ভারতের জাতীয় পুরস্কার ও সম্মাননার তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

ভারতে প্রদান করা বিভিন্ন জাতীয় পুরস্কার ও সম্মাননার একটি তালিকা নীচে প্রদান করা হল।

ভারতরত্ন[সম্পাদনা]

ভারতরত্ন ভারতে প্রদান করা সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান। সাহিত্য, কলা, বিজ্ঞান, সমাজসেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রত বিশিষ্ট সেবাদানকারী ব্যক্তিকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। কেবল ভারতের ব্যক্তিকে নয়, বিদেশী ব্যক্তি যেমন: খান আব্দুল গফর খান (পাকিস্তান), নেলসন ম্যান্ডেলা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ইত্যাদিকে এই সম্মানে বিভূষিত করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালে প্রথমবার ভারত রত্ন প্রদান করা হয়। সেই বছর চক্রবতী রাজা গোপালাচারী, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণচন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।[১]

পদ্ম সম্মাননা[সম্পাদনা]

সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ক্রীড়া, মানবসেবা ইত্যাদি দিকে খ্যাতি অর্জন করা ও বিশিষ্ট সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিকে ভারত সরকার পদ্ম সম্মাননা প্রদান করে। তিনধরণের পদ্ম সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেগুলি হল --

  1. পদ্ম বিভূষণ- পদ্ম সম্মাননা সমূহের মধ্যে এই সম্মাননা শীর্ষ স্থানীয়। এই সম্মাননা প্রাপকদের যে স্মারকটি দেয়া হয়, সেইটি ঘোরানো একটা ট্রফি। এর মধ্যভাগে সোনার বড় পাত বসানো, চারটি পাপড়ি সাথে একটি পদ্ম ফুলের প্রতীক খোদিত করা হয়। অন্য দিকে জাতীয় প্রতীকটি অংকিত করা থাকে।
  2. পদ্মভূষণ-পদ্ম সম্মাননা সমূহের মধ্যে এই সম্মাননা দ্বিতীয় স্থানে। এর স্মারকটিও পদ্ম বিভূষণের মতোই, কেবল এর পদ্ম ফুলটির প্রতীকটিত তিনটি পাপড়ি আছে।
  3. পদ্মশ্রী- পদ্ম সম্মাননাসমূহের মধ্যে এই সম্মাননা তৃতীয় স্থানে আছে। এর স্মারকটিতে পদ্ম ফুলএর যে প্রতীকটি আছে, তার পাপড়ি পাঁচটা।

এই তিন প্রকারের স্মারক গোলাপী রিবনর সাথে প্রাপ্যজনকে দেয়া হয়। ১৯৫৪ সাল থেকে পদ্ম সম্মাননা প্রদান করে আসা হচ্ছে। অবশ্য কেন্দ্র সরকারের পরিবর্তনের জন্য ১৯৭৭ সালের আগষ্ট মাস থেকে ১৯৮০ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত ও ন্যায়ালয়র একটি নির্দেশের জন্য ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই সম্মাননা প্রদান করা হয়নি৷ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত-এর রাষ্ট্রপতি এই সম্মাননা সমূহ প্রদান করেন ।[১]

অশোক চক্র[সম্পাদনা]

অশোক চক্র হল বীরত্বের জন্য দেওয়া সর্ব্বোচ্চ অসামরিক পদক। অতি বিক্রম, সাহসিকতায় নিজের জীবন বলিদান দিয়ে হলেও শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করা ব্যক্তিকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ভারতের অন্যান্য সম্মাননা ছাড়াও সৈন্য বাহিনীতে বিশিষ্ট সেবা ও নাগরিকদের জীবন রক্ষা করার জন্য পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, অতি বিশিষ্ট সেবা পদক, বিশিষ্ট সেবা পদক, জীবন রক্ষা পদক, সর্বোত্তম জীবন রক্ষা পদক, উত্তম জীবন রক্ষা পদক ইত্যাদি পুরস্কার দেওয়া হয়।।[১]

ভারতীয় জ্ঞানপীঠ পুরস্কার[সম্পাদনা]

ভারতীয় জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ভারতের সর্ব্বোচ্চ সাহিত্য-সম্মাননা। ইংরাজীকে ধরে ভারতের সংবিধানের অষ্টম অনুসূচীতে থাকা আধুনিক ভাষাসমূহের যেকোনো ভাষার সাহিত্য-ক্ষেত্রে বিশিষ্ট সৃষ্টিশীল কর্মের জন্য প্রতি বছর ভারতীয় জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৬৫ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান চালু হয়েছে। এই পুরস্কারে আছে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, একটি মানপত্র ও সরস্বতীর একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি। শুরুতে, কোনো একটি নিদিষ্ট গ্রন্থর জন্যি লেখককে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান করা হত যদিও ১৯৮২ সাল থেকে লেখকের সামগ্রিক সাহিত্যকীর্তির মূল্যায়ন করে এই পুরস্কার প্রদানের নিয়ম প্রচলিত হয়।।[১]

সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার[সম্পাদনা]

ভারতের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের উত্কর্ষ ও বিকাশের জন্য সাহিত্য আকাদেমি প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। আকাদেমি তাঁরলোকের দ্বারা স্বীকৃত ২২ টা ভাষার একাডেমী পুরস্কার দেয়। ১৯৯৫ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করে আসা হচ্ছে। । এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৪০ হাজার টাকা ও একটি তাম্রপত্র। মূল ভাষার উপরে অনূদিত গ্রন্থের জন্যও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।[১]

দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার[সম্পাদনা]

ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনকরূপে অভিহিত দাদাসাহেব ফালকের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ভারতীয় চলচ্চিত্রর উত্কর্ষ ও বিকাশের জন্য উল্লেখনীয় কার্যাবলীর স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্ব্বোচ্চ পুরস্কাররূপে স্বীকৃত এই পুরস্কারের অর্থমূল্য দুই লাখ টাকা। এর সাথে বিজয়ীকে একটি প্রশস্তি পত্র ও একটি আলোয়ান প্রদান করা হয়। ১৯৬৯ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করে আসা হচ্ছে।[১]

মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার[সম্পাদনা]

মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতিতে বিশ্বাস রেখে বিশ্বশান্তি তথা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার সাধনের উদ্দেশ্যে প্রয়াস করা ব্যক্তি বা সংগঠনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। মহাত্মা গান্ধীর ১২৫ বছরের জন্ম দিবস উপলক্ষে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদান করে আসা হচ্ছে। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি টকা

রাজীব গান্ধী জাতীয় সদভাবনা পুরস্কার[সম্পাদনা]

শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতার জন্য কাজ করা ব্যক্তি বা সংন্থাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করে আসা হচ্ছে। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসর দ্বারা প্রদত্ত এই পুরস্কারে আছে একটি প্রশস্তি পত্র ও ২.৫ লাখ টাকা।[১]

ভারতেন্দু পুরস্কার[সম্পাদনা]

১৯৮৩ সাল থেকে ভারত সরকার সাংবাদিকতা, প্রকাশন, প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেওয়া বিশিষ্ট সেবার জন্য ভারতেন্দু পুরস্কার শুরু করেছে। প্রথম অবস্থায় এই পুরস্কার হিন্দী ভাষার লেখনির ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়েছিল।

রাজীব গান্ধী খেল রত্ন পুরস্কার[সম্পাদনা]

এই পুরস্কার ১৯৯১-৯২ সাল থেকে প্রদান করে আসা হচ্ছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখা ব্যক্তিকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারে আছে নগদ তিন লাখ টাকা, একটি মেডেল ও একটি প্রশস্তি পত্র।

কমল কুমারী জাতীয় পুরস্কার[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালে স্থাপিত কমল কুমারী ফাউণ্ডেসন সংস্কৃতি (সাহিত্য, শিক্ষা, চারুকলা ও পরিবেশনা কলা) ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির দিকে বিশিষ্ট অবদান রাখা ব্যক্তিকে এই পুরস্কার প্রদান করে। এই পুরস্কারে আছে এক লাখ টাকা, একটা ট্রফি ও একটি প্রশস্তি পত্র।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার[সম্পাদনা]

সর্বভারতীয় ও আঞ্চলিক ভাষার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দিকে প্রতি বছর বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়। সর্বভারতীয় ভিত্তিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য স্বর্ণকমল ও অন্য আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য রজতকমল পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনান্য[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শান্তনু কৌশিক বরুয়া। জানানে (নতুন সংস্করণ)। ইলা শর্মা, জ্যোতি প্রকাশণ। পৃষ্ঠা ১৭৮, ১৭৯, ১৮০,১৮১। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


টেমপ্লেট:ভারতের জাতীয় পুরস্কার ও সম্মান