শাব্বির আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শাব্বির আহমেদ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশাব্বির আহমেদ খান
জন্ম (1976-04-21) ২১ এপ্রিল ১৯৭৬ (বয়স ৪৫)
খানেওয়াল, পাঞ্জাব, পাকিস্তান
উচ্চতা৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৬ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৭৪)
২০ আগস্ট ২০০৩ বনাম বাংলাদেশ
শেষ টেস্ট১২ নভেম্বর ২০০৫ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১২৭)
১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই২২ মে ২০০৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
একমাত্র টি২০আই
(ক্যাপ ১৪)
২ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১০ ৩২ ১০০ ১২৮
রানের সংখ্যা ৮৮ ১০ ১,১৪৪ ৪৭৪
ব্যাটিং গড় ৮.৮০ ১.৬৬ ১০.৪৯ ১০.৫৩
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/১ ০/০
সর্বোচ্চ রান ২৪* ৫০ ৪২
বল করেছে ২,৫৭৬ ১,৬৪২ ১৮,৭১৩ ৬,৫৭৩
উইকেট ৫১ ৫৩ ৪০৬ ১৬৭
বোলিং গড় ২৩.০৩ ৩৬.১২ ২২.৩২ ২৮.৯২
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৯
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৪৮ ৩/৩২ ৭/৭০ ৪/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ১০/– ৩৪/– ২৬/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ নভেম্বর ২০২০

শাব্বির আহমেদ খান (উর্দু: شببر احمد خان‎‎; জন্ম: ২১ এপ্রিল, ১৯৭৬) পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানি ক্রিকেটে বাহাওয়ালপুর, মুলতান, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পাকিস্তান রিজার্ভস, রেডকো পাকিস্তান লিমিটেড, ওয়াটার ও পাওয়ার ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি; ভারতীয় ক্রিকেটে চেন্নাই সুপারস্টার্স, আইসিএল পাকিস্তান একাদশ, বাদ-বাকী পাঞ্জাব এবং ইংরেজ ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন শাব্বির আহমেদ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত শাব্বির আহমেদের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। প্রাণহীন উইকেটেও সজীব বোলিং করতেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর পেস বোলিং করতেন।

ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী শাব্বির আহমেদ পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। প্রাণহীন উইকেটেও বেশ বাউন্স করতে পারতেন। গ্লেন ম্যাকগ্রা’র ন্যায় তিনিও স্ট্যাম্পের কাছাকাছি অবস্থান থেকে উইকেট বরাবর বোলিং করতেন। সুইংয়ের তুলনায় সিম ও কাটের দিকেই অধিক মনোযোগী ছিলেন। প্রায়শঃই তার বলের সুইং ধারালো ছিল ও উভয় দিকেই রিভার্স সুইংয়ের ন্যায় ফেলতেন।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দশটি টেস্টে ও বত্রিশটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন শাব্বির আহমেদ। ২০ আগস্ট, ২০০৩ তারিখে করাচীতে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১২ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে মুলতানে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২০০৩-০৪ মৌসুমে বাংলাদেশ দল পাকিস্তান গমন করে। তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথমটিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। করাচীতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে তিনি ১০৯ রান খরচায় আট উইকেট পান। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন।[২] এছাড়াও, একদিনের আন্তর্জাতিকেও দূর্দান্তভাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। টরন্টোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়। প্রাপ্ত তিন উইকেটের প্রত্যেকটিই বোল্ড করেন। তন্মধ্যে, নিজস্ব প্রথম ওভারেই দুইটি উইকেট পান।[৩][৪]

নিষেধাজ্ঞা লাভ[সম্পাদনা]

স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবনে চারবার অবৈধ বোলিংয়ের দায়ে তাকে বোলিং করা থেকে বিরত রাখা হয়। ওয়াকার ইউনুসের সাথে ১০ টেস্টে ৫০ টেস্ট উইকেট নিয়ে যৌথভাবে দ্রুত মাইলফলকের ভাগীদার হন। অভিষেক ওডিআইয়ে তিন উইকেট লাভের পরপরই তার বিপক্ষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি তার পেস বেশ কমিয়ে দিয়েছিলেন।

১০ টেস্টে ৫১ উইকেট লাভ করেন। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অবৈধ বোলিং ভঙ্গীমার কারণে আইসিসি বরাবর তার সম্বন্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন জমা হয়। তার বোলিং ভঙ্গীমার তদন্ত শেষে ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে এক বছরের জন্যে তাকে ক্রিকেট খেলা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।[৫][৬][৭] অবৈধ বোলিং ভঙ্গীমার কারণে তাকে ক্রিকেট খেলা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।[৮]

২১ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে এক বছর পূর্তির পর শাব্বিরকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। তবে, তার বিরুদ্ধে পুনরায় যদি প্রতিবেদন জমা পড়ে তাহলে তার বোলিংয়ের ত্রুটি মুক্ত হবার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বোলিং করার সুযোগের কথা জানানো হয়।[৯][১০] ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেন। এরপর তিনি খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Shabbir Ahmed | Cricket Players and Officials"। ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  2. "1st Test: Pakistan v Bangladesh at Karachi, Aug 20–24, 2003"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১১ 
  3. "Pace like fire | Report | Cricket News | ESPN Cricinfo"। Content-pak.cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  4. "3rd ODI: Pakistan v West Indies at Toronto, Sep 19, 1999 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"। Content-pak.cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  5. "Shabbir has action cleared | Pakistan Cricket News"। ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  6. "Elliott to reassess Shabbir's action | Pakistan Cricket News"। ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  7. "Shabbir eager to iron out the kinks | Pakistan Cricket News"। ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  8. ইউটিউবে Shabir Ahmad Crickter Unfold Story (sic)
  9. "Shabbir relieved as ICC lifts action ban | Pakistan Cricket News | ESPN Cricinfo"। Content-pak.cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  10. "ICC receives report on Shabbir's action | Pakistan Cricket News | ESPN Cricinfo"। Content-pak.cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ 
  11. https://www.cricbuzz.com/profiles/32/shabbir-ahmed

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]