শ্রম অধিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

শ্রম অধিকার বা শ্রমিকদের অধিকার হচ্ছে শ্রম ও নিয়োগ আইনের অধীনস্থ একটি আইন, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার এবং শ্রমিক ও তাদের নিয়োগকারীদের মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশ করে। সাধারণত এই আইন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা , বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রধান করে। মূলত সকল শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ রাখাই হচ্ছে এই আইনগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য। শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের সদস্যদের বেতন বাড়ানোর জন্য নিয়োগকারীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে থাকে। অন্যথায় যদি বেতন বাড়ানো না হয়, তাহলে তারা তাদের কাজের ধরন পরিবর্তন করে ফেলে। এই শ্রম অধিকার দ্বারা শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অবশ্য সেখানে শ্রমিকদের মতামতকেও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে সকল শ্রমিকদের একীভূত করার উদ্দেশ্যে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে এর নীতি পরিবর্তিত হয়ে পরেছে। 

শ্রম অধিকার আন্দোলনের সমালোচকেরা দাবী করেন যে, শ্রম আইন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বাড়বে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচকেরা শ্রমিক ইউনিয়নকে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে চালু করার ব্যাপারে আপত্তি জানায়। কেননা এর ফলে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তারা শ্রমিক ইউনিয়নের বাইরের কোন শ্রমিকদের নিয়োগ দিতে পারেনা। অতঃপর "ট্যাফট-হার্টলি আইন" বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে, কিন্তু যেসকল প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ইউনিয়নের তৎপরতা কম, সেগুলোকে অনুমতি দেয়। এছাড়াও ট্যাফট-হার্টলি শ্রমিকদের কাজ করার অধিকার বিষয়ক নতুন একটি আইন পাস করেন, যার ফলে শ্রমিকরা কোন প্রকার ইউনিয়নের প্রভাব ছাড়াই যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অধিকার পায়। 

শ্রম পটভূমি[সম্পাদনা]

ইতিহাস থেকে বলা যায়, শ্রমিকরা মনে করেছিল এই আইনটি তাদের পক্ষে যাবে। মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে কৃষকরা তাদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ার জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহের অন্যতম নেতা জন বল তার এক বিখ্যাত বক্তৃতায় বলেন, "জন্মের সময় সব মানুষই সমান। যখন আদমহাওয়া পৃথিবীতে এসেছিলো, তখন কি তারা ভদ্রলোক ছিল?" শ্রমিকরা প্রায়ই তাদের পূর্বতন অধিকারের জন্য আপিল করতো। উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজ কৃষকরা যখন আন্দোলন শুরু করে, তখন তাদের বেশিরভাগ আন্দোলনই ছিল ঐতিহ্যগতভাবে পাওয়া সাম্প্রদায়িক জমিগুলো নিয়ে।

ইংল্যান্ডে ১৮৩৩ সালে একটি আইন পাস করেছিল।যেখানে বলা ছিল যে, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু কাজ করতে পারবে না, শিশুদের বয়স ৯-১৩ এর মধ্যে হলে দৈনিক মাত্র ৮ ঘন্টা এবং বয়স ১৪-১৮ এর মধ্যে হলে দৈনিক মাত্র ১২ ঘন্টা কাজ করতে পারবে।

আধুনিক মানবাধিকার আইনের অপেক্ষাকৃত একটি নতুন সংযোজন হচ্ছে শ্রম অধিকার। শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় শ্রমিক ইউনিয়ন তৈরী হওয়ার পর ১৯ শতাব্দী থেকে শ্রম অধিকার বিষয়ক আধুনিক ধারণা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের অধিকারের জন্য সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বিশিষ্ট সমর্থনকারী ছিলেন কার্ল মার্কস। তাঁর দর্শন এবং অর্থনৈতিক তত্ত্বগুলো ছিল মূলত শ্রমিকদের নিয়ে। তিনি সমাজতন্ত্রে এমন একটি অর্থনৈতিক সিস্টেমের ধারনা তুলে ধরেছেন, যেটি হচ্ছে সম্পুর্নরূপে শ্রমিকদের দ্বারা শাসিত। শ্রমিকদের অধিকারের জন্য যেসকল সামাজিক আন্দোলন হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই মার্কসের তত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত। বিশেষ করে সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা মার্কসের তত্ত্ব দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত। আরো অনেক মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের অনুসারী ও সামাজিক গণতন্ত্র বিশ্বাসী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য মার্কসবাদকে সমর্থন করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে যেসকল আইন তৈরি হয়েছে, সেগুলো মূলত শ্রমিকদের উপর শোষণের পরিমাণ কমানো, দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের ভূমিকা এবং নারী শ্রমিকদের চাহিদার উপর বিশেষ করে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। 

১৯১৯ সালে শ্রমিক অধিকার রক্ষার জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা পরবর্তীতে  জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ওঠে। জাতিসংঘ নিজেই তাদের মানবাধিকার সনদের ২টি আর্টিকেলে শ্রমিকদের অধিকারের ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার (নিবন্ধ ৬-৮) চুক্তিতে বলা হয়েছে- 

নিবন্ধ ২৩[সম্পাদনা]

১। প্রত্যেকেরই কাজ করার, স্বাধীনভাবে কর্মসংস্থান পদ্ধতি বাছাই করে নেয়ার, পছন্দের কাজের ক্ষেত্রে ন্যায্য ও অনুকূল শর্ত এবং বেকারত্ব থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। 

২। প্রত্যেকেরই কোনরূপ বৈষম্য ছাড়া সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাবার অধিকার রয়েছে।
৩। যারা কাজ করে তাদের প্রত্যেকেরই ন্যায্য ও অনুকূল পারিশ্রমিক পাবার এবং তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। 
৪। সবারই তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার জন্য ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের অধিকার রয়েছে।

নিবন্ধ ২৪[সম্পাদনা]

  1. প্রত্যেকেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করা এবং নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে বিশ্রাম নেয়ার অধিকার রয়েছে। এ ছুটির সময় সবাই তাদের ন্যায্য বেতন-ভাতা পাবে। 

আইএলও এবং আরও অন্যান্য গ্রুপ বিশ্ব জুড়ে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার তৈরি করতে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে ন্যায্য বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার জন্য উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

শ্রমমান[সম্পাদনা]

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) এর মতে "স্বাধীনভাবে কাজ করার মূলনীতি, কাজ করার অধিকার এবং শ্রমমানকে গুরুত্তের সাথে দেখা উচিৎ।" [১] [২] এই আইনটি সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একটি দেশ বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নির্বিশেষে সকলেরই এই নিয়মাবলীগুলোতে সমর্থন রয়েছে।[৩] এই শ্রমমান  গুণগত দিক থেকে বিচার করা হয়, পরিমাণগত দিক থেকে নয়। এছাড়াও এতে কর্মপরিবেশ, মজুরি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মান নির্দিষ্ট করা থাকে। এই আইনগুলো এমনভাবে করা হয়নি যাতে করে উন্নয়নশীল দেশগুলো যেসকল সুবিধা ভোগ করে আসছে, তাতে কোন ক্ষতি হয়। এই শ্রমমান হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিল দ্বারা স্বীকৃত। এছাড়াও দ্যা কনভেনশন অন দ্যা রাইটস অফ দ্যা চাইল্ড (সিআরওসি) এর ১৯৩ টি সদস্য এবং আইসিসিপিআর এর ১৬০ টি সদস্য দল এই শ্রমমানকে সমর্থন করে। [৪]

মূল শ্রমমানগুলো নিম্নরূপঃ

  • সমিতির স্বাধীনতাঃ শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়নে যোগদান করতে পারবে এবং এই ট্রেড ইউনিয়নগুলো হবে সম্পুর্নরুপে সরকার এবং তাদের নিয়োগকর্তাদের প্রভাবমুক্ত;
  • যৌথ দরকষাকষি করার অধিকার:[৫] শ্রমিকরা সম্মিলিতভাবে বা পৃথকভাবে নিয়োগকারীদের সঙ্গে দরাদরি করতে পারবে;
  • সব ধরনের জোরপূর্বক শ্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা:[৬] সকল প্রকার দাসত্ব থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা রয়েছে এবং এমনকি জেলখানাতেও শ্রমিকদের দ্বারা জোরপূর্বক কোন কাজ করানো যাবে না;[৭]
  • শিশুশ্রম দূরীকরণ:[৮] শিশুদের জন্য কাজ করার একটি ন্যূনতম বয়স এবং নির্দিষ্ট শর্তের প্রয়োজনীয়তা বাস্তবায়ন;
  • কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতা :সমান কাজের জন্য সবাই সমান বেতন পাবে।

বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে খুব কম সংখ্যক আইএলও সদস্য দেশই সবগুলো নিয়মাবলী  অনুমোদন দিয়েছে। এখনও এই অধিকারগুলো ইউডিএইচআর দ্বারা স্বীকৃত এবং এগুলো একটি আন্তর্জাতিক আইনের অংশ। এই আইনগুলো ছাড়াও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আরো ইস্যু রয়েছে। যুক্তরাজ্যে শ্রমিকদের অধিকারে আরও আনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। যেমন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের অধিকার, একটি নির্দিষ্ট স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান, দৈনন্দিন কিছু সময়ের জন্য বিরতি, বৈতনিক ছুটি এবং আরও অনেক সুবিধা।[৯]

শ্রমিক অধিকারের বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা ছাড়াও শ্রম আন্দোলন শ্রমিকদের আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে কাজ করা শুরু করেছে। 

বেশিরভাগ আন্দোলনই মূলত দৈনিক একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করার অধিকার আদায় করার জন্য হয়েছে। ১৯ শতকে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ করার সময়-সীমা নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য আন্দোলন হয়েছিল । শ্রমিকদের পক্ষে আন্দোলনকারী দলগুলো কাজ করার সময়-সীমা আরও কমানোর চেষ্টা করেছিল। তারা কিছু কিছু দেশে সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা কিংবা তার চেয়েও কম সময় কাজ করার স্বাধীনতা চেয়েছিল। ২০০০ সালে ফ্রান্সে সপ্তাহে ৩৫ ঘন্টা কাজ করার বিষয়টি অনুমোদন পায়। কিন্তু এর ফলে কাজের গুনগত মান কমে যায়। অতঃপর শ্রমিকরা  নিয়োগকারীদের সাথে আরো দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ করতে রাজি হয়। কিন্তু এই অতিরিক্ত কাজের জন্য তাদেরকে ঘন্টাপ্রতি পারিশ্রমিক দেয়ার প্রয়োজন হত। এই অতিরিক্ত কাজ করার বিষয়টি ওভারটাইম নামে সার্বজনীন পরিচিত পায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ওভারটাইমসহ ৪৮ ঘনটার বেশি কাজ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। 

এছাড়াও শ্রমিক অধিকার সমর্থনকারীরা শিশুশ্রম নিয়েও কাজ করেছে। শিশুশ্রমকে তারা শোষণমূলক, নিষ্ঠুর, এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করেছিল। শিশুশ্রমের ফলে কর্মজীবী শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলো। প্রথমে ১৯৪৮ সালে এবং তারপর আবার ১৯৮৯ সালে  জাতিসংঘ ঘোষণা করে যে শিশুদেরও সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার আছে।[১০] ২০০৭ সালে ম্যাসাচুসেট্‌স শিশুশ্রম বিষয়ক নতুন একটি আইন প্রণয়ন করে। এর ফলে সকল  অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিটের প্রয়োজন হত।[১১]

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছিলো। এরূপ উন্নয়নশীল সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্মক্ষেত্র সংস্কার করা শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কার্যক্রম যখন আপটন সিনক্লেয়ার তার "জঙ্গল" উপন্যাসে তুলে ধরেন, তখন সেটি আরো ব্যাপক প্রচারণা পায়। এছাড়াও কর্মক্ষেত্র সংস্কার করতে গিয়ে ১৯১১ সালে ট্রায়াঙ্গেল শার্টওয়েস্ট কারখানায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ফলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ আরও অনেক কিছু জানতে পারে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা প্রায়ই কর্মক্ষেত্রের বাজে কাজের পরিবেশের কঠোর সমালোচনা করে। যেমন, যেসকল কারখানায় নামমাত্র মজুরিতে শ্রমিকদের দিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করানো হয়, সেখানে শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়নের জন্য সারা বিশ্বে তারা প্রচারাভিযান চালায়।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকদের সামাজিক অধিকারের জন্যও অনেক আন্দোলন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল, শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধভাবে শিশুশ্রমের দ্বারা তৈরী করা যেকোনো প্রকার পণ্য বর্জন ইত্যাদি।[১২] মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মার্কিন শ্রম বিষয়ক দপ্তরের মত সংগঠনগুলো বিভিন্ন পণ্যের উপর গবেষণা করে ঐ সকল পণ্যের তালিকা তৈরি করেছে, যেগুলো শিশুশ্রম এবং মানব পাচারের মাধ্যমে উৎপন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিকদের অধিকার নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য যেসকল প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এবং নরওয়েজিয়ান এজেন্সি ফর পাবলিক ম্যানেজম্যান্ট এন্ড ই-গভর্নমেন্ট (ডিআইএফআই)।

শ্রমিক আন্দোলন সকল শ্রমিকদের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করেছিল এবং সেখানে তারা এই ন্যূনতম মজুরির পরিমান বৃদ্ধি করার ব্যাপারেও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বিরোধীরা মনে করছিল, ন্যূনতম মজুরি বিষয়ক নতুন আইন হলে, অদক্ষ এবং নতুন যোগ দেয়া শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

অবৈধ অভিবাসীরা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বেতন না পাওয়া এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহারের ব্যাপারে কোন অভিযোগ করতে পারে না। কেননা এর ফলে তাদেরকে কাজ থেকে বহিষ্কৃত করে দিতে পারে। এছাড়াও তারা সাধারণত তাদের কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য কমমূল্যে কাজ করে দিত। এতে করে অন্যদেরও বেতনের পরিমান কমতে শুরু করেছিল। একইভাবে, বৈধ অভিবাসী শ্রমিকরাও মাঝে মাঝে নির্যাতিত হত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অভিবাসীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই সহ) সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ শ্রমিকদের বেশ কিছু সমস্যা তালিকাবদ্ধ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল, মজুরি না দেওয়া, মজুরি ব্যতীত ওভারটাইম করানো, অনিরাপদ কাজের পরিবেশ যার ফলে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে, দারিদ্র্যপীড়িত এবং নোংরা বসবাসের পরিবেশ এবং নিয়োগকারী কতৃক পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।[১৩] আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক নিয়োগকারী অভিবাসী শ্রমিকদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে ফেলতো। শ্রমিকরা তাদের পাসপোর্ট ছাড়া  কাজ পরিবর্তন করতে বা বাড়িতে ফিরে যেতে পারতো না। যদিও পরবর্তীতে তাদের উপর এই অত্যাচারের পরিমান কিছুটা কমেছিল, কিন্তু বর্তমানে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।[১৪] শ্রম ও সামাজ কল্যাণ মন্ত্রী আলী বিন আব্দুল্লাহ আল কাব্যি তার দেশে শ্রমিকদের কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকারও অনেকে একটি অন্যতম শ্রমিক অধিকার হিসাবে  বিবেচনা করেন। কর্মস্থলে বৈষম্য সৃষ্টি করা অনেক দেশেই অবৈধ। কিন্তু লিঙ্গভেদে এবং দলভেদে মজুরির তারতম্য হওয়াটা সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করা হয়। 

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  • Journal of Individual Employment Rights
  • Economic, social and cultural rights
  • Decent work
  • Industrial democracy
  • Labor and employment law
  • Occupational health
  • Union Organizer
  • Institute for Global Labour and Human Rights
  • Workers' council
  • Worker cooperative
  • Workplace democracy
  • Strike action
  • Syndicalism
  • Social clause
  • Right to work
  • সমাজতন্ত্র
  • Labor rights in American meatpacking industry

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Asian Development Bank 2006, ‘Core Labour Standards Handbook’, Manila http://www.adb.org/documents/core-labor-standards-handbook
  2. Organisation for Economic Cooperation and Development 1996 ‘Trade, Employment and Labour Standards: A Study of Core Workers’ Rights and International Trade’
  3. United Nations Global Compact, Labour, http://www.unglobalcompact.org/AboutTheGC/TheTenPrinciples/labourStandards.html ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ মার্চ ২০০৯ তারিখে
  4. Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights, Ratification and Reservations: Convention on the Rights of the Child, http://www.ohchr.org/english/countries/ratification/11.htm ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights, Ratification and Reservations: International Covenant on Civil and Political Rights, http://www.ohchr.org/english/countries/ratification/4.htm ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে
  5. ICCPR Art.22, ILO Convention 98
  6. ICCPR Art. 8, ILO Conventions 29 and 105
  7. Greenfield, G 2001 ‘Core Labor Standards in the WTO: Reducing labor to a global commodity’, Working USA , vol.5, Iss. 1; pp 9
  8. CROC Art. 32 ILO Convention 138
  9. http://www.citation.co.uk/employment-law/employee-rights ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ মার্চ ২০১১ তারিখে Employee Rights
  10. Prior, Katherine (১৯৯৭)। Workers' Rights। New York: Franklin Watts। 
  11. Watkins, Heidi (২০১১)। Teens and Employment। Detroit: Greenhaven। 
  12. "Social Sustainability - GSA Sustainable Facilities Tool"sftool.gov। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-১১ 
  13. Essential Background: Overview of human rights issues in United Arab Emirates (UAE) (Human Rights Watch, 31-12-2005)
  14. United Arab Emirates

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]