আর্থার মোল্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Arthur Mold থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আর্থার মোল্ড
Arthur Mold c1895.jpg
আনুমানিক ১৮৯৫ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে আর্থার মোল্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআর্থার ওয়েব মোল্ড
জন্ম(১৮৬৩-০৫-২৭)২৭ মে ১৮৬৩
মিডলটন চেনি, নর্দাম্পটনশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৯ এপ্রিল ১৯২১(1921-04-29) (বয়স ৫৭)
মিডলটন চেনি, নর্দাম্পটনশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮৪)
১৭ জুলাই ১৮৯৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৬ আগস্ট ১৮৯৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৮৮৯–১৯০১ল্যাঙ্কাশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৮৭
রানের সংখ্যা ১,৮৫০
ব্যাটিং গড় ০.০০ ৭.১৪
১০০/৫০ ০/০ ০/২
সর্বোচ্চ রান ০* ৫৭
বল করেছে ৪৯১ ৬২২৭৮
উইকেট ১,৬৭৩
বোলিং গড় ৩৩.৪২ ১৫.৫৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৫২
ম্যাচে ১০ উইকেট ৫৬
সেরা বোলিং ৩/৪৪ ৯/২৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/০ ১১১/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

আর্থার ওয়েব মোল্ড (ইংরেজি: Arthur Mold; জন্ম: ২৭ মে, ১৮৬৩ - মৃত্যু: ২৯ এপ্রিল, ১৯২১) নর্দাম্পটনশায়ারের মিডলটন চেনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৮৯ থেকে ১৯০১ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন আর্থার মোল্ড

ঘরোয়া ক্রিকেটে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৯২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন আর্থার মোল্ড। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা কার্যকরী বোলারের মর্যাদা দেয়া হয়েছিল আর্থার মোল্ডকে। তবে বোলিং ভঙ্গীমার কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাসত্ত্বেও প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ১৬৭৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। অনেক ধারাভাষ্যকারই তার এ অর্জনে কলঙ্কের চিহ্ন লেপন করেছেন।

১৮৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যানবারি ও নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তবে, ১৮৮৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন তিনি। শুরুতেই সফলতা পেয়ে যান তিনি। জনি ব্রিগসের সাথে সুন্দর বোলিং জুটি গড়েন। এভাবেই দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বোলারে পরিণত হন আর্থার মোল্ড। তবে, ১৮৯৩ সালে একবারই ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাদের ধারনা, বোলিং করার তুলনায় বল ঢিল মারার দিকেই অধিক মনোযোগী ছিলেন তিনি। ঐ সময়ে তার ন্যায় বোলারের সাথে আরও কয়েকজন সন্দেহজনক বোলারের নাম জড়িয়ে ছিল। ১৯০০ সালে আম্পায়ার জিম ফিলিপস বল নিক্ষেপের অভিযোগ এনে আর্থার মোল্ডের বোলিংকে নো-বল ডাকেন। ফিলিপস বেশ কয়েকজন প্রথিতনামা বোলারের বোলিংকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখতেন। তবে, যেসকল খেলাগুলোয় ফিলিপস খেলা পরিচালনা করতেন, ঐ সকল খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতেন তিনি। ১৯০১ সালে বিষয়টি আরও তুঙ্গে পৌঁছে। খেলার প্রথমদিনের সকালে বারংবার মোল্ডের বলকে নো-বল ঘোষণা করছিলেন জিম ফিলিপস। মোল্ডের অনেক সতীর্থ খেলোয়াড় ও ল্যাঙ্কাশায়ারীয় সমর্থকদের বিশ্বাস যে তিনি বৈধভাবে বোলিং করছিলেন। তার সুনাম ধূলিসাৎ হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, আরও তিন খেলায় অংশ নেয়ার পর ১৯০১ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন আর্থার মোল্ড।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

২৭ মে, ১৮৬৩ তারিখে নর্দাম্পটনশায়ারের মিডলটন চেনি এলাকায় আর্থার মোল্ডের জন্ম।[১] তার পরিবারের গোলপাতার ব্যবসার সাথে সম্পর্ক ছিল। তবে, তিনি ক্রিকেট খেলাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।[২] গ্রামীণ দলের মাধ্যমে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। শুরুতেই বোলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৮৮২ সালে মিডলটন চেনি অপরাজিত ছিল ও আর্থার মোল্ড দলে বোলিং গড়ে সেরা ছিলেন।[২] ১৮৮৫ ও ১৮৮৬ সালে ব্যানবারি ক্রিকেট ক্লাবে পেশাদারী পর্যায়ে যোগ দেন। নিজস্ব দ্বিতীয় বছরেই শৌখিন দল ফ্রি ফরেস্টার্সের বিপক্ষে খেলে ল্যাঙ্কাশায়ারের দুইজন ক্রিকেটারের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান। এরপর ১৮৮৭ সালে ম্যানচেস্টার ক্রিকেট ক্লাবে নিযুক্তি পান।[২] ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে কয়েকটি প্রতিযোগিতাবিহীন ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। একই মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের বাইরে থাকা নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষ থেকে খেলার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।[৩][৪] পেশাদার খেলোয়াড় হবার সুবাদে[৫] ঐ সময়ে স্কোরকার্ডে পেশাদারী পর্যায়ের খেলোয়াড়দেরকে উপাধি ছাড়াই উল্লেখ করা হতো। শৌখিন খেলোয়াড়দের নামের সামনে ‘জনাব’ থাকতো। এরফলে প্লেয়ার্সের খেলোয়াড় হিসেবে তাকে শুধু ‘মোল্ড’ নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। খেলতে নেমেই সারে দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত একটি খেলায় দশ উইকেট পান ও স্টাফোর্ডশায়ারের বিপক্ষে ইনিংসে ৭/২২ পেয়েছিলেন।[৩][৬] পরের মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলতে থাকলেও ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলার জন্যে উদগ্রীব ছিলেন।[৩] ঐ সময়ে প্রতিযোগিতামূলক প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কোন কাউন্টি দলের পক্ষে খেলার জন্যে দুই বছর অবস্থান করতে হতো।[৭]

১৮৮৯ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলার জন্য যোগ্যতা লাভ করেন ও এর প্রভাব সম্পর্কে ক্রিকেটবোদ্ধারা বেশ আশাবাদী ছিলেন।[৮] ঐ সময়ে ল্যাঙ্কাশায়ার দলে কোন ফাস্ট বোলার ছিল না। ফলে, মোল্ড গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।[৯] ৯ মে, ১৮৮৯ তারিখে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। খেলায় তিনি এক উইকেট লাভে সক্ষম হন ও তিনদিনব্যাপী ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[৬] মৌসুমের বাদ-বাকী সময়ে ক্রিকেটবোদ্ধাদের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছিলেন তিনি।[৩] অনুপযোগী পরিবেশ ও অনুপযুক্ত মাঠে শুরুতে তার এ ধরনের বোলিং বেশ হোঁচট খায়। তাসত্ত্বেও, একাধারে চার খেলায় সর্বমোট ৩৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের খ্যাতি পান।[৯] পরিসংখ্যানগতভাবে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে নিজস্ব সেরা ৭/৩৫ বোলিং করেন ও খেলায় ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি।[৬] অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেলায়ও তিনি সফল হয়েছিলেন।[১০] প্রতিপক্ষ কাউন্টি দলগুলোর বিপক্ষে বল হাতে নিয়ে ১১.৬৯ গড়ে ৮০ উইকেট পেয়েছিলেন।[৩] সকল প্রথম- শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ১১.৮১ গড়ে ১০২ উইকেট দখল করেন আর্থার মোল্ড।[১১] ফলশ্রুতিতে, জাতীয় পর্যায়ে বোলিং গড়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন।[৩] ১৮৯০ সালে তুলনামূলকভাবে কম সফলতা লাভ করেন। ১৪.৭২ গড়ে ১১৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পান।[১১] এরফলে ১১শ স্থানে অবস্থান করেছিলেন তিনি।[৩] আরও একবার ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৯/৪১ গড়েন।[৬] আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তিত প্রথম কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ল্যাঙ্কাশায়ার দল দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছিল।[১২] এরফলে ইংল্যান্ডের পক্ষে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্য তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু, বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় ও কোন খেলা হয়নি।[১৩][১৪]

শীর্ষস্থানীয় বোলার[সম্পাদনা]

১৮৯১ সালে ইংল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বোলারের মর্যাদা পেয়েছিলেন আর্থার মোল্ড। উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকের মতে, ১৮৯১ মৌসুমের কল্যাণে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। পুরো গ্রীষ্মকালে তিনি সন্দেহাতীতভাবে সেরা মৌসুম পার করেছিলেন।[৩] সকল প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১২.৪৯ গড়ে জাতীয় বোলিং গড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেন।[১১][১৫] ফলশ্রুতিতে, মৌসুমে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।[আ ১][৩] ল্যাঙ্কাশায়ার দল আরও একবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে রানার্স-আপ হয়েছিল।[১২]

১৮৯২ সালে আর্থার মোল্ড কম সফলতা পান। ১৩.৬৩ গড়ে ১২০ উইকেট পেয়েছিলেন।[১১] তবে, কেন্টের বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৯/২৯ দাঁড় করান। ফলশ্রুতিতে, প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।[আ ২] নর্থ ভার্সাস সাউথের খেলায় নর্থের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি।[আ ৩][৬] ১৮৯৩ মৌসুমে ১৬.৯৬ গড়ে ১৬৬ উইকেট পান।[১১] মৌসুম শেষে টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি অত্যন্ত উঁচুমানের বোলার। তিনি ও জনি ব্রিগসই কেবলমাত্র ল্যাঙ্কাশায়ারের দুই কার্যকরী বোলার হিসেবে দলে খেলেছেন।[১৭] এ দুজন সর্বমোট ২২৫ উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। অন্যান্য বোলার সবমিলিয়ে ৪৬ উইকেট পেয়েছেন। [১৮] ১৮৯৩ সালে আরও একবার নর্থের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এবার তিনি সফরকারী অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও, মর্যাদাসম্পন্ন জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ার্সের মধ্যকার খেলায়ও অংশগ্রহণ ছিল তার। পেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে খেলায় তিনি নয় উইকেট দখল করেন।[৬] তার এই অনিন্দ্যসুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অভিষেকের দ্বার উন্মোচন করে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল।[১][৬] তবে, তার বোলিং ভঙ্গীমার কারণে সন্দেহের উদ্রেক ঘটায় আর তাকে টেস্ট খেলায় নেয়া হয়নি কিংবা অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রতিনিধিত্বমূলক দলের সদস্য করা হয়নি।[১৯][২০] এছাড়াও, অন্যান্য কারণেও দলে উপেক্ষিত হবার বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। তন্মধ্যে, টম রিচার্ডসনের ন্যায় সফলতম ফাস্ট বোলার হিসেবে দলে আবির্ভাব ও নিজ মাঠে পিচের সহযোগিতা না পাওয়া অন্যতম ছিল।[১০]

পরবর্তী মৌসুমগুলোয় উইকেট লাভ করার বিষয়টি ক্রমাগত স্ফীত হতে থাকে। ১৮৯৪ সালে আবারও নর্থ বনাম সাউথের খেলায় অংশ নেন। ১২.৩০ গড়ে ২০৭ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।[১১] ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে অনেকগুলো খেলায় অংশ নিয়ে খেলে আর্থার মোল্ড ও জনি ব্রিগস অতিরিক্ত বোলিংয়ের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। উভয়ে মিলে ৩২৪ উইকেট দখল করলেও পরবর্তী সফলতম বোলারের সংগ্রহ ছিল ১৩ উইকেট।[২১] পরের বছর আর্থার মোল্ড মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৩ উইকেট তুলে নেন ১৫.৯৬ গড়ে।[১১] প্লেয়ার্সের পক্ষে সর্বশেষবারের মতো অংশগ্রহণ করেন।[৬] টাইমসের প্রতিবেদনে মোল্ডের কার্যকর ভূমিকার কথা সবিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। তিনি তার পেস বোলিংয়ের সঞ্চালন রক্ষা করে চলেছেন ও দূর্দান্তভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উইকেট তুলে নিয়েছেন।[২২]

নর্থের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেন ও ১৮৯৬ সালে পুণরায় অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। তবে, ঐ বছরে কোন টেস্ট কিংবা প্রতিনিধিত্বমূলক ক্রিকেটে অংশ নেননি। ১৮.১২ গড়ে ১৫০ উইকেট পান।[৬][১১] ঐ মৌসুমের পর তার বোলিংয়ের কার্যকারীতা বহুলাংশে হ্রাস পেতে থাকে।[১৯] ১৮৯৭ সাল থেকে ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়তে থাকেন তিনি। ঐ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন।[১১][২৩] ১৮৯৮ সালে ২০-এর অধিক গড়ে ৯০ উইকেট দখল করেন। এবারই প্রথম তার বোলিং গড় এতো বেশী ছিল।[১১] আঘাতের কারণে মৌসুমের তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন।[২৪] ১৮৯৯ সালে নিজের রেকর্ডের উন্নতি করে ১৮.৬৮ গড়ে ১১৫ উইকেট পান।[১১] ১৯০০ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের তরফে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্য মনোনীত হন। ঐ খেলায় সংগৃহীত £২,০৫০ পাউন্ড-স্টার্লিং ২০১০ সালের হিসেব অনুযায়ী প্রায় £১৭৩,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিংয়ের সমপরিমাণে দাঁড়ায়।[২][২৫]

বল নিক্ষেপ বিতর্ক[সম্পাদনা]

পটভূমি[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ডে অনেক বছর ধরেই বোলিংয়ের ধরনের বিষয়ে বিতর্ক চলে আসছিল। অনেক বোলারকেই বোলিং করার চেয়ে বল নিক্ষেপের দিকেই মনোযোগী হতে দেখা যায়। এটি ক্রিকেটের আইনের পরিপন্থী ছিল।[আ ৪][২৮] অন্যান্য কাউন্টি দলের তুলনায় ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিং দূর্বলমানের ছিল। ১৮৮০-এর দশকের শুরুতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বোলিংয়ের অধিকারী জন ক্রসল্যান্ডসহ ল্যাঙ্কাশায়ারের চারজন প্রধান বোলারকে অখেলোয়াড়ীসূলভ বোলিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ১৮৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকটি দল ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলতে আপত্তি প্রকাশ করে।[২৯] তবে লর্ড হ্যারিসের তৎপরতায় অনেক সন্দেহজনক বোলারকে ক্রিকেট খেলা থেকে চলে যেতে হয়। বোলিং ভঙ্গীমার বিষয়টিকে আরও গ্রহণযোগ্যতার দিকে নিয়ে আসা হয়। তাসত্ত্বেও কিছু খেলোয়াড় তাঁদের বোলিং ভঙ্গীমার কারণে প্রশ্নবিদ্ধতার মুখোমুখি হন। তন্মধ্যে, ল্যাঙ্কাশায়ার দলের কিছু সদস্য এতে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।[২৯] ১৮৯৬ সালে সফররত অস্ট্রেলিয়ার দুই খেলোয়াড় আর্নি জোন্সটম ম্যাককিবিন নিয়মিতভাবে বল ছোঁড়ার বিষয়টির মুখোমুখি হয়েছিলেন। উইজডেন সম্পাদক সিডনি পারডন এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, আমাদের দূর্বলতার কারণেই অবৈধ বোলিং হচ্ছে যা ক্রিকেটের আইনকে অবজ্ঞা করার শামিল। অস্ট্রেলীয়রা আমাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে।[২৭]

১৮৯৬ সালের সফরে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত আম্পায়ার জিম ফিলিপস প্রত্যেক বছরই নিজ দেশে গমন করতেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড দলের সাথে অস্ট্রেলিয়ায় যান।[৩০] দুই খেলায় আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করে ফিলিপস আর্নি জোন্সের বিপক্ষে নো-বলের কথা জানান।[আ ৫] ইংল্যান্ডে ফিরে ১৮৯৮ মৌসুমে প্রথিতযশা শৌখিন ক্রিকেটার ও সর্বক্রীড়ায় দক্ষতা প্রদর্শনকারী সি. বি. ফ্রাইয়ের বিপক্ষেও বল নিক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। ১৮৯৮ সালে তিনবারের মধ্যে এটি ফ্রাইয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ঘটনা ছিল। ফিলিপসের পর অন্য আম্পায়ারেরা সি. বি. ফ্রাই ও ফ্রাঙ্ক হপকিন্সের বিপক্ষে নো-বল ঘোষণা করেছিলেন।[২৯][৩১][৩২] জনপ্রিয়তাবিহীন আরও দুইজন বোলারকে ১৮৯৯ সালে বল নিক্ষেপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।[৩১][৩৩]

মোল্ডের সম্পৃক্ততা[সম্পাদনা]

১৯০০ মৌসুম চলাকালে জুনের শুরুতে পুণরায় ফ্রাইকে নো-বল ঘোষণা করা হয়। এবার আম্পায়ার ছিলেন উইলিয়াম ওয়েস্ট[৩৩][৩৪] বল নিক্ষেপের বিপক্ষে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি আরও তুঙ্গে চলে আসে যখন ফিলিপস ২৬ জুন তারিখে নটিংহ্যামশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ারের মধ্যকার খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।[৬] তিনদিনের খেলার প্রথমদিনের সকালে আর্থার মোল্ড বোলিং করতে আসেন। ঐ সময় নটিংহ্যামশায়ারের সংগ্রহ ছিল ৩৪। মোল্ডের প্রথম ওভারেই ফিলিপস দুইবার বল নিক্ষেপের দায়ি নো-বল ঘোষণা করেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক আর্চি ম্যাকলারেন ওভার শেষে মোল্ডকে বোলিং আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখেন ও তিনি ঐ খেলায় আর বোলিং করেননি।[আ ৬][৩৫] তবে, পরবর্তীতে আর্চি ম্যাকলারেন মোল্ডের সমর্থনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।[৩৭] টাইমস ও উইজডেনে খেলার প্রতিবেদন লেখা হয় যে, মোল্ড সৌভাগ্যবান যে, খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করার পূর্বে আর নো-বল করবেন না।[৩৩][৩৫] ফিলিপসের নেতৃত্বে বোলিং ভঙ্গীমার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আর্থার মোল্ডই প্রথম শীর্ষস্থানীয় বোলার ছিলেন।[৩৮] ১৯০০ সালে আর্থার মোল্ড আরও নয়টি খেলায় অংশ নিলেও আর নো-বলের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি।[৬][৩১] তবে, ল্যাঙ্কাশায়ারের খেলাগুলোয় ফিলিপসের পরিচালনায় খেলাগুলোয় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন তিনি।[৩২][৩৯] ঐ মৌসুমের শেষদিকে ফিলিপস সমারসেটের বোলার টেড টাইলরের বিপক্ষে নো-বলের অভিযোগ আনেন।[৩১] ঐ মৌসুম শেষে আর্থার মোল্ড ১৪.০১ গড়ে ৯৭ উইকেট পেয়েছিলেন।[১১]

A cricket ready to receive the ball
ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক আর্চি ম্যাকলারেন বল নিক্ষেপ বিতর্কে আর্থার মোল্ডের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন।

ঐ বছরের ডিসেম্বর মাসে লর্ডসে প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি দলগুলোর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বল নিক্ষেপের ন্যায় সমস্যার বিষয় নিয়েও আলোকপাত ঘটে।[৩৭] আর্চি ম্যাকলারেন সভায় উপস্থিত অন্য অধিনায়কদের কাছে আর্থার মোল্ডের বোলিংয়ের বিষয়ে মতামত চান। ম্যাকলারেন জানান যে, তারা মোল্ডের খেলাকে সর্বদাই খেলোয়াড়ীসূলভ দেখতে পান না।[৪০] গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১১-১ ভোটের মাধ্যমে মোল্ডের বোলিং ভঙ্গীমাকে অখেলোয়াড়ীসূলভরূপে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।[৩৮][৪১] অন্যান্য বোলারের সঙ্গে তার বোলিংও সন্দেহজনক বিবেচিত হওয়ায় পরবর্তী মৌসুমগুলোয় বোলিং করা থেকে তাকে বিরত রাখার কথা সিদ্ধান্তরূপে গৃহীত হয়।[৪২] অধিনায়কগণ আরও সুপারিশ করেন যে, এ জাতীয় খেলোয়াড়দেরকে প্রয়োজনে নিষিদ্ধঘোষণা, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কিংবা সতর্ক করে দেয়া হবে।[৩৭] সভাটি বেশ বিতর্কময় ছিল ও এর মাধ্যমে কতজন এ সিদ্ধান্তে ঐক্যমত পোষণ করেছেন তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।[৪২] ম্যাকলারেন দাবী করেন যে একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে তিনিই কেবল আর্থার মোল্ডের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছিলেন।[৪০] এ সিদ্ধান্তের পরও ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষ মোল্ডের বোলিংকে বৈধরূপে আখ্যায়িত করেছিলেন।[৪৩] ল্যাঙ্কাশায়ারের সভাপতি এ. এন. হর্নবি ও মোল্ডের বেশ কয়েকজন দলীয় সঙ্গী জনসমক্ষে বোলারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।[৪৪] অন্যান্য খেলোয়াড় ও গণমাধ্যমেও মোল্ডের বোলের বৈধতার সপক্ষে এগিয়ে আসে।[৪৫] তবে, সমবেদনাজ্ঞাপনে মোল্ডের খেলোয়াড়ী জীবন ও অর্জন আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।[৪৬] পেলহাম ওয়ার্নারের মতে, মোল্ডকে সম্পূর্ণরূপে অগণতান্ত্রিক পন্থায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।[৪৭] কিছু ক্রিকেটবোদ্ধাদের অভিমত, অধিনায়কগণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এমসিসি ক্রিকেটের আইন প্রয়োগে দায়বদ্ধ ও ইংরেজ ক্রীড়ার প্রধান সংগঠন।[৪২] এমসিসি অধিনায়কদের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে দাঁড়ায় ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তরূপে তুলে ধরে।[৩৭][৪২] তবে, আম্পায়ারেরা যাতে পরবর্তী মৌসুমগুলোয় সন্দেহজনক বোলারদের দিকে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গী মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন, সেদিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।[১০]

A man dressed in cricket whites
আম্পায়ার হিসেবে জিম ফিলিপস দুইবার আর্থার মোল্ডকে বল নিক্ষেপের কারণে অভিযুক্ত করেন।

এ বিতর্কের পর খেলা থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বয়সের ভারে ন্যূহ আর্থার মোল্ড ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯০১ সালের শুরুতে মানসম্পন্ন বোলার ছিলেন না তিনি।[২] এমসিসি থেকে কমপক্ষে একজন আম্পায়ারকে সুনির্দিষ্টভাবে মোল্ডের বোলিংয়ের ধরন নিয়ে প্রতিবেদন লেখার কথা বলা হলেও কোন আম্পায়াররই বল ছোঁড়ার বিষয়ে অভিযোগ করেননি।[৪৮] ল্যাঙ্কাশায়ারের দুই খেলায় ফিলিপসের আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকাকালে অংশগ্রহণ করেননি।[৬][৩৯] সংঘাত মোকাবেলায় ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ দর্শকদের কাছ থেকে প্রবলভাবে সমালোচনার মুখোমুখি হয়। এরফলে, ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১১ জুলাই তারিখে ফিলিপসের পরিচালনায় সমারসেটের মুখোমুখি হন তিনি।[৬][৩২] ম্যাকলারেনের অধিনায়কত্বে মোল্ড বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ফিলিপস ছিলেন। খেলায় মোল্ডের দ্বিতীয় ওভারে ফিলিপস বল ছোঁড়ার অভিযোগে নো-বল ডাকেন।[৪৮] ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ম্যাকলারেন অপর প্রান্ত থেকে বোলিং করান। এরফলে ফিলিপস বোলার প্রান্তে অবস্থান করেন। তাসত্ত্বেও ফিলিপস নো-বল ডাকতে থাকেন। ১০ ওভারে ফিলিপস মোল্ডকে ১৬বার নো-বল ডাকেন। এরফলে ম্যাকলারেন মোল্ডকে বোলিং আক্রমণ করা থেকে দূরে রাখেন। পরবর্তীতে বোলিং করলেও কোন আম্পায়ারই আর কোন নো-বল ডাকেননি।[৪৯] খেলার বাদ-বাকী সময়ে ফিলিপস আর তাকে কোন বাঁধা দেননি।[৫০] ফিলিপস বিশ্বাস করতেন যে, তিনি তার অবস্থানে সঠিক ছিলেন।[৫১] অন্য আম্পায়ার খেলায় কোন অভিযোগ তীরবদ্ধ করেননি। ফিলিপসের বিপক্ষে দর্শকেরা তীব্রভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। প্রত্যেক বলকেই নো-বল বলতে বলে ও বিভিন্ন মন্তব্য ছুঁড়ে।[৪৮] উইজডেনের মতে, ফিলিপসের পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যময় ছিল। এরফলে এ ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবে বেশ তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ও পরবর্তী দিনগুলোয় ক্রিকেট বিশ্বে এ নিয়ে আর কথা উঠেনি।[৫১] খেলা শেষ হলে ব্ল্যাকবার্নভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান খেলোয়াড়দের মাঠ ত্যাগ ও হর্নবিকে জালবদ্ধ স্থানে আর্থার মোল্ডের বোলিংয়ের দৃশ্য ধারণ করে।[৫২][৫৩] গণমাধ্যমে ফিলিপসকে তার সিদ্ধান্ত প্রদানের বিপরীতে সমালোচনা ও মোল্ডকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।[৪১] মোল্ডের স্মরণে টাইমসে উল্লেখ করা হয় যে, মোল্ডকে সহায়তা করার কেউ ছিল না। তবে যারা তাকে জানেন ও সর্বদাই পাশে ছিলেন একবাক্যে স্বীকার করবেন যে তিনি প্রকৃতই চমৎকার বোলার ছিলেন ও মন্দ সময়ের কবলে পড়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকৃতপক্ষে উভয়ের বিপক্ষে অবস্থান করেছিল।[৫৪]

প্রভাব[সম্পাদনা]

ডিসেম্বর, ১৯০১ সালে এমসিসি কর্তৃপক্ষ পূর্বে গৃহীত পদক্ষেপটি অনুমোদন করে। কাউন্টি দলনেতাগণ সন্দেহজনক বোলারের স্বচ্ছতা আনয়ণে মত বিনিময় করতে পারবেন। কোন বোলারকে অখেলোয়াড়ীসূলভ আচরণের বিষয়ে ২-১ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনয়ণে কমপক্ষে এক মৌসুমের জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন। এছাড়াও, এমসিসি সুপারিশ করে যে, কাউন্টি দলগুলো সন্দেহজনক বোলারকে খেলায় অংশগ্রহণ করাবেন না ও ক্রিকেটের স্বার্থে কোন বোলারকে বল ছোঁড়ার অভিযোগ আনা হলে তারা বোলিং আক্রমণ করা থেকে তাকে বিরত রাখবেন।[৩৭][৪১] ১৯০২ সালের উইজডেন সংস্করণে সিডনি পারডন লেখেন যে, গত বিশ বা ততোধিক বছরে খুব কমই ১৯০১ সালের ন্যায় অখেলোয়াড়ীসূলভ কিংবা সন্দেহজনক বোলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরফলে বিষয়টি স্পষ্ট যে, যদি অধিনায়কগণ সচেতন থাকেন ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে এ জাতীয় ঘটনা থেকে মুক্ত থাকবে।[৪১] ১৯০১ সালের পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব-পর্যন্ত খুব কমই অবৈধ বোলিং ভঙ্গীমা দেখা গেছে।[৩৭][৩৮] ইংরেজ ক্রিকেটে বল ছুঁড়ে মারার ঘটনা নিষিদ্ধ হয়েছে।[২০] ১৯০৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে কোন ক্রিকেটারকেই বল ছুঁড়ে মারার ফলে নো-বলের ঘোষণা দেয়া হয়নি।[৩১]

শেষের বছরগুলো[সম্পাদনা]

আনুমানিক ১৯০০ সালে আর্থার মোল্ড

১৯০১ সালে আর্থার মোল্ড আরও তিনটি খেলায় অংশ নিয়েছিল। কোন খেলাতেই বল নিক্ষেপের কারণে নো-বলের শিকার হননি। তবে তার মর্যাদা বেশ ক্ষুণ্ন হয় ও মৌসুম শেষে অবসরের ঘোষণা দেন।[৬][৩৮] তবে, ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষ তাকে আরেকটি নতুন চুক্তির প্রস্তাবনা দিয়েছিল।[৫৫] শেষ মৌসুমে ১৯.৩৫ গড়ে ৫৯ উইকেট পেয়েছিলেন।[১১] সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৫.৫৪ গড়ে ১,৬৭৩টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পান।[১] ২০১২ সালে সর্বকালের প্রথম-শ্রেণীর শীর্ষ উইকেট লাভকারীদের তালিকায় ৫৭তম স্থানে অবস্থান করছিলেন আর্থার মোল্ড। সমসাময়িককালে তিনি ১৯শ স্থান দখল করেছিলেন।[৫৬]

এরপর ১৯০৩ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলতে থাকেন।[৬] নিজ কাউন্টির লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন।[১] জীবনের শেষদিকে ক্রমবর্ধমান ওজন বৃদ্ধি বিরূপ প্রভাব ফেলে। অবসর গ্রহণের পর নিজ গ্রাম মিডলটন চেনিতে জমিদারী লাভ করেন।[৪] শিকার করাকে শখ হিসেবে বেছে নেন ও অসুস্থ মাতার সেবা-যত্ন করতে থাকেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২৯ এপ্রিল, ১৯২১ তারিখে মিডলটন চেনিতে আর্থার মোল্ডের দেহাবসান ঘটে।[১৯] তার সমাধিস্তম্ভে লেখা রয়েছে: ‘এই ফলকটি তাঁর ক্রিকেট বন্ধুদের অসম্ভব ভালোবাসা, শ্রদ্ধায় নিহিত হয়ে রয়েছে।’[৪] ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষ অর্থের বিনিময়ে স্থানটি খুলে দেয়।[৫৭]

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

আনুমানিক ১৮৯৭ সালে আর্থার মোল্ডের বোলিংয়ের ধরন

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে আর্থার মোল্ড খুব স্বল্প দূরত্ব নিয়ে বিস্তৃতভাবে হাত প্রসারণে অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার হিসেবে ক্রিকেট জগতে আবির্ভূত হন।[৩৮] পরবর্তীতে খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে বল ডেলিভারীতে এসে হাত গুটিয়ে নিতেন।[৩][৫২] বলে গতি আনয়ণে সহজ-সরল বল করা থেকে শুরু করে সিম কিংবা কাট করতে সক্ষম ছিলেন।[৩] তবে, প্রাপ্ত উইকেটের অধিকাংশই বলে গতি এনে লাভ করেছেন।[১০] তার স্মরণে ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ান মন্তব্য করে যে, সর্বকালের অন্যতম সেরা গতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন এবং তার বোলিং ভঙ্গীমা সুন্দর ছিল ও চাকচিক্যময় ছিল।[১০] কোন কারণে পিচ ব্যাটিংয়ের অনুপযোগী থাকলে তার বোলিং মোকাবেলা করা দুঃসাধ্যকর ছিল।[৩] ১৮৯২ সালে উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে সন্দেহাতীতভাবে কঠিন ও বিপজ্জ্বনক বোলারে পরিণত হতেন। পিচে বল বেশ লাফিয়ে উঠতো ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতো। কেবলমাত্র খাঁটি ব্যাটসম্যানেরাই এ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে পারতেন।[৩] পরবর্তীকালে টাইমসে উল্লেখ করা হয় যে, ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে তিনি বেশ সফলতা লাভ করেছিলেন ও তাকে মোকাবেলা করা বেশ দুঃসাধ্য হয়ে পড়তো।[৫৪] জনি ব্রিগসের সাথে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিংয়ের বিরাট অংশ ভাগ করে নিয়েছেন। এক সময় হাঁটুর আঘাতে জর্জড়িত থাকলেও তা থেকে সেড়ে উঠে খুব কমই নিজেকে বিশ্রামে নিয়োজিত রাখতেন।[১০]

আর্থার মোল্ডের বোলিং ভঙ্গীমার বৈধতার বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। দ্বিতীয়বার তাকে নো-বল ডাকার পর ফিলিপস লিখেছেন যে, মোল্ডের বল ছুঁড়ে মারার বিষয়টি তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সন্দেহের চোখে দেখে আসছিলেন। এমনকি সমারসেটের বিপক্ষে খেলাটিতে মোল্ড যদিওবা সোজাভাবে বোলিং করার চেষ্টা করে আসছিলেন; তবুও তার এ প্রচেষ্টায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয় ও নো-বল ডাকতে বাধ্য হন।[৫৮] নিজের স্বপক্ষে অবস্থান করে আর্থার মোল্ড মনে করেন যে, আম্পায়ারের কাছেই বিষয়টি স্পষ্ট নয় যে, তার বোলিং ভঙ্গীমার কোন অংশটি খেলার বিরুদ্ধে ছিল।[৫৯] ১৯০১ সালে ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ানে সমারসেটের খেলার বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, অনেক আম্পায়ারই মৌসুমের শুরুরদিকে আর্থার মোল্ডের বোলিংকে স্বাভাবিক মনে করেছেন। এমনকি এমসিসি থেকে তার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়ারও নির্দেশনা ছিল। এতে বলা হয়, সাধারণ দৃষ্টিকোণে যদি একটি বলকে ছুঁড়ে মারার পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়, তাহলে, প্রত্যেক বলই তো একই দিকে বহমান ছিল।[৪৮] তবে, কিছু ক্রিকেটবোদ্ধাদের অভিমত, মাঝে-মধ্যে যখন বল আরও গতিসম্পন্ন হয়, তাহলে মোল্ডের বোলিংয়ের ধরন কিছুটিা পরিবর্তিত হতেই পারে। এখানেই ফিলিপস আপত্তি উত্থাপন করেছেন।[৪৮] ম্যানচেস্টারের আরও বলা হয় যে, ১৯০১ সালে ফিলিপসের তুলনায় অন্যান্য আম্পায়ার খুব কমই সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করেছেন। মোল্ডের খেলোয়াড়ী জীবনে অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রমাণিত হয়েছে।[১০]

এ ঘটনার পরও আর্থার মোল্ড সমর্থকদের কাছ থেকে বড় ধরনের সাড়া পেয়েছেন। ম্যাকলারেন পরবর্তীতে লিখেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করতেন যে সজ্ঞানে কখনো তিনি ঢিল ছুঁড়ে মারার ন্যায় বোলিং করেননি।[৬০] এ. এন. হর্নবি ক্রমাগত আর্থার মোল্ডের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন। এর মূখ্য কারণ ছিল, ১৮৯০-এর দশকে অধিনায়কের দায়িত্বে থাকাকালে নিজ দলে তার ক্রীড়াসূলভ মনোভাবের সাথে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন।[৪৮][৫২] ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিকাংশ সমর্থকের কাছেই আর্থার মোল্ডের বোলিংয়ের বৈধতার বিষয়ে কখনো সন্দেহ ছিল না।[৬১] ক্রিকেট ঐতিহাসিক ডন অ্যামব্রোস মনে করেন যে, দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং করার কারণেই প্রাপ্ত উইকেটগুলোর অধিকাংশই বোল্ড করার মাধ্যমে পেয়েছিলেন। তার এ ধরনের বোলিংয়ের কারণে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের ন্যায় খ্যাতনামা ব্যাটসম্যানও বিস্ময়াচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। সম্ভবতঃ ফিলিপস সতীর্থ আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার প্রেক্ষিতে এগিয়ে আসেন ও পেশাদার ক্রিকেটারদেরকে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও সমস্যার মুখে ফেলে দেন। এছাড়াও, অ্যামব্রোস মন্তব্য করেন যে, সমারসেটের খেলায় ফিলিপস মোল্ডের খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন এবং যে সকল ডেলিভারীতে আপত্তি জানিয়েছেন সবগুলোই প্রকৃতপক্ষে বল ছোঁড়ার মতো বিষয় ছিল না।[৬২]

অন্যান্য ক্রিকেটারের কাছে বেশ প্রিয় ছিলেন। টাইমসে উল্লেখ করা হয় যে, বল ছোঁড়ার ন্যায় প্রশ্নবানে পড়া বাদে তার বিপক্ষে অন্য কোন অভিযোগ ছিল না। সকল পেশাদার খেলোয়াড়ের কাছেই তিনি প্রিয়পাত্র ছিলেন ও যেখানেই খেলেছেন সেখানেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।[৫৪] তাসত্ত্বেও বোলিংয়ের ধরনের বৈধতার বিষয়ে তার অর্জন সন্দেহের মধ্যে নিপতিত হয়। এমনকি ফিলিপস কর্তৃক নো-বল ঘোষণার পূর্বের অর্জনগুলোও এর মধ্যে প্রবেশ করেছে। নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে প্রথম খেলায় অংশগ্রহণের সময় এক ব্যাটসম্যান মন্তব্য করেন, যদি তিনি প্রকৃত খেলোয়াড় হন তাহলে তিনি ইংল্যান্ডের সেরা বোলার। কিন্তু, যদি বল নিক্ষেপকারী হন তাহলে ১৮৮০-এর দশকে ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্রসল্যান্ডের বোলিংকেও ছাপিয়ে গেছেন।[১৯] আর্থার মোল্ডের বিষয়ে টাইমসের স্মরণিকায় উল্লেখ করা হয় যে, তিনি ফাস্ট বোলারদের মৃত্যুদূত ছিলেন। তবে, সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ক্রিকেট মাঠে অর্জিত সেরা অর্জনগুলোও কিছুটা ক্ষমাপ্রার্থনা করেই বলতে হয়।[৫৪]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. The title of "Cricketer of the Year" was not used in the first few years of the award. Mold was a "Bowler of the Year", but this is included in the list of "Cricketers of the Year".[১৬]
  2. A representative match in cricket means one in which one or both teams are composed of those regarded as representing the best players in a region or group (such as professional cricketers), or one involving national sides.
  3. This was a match in which a team of players from the northern English counties played against a team selected from the southern counties.
  4. The 1884 Laws of Cricket, and their subsequent revision in 1894 stated: "The ball must be bowled; if thrown or jerked the umpire shall call no-ball".[২৬] Some critics noted it was difficult to tell the difference between a legitimate delivery and a throw, to which Sydney Pardon responded: "A throw may be difficult to define in words, but to the eye of a practical and unbiassed cricketer it is, I think, very obvious".[২৭]
  5. To be no-balled ("called") for throwing meant the umpire judged that the bowler had thrown, rather than bowled, the ball. The umpire called no-ball; an extra delivery would have to be bowled and the batting team were awarded a run. The batsman could not be dismissed from a no-ball except through a run out.[২৬]
  6. Phillips, one of the usual two umpires in the match, was standing at the batsman's end of the pitch (i.e. the square leg umpire). Up until 1899, only the umpire facing the batsman could call no-ball. In 1899, the law was changed so that either umpire could adjudge a no-ball.[৩৫][৩৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Arthur Mold (ESPNCricinfo profile)"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  2. Ambrose, p. 29.
  3. "Arthur Mold (Bowler of the Year)"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। ১৮৯২। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  4. Ambrose, p. 32.
  5. "Cricket: Lancashire v Northamptonshire"। The Times। London। ১৮ জুন ১৮৮৭। পৃষ্ঠা 6। 
  6. "Player Oracle AW Mold"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  7. McKinstry, Leo (২০১১)। Jack Hobbs: England's Greatest Cricketer। London: Yellow Jersey Press। পৃষ্ঠা 46–50। আইএসবিএন 978-0-224-08329-4 
  8. Wynne-Thomas, p. 49.
  9. Wynne-Thomas, p. 51.
  10. "Cricketer" (৩০ এপ্রিল ১৯২১)। "Arthur Mold: Death of the Lancashire Bowler"। The Manchester Guardian। Manchester। পৃষ্ঠা 12। 
  11. "First-class Bowling in Each Season by Arthur Mold"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  12. "LV County Championship: County Championship Final Positions 1890–2010"। Wisden Cricketers' Almanack (2010 সংস্করণ)। London: John Wisden & Co। পৃষ্ঠা 575। আইএসবিএন 978-1-4081-2466-6 
  13. Wynne-Thomas, p. 55.
  14. "3rd Test: England v Australia at Manchester, August 25–27, 1890"। ESPNCricifno। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১২ 
  15. Wynne-Thomas, pp. 55–56.
  16. "Wisden Almanack 1892"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  17. "County Cricket in 1893"। The Times। London। ৩১ আগস্ট ১৮৯৩। পৃষ্ঠা 6। 
  18. Wynne-Thomas, p. 58.
  19. Pardon, Sydney (১৯২২)। "Arthur Mold (Obituary)"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  20. Haigh, Gideon (জুলাই ২০০৪)। "The great taboo"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  21. Wynne-Thomas, p. 59.
  22. "County Cricket in 1895: Lancashire"। The Times। London। ৪ সেপ্টেম্বর ১৮৯৫। পৃষ্ঠা 10। 
  23. Wynne-Thomas, p. 67.
  24. Wynne-Thomas, p. 68.
  25. Using the Retail Price Index. Other calculating methods can also be used. "Purchasing Power of British Pounds from 1264 to Present"। Measuringworth.com। ২৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১২ 
  26. "Laws of Cricket 1884 Code — as Revised in 1894"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  27. Pardon, Sydney (১৯০১)। "Notes by the Editor"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  28. Brodribb, p. 155.
  29. Brodribb, p. 156.
  30. "James Phillips (Obituary)"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। ১৯৩১। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  31. Frindall, Bill, সম্পাদক (১৯৮৬)। The Wisden Book of Cricket Records। London: MacDonald Queen Anne Press। পৃষ্ঠা 292। আইএসবিএন 0-356-10736-1 
  32. Williamson, Martin (৩০ মে ২০০৬)। "A question of degree"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  33. Birley, p. 176.
  34. "Sussex v Gloucestershire in 1900"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  35. "Nottinghamshire v Lancashire"। The Times। London। ২৬ জুন ১৯০০। পৃষ্ঠা 12। 
  36. "Laws of Cricket 1884 Code — as Revised in 1899"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  37. Birley, p. 177.
  38. Brodribb, p. 157.
  39. "James Phillips as Umpire in First-Class Matches"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  40. "Cricket: The 'Throwing' Question"। The Manchester Guardian। Manchester। ২৫ ডিসেম্বর ১৯০০। পৃষ্ঠা 6। 
  41. Pardon, Sydney (১৯০২)। "Notes by the Editor"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  42. Ambrose, p. 30.
  43. "The Lancashire Committee and the 'Throwing Question'"। The Manchester Guardian। Manchester। ১০ জানুয়ারি ১৯০১। পৃষ্ঠা 10। 
  44. "Cricket: The Bowling Question"। The Manchester Guardian। Manchester। ২২ ডিসেম্বর ১৯০০। পৃষ্ঠা 9। 
  45. "The Cricket Season"। The Times। London। ৫ এপ্রিল ১৯০১। পৃষ্ঠা 5। 
  46. "The Cricket Season"। The Times। London। ৬ এপ্রিল ১৯০১। পৃষ্ঠা 10। 
  47. "Mr P. F. Warner on the Throwing Controversy"। The Manchester Guardian। Manchester। ২৯ জানুয়ারি ১৯০১। পৃষ্ঠা 11। 
  48. "Cricket: Lancashire v Somersetshire"। The Manchester Guardian। Manchester। ১২ জুন ১৯০১। পৃষ্ঠা 3। 
  49. "Cricket: Lancashire v Somerset"। The Times। London। ১২ জুলাই ১৯০১। পৃষ্ঠা 11। 
  50. "Cricket: Lancashire v Somerset"। The Times। London। ১৩ জুলাই ১৯০১। পৃষ্ঠা 14। 
  51. Green, Benny, সম্পাদক (১৯৮২)। "The County Matches (Lancashire)"। Wisden Anthology 1900–1940। London: Queen Anne Press। পৃষ্ঠা 126। আইএসবিএন 0-7472-0706-2 
  52. Ambrose, p. 31.
  53. ইউটিউবে Arthur Mold Bowling to A.N. Hornby (1901) on the BFI Films channel
  54. "Death of Arthur Mold"। The Times। London। ৩০ এপ্রিল ১৯২১। পৃষ্ঠা 7। 
  55. "Cricket: Arthur Mold and Lancashire"। The Manchester Guardian। Manchester। ১৮ মার্চ ১৯০২। পৃষ্ঠা 11। 
  56. "First-Class Records—Bowling"। Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। ২০১১। পৃষ্ঠা 1314–1315। আইএসবিএন 978-1-4081-3130-5 
  57. "Arthur Mold memorial"। The Manchester Guardian। Manchester। ২১ জুলাই ১৯২৪। পৃষ্ঠা 4। 
  58. "The 'No-Balling' of Mold: Statement by Phillips"। The Manchester Guardian। Manchester। ১৫ জুলাই ১৯০১। পৃষ্ঠা 10। 
  59. "The Throwing Question: Mold's Reply to Phillips"। The Manchester Guardian। Manchester। ১৭ জুলাই ১৯০১। পৃষ্ঠা 6। 
  60. "Letters to the Editor: Mr A. C. MacLaren and Unfair Fast Bowling"। The Manchester Guardian। Manchester। ২০ মার্চ ১৯৩৫। পৃষ্ঠা 18। 
  61. "Arthur Mold"। The Manchester Guardian। Manchester। ৩০ এপ্রিল ১৯২১। পৃষ্ঠা 8। 
  62. Ambrose, pp. 30–31.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]