মাইক ওয়াটকিনসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাইক ওয়াটকিনসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমাইকেল ওয়াটকিনসন
জন্ম (1961-08-01) ১ আগস্ট ১৯৬১ (বয়স ৫৯)
ওয়েস্টহটন, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম পেস কিংবা অফ-ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কএল ওয়াটকিনসন (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৭৫)
২৭ জুলাই ১৯৯৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট৪ জানুয়ারি ১৯৯৬ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
একমাত্র ওডিআই
(ক্যাপ ১৩৪)
১৩ জানুয়ারি ১৯৯৬ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৩০৮ ৩৭৪
রানের সংখ্যা ১৬৭ - ১০,৯৩৯ ৫,৩৯৮
ব্যাটিং গড় ৩৩.৩৯ - ২৬.৬৮ ২২.৯৭
১০০/৫০ -/১ -/- ১১/৫০ ২/২০
সর্বোচ্চ রান ৮২* - ১৬১ ১৩০
বল করেছে ৬৭২ ৫৪ ৪৭,৮০৮ ১৬,০৫৭
উইকেট ১০ - ৭৩৯ ৩৮১
বোলিং গড় ৩৪.৭৯ - ৩৩.৭৭ ৩১.৮৯
ইনিংসে ৫ উইকেট - - ২৭
ম্যাচে ১০ উইকেট - - -
সেরা বোলিং ৩/৬৪ - ৮/৩০ ৫/৪৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- -/- ১৫৬/- ৯৮/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

মাইক ওয়াটকিনসন (ইংরেজি: Mike Watkinson; জন্ম: ১ আগস্ট, ১৯৬১) ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়েস্টহটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১][২]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে চেশায়ার ও ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন মাইক ওয়াটকিনসন। ১৯৯০-এর দশকে ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সফলতায় তার ভূমিকা অপরিসীম ছিল। বর্তমানে তিনি কাউন্টি দলের ক্রিকেট ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ওয়েস্টহটন কাউন্টি প্রাইমারী স্কুলে অধ্যয়ন শেষে রিভিংটন এন্ড ব্ল্যাকরড হাই স্কুলে পড়াশুনো করেছিলেন তিনি। এ সময়কালে বোল্টন ক্রিকেট লীগে ওয়েস্টহটন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতেন। ক্লাব কোচ টেডি জারার্ডের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। অ্যাশলে রিজিওন সাউদার্ন এক্সপ্লোরার্সের পক্ষে স্থানীয় খেলাগুলোয় অংশ নিতেন। সেখানেই তার বোলিং কৌশল রপ্ত করেন। ওয়েন কারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। ইনসুইঙ্গার ও লেগ ব্রেকে নিখুঁততা আনয়ণ করেন। উইকেট লাভের জন্য পেসের তুলনায় পিচের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতে থাকেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে তার মাঝে সর্বক্রীড়া পারদর্শীতাভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি গল্ফ ও বাস্কেটবলে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। হাতের কারুকাজ, বল ও চোখের সম্বন্বয়ে সবগুলো খেলায় প্রয়োগ করতেন। ফলে, বিস্ময়ের কোন কারণই ছিল না যে তিনি খেলাধূলোর মাঝেই নিজেকে জড়িয়ে রাখবেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মাইক ওয়াটকিনসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। অল-রাউন্ডার হিসেবে বেশ অমূল্য ছিলেন মাইক ওয়াটকিনসন। কার্যকর সীমার হিসেবে পরবর্তীতে অফ স্পিনের দিকে ধাবিত হন ও নিচেরদিকে মাঝারিসারির মারকূটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯৯০-এর দশকে ল্যাঙ্কাশায়ারের সফলতায় প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন। বেশ দেরীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পান।

ক্লাবের শুরু থেকে ও পরবর্তীতে ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় তারকাদের মধ্যে মাইক ওয়াটকিনসন ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছিলেন। এছাড়াও, ডিক টিল্ডসলেসহ তার পরিবারের চার সদস্য ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ার দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন মাইক ওয়াটকিনসন। ২৭ জুলাই, ১৯৯৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে কেপ টাউনে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। এছাড়াও, ১৩ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে জোহেন্সবার্গে একই দলের বিপক্ষে একটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার।

নিজের জন্মদিনের ৩৪ বছর পূর্তি হবার এক সপ্তাহ পূর্বে ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ লাভ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই খেলায় বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। ওভালের তৃতীয় টেস্টটিতে অবশ্য এ ধারা বজায় রাখতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের সুযোগ পান। তবে, ঐ সফরে তার খেলার মান বেশ সাধারণ পর্যায়ের ছিল। একটি টেস্ট ও একটি ওডিআইয়ে অংশ নেন। এরপর তিনি কাউন্টি ক্রিকেটে ফিরে আসেন। অবসর গ্রহণের পর দলটির কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

কোচিংয়ে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

২০০৩-০৪ মৌসুমে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ড দলের বোলিং কোচ হিসেবে মনোনীত হন। দুইটি শীতকাল কোচ ডানকান ফ্লেচারের সাথে কাজ করেন। তার প্রশিক্ষণে ল্যাঙ্কাশায়ার দল থেকে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, জেমস অ্যান্ডারসন ও সাজিদ মাহমুদের ন্যায় ক্রিকেটারদের দ্রুত ইংল্যান্ড দলে খেলার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। তবে, ঘরোয়া পর্যায়ের সফলতা তেমন সুখ্যাতি পায়নি। ছয় বছর কোচের দায়িত্ব পালনের পর ২০০৮ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্রিকেট পরিচালকের নতুন পদে তাকে স্থানান্তর করা হয়।

ল্যাঙ্কাশায়ার দলের ক্লাব ম্যানেজারের দায়িত্ব লাভ করেন ও আর পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেট খেলায় অংশ নেননি। অক্টোবর, ২০১৪ সালে পূর্ববর্তী মৌসুমে ক্লাবের দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করায় তিনি পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেয়ার কথা ঘোষণা করেন। গত দুই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাবটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে অবনমনের কবলে পড়ে। এরফলে, ১৯৮২ সাল থেকে নিজ কাউন্টি দলের সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিন্ন হয়ে যায়।

২০১৮ সালে দ্য ম্যানচেস্টার গ্রামার স্কুলের ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন। বর্তমানে তিনি এজওয়ার্থে স্বপরিবারে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি স্থানীয়দের মাঝে বেঞ্চ দান করেন। বোল্টন ওয়ান্ডেরার্স এফসির একনিষ্ঠ সমর্থক তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। তার সন্তান লিয়াম ওয়াটকিনসন লিডস/ব্রাডফোর্ড এমসিসিইউ’র পক্ষে চারটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ৪ ডিসেম্বর ২০২০
  2. "England Players by ODI Caps"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]