মির্জা নূরুল হুদা
মির্জা নূরুল হুদা | |
|---|---|
১৯৭৬ সালে হুদা | |
| বাংলাদেশের ৪র্থ উপরাষ্ট্রপতি | |
| কাজের মেয়াদ ২৪ নভেম্বর ১৯৮১ – ২৩ মার্চ ১৯৮২ | |
| রাষ্ট্রপতি | আবদুস সাত্তার |
| পূর্বসূরী | আবদুস সাত্তার |
| উত্তরসূরী | মোহাম্মদউল্লাহ |
| বাংলাদেশের মন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ১৫ এপ্রিল ১৯৭৯ – ২৪ এপ্রিল ১৯৮০ | |
| রাষ্ট্রপতি | জিয়াউর রহমান |
| মন্ত্রণালয় | অর্থ |
| পূর্বসূরী | আজিজুর রহমান মল্লিক |
| উত্তরসূরী | সাইফুর রহমান |
| কাজের মেয়াদ ২৯ জুন ১৯৭৮ – ১৫ এপ্রিল ১৯৭৯ | |
| রাষ্ট্রপতি | জিয়াউর রহমান |
| মন্ত্রণালয় | পরিকল্পনা |
| পূর্বসূরী | আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম |
| উত্তরসূরী | ফসিউদ্দিন মাহতাব |
| পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ২৩ মার্চ ১৯৬৯ – ২৫ মার্চ ১৯৬৯ | |
| রাষ্ট্রপতি | আইয়ুব খান |
| পূর্বসূরী | আবদুল মোনেম খান |
| উত্তরসূরী | মোজাফফরুদ্দিন |
| পূর্ব পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী | |
| কাজের মেয়াদ ২৯ মার্চ ১৯৬৫ – ২৩ মার্চ ১৯৬৯ | |
| গভর্নর | আবদুল মোনেম খান |
| পূর্বসূরী | হাফিজুর রহমান |
| উত্তরসূরী | আবুল কাসেম |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১ আগস্ট ১৯১৯ জাঙ্গালিয়া, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ২২ ডিসেম্বর ১৯৯১ (বয়স ৭২) শাহবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| দাম্পত্য সঙ্গী | কুলসুম হুদা |
| সম্পর্ক |
|
| সন্তান | সিমীন সহ ৩ |
| শিক্ষা | কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিএইচডি) |
| পেশা | অধ্যাপনা |
| পুরস্কার | হেলালে খেদমত (১৯৬৮) |
মির্জা নূরুল হুদা (১৯১৯–১৯৯১) একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও পূর্ব পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]মির্জা নূরুল হুদা ১ আগস্ট ১৯১৯ সালে[১] ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির ময়মনসিংহ জেলার টাঙ্গাইল থানার জাঙ্গালিয়ায়[২] (বর্তমানে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায়)[৩] জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন।[৪] ১৯৩৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৩৭ সালে মানবিকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।[৫] ১৯৪০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে কলাবিদ্যায় স্নাতক অর্জন করেন। সালে রাজা কালীনারায়ণ বৃত্তি লাভের পর ১৯৪১ সালে তিনি অর্থনীতিতে কলাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর অর্জন করেন।[২][১][৩] তিনি সরকারি সা’দত কলেজ ও রাজশাহী কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে তিনি বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসে সরকারি চাকরির জন্য যোগ দেন এবং ভারত বিভাজনের বছরে তথা ১৯৪৭ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিজ অর্থনীতিতে পিএইচডি করার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন। একই বছরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির রিডার হিসেবে নিযুক্ত হন।[২] ১৯৪৯ সালে তার পিএইচডি সম্পন্ন হয়[১] ১৯৫৫ সালে তিনি অক্সফোর্ডের নাফিল্ড কলেজে ফেলোশিপ করার জন্য যুক্তরাজ্যে গমন করেন।[৪] ১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে তাকে পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়[২] এবং তিন বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।[৩] পাশাপাশি তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা বোর্ডের সদস্য এবং পাকিস্তান সরকারের কর তদন্ত কমিটি ও ঋণ তদন্ত কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২]
পরবর্তী জীবন
[সম্পাদনা]১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান অর্থনীতি সমিতির সভাপতি হন।[৩] একই বছরে তাকে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়[২] এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২৩ মার্চে তাকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু গভর্নর হিসেবে ১ দিন দায়িত্ব পালনের পর সামরিক শাসন জারি হওয়ায় তার দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটে। অধ্যাপনায় ফিরে যাওয়ার পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে ১৯৭৫ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির মন্ত্রিপরিষদের কৃষি, বাণিজ্য, অর্থ, শিল্প ও পরিকল্পনার উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি হন।[৩] ১৯৭৮ সালে তাকে বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী করা হয়।[৬] ১৯৭৯ সালে তাকে অর্থমন্ত্রী করা হয়।[৩] তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে বাংলাদেশী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১] তারপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি সামাজিকবিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ ও সিড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১] ১৯৮১ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন।[৩]
পরিবার, মৃত্যু ও কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]মির্জা নূরুল হুদা পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মৌলভি তমিজউদ্দিন খাঁর মেয়ে কুলসুম হুদাকে বিয়ে করেন।[৪] কুলসুম সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য ছিলেন। তাদের মেয়ে সিমীন মাহমুদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন জনমিতিবিদ ছিলেন, তিনি ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।[৭] অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সিমীনের স্বামী ছিলেন। মির্জা নূরুল হুদার বড় ছেলে মির্জা নাজমুল হুদা একজন অর্থনীতিবিদ।[৮] তার আরেক মেয়ের নাম জারিন হুদা আহমেদ।[৯]
মির্জা নূরুল হুদা হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ঢাকার ইব্রাহিম মেমোরিয়াল ডায়াবেটিস সেন্টারে (বর্তমানে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। একই বছরের ২২ ডিসেম্বরে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।[১]
মির্জা নূরুল হুদা ১৯৬৮ সালে হেলালে খেদমত খেতাব পান।[১০] দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তার লেখা ২০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।[৩][১০] মৌলভি তমিজউদ্দিন খাঁর লেখা "দ্য টেস্ট অব টাইম: মাই লাইফ এন্ড ডেস" গ্রন্থ তিনি সম্পাদনা করেছেন।[১০] ২০২১ সালে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে "‘মাই সেভেন ডেকেডস’ জার্নি থ্রু ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, পাকিস্তান অ্যান্ড বাংলাদেশ" শিরোনামে তার আত্মজীবনী গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়।[১১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 "ডঃ এম এন হুদার ইন্তেকাল"। দৈনিক ইত্তেফাক। ২৩ ডিসেম্বর ১৯৯১। পৃ. ১, ১১।
- 1 2 3 4 5 6 "LIFE SKETCHES"। দ্য ইস্টার্ন এক্সামিনার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ মার্চ ১৯৬৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 মুহম্মদ আবদুস সালাম (২০১২)। "হুদা, মির্জা নূরুল"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 3 জলিল, আজিজুল (১ আগস্ট ২০০৮)। "Dr M. N. Huda As I knew him"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "Dr. M.N. Huda: A life from the top drawer"। ঢাকা কুরিয়ার (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মার্চ ২০২২।
- ↑ "কে কোন দফতর পেলেন–"। দৈনিক বাংলা। ৩০ জুন ১৯৭৮। পৃ. ১।
- ↑ "Researcher Simeen Mahmud no more"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ মার্চ ২০১৮।
- ↑ "Simeen's works a beacon of light"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ "Remembering our sister Simeen Mahmud"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ১ এপ্রিল ২০১৮।
- 1 2 3 "Governors and Acting Governors of East Bengal/ East Pakistan 1947-1971" (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৬।
- ↑ রহমান, সুলতান হাফিজ (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "One life, and a history of two economies: Mirza Nurul Huda"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)।
- ১৯১৯-এ জন্ম
- ১৯৯১-এ মৃত্যু
- বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ
- বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি
- বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী
- আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সদস্য
- জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য
- আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের মন্ত্রিসভার সদস্য
- পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর
- পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
- রাজশাহী কলেজের শিক্ষক
- কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- টাঙ্গাইল জেলার ব্যক্তি
- পাকিস্তানি বেসামরিক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রাপক