জন শার্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জন শার্প
জন শার্প.jpg
১৮৯২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জন শার্প
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক১১ আগস্ট ১৮৯০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৯২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৮২
রানের সংখ্যা ৪৪ ৬৫৭
ব্যাটিং গড় ২২.০০ ৮.৫৩
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ২৬ ২৬
বল করেছে ৯৭৫ ১৪,৮৫৫
উইকেট ১১ ৩৩৮
বোলিং গড় ২৭.৭২ ১৬.০৬
ইনিংসে ৫ উইকেট ২২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৮৪ ৯/৪৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/০ ৪৮/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩০ নভেম্বর ২০১৮

জন উইলিয়াম শার্প (ইংরেজি: John Sharpe; জন্ম: ৯ ডিসেম্বর, ১৮৬৬ - মৃত্যু: ১৯ জুন, ১৯৩৬) নটিংহ্যামশায়ারের রাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯০ থেকে ১৮৯২ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন জন শার্প

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

নটিংহ্যামশায়ারের প্রথিতযশা ক্রিকেটার স্যামুয়েল শার্পের সন্তান তিনি। কিন্তু, ১৮৮০-এর দশকে আলফ্রেড শউইলিয়াম অ্যাটওয়েলের ন্যায় বিখ্যাত বোলারদের আধিপত্যের কারণে নিজ কাউন্টিতে প্রায়শঃই উপেক্ষিত থাকতেন। ফলশ্রুতিতে, ১৮৮০-এর দশকের শেষার্ধ্বে সারে দলের পক্ষে খেলার যোগ্যতা লাভ করেন তিনি। ১৮৮৯ সালে স্বরূপ ধারন করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৫/৫ লাভ করেন। তবে, কাউন্টি ক্রিকেটে প্রায়শঃই লোহম্যানের দাপটে ম্রিয়মাণ অবস্থায় থাকতে হতো তাঁকে। তাস্বত্ত্বেও, ১৮৯০ সালে বোলিংয়ে বেশ উত্তরণ ঘটান ও কাউন্টি খেলাগুলোয় মাত্র ১২.০৮ গড়ে ১০২ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি ও লোহম্যানের গড়কে পাশ কাটাতে সক্ষম হন।

১৮৯১ সালে উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, চমৎকার আবহাওয়ায় স্বল্প সময়ের বোলিংয়ে নেমে ব্যাটিং উপযোগী পিচে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন জন শার্প। ১৮৯১ সালে তিন মাসে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে মেলে ধরেন তিনি। তন্মধ্যে, মিডলসেক্সের বিপক্ষে এবড়ো-থেবড়ো পিচে ৯/৪৭ পেয়েছিলেন। কিন্তু, আগস্টে লকউডের সামনে তিনি ম্রিয়মাণ ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সারে দলের পক্ষে খেলেছেন জন শার্প। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তিত কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী আসরে সারের দলীয় সঙ্গী জর্জ লোহম্যানের সাথে অবিস্মরণীয় জুটি গড়ে দলের প্রথম শিরোপা জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে, দলে উইকেট লাভে সক্ষম বোলারদের উপযোগী থাকায় বিকল্প বোলারের তেমন প্রয়োজন পড়তো না। ১৮৯১ সালের শেষদিকে উইলিয়াম লকউডের পুণরুত্থানের ফলে জন শার্পকে আর বোলিংয়ের সুযোগ দেয়া হয়নি।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

বোলিং অনুপযোগী পিচে সাফল্যের কারণে ১৮৯১-৯২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। সেখানে তিনি স্মরণীয় সাফল্য পান। তন্মধ্যে, এমসিজিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫১ ওভার বোলিং করে ৬/৮৪ পেয়েছিলেন।

১৮৯২ সালে তাঁর দূর্বল ক্রীড়াশৈলী চোখে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, মৌসুমের আগেই দীর্ঘদিন পর সারে দলের বাইরে চলে আসতে হয় তাঁকে। তবে, টম রিচার্ডসন আঘাতপ্রাপ্ত হলে জন শার্পকে পুণরায় দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু, দলে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। এরপর ঐ বছর শেষে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। ১৮৯৪ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে, দলের দূর্বল বোলিংকে শক্তিমত্তার পর্যায়ে নিতে পারেননি। বোলারদের অনুকূলে পিচ ভূমিকা রাখলেও ২৮.৪০ গড়ে মাত্র দশ উইকেট পেয়েছিলেন। অবশেষে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই বেশ তরুণ অবস্থায় ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেন তিনি।

দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৯২ সালে উইজডেন কর্তৃপক্ষ জন শার্পকে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে নামাঙ্কিত করে।[১]

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

জন শার্প ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ব্যাটিং উপযোগী পিচে অপ্রত্যাশিতভাবে বলকে বাঁক খাওয়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। প্রায়শই তাঁর ইয়র্কারগুলো মারাত্মক ছিল ও প্রভূতঃ সফলতার মুখ দেখতো। তাঁর একটি চোখ অকেজো ছিল। এরজন্যে তিনি কোন চাপ অনুভব করতেন না। তবে, ফিল্ডিংয়ে ক্ষেত্রে ঐ সময়ে খেলোয়াড় হিসেবে দূরে থাকতেন।

১৯ জুন, ১৯৩৬ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের রাডিংটনে ৭০ বছর বয়সে জন শার্পের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]