মেজর বুথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মেজর বুথ
মেজর বুথ.jpg
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৬২
রানের সংখ্যা ৪৬ ৪,৭৫৩
ব্যাটিং গড় ২৩.০০ ২৩.২৯
১০০/৫০ ০/০ ২/২১
সর্বোচ্চ রান ৩২ ২১০
বল করেছে ৩১২ ২৫,১৮৯
উইকেট ৬০৩
বোলিং গড় ১৮.৫৭ ১৯.৮২
ইনিংসে ৫ উইকেট ৪৩
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৪৯ ৮/৪৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/০ ১২০/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

মেজর উইলিয়াম বুথ (ইংরেজি: Major Booth; জন্ম: ১০ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ - মৃত্যু: ১ জুলাই, ১৯১৬) ইয়র্কশায়ারের পাডসি এলাকার লোটাউনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯০৮ থেকে ১৯১৪ সময়কালে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ সময়েই উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন মেজর বুথ

'মেজর' কোন সামরিক পদবী নয়; এটি তার পারিবারিক নাম ছিল। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ফালনেক স্কুলে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট খেলায় বুথের হাতেখড়ি হয়। এরপর তিনি পাডসি সেন্ট লরেন্স ও ওয়াথ অ্যাথলেটিক ক্লাবের সাথে জড়িত হন। এরফলে মেক্সবোরা লীগে খেলার সুযোগ হয় তার ও দলের অধিনায়কত্ব করেন। ১৯০৭ সালে ইয়র্কশায়ার দ্বিতীয় একাদশে নিয়মিতভাবে অংশ নেন[১] ও পরবর্তী দুই বছর খেলতে থাকেন।

১৯০৮ সালে কাউন্টি দলের পক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে ডিউসবারিতে সমারসেটের বিপক্ষে খেলতে নামেন। তবে, তেমন সফলতা পাননি।[২] ফলশ্রুতিতে পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা লাভে সক্ষম হননি। কিন্তু, ১৯১১ সালে ১,১২৫ রানসহ চুয়াত্তর উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ওরচেস্টার গ্রাউন্ডে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে নিজস্ব সর্বোচ্চ ২১০ রানের মূল্যবান ইনিংস উপহার দেন মেজর বুথ।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

পরবর্তী গ্রীষ্মে বোলার হিসেবে সকলের সমীহের পাত্রে পরিণত হন তিনি। ১৯১৩ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে সহস্রাধিক রান সংগ্রহের পাশাপাশি ১৫৮ উইকেট দখল করেন। ঐ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ১৮১ উইকেট লাভ যে-কোন বোলার তুলনায় শীর্ষে ছিল। ১৯১৪ সালে ব্যাট হাতে তেমন সফলতার মুখ দেখেননি। ১৯১৩ সাল থেকে বোলিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটাচ্ছিলেন। ব্যাটিংয়ের ন্যায় সুকঠোর পরিশ্রমী কার্যে তিনি অংশ নিতে চাননি।

ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ১৮ রান গড়ে ১৪১ উইকেট পান। মারমুখী ব্যাটসম্যান হলেও বোলার হিসেবেই তিনি খ্যাতির শিখরে আরোহণ করেন। স্বাভাবিক, সহজাত ভঙ্গীমায় পিচে পড়া মাত্রই আঘাত হানতেন।[৩]

১৯১৩ সালে প্লেয়ার্সের পক্ষে লর্ডসে খেলার জন্য মেজর বুথ মনোনীত হন। আগস্ট, ১৯১৪ সালে উপর্যুপরী দুই খেলায় তিনি ও ড্রেক অপরিবর্তিত অবস্থায় ব্রিস্টলে গ্লুচেস্টারশায়ারকে ৯৪ ও ৮৪ রানে গুটিয়ে দেন। ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ারে সমারসেটকে ৪৪ ও ৯০ রানে অল-আউট করেন। তবে শেষের খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি কোন উইকেট লাভে সক্ষম হননি ও ড্রেক ৩৫ রান খরচায় সবকটি উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান।

ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ১৪৪ খেলায় অংশ নিয়ে ২২.৬৫ গড়ে ৪,২১৩ রান ও ১৮.৮৯ গড়ে ৫৫৬ উইকেট পান। ক্রিকেট মাঠ ও মাঠের বাইরে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

জনি ডগলাসের অধিনায়কত্বে ১৯১৩-১৪ মৌসুমে এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। তবে দলটি এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে সিরিজের তিন টেস্টে দলের বাইরে থাকতে হয়।

রয় কিলনারের বৈবাহিক অনুষ্ঠানের সেরা ব্যক্তি ছিলেন তিনি ফলশ্রুতিতে তার সম্মানার্থে দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের নামকরণ করেন ‘মেজর’ নামে।

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে তালিকাভূক্ত হন ও যোগ দেন। নিজ কাউন্টির দলীয় সঙ্গী আর্থার ডলফিন ও রয় কিলনারের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লিডস পালসে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৬ জুলাই, ১৯১৫ তারিখে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি লাভের পূর্বে সার্জেন্ট পদবী ধারন করেছিলেন।[৪][৫] ঐ বছরের শেষদিকে ২২ ডিসেম্বর, ১৯১৫ তারিখে মিসরে স্থানান্তরিত হন। এরপর পশ্চিম রণাঙ্গনে ফিরে আসেন।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

লিডস পলস নামে পরিচিত পশ্চিম ইয়র্কশায়ার রেজিম্যান্টে কমিশনপ্রাপ্ত হন। এরপর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদবী ধারন করেন। এর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার জীবনাবসান ঘটে। ১ জুলাই, ১৯১৬ তারিখে সোমের আক্রমণের প্রথম দিনে ফ্রান্সের লা সিগনি এলাকায় অবস্থিত পরিখায় শীর্ষে থাকাকালে ৩০ বছর বয়সে তিনি নিহত হন। বসন্তকাল পর্যন্ত তার দেহ সেখানে রক্ষিত ছিল। পরবর্তীকালে সেরে রোডের ১নং সমাধিক্ষেত্রে সমাধিস্থ করা হয়।[৬][৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. A profile of William Booth by Dave Liverman and Kevin Morrill
  2. Booth's commendation as one of the Wisden Cricketers of the Year in 1914
  3. Booth’s Obituary in the 1917 John Wisden’s Cricketers’ Almanac
  4. "নং. 29245"দ্যা লন্ডন গেজেট (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ জুলাই ১৯১৫। 
  5. Medal card of Booth, Major William, DocumentsOnlines, The National Archives (fee usually required to download pdf image of original medal card). Retrieved on 13 September 2010.
  6. "National Army Museum - Combat cricketers"। ২৯ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  7. "Casualty Details: Booth, Major William" [দুর্ঘটনা বিবরণ: Booth, Major William] (ইংরেজি ভাষায়)। কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]