মোহাম্মদ নাজির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মোহাম্মদ নাজির
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমোহাম্মদ নাজির
জন্ম (1946-02-08) ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ (বয়স ৭৫)
রাওয়ালপিন্ডি, ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমানে পাকিস্তান)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাবোলার, আম্পায়ার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬০)
২৪ অক্টোবর ১৯৬৯ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট৯ ডিসেম্বর ১৯৮৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩০)
২১ নভেম্বর ১৯৮০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই১০ জানুয়ারি ১৯৮৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ১৪
রানের সংখ্যা ১৪৪
ব্যাটিং গড় ১৮.০০
১০০/৫০ –/– –/–
সর্বোচ্চ রান ২৯* ২*
বল করেছে ৩২৬২ ২২২
উইকেট ৩৪
বোলিং গড় ৩৩.০৫ ৫২.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৭/৯৯ ২/৩৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/– –/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ অক্টোবর ২০২০

মোহাম্মদ নাজির (উর্দু: محمد نذیر‎‎; জন্ম: ৮ মার্চ, ১৯৪৬) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ১৯৮০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানি ক্রিকেটে পাকিস্তান রেলওয়েজ ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন নাজির জুনিয়র নামে পরিচিত মোহাম্মদ নাজির।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত মোহাম্মদ নাজিরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ১৪.৬৭ গড়ে ৮৬ উইকেট ও পরের বছর ২০.৭২ গড়ে ৭০ উইকেট পান। এরফলে, তাকে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

বয়সের সাথে তুলনান্তে নিজেকে সজীব রেখেছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ১৪.৪২ গড়ে ৮৮ উইকেট পেয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চৌদ্দটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ নাজির। ২৪ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে করাচীতে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজের প্রথম টেস্টে দূর্দান্ত বোলিং করেন। করাচীতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭/৯৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন তিনি।[১] তবে, তিন টেস্টের ঐ সিরিজে পরবর্তীতে তিনি আর মাত্র তিন উইকেট লাভ করতে সক্ষম হন। ফলশ্রুতিতে, তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। ১৯৭১ ও ১৯৭৪ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। এছাড়াও, একই দলের বিপক্ষে ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে আরও একটি টেস্টে অংশ নেন। কিন্তু, উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলা প্রদর্শন করতে থাকেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে পুনরায় তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার টেস্টে অংশ নিয়ে ১৬ উইকেট পান। তন্মধ্যে, ফয়সালাবাদে খেলায় ১২০ রান খরচায় ৮ উইকেট পান। এরপর, তাকে আবারও দলের বাইরে রাখা হয়। ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ নাজিরের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন দৃশ্যতঃ শেষ পর্যায়ে অবস্থান নেয়।

ভারতের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে কোন উইকেট লাভ করতে না পারলেও শেষ খেলায় ১২২ রান খরচায় ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে তাকে দলে রাখা হয়। নিজস্ব শেষ তিন টেস্টে অংশ নিলেও সেখানে তার বোলিংয়ের ধার ছিল না।

পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিত্বের দিকে ধাবিত হন। আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেছেন তিনি।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "1st Test: Pakistan v New Zealand at Karachi, Oct 24–27, 1969"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 
  2. "Mohammad Nazir"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]