ব্যক্তিগত কম্পিউটার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
একটি ব্যক্তিগত ডেস্কটপ কম্পিউটারের সমসাময়িক চিত্র

একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার হল সাধারণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কম্পিউটার। এর আকার, ক্ষমতা এবং প্রকৃত দাম একজন ব্যক্তির জন্য উপযোগি এবং একজন ব্যবহারকারীর দ্বারা সরাসরি পরিচালিত হয় কোন তৃতীয় পক্ষ ছাড়া।[১] এই ব্যবস্থাটি সময় অংশীদারি মডেল অথবা ক্রমানুসারে প্রক্রিয়াকারী ব্যবস্থার ঠিক বিপরীত কারণ অংশীদারি মডেল অথবা ক্রমানুসারে প্রক্রিয়াকারী ব্যবস্থায় বড়, দামি মিনিকম্পিউটার এবং মেইনফ্রেম কম্পিউটার ব্যবহার করা হয় যা একই সঙ্গে অনেক মানুষ ব্যবহার করে। বড় ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার পূর্ন সময়ের একজন পরিচালনাকারীর প্রয়োজন হয়।

বেশিরভাগ ব্যক্তিগত কম্পিউটারেই সফটওয়্যার এ্যাপ্লিকেশন যেমন ওয়ার্ড প্রসেসিং, স্প্রেডশিট, ডাটাবেস, ওয়েব ব্রাউজার এবং ইমেইল ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারগুলো চলে। সফটওয়্যার চালানোর কোন সীমা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে নেই। এছাড়া ডিজিটাল মাধ্যম চালনা, গেমস, নিজস্ব প্রয়োজনীয় উৎপাদনশীলতার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সফটওয়্যার চালানো যায়। আধুনিক ব্যক্তিগত কম্পিউটারগুলোতে প্রায়শই ইন্টারনেট সুবিধা থাকে যা বিশ্ব বিস্তৃত ওয়েবে প্রবেশ করতে দেয় সাথে আরো অনেক ইন্টারনেট সম্পদ ব্যবহারের সুবিধাও থাকে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার ল্যান তার বা তার বিহীন সংযোগের মাধ্যমে ল্যানের সাথে যুক্ত হতে পারে। একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার হতে পারে ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ কম্পিউটার, নেটবুক, ট্যাবলেট অথবা পালমটপ

আগের পিসি ব্যবহারকারীদের সাধারণত নিজেদের প্রোগ্রাম লিখতে হত যাতে করে তা নিজেদের কাজে ব্যবহার করা যায়, তাতে হয়ত এমনকি কোন অপারেটিং সিস্টেমও থাকত না। একেবারে আগের মাইক্রোকম্পিউটারগুলোতে ছিল সামনের দিকের প্যানেল, হাতে করা বুটস্ট্র্যাপ প্রোগ্রাম, যা দিতে হত বাহ্যিক স্টোরেজ থেকে (পেপার টেপ, ক্যাসেট, ডিস্কেট)।

বর্তমানের ব্যবহারকারীরা বিশাল সফটওয়্যার ভান্ডার থেকে বানিজ্যিক সফটওয়্যার, ফ্রী ওয়্যার, ফ্রী এবং মুক্ত উৎসের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে। এগুলো সবগুলোই একেবারে তৈরী অবস্থায় পাওয়া যায়। যে কেউ ডাউনলোড করে ব্যবহার করে নিতে পারে সহজেই। এ্যাপ্লিকেশন এবং গেমসগুলো হার্ডওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম প্রস্তুতকারদের থেকে অন্যরা স্বাধীনভাবে তৈরী এবং বন্টন করে। যেখানে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বহনযোগ্য সিস্টেমের সফটওয়্যার সমর্থন এবং বন্টন করা হয় কেন্দ্রীয় অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে।[২][৩]

১৯৯০ দশক থেকেই মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেম এবং ইন্টেল হার্ডওয়্যার এমএস-ডস এবং উইন্ডোজ দিয়ে বাজার আধিপত্য বজায় রেখেছে। উইন্ডোজের বিকল্প জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম অ্যাপল ওএস এক্স এবং ফ্রী মুক্ত উৎসের লিনাক্স এবং বিএসডি অপারেটিং সিস্টেম। ইন্টেলের সিপিইউ'র বিকল্প হল এএমডি। সর্বব্যাপিতার কারণে পিসি বলতে বিশেষ করে এক্স৮৬-সামঞ্জস্য ব্যক্তিগত কম্পিউটার যাতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে তাকে বোঝায় আবার অ্যাপলের পন্যকে ম্যাক হিসেবে বুঝানো হয়।[৪][৫][৬][৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার পিয়ের জর্জিয়ো পেরোটো একটি ব্যক্তিগত ডেস্কটপ কম্পিউটার আবিষ্কার করেন যার নাম প্রোগ্রাম ১০১ এবং এটিই প্রথম বানিজ্যিক ব্যক্তিগত ডেস্কটপ কম্পিউটার যা ইতালিয়ান কোম্পানি অলিভেট্টি উৎপাদন করেন। প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সালে এটি ছাড়া হয় নিউ ইয়র্ক বিশ্ব মেলায়, দাম ছিল $৩২০০ এবং ভলিউম হারে উৎপাদন হয় ১৯৬৫ সালে।[৮] প্রোগ্রামা ১০১ আসার পূর্বে কম্পিউটার ছিল একেকটা ট্রাকের সমান এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অভিজ্ঞরাই ব্যবহার করত। কিন্তু প্রোগ্রামার আকার ছিল একটি টাইপরাইটারের সমান যা সবার ব্যবহার করতে পারত।

নাসা কম করে হলেও দশটি প্রোগ্রামা ১০১ নিয়ে আসে এ্যাপোলো ১১ মিশনে (১৯৬৯) হিসাব নিকাষ করার সুবিধার্থে। এবিসি প্রোগ্রামা ১০১ ব্যবহার করেছিল ১৯৬৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভবিষ্যৎ বানী করতে। এছাড়া আমেরিকান সেনাবাহিনী ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাদের কর্মপরিকল্পনার জন্য এটি ব্যবহার করেছিল। এটি সেসময় স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি অফিসে ব্যবহার করা হত। এই বিপুল ব্যবহারই ব্যক্তিগত কম্পিউটারের যুগের সূচনা করে।

১৯৬৮ সালে হিউলেট প্যাকার্ডকে বলা হয় $৯০০০,০০০ রয়্যালটি অলিভেট্টি কোম্পানিকে পরিশোধ করতে। কারণ এইচপি'র তৈরি করা ৯১০০এ মডেলটি প্রোগ্রামাতে ব্যবহৃত কিছু প্রযুক্তির (চৌম্বকীয় কার্ড, আর্কিটেকচার এবং অন্যান্য কিছু উপাদান) হুবহু কপি করেছে বলে আদালত রায় দেয়।[৮]

১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে সোভিয়েতের এমআইআর ধারার কম্পিউটার তৈরি করা হয় যার নেতৃত্বে ছিল ভিক্টর গুলসকভ। এটি খুবই ছোট করে নকশা করা হয় যাতে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা যায়। এতে উচ্চ-স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। এতে নব্যধারা হিসেবে যোগ করা হয় ব্যবহারকারী ইন্টারফেস একটি কিবোর্ড, মনিটর, এবং একটি লাইট পেন যাতে প্রদশর্নীতে লেখা এবং আঁকা ঠিক করা যায়।[৯]

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

স্থানান্তর অযোগ্য[সম্পাদনা]

ওয়ার্কস্টেশন[সম্পাদনা]

ওয়ার্কস্টেশন হল উচ্চ মানের পিসি যার নকশা করা হয়েছে বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত প্রায়োগিগ ব্যবহারের জন্য। একই সময়ে একজন ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে। এগুলো সাধারণত ল্যান দ্বারা সংযুক্ত থাকে এবং বহু ব্যবহারকারী অপারেটিং সিস্টেম চালানো হয়। এগুলো কম্পিউটার সহায়ক নকশা, মডেলিং তৈরী, খসড়া তৈরী, কম্পিউটার-নিবিড় বৈজ্ঞানিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং হিসাব নিকাশ, ছবি প্রক্রিয়াকরণ, স্থাপত্য সংক্রান্ত মডেলিং এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন ও ভিজুয়্যাল ইফেক্ট আনতে ব্যবহার করা হয়।

ডেস্কটপ কম্পিউটার[সম্পাদনা]

পিসির বহুল ব্যবহারের পূর্বে, টেবিলে রাখা যেতে পারে এমন একটি কম্পিউটার ভাবা হত খুবই ছোট। আজকের দিনে এই শব্দটি সাধারণত নির্দেশ করে বিশেষ ধরনের কম্পিউটার বক্সকে। ডেস্কটপ কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের দেখতে পাওয়া যায় বড় উলম্ব টাওয়ারের মত বক্সে থেকে শুরু করে ছোট মডেলের যেগুলো মনিটরের নিচে রেখে দেওয়া যায়। এই অবস্থা থেকে এগুলোকে ডেস্কটপ বলে ডাকা শুরু হয়। যার মাধ্যমে ডেস্কের উপরের জায়গা বাচানো হত। বেশিরভাগ আধুনিক কম্পিউটারগুলোতে আলাদা প্রদশর্নী, মাউস এবং কিবোর্ড আছে।

গেমিং কম্পিউটার[সম্পাদনা]

গেমিং কম্পিউটারে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হার্ডওয়্যার থাকে যেমন উচ্চ ক্ষমতার ভিডিও কার্ড, প্রসেসর, মেমোরি ইত্যাদি যাতে করে ভিডিও গেম সহজে খেলা যায়। এই ভিডিও গেমগুলোকে পিসি গেমও ডাকা হয়। কয়েকটি কোম্পানি যেমন এ্যলিয়েনওয়্যার গেমিং কম্পিউটার প্রস্তুত করে আর রেজার, লজিটেক গেমের জন্য মাউস, কিবোর্ড এবং হেডসেট প্রভৃতি গেমারদের জন্য প্রস্তুত ও বাজারজাত করে থাকে।

এক একক পিসি[সম্পাদনা]
আরও তথ্যের জন্য দেখুন: একের-মধ্যে-সব কম্পিউটার

এক একক পিসি বা একের-মধ্যে-সব পিসি ডেস্কটপ পিসিরই আরেকটি উপশ্রেণী। যাতে মনিটর, পিসির মূল বক্স একত্র করে লাগানো থাকে। মনিটর প্রায়ই টাচস্ক্রীন বা স্পর্ষ নিয়ন্ত্রিত হয় কিন্তু এতে মাউস, কিবোর্ড লাগানো যায়। অন্যান্য ভিতরের উপাদানগুলো মনিটরের পিছনের দিকে থাকে যা ল্যাপটপের মতই বানানো হয়।

নেটটপ[সম্পাদনা]

ডেস্কটপের একটি উপশ্রেণী হল নেটটপ। প্রথম ইন্টেল দ্বারা সূচিত হয় ২০০৮ সালে ফেব্রুয়ারিতে এবং এটির ডেস্কটপের মত বৈশিষ্ট্য থাকে কিন্তু কম দামি এবং কম ক্ষমতা সম্পন্ন হয়। ল্যাপটপের যেমন একটি উপশ্রেণী নেটবুক ঠিক সেইরকম ডেস্কটপের নেটটপ। এই পণ্যে ইন্টেল তাদের এটম প্রসেসর ব্যবহার করে যা কম শক্তি ব্যবহার করে এবং অল্প পরিমান জায়গায় ব্যবহার করা যায়।

হোম থিয়েটার পিসি[সম্পাদনা]

হোম থিয়েটার পিসি হল একটি সমধর্মী যন্ত্র যাতে পিসি এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের কার্যাবলি দেখতে পাওয়া যায়। এটি টিভি বা টিভি আকারের কম্পিউটার প্রদর্শনীর সাথে যুক্ত থাকে এবং এতে ডিজিটাল ছবি, সঙ্গীত, ভিডিও চালানো হয়। তাছাড়া একে টিভি গ্রহণকারী এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এগুলোকে সেকারনে কেন্দ্রিয় মিডিয়া ব্যবস্থা বা মিডিয়া সার্ভার হিসেবেও ডাকা হয়। হোম থিয়েটার পিসির সাধারণ ব্যবহারিক উদ্দেশ্য হল একটি হোম থিয়েটারে যে সব উপাদান থাকে তার সব বা কিছু উপাদান একটি মাত্র বক্সে একত্র করা। তাদের পূর্ব-সাজানো অবস্থায় (প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের দিয়ে) পাওয়া যায় অথবা পরবর্তীতে পৃথক পৃথক অংশ জোড়া দেওয়া যায় যেমনটা মিথটিভি, উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার, জিবি-পিভিআর, সেজটিভি, ফেমুলেন্ট বা লিনাক্সএমসিই'তে করা হয়। সম্প্রতি হোম থিয়েটার পিসিকে সিনেমা বা টিভি অনুষ্ঠান দেখার সেবাতে যুক্ত করার সুবিধা দেখা যায়।

বহনযোগ্য[সম্পাদনা]

আল্ট্রা-মোবাইল পিসি[সম্পাদনা]

ট্যাবলেট পিসির ছোট মাপ ও ক্ষমতার রূপকে আল্ট্রা-মোবাইল পিসি (ইউএমপিসি) বলে। মাইক্রোসফট, ইন্টেল এবং স্যামস্যাঙসহ আরো অন্যান্যদের সহযোগে এটি তৈরী করা হয়। বর্তমানে এগুলোতে উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিসতা, উইন্ডোজ সেভেন বা লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম দেখা যায়। এগুলোতে নিম্ন-ভোল্টেজের ইন্টেল এটম বা ভিআইএ সি৭-এম প্রসেসরের ব্যবহার দেখা যায়।

হার্ডওয়্যার[সম্পাদনা]

শক্তি সরবরাহ একক[সম্পাদনা]

কম্পিউটার শক্তি সরবরাহ একক উপরস্ত ঢাকনা খোলা অবস্থায়

শক্তি সরবরাহ একক সাধারণ উদ্দেশ্যের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রবাহকে রূপান্তর করে সরাসরি বিদ্যুত কম্পিউটারের অন্যান্য উপাদানগুলোতে সরবরাহ করে। হিসেব মত সিস্টেমে যে পরিমান শক্তি সরবরাহ প্রয়োজন তার থেকে আউটপুট করা হারের ক্ষমতা প্রায় ৪০ ভাগ বেশি হবে। কারণ এতে সিস্টেমের অন্যান্য উপাদানে হিসেবও যোগ করা হয়। এই হিসেবের ফলে শক্তি সরবরাহকারী এককটি রক্ষা পায় অতিরিক্ত চার্জ/লোড হওয়া থেকে এবং কার্যক্ষমতা হ্রাসকে প্রতিরোধ করে।

প্রদর্শনী একক[সম্পাদনা]

একটি প্রদর্শনী একক বা "কম্পিউটার মনিটর" বা প্রদর্শনী হল একটি বৈদ্যুতিক যন্তু যা সাধারণত আলাদা থাকে কম্পিউটার বক্স থেকে এবং যা দৃশ্যমান চিত্র প্রদর্শন করে। প্রদর্শনী হতে পারে সিআরটি বা ফ্ল্যাট প্যানেল যেম টিএফটি এলসিডি। বহু-মনিটর ব্যবহারও দেখা যায়।

কম্পিউটার হতে প্রদত্ত সংকেত প্রদর্শনীর সার্কিটে এলে তা ছবি উৎপাদন করে। কম্পিউটারের মধ্যেই একটি যন্ত্র থাকে যা সিপিইউ হতে প্রাপ্ত সংকেতকে প্রদশর্নী পড়তে পারে এমন সংকেতে রূপান্তর করে। সেটি হতে পারে মাদাবোর্ডের সাথে সমন্বিত কার্ড, সম্প্রসারিত কার্ড যা আসলে একটি ভিডিও কার্ড।

পূর্বে শুধু লেখা ভিত্তিক কম্পিউটার মনিটর ছিল যা পরে চিত্রভিত্তিক ইন্টারফেসে পরিনত হয় এবং সেটিই স্থায়ীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে আজকাল। এর ফলে এখন কম্পিউটার প্রদশর্নী আরো বেশি চিত্র এবং বহুমাধ্যম উপভোগের বস্তু হয়ে উঠছে।

ভিডিও কার্ড[সম্পাদনা]

ভিডিও কার্ড অন্যভাবে যাকে বলে গ্রাফিক্স কার্ড, গ্রাফিক্স এডাপ্টার বা ভিডিও এডাপ্টার। এটি হল এমন একট যন্ত্র যা মাদারবোর্ড থেকে প্রাপ্ত গ্রাফিক্স প্রক্রিয়াকরণ করে এবং তা প্রদর্শনীতে স্থানান্তর করে। এটি আধুনিক যুগের বহুমাধ্যমের আবশ্যকীয় অংশ।

পুরনো এবং বর্তমানের কমদামি মডেলগুলোতে গ্রাফিক্স সার্কিটটি মাদারবোর্ডের সাথে সমন্বিত থাকে কিন্তু আধুনিক এবং নমনীয় যন্ত্রগুলোতে গ্রাফিক্স কার্ড পিসিআই, এজিপি বা পিসিআই ইক্সপ্রেস দ্বারা যুক্ত থাকে।

যখন আইবিএম পিসি সূচনা করা হয়েছিল, বেশিরভাগ ব্যবসায়িক ধারার পিসিতে ব্যবহার হত লেখা ভিত্তিক প্রদর্শনী এডাপ্টার এবং কোন গ্রাফিক্স প্রদর্শন ক্ষমতা ছিল না। বাড়ির কম্পিউটারগুলোতে গ্রাফিক্স ছিল যা টেলিভিশনের সংকেতের সাথে সামঞ্জস্য ছিল। কিন্তু বর্তমানের তুলনায় তাতে রেজুলেশন কম ছিল। সেগুলো ছিল মাত্র আট বিটের প্রসেসরের এবং সীমিত পরিমান মেমোরি সম্বলিত।

অন্যান্য উপাদান[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে কাজের সময় সঠিকভাবে উপাদানগুলো বসানো জরুরী অন্যথায় পুনপুন মাংসপেশির খিলজনিত সমস্যা হতে পারে। যা পরে দীর্ঘ সময়ের জন্য অক্ষমতার কারণ হতে পারে।[১০]
কম্পিউটার যোগাযোগ
সাধারণ এডাপ্টার এবং পেরিফেরালসমূহ

সফটওয়্যার[সম্পাদনা]

কম্পিউটার সফটওয়্যার হল এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম, গাণিতিক প্রক্রিয়া অথবা দলিলাদি যা কম্পিউটারে নির্দেশিত কাজ করে।[১১] এপ্লিকেশন সফটওয়্যার যেমন ওয়ার্ড প্রসেসর যা বিভিন্ন উৎপাদনমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়, সিস্টেম সফটওয়্যার যেমন অপারেটিং সিস্টেম যা ব্যবহারকারী এবং হার্ডওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, সবই সফটওয়্যারের উপশ্রেণী।

সফটওয়্যার এ্যাপ্লেকেশন দিয়ে বিভিন্ন কাজ যেমন ওয়ার্ড প্রসেসিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইন্টারনেট ফ্যাক্সিং, ইমেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল বার্তা পদ্ধতি, বহু মাধ্যম চালানো, কম্পিউটার গেম খেলা এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করা সাধারণ ধরা হয়। আধুনিক কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হয়ত অপারেটিং পরিবেশ এবং এ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান থাকতে পারে। কিন্তু তা হয়ত প্রোগ্রামিংয়ের জন্য নয় বা প্রোগ্রাম লেখার জন্যও নয়। সফটওয়্যার যা ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয় বেশিরভাগ সময়ই তা হয় সহজ সরল বা ব্যবহারকারী বান্ধব করে। বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই সফটওয়্যার শিল্প প্রচুর পরিমান নতুন সফটওয়্যার সরবরাহ করে।

অপারেটিং সিস্টেম[সম্পাদনা]

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ[সম্পাদনা]

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ হল বেশ কিছু অপারেটিং সিস্টেমের সমষ্টির নাম যা মাইক্রোসফট দ্বারা প্রস্তুতকৃত। মাইক্রোসফট প্রথমে ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে কম্পিউটার পরিচালনার পরিবেশ সূচনা করে যার নাম উইন্ডোজ।[১২] এটি ছিল এমএস-ডসের পাশাপাশি তৈরী করা গ্রাফিক্যাল বা চিত্রভিত্তিক ব্যবহারকারী পরিবেশ যার চাহিদা তখন ধীরে ধীরে বাড়ছিল[১৩][১৪] অ্যাপলের মেকিনটোশের সূচনার ফলে (১৯৮৪)।[১৫] সাম্প্রতিক সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ছাড়া হয় উইন্ডোজ ৮.১ এবং সার্ভার ব্যবহারকারীদের জন্য উইন্ডোজ সার্ভার ২০১২। এই অপারেটিং সিস্টেম পরিবারের আরো সদস্য হল জনপ্রিয় উইন্ডোজ এক্সপি, ভিসতা, সেভেন ইত্যাদি

ওএস এক্স[সম্পাদনা]

ওএস এক্স (যাকে ম্যাক ওএস এক্স নামে চেনা যায়) হল অ্যাপল ইকর্পোরেটেড কতৃক তৈরী, বাজারজাত এবং বিক্রিত অপারেটিং সিস্টেম। ওএস এক্স হল আসল ম্যাক ওএসের সফল উত্তরসূরী যা ১৯৮৪ থেকে অ্যাপলের প্রাথমিক অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি ইউনিক্স ভিত্তিক চিত্রসম্বলিত অপারেটিং সিস্টেম এবং স্নো লেপার্ড, লিওপার্ড, মাউন্টেন লায়ন এবং নতুন মাভেরিকস হল এর কিছু ভার্সনের নাম। সাম্প্রতিক ভার্সনের নাম হল ওএস এক্স ইয়োসিমাইট।

আইফোন, আইপ্যাড এবং আইপডে আইওএস নামে যে অপারেটিং সিস্টেম দেখা যায় যা ওএস এক্স থেকেই বানানো। আইওএস ১.০ থেকে শুরু করে ৮ ভার্সন পর্যন্ত পাওয়া যায়।

লিনাক্স[সম্পাদনা]

একটি লিনাক্স বন্টিত অপারেটিং সিস্টেম

লিনাক্স হল ইউনিক্সের মত দেখতে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম। মুক্ত উৎসের এবং ফ্রী সফটওয়্যারের প্রধান উদাহরনের মধ্যে এটি একটি। এতে সমস্ত সোর্স কোড উন্মুক্ত রাখা হয় যে কেউ তা পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারে বা বন্টনও করতে পারে।[১৬] লিনাক্স নামটি এসেছে লিনাক্স কারনেল থেকে যা ১৯৯১ সালে লিনাস টোর্ভালডস শুরু করেছিল। সিস্টেমটির ইউটিলিটি এবং লাইব্রেরি এসেছে গনু (জিএনইউ) অপারেটিং সিস্টেম থেকে যা ১৯৮৩ সালে রিচার্ড স্টলম্যান ঘোষনা করেন। গনু অবদানটাকেই বিকল্প গনু+লিনাক্সের ভিত্তি ধরা হয়।[১৭]

লিনাক্স ডেল, এইচপি, আইবিএম, নভেল, ওরাকল, রেডহ্যাট, ক্যানোনিকাল এবং সান মাইক্রোসিস্টেম দ্বারা সমর্থিত। বিভিন্ন কম্পিউটার যেমন ডেস্কটপ, নেটবুক, সুপারকম্পিউটারে একে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।[১৮] এছাড়া ভিডিও গেম সিস্টেম যেমন প্লেস্টেশন ৩ (সনির এই ঐচ্ছিক পছন্দটি বাদ দেয়ার আগ পর্যন্ত[১৯]), বিভিন্ন আর্কেড গেমস এবং প্রোথিত যন্ত্রসমূহ যেমন মোবাইল ফোন, বহনযোগ্য মিডিয়া প্লেয়ার, রাউটার এবং মঞ্চের আলোক ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হয়।

বিষাক্ততা[সম্পাদনা]

কম্পিউটার হার্ডওয়্যারে বিষাক্ত সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, প্লাস্টিক (পিভিসি) এবং বেরিয়ম পাওয়া যায়। একটি কম্পিউটারে প্রায় ১৭ ভাগ সীসা, তামা, দস্তা, পারদ এবং ক্যাডমিয়াম; ২৩ ভাগ প্লাস্টিক, ১৪ ভাগ এলুমিনিয়াম এবং ২০ ভাগ লোহা থাকে।

সীসা পাওয়া যায় সিআরটি প্রদর্শনী, ছাপানো সার্কিট বোর্ডগুলোতে এবং সম্প্রসারিত কার্ডগুলোতে। পারদ থাকে প্রদশর্নীর ফ্লুরোসেন্ট বাতিতে, লেজার আলোক উৎপাদনকারী অপটিক্যাল ডিস্ক ড্রাইভে এবং মাদারবোর্ডের গোল রূপালি ব্যাটারিগুলোতে। প্লাস্টিক থাকে কম্পিউটার বক্সে এবং প্রদশর্নীর ধারক হিসেবে।

প্রতিদিন ব্যবহারের সময় এগুলো কোন ক্ষতি করে না কিন্তু বিপত্তি হয় তখন যখন এগুলোকে পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় হার্ডওয়্যারগুলোকে হাতে করে ভাঙতে হয়, যার ফলে সীসা বা পারদ উন্মুক্ত হয়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সীসা বা পারদ সহজেই মানুষের মষ্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে বা খাবার পানিতে মিশে যেতে পারে। কম্পিউটার পুনঃব্যবহার প্রক্রিয়া বৈদ্যুতিক বর্জ্য শিল্পের দ্বারাই সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় এবং তা সাধারণ ময়লা আবর্জনার স্তুপে না ফেলাই উচিত।

পিসি গেমিং[সম্পাদনা]

উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পিসি বাজারে পিসি গেমিং খুব জনপ্রিয়। একটি গেমিং কর্মযজ্ঞের স্থান যেমন স্টিম (সফটওয়্যার) এবং জিওজি.কম (এছাড়াও অন্যান্য প্রতিযোগি ই-খেলা সাইটগুলো) কনসোল গেমের রাজস্ব কমার পেছনে দায়ী।[২০]

"ব্যক্তিগত কম্পিউটার" বনাম "পিসি"[সম্পাদনা]

"পিসি" ইংরেজি "Personal Computer" শব্দ থেকে অদ্যঅক্ষর নিয়ে গঠিত (PC). কিন্তু এটা আসলে অন্য বিষয়কে বুঝায় বিশেষ করে এক্স৮৬-সামঞ্জস্য ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে যাতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে (মাঝে মাঝে একে উইনটেল নামে ডাকা হয়)। আবার অ্যাপলের পন্যকে ম্যাক হিসেবে বুঝানো হয়। সেদিক থেকে পিসি ম্যাকের সাথে তুলনা করে ডাকা হয়।[২১][২২][২৩][২৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  • কম্পিউটার ভাইরাস
  • ডেস্কটপ কম্পিউটার
  • ডেস্কটপ প্রতিস্থাপক কম্পিউটার
  • ই-বর্জ্য
  • আইবিএম ৫১০০
  • উন্নয়নের জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি
  • ল্যাপটপ
  • কম্পিউটার সিস্টেম প্রস্তুতকারকদের তালিকা
  • পিসি প্রস্তুতকারকদের বাজার অংশীদারিত্ব
  • ব্যক্তিগত কম্পিউটার যাদুঘর
  • বহনযোগ্য কম্পিউটার
  • সর্বজনীন কম্পিউটার
  • কোয়াইট পিসি
  • পিসি গেম
  • ট্র্যাশওয়্যার
  • কম্পিউটার খোপ/বক্স

টীকাসমূহ[সম্পাদনা]


তথ্য সূত্রসমূহ[সম্পাদনা]

  1. Encyclopaedia Britannica definition
  2. Conlon, Tom (জানুয়ারি ২৯, ২০১০), The iPad’s Closed System: Sometimes I Hate Being Right, Popular Science, সংগৃহীত ২০১০-১০-১৪, "The iPad is not a personal computer in the sense that we currently understand." 
  3. "Steve Jobs Offers World 'Freedom From Porn'", Gawker, মে ১৫, ২০১০, সংগৃহীত ২০১০-১০-১৪ 
  4. "Mac* vs. PC Debate"intel.comIntel। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  5. Finnie, Scot (৮ জুন ২০০৭)। "Mac vs. PC cost analysis: How does it all add up?"Computerworld। Computerworld, Inc। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  6. Ackerman, Dan (২২ আগস্ট ২০১৩)। "Don't buy a new PC or Mac before you read this"CNETCBS Interactive। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  7. Haslam, Karen (১১ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Mac or PC? Ten reasons why Macs are better than PCs"MacworldIDG। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  8. ৮.০ ৮.১ "The incredible story of the first PC, from 1965"। Pingdom। সংগৃহীত আগস্ট ২৮, ২০১২ 
  9. Pospelov, Dmitry। [MIR series of computers. The first personal computers] |trans-title= |title= প্রয়োজন (সাহায্য)Glushkov Foundation (Russian ভাষায়)। Institute of Applied Informatics। সংগৃহীত নভেম্বর ১৯, ২০১২ 
  10. Berkeley Lab. Integrated Safety Management: Ergonomics.[অকার্যকর সংযোগ] Website. Retrieved July 9, 2008.
  11. "Wordreference.com: WordNet 2.0"। Princeton University, Princeton, NJ। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-১৯ 
  12. "A history of Windows: Highlights from the first 25 years" 
  13. Mary Bellis। "The Unusual History of Microsoft Windows"। About.com। সংগৃহীত ২০১০-১০-১৪ 
  14. "IDC: Consolidation to Windows won't happen"। Linuxworld। সংগৃহীত ২০১০-১০-১৪ 
  15. "Thirty Years of Mac: 1984 - Macintosh"। Apple। সংগৃহীত মে ৮, ২০১৪ 
  16. "Linux Online ─ About the Linux Operating System"। Linux.org। সংগৃহীত ২০০৭-০৭-০৬ 
  17. Weeks, Alex (২০০৪)। "1.1"Linux System Administrator's Guide (version 0.9 সংস্করণ)। সংগৃহীত ২০০৭-০১-১৮ 
  18. Lyons, Daniel (মার্চ ১৫, ২০০৫)। "Linux rules supercomputers"Forbes। সংগৃহীত ২০০৭-০২-২২ 
  19. Patrick Seybold (মার্চ ২৮, ২০১০)। "PS3 Firmware (v3.21) Update"। PlayStation.Blog। সংগৃহীত মার্চ ২৯, ২০১০ 
  20. http://www.kotaku.com.au/2014/04/pc-gaming-revenue-has-now-overtaken-console-gaming/
  21. "Mac* vs. PC Debate"intel.comIntel। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  22. Finnie, Scot (৮ জুন ২০০৭)। "Mac vs. PC cost analysis: How does it all add up?"Computerworld। Computerworld, Inc। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  23. Ackerman, Dan (২২ আগস্ট ২০১৩)। "Don't buy a new PC or Mac before you read this"CNETCBS Interactive। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 
  24. Haslam, Karen (১১ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Mac or PC? Ten reasons why Macs are better than PCs"MacworldIDG। সংগৃহীত ৫ অক্টোবর ২০১৪ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Accidental Empires: How the boys of Silicon Valley make their millions, battle foreign competition, and still can't get a date, Robert X. Cringely, Addison-Wesley Publishing, (1992), ISBN 0-201-57032-7
  • PC Magazine, Vol. 2, No. 6, November 1983, ‘’SCAMP: The Missing Link in the PC's Past?‘’

বহিঃ সূত্রসমূহ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:টাইমের দৃষ্টিতে বছরের সেরা ব্যক্তি ১৯৭৬-২০০০