কিং[সম্পাদনা]

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ
র‌্যাঙ্ক পরিবর্তন দলের নাম খেলার সংখ্যা পয়েন্ট রেটিং
অপরিবর্তিত  দক্ষিণ আফ্রিকা ৩১ ৩৮৩৯ ১২৪
অপরিবর্তিত  অস্ট্রেলিয়া ৪০ ৪৭১৮ ১১৮
অপরিবর্তিত  ইংল্যান্ড ৩৯ ৪০৬৩ ১০৪
অপরিবর্তিত  পাকিস্তান ৩০ ৩০৯০ ১০৩
বৃদ্ধি  নিউজিল্যান্ড ৩৭ ৩৬৬০ ৯৯
হ্রাস  শ্রীলঙ্কা ৩৪ ৩২৫৮ ৯৬
অপরিবর্তিত  ভারত ৩৪ ৩২২৮ ৯৫
অপরিবর্তিত  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ ২২৭২ ৭৬
অপরিবর্তিত  বাংলাদেশ ২১ ৬৭৬ ৩২
১০ অপরিবর্তিত  জিম্বাবুয়ে ১৩ ২২৮ ১৮
সূত্র: আইসিসি র‌্যাঙ্কিং, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানের ইতিহাস[সম্পাদনা]

জুন, ২০০৩ সাল থেকে আইসিসি প্রতি মাসের শেষে টেস্ট রেটিং নির্ধারণ করে থাকে। সর্বোচ্চ রেটিংয়ে আরোহণকারী দলটি ঐদিন থেকে পুরো মাসব্যাপী শীর্ষে থাকে। শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত দলগুলোর অবস্থান ধারাবাহিকভাবে মাসভিত্তিক দেখানো হলো:-

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দলের ধারাবাহিকতা
দলের নাম শুরু শেষ সর্বমোট মাস সর্বোচ্চ রেটিং
 অস্ট্রেলিয়া জুন, ২০০৩ আগস্ট, ২০০৯ ৭৪ ১৪৩
 দক্ষিণ আফ্রিকা আগস্ট, ২০০৯ নভেম্বর, ২০০৯ ১২২
 ভারত নভেম্বর, ২০০৯ আগস্ট, ২০১১ ২১ ১৩০
 ইংল্যান্ড আগস্ট, ২০১১ আগস্ট, ২০১২ ১২ ১২৫
 দক্ষিণ আফ্রিকা আগস্ট, ২০১২ চলমান ১৫ ১৩৫
তথ্যসূত্র: আইসিসি র‌্যাঙ্কিং, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ইং

আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৩ সালে র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থার প্রবর্তন করে। অস্ট্রেলিয়া এতে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করেছে যা ১৯৯৫ সাল থেকে তাদের এই অগ্রযাত্রা। ২০০৯ সালে থেকে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং ইংল্যান্ড দলও শীর্ষস্থানীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে। ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল ২২ আগস্ট, ২০১১ইং তারিখে প্রকাশিত বর্তমান র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো শীর্ষস্থানের মর্যাদা পেয়েছে।

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ[সম্পাদনা]

বেশ কিছু বছর ধরে ক্রিকেট বিশ্বকাপ, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ এবং আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের আদলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ টুর্ণামেন্টের আয়োজন করার চিন্তা করা হচ্ছিল।

আইসিসি প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত প্রতি চার বছর পর পর সেরা চারটি ক্রিকেট দলকে নিয়ে সেমি-ফাইনাল এবং ফাইনাল খেলা আয়োজনের প্রস্তাবনা দিয়েছেন। খেলাধূলার সময়সীমা সবচেয়ে বড় আকারের হওয়ায় এ ধরণের ব্যবস্থা রাখা হয়। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফি প্রতিযোগিতাটি ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।[২][৩] কিন্তু খেলা সম্প্রচারকারী অংশীদার - ইএসপিএন স্টার স্পোর্টস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাবার ফলে তা বিলম্বিত হয়। মূলতঃ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অধিকতর মুনাফা অর্জনই এর প্রধান কারণ। অবশেষে আইসিসি ঘোষণা করে যে উদ্বোধনী আসরটি ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।[৪]

বর্তমান টেস্ট ক্রিকেটার[সম্পাদনা]

ব্যাটসম্যান
আইসিসি শীর্ষ ১০ টেস্ট ব্যাটসম্যান
অবস্থান পরিবর্তন খেলোয়াড়ের নাম দলের নাম রেটিং
অপরিবর্তিত কুমার সাঙ্গাকারা  শ্রীলঙ্কা ৯০৯
অপরিবর্তিত এবি ডি ভিলিয়ার্স  দক্ষিণ আফ্রিকা ৯০৮
বৃদ্ধি হাশিম আমলা  দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৯১
বৃদ্ধি স্টিভ স্মিথ  অস্ট্রেলিয়া ৮৭৩
বৃদ্ধি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস  শ্রীলঙ্কা ৮৪১
বৃদ্ধি কেন উইলিয়ামসন  নিউজিল্যান্ড ৮৩৯
হ্রাস শিবনারায়ণ চন্দরপল  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮৩৪
হ্রাস ইউনুস খান  পাকিস্তান ৮১৮
হ্রাস ডেভিড ওয়ার্নার  অস্ট্রেলিয়া ৮০৫
১০ হ্রাস জো রুট  ইংল্যান্ড ৭৮৯
তথ্যসূত্র: আইসিসি র‌্যাঙ্কিংস, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
বোলার
আইসিসি শীর্ষ ১০ টেস্ট বোলার
অবস্থান পরিবর্তন খেলোয়াড়ের নাম দলের নাম রেটিং
অপরিবর্তিত ডেল স্টেইন  দক্ষিণ আফ্রিকা ৯০৫
বৃদ্ধি রায়ান হ্যারিস  অস্ট্রেলিয়া ৮২৬
হ্রাস রঙ্গনা হেরাথ  শ্রীলঙ্কা ৮০৭
বৃদ্ধি জেমস অ্যান্ডারসন  ইংল্যান্ড ৮০৬
হ্রাস মিচেল জনসন  অস্ট্রেলিয়া ৮০৪
বৃদ্ধি ট্রেন্ট বোল্ট  নিউজিল্যান্ড ৭৯৫
হ্রাস ভার্নন ফিল্যান্ডার  দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৮০
হ্রাস স্টুয়ার্ট ব্রড  ইংল্যান্ড ৭৭৪
হ্রাস কেমার রোচ  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৫৯
১০ অপরিবর্তিত টিম সাউদি  নিউজিল্যান্ড ৭৪৩
তথ্যসূত্র: আইসিসি র‌্যাঙ্কিংস, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
অল-রাউন্ডার
আইসিসি শীর্ষ ১০ টেস্ট অল-রাউন্ডার
অবস্থান পরিবর্তন খেলোয়াড়ের নাম দলের নাম রেটিং
অপরিবর্তিত সাকিব আল হাসান  বাংলাদেশ ৩৯৮
বৃদ্ধি ভার্নন ফিল্যান্ডার  দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৪১
হ্রাস রবিচন্দ্রন অশ্বিন  ভারত ৩১৮
অপরিবর্তিত স্টুয়ার্ট ব্রড  ইংল্যান্ড ২৯৬
অপরিবর্তিত মিচেল জনসন  অস্ট্রেলিয়া ২৯১
অপরিবর্তিত রায়ান হ্যারিস  অস্ট্রেলিয়া ২৫৫
অপরিবর্তিত শেন ওয়াটসন  অস্ট্রেলিয়া ২২৩
বৃদ্ধি ডেল স্টেইন  দক্ষিণ আফ্রিকা ২১৯
হ্রাস টিম সাউদি  নিউজিল্যান্ড ১৯৭
১০ অপরিবর্তিত ড্যানিয়েল ভেট্টোরি  দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৫
তথ্যসূত্র: আইসিসি র‌্যাঙ্কিংস, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]