মির্জা মাজহারুল ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মির্জা মাজহারুল ইসলাম
জন্ম (১৯২৭-০১-০১) ১ জানুয়ারি ১৯২৭ (বয়স ৯১)
আগচারান, কালিহাতি উপজেলা
বাসস্থানঢাকা
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পেশাচিকিৎসক
যে জন্য পরিচিতভাষাসৈনিক, চিকিৎসক, শিক্ষক, সংগঠক, গবেষক, সমাজসেবক
অফিসবারডেম হাসপাতাল
দাম্পত্য সঙ্গীহুসনে আরা খাতুন
সন্তানঅধ্যাপক মির্জা মাহবুবুল হাসান (বড় ছেলে), মির্জা মাসুদ হাসান (ছোট ছেলে), ডা. নাজনিন আহম্মদ (বড় মেয়ে), নাসরিন সুলতানা (ছোট মেয়ে),
পিতা-মাতামির্জা হেলাল উদ্দিন (পিতা)
চান্দ খাতুন (মাতা)
আত্মীয়মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, মির্জা মাহতাব উদ্দিন বেগ (দাদা), ড. এম.এন. হুদা (মামা), ডা. নুসরাত মাহমুদ এবং সোহেলা নাজনীন (পুত্রবধু), আসাদ আহমেদ, শাবনাম আহমেদ, ফাইরুজ ইমরানা হক, সাফওয়ান মির্জা হক, ফারিহা নেহরীন এবং ফারজান নওয়ীদ (দৌহিত্র), ডাঃ ইমদাদুল হক এবং জনাব সালাহউদ্দীন আহমেদ (জামাতা)
পুরস্কারএকুশে পদক (২০১৮)

অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম (জন্ম:১ জানুয়ারি, ১৯২৭) বাংলাদেশ'র একজন খ্যতিমান শল্যচিকিৎসক ও ভাষাসৈনিক। এছাড়া তিনি বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার আগচারান গ্রামে জন্মগ্রহণকরেন।[১] তিনি ১৯৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্ব থেকে সংগ্রাম ও সংগঠনিক তৎপরতা ছিল সর্বব্যাপী।[২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মির্জা মাজহারুল ইসলাম বাল্যকাল থেকেই অত্যান্ত মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন। তিনি মনোমোহন বাবুর পাঠসালায় (বল্লা বাজার) ভর্তি হন। এর পূর্বে তিনি আরবি শিক্ষা লাভ করেন, এবং চতুর্থ শ্রেণীতে সরকারি বৃত্তি লাভ করে পঞ্চম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন এবং বল্লা করোনেশন হাই ইংলিশ স্কুলে (বর্তমানঃ বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়) ভর্তি হন।[৩] বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন এবং একই বছর তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন (১৯৪৪)।[৪] কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএসসি (১৯৪৬), ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস (১৯৫২) পাশ করেন। তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন (১৯৪৬)[৫] এছাড়া উচ্চতর অধ্যয়নের লাভের উদ্দেশে যুক্তরাজ্য যান ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মির্জা মাজহারুল ইসলাম প্রায় ছয় দশক ধরে শৈল্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি অনারারি হাউজ সার্জন হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন (১৯৫২), এবং তৎকালীন ই পি এম এস ক্যাডারে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। হাউস সার্জন ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (১৯৫৪), সহকারী সার্জন: বরিশাল সদর হাসপাতাল (১৯৫৮), সহাকারী সার্জন: ফরিদপুর সদর হাসপাতাল (১৯৬০), সহযোগী অধ্যাপক: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৬), প্রফেসর অব সার্জারি ও প্রিন্সিপাল: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৭৬), প্রফেসর অব সার্জারি: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (১৯৮০), এবং ১৯৮৫সালে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর পর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপদেষ্টা হিসেবে কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। মুখ্য উপদেষ্টা: বারডেম সার্জারি বিভাগ (১৯৯৩-বর্তমান), এবং তিনি দু’বার বারডেমের অবৈতনিক মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনারসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ২০ বছর।

ব্যক্তি জীবন[সম্পাদনা]

তিনি পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন (১৯৭৬)। এছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্দোলন, সমাজসেবা, চিকিৎসা, গবেষণার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বহু সম্মাননা ও পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ' ছায়ানীড় স্বর্ণ পদক' ও 'একুশে পদক' উল্লেখযোগ্য।

তার দাদা মির্জা মাহতাব উদ্দিন বেগ বৃটিশ সরকারের নমিনেটেড ডেপুটি পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট এবং পিতা মির্জা হেলাল উদ্দিন 'ডেভিড এন্ড কোম্পানী' ও 'ল্যান্ডেল এন্ড ক্লার্ক' নামক বড় দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মকতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।[৬] এবং তৎকালীন পূর্ব বাংলার অর্থমন্ত্রী ছিলেন তার মামা ড. এম.এন. হুদা। তার বড় ছেলে অধ্যাপক মির্জা মাহবুবুল হাসান (ইউরোলজি বিভাগীয় প্রধানঃ বারডেম) এবং ছোট ছেলে মির্জা মাসুদ হাসান (কনসালটেন্ট ও গবেষক)। বড় মেয়ে ডা. নাজনিন আহম্মদ (শিকাগোতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত)। পুত্রবধু ডা. নুসরাত মাহমুদ (কনসালটেন্ট ইনফারটিলিটি স্পেশালিষ্ট গাইনী বিভাগঃ বারডেম) এবং অধ্যাপিকা সোহেলা নাজনীন (ইন্টারন্যাশনাল রিলেশান্স বিভাগঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

শল্যচিকিৎসা[সম্পাদনা]

মির্জা মাজহারুল ইসলাম তার কর্মজীবনে পেপটিক আলসার রোগের ভেগোটমি অ্যান্ড গ্যাস্ট্রো জেজুনস্টমি অপারেশন করেছেন প্রায় ২০ হাজার। পৃথিবীতে আর কোনো শল্যচিকিৎসক এ রোগের এত অপারেশন করতে পারেননি।

ভাষা আন্দোলনে অবদান[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধীর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আহতদের পাশে চিকিৎসকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য (১৯৭১)।[৭] মির্জা মাজহারুল ইসলাম এ আন্দোলনে জড়িত হন এর সূচনাপর্ব থেকেই(১৯৪৭)। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম দু”টি সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন (১৯৪৭-১৯৪৮) এবং প্রথম শহীদ মিনারের পরিকল্পনা ও নির্মানে তার বিশেষ অবদান রয়েছে (২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২)।[৮] ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করেন। ভাষা আন্দোলনের প্রায় প্রতিটিঘটনায় মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় (৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭), উক্ত কমিটিতে তিনি প্রতিনিধি হিসেবে অন্তভূক্ত হন। পরবর্তীতে এ পরিষদ সম্প্রসারিত হয় (১৯৪৮)।[৯] নিজেকে ভাষা আন্দোলনের 'আঁতুড় ঘরের' সাক্ষী বলে দাবি করেন এ ভাষাসৈনিক। ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর পুলিশের পামলার পর তিনি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অসংখ্য আহত ভাষাকর্মীর অপারেশন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি যোগ দেন আমতলার জনসভায়। গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন ২২ ফেব্রুয়ারি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মাজহারুল ইসলাম চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন"দৈনিক কালের কণ্ঠ। প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-২০ 
  2. "ভাষা সৈনিক অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল ইসলাম"গুণীজন ডটকম। ১০জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ 2016-10-20  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  3. মির্জা মাজহারুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ১৯। 
  4. মির্জা মাজহারুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ২০। 
  5. মির্জা মাজহারুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ২১। 
  6. মির্জা মাজহারুল ইসলাম, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ২৫ ও ২৬। 
  7. মির্জা মাজহারুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ৮। 
  8. মির্জা মাজহারুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ৯। 
  9. মির্জা মাজহারুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ। এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ। পৃষ্ঠা ১১।