মেইনফ্রেম কম্পিউটার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
একটি আইবিএম সিস্টেম জেড৯ মেইনফ্রেম

মেইনফ্রেম কম্পিউটার (কথ্যরূপে যাকে বলে "বড় লৌহ"[১]) হল বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত কম্পিউটার যেগুলো দিয়ে কঠিন প্রায়োগিগ কাজ, এক সঙ্গে অনেক ডাটা প্রক্রিয়াকরণ যেমন শুমারি, শিল্প ও ক্রেতা পরিসংখ্যান, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্পদ পরিকল্পনা এবং আদান-প্রদান প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

এই নামটি এসেছে আসলে বড় ধরনের দেরাজ বা তাকযুক্ত আলমারির গঠন/আকৃতি থেকে যেগুলো কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট এবং প্রধান মেমোরি রাখার জন্য ব্যবহার করা হত।[২][৩] পরবর্তীতে এই নামটি ব্যবহার করা হয় কম ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার থেকে বানিজ্যিক উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটারকে আলাদা করতে।[৪] বেশিরভাগ বড় ধরনের কম্পিউটার সিস্টেমের নকশা করা হয়েছিল ১৯৬০ দশকে এবং তারপর স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে থাকে।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

আধুনিক মেইনফ্রেম নকশাকে শুধুমাত্র একক-কাজের গণনা গতি (এমআইপিএস হার বা এফএলওপিএস) দিয়ে ভালভাবে প্রকাশ করা যায় না, আরো ভালভাবে বলতে গেলে:

  • অভ্যন্তরীন বাড়তি ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের ফলে এগুলো এখন উচ্চ মাত্রায় নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য
  • যোগ হয়েছে ব্যাপক ইনপুট-আউটপুট সুবিধা আলাদা ইঞ্জিনে অফলোড করার ক্ষমতার সাথে সাথে।
  • পুরনো সফটওয়্যারের সাথে পূর্ন সামঞ্জস্যতা
  • উচ্চ হার্ডওয়্যার এবং গাণিতিক হারের সদ্ব্যবহার ভার্চুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে যাতে তা ব্যপক প্রক্রিয়াস্থিত উৎপাদন সমর্থন করে।

এগুলোর উচ্চ সুস্থিত অবস্থা এবং নির্ভরযোগ্যতার ফলে এগুলোকে বছর এমকি কয়েক দশকও নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালানো যায়। সফটওয়্যার আপগ্রেডের সময় অপারেটিং সিস্টেম বা অংশবিশেষ বিন্যস্ত করার প্রয়োজন হয়। এবং ব্যহত করা ছাড়াই তা করা যায় যদি তাতে ভার্চুয়ালাইজেন সুবিধা ব্যবহার করা হয় যেমনটা আছে আইবিএম জে/ওএস, প্যারালাল সিসপ্লেক্স বা ইউনিসিস এক্সপিসিএলে। এগুলোতে আছে কাজ ভাগ করে নেয়ার সুবিধা ফলে একটি সিস্টেমের কাজ অন্য একটি সিস্টেমকে দিয়ে তাকে আপগ্রেড বা পুনরায় ঠিকঠাক করে নেয়া যায়। মেইনফ্রেমের ব্যবহার হল উচ্চ সক্ষমতার প্রয়োজন হয় এমন জায়গায় কারণ এগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি এবং দ্রুত হয়। যেসম কাজে খরচ বেশি এবং সময় বেশি লাগার সম্ভবনা রয়েছে সেগুলো মেইনফ্রেম করে দিতে পারে। মেইনফ্রেমের বেলায় নির্ভরযোগ্যতা, প্রাপ্যতা ও সেবা সক্ষমতাকে (আরএএস) মেইনফ্রেমের বৈশিষ্ট্যসূচক গুনাবলি হিসেবে ধরা হয়। এই সব গুণাবলিকে কাজে লাগতে হলে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। যদি ঠিক মত প্রয়োগ করা না হয় তবে ফলাফল হয় বাধাগ্রস্থ। আরো যোগ করা যায় যে, মেইনফ্রেম হল অন্য প্রকারের কম্পিউটার থেকে আরো বেশি নিরাপদ। এনআইএসটি আক্রম্যতা ডাটাবেজ ইউএস-সিইআরটি হার অনুযায়ী মেইনফ্রেম (যেমন আইবিএম জেডসিরিজ, ইউনিসিস ডোরাডো, ইউনিসিস লিবরা) হল সবচেয়ে নিরাপদ আক্রম্যতার দিক দিয়ে উইন্ডোজ, ইউনিক্স এবং লিনাক্সের তুলনায়।[৫]

১৯৫০ দশকের শেষের দিকে বেশিরভাগ মেইনফ্রেমের কোন বাহ্যিক পারস্পরিক কোন মাধ্যম ছিল না। মেইনফ্রেমগুলোতে পাঞ্চডকার্ড, পেপার টেপ বা চৌম্বকীয় টেপের মাধ্যমে ডাটা এবং প্রোগ্রাম স্থানান্তর করত। তাদের ব্যবহার করা হত অনেকগুলো কাজ একসাথে সমাধা করা জন্য যেমন ক্রেতার বিল করা এবং সমর্থিত পারস্পরিক মিথস্ক্রিয় টার্মিনালগুলোকে আলাদাভাবে শুধু প্রায়োগিগ কাজে ব্যবহার করত, প্রোগ্রামের উন্নয়নে ব্যবহার না করে। ১৯৭০ দশকে টাইপরাইটার এবং টেলিটাইপ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হত নিয়ন্ত্রন যন্ত্র হিসেবে যদিও সেটা পরবর্তীতে কিবোর্ড/প্রদশর্নী যন্ত্র দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে যায়। ১৯৭০ দশকের শুরুর দিকে, অনেকগুলো মেইনফ্রেমেই ছিল পারস্পরিক মিথস্ক্রিয় মাধ্যম[NB ১] এবং পরিচালনা করা হত টাইমশেয়ারিং কম্পিউটারের মত। যাতে একই সাথে একাধিক ব্যবহারকারী ও একই সাথে অনেক কাজ পরপর করার নির্দেশ একসাথেই চলত। ব্যবহারকারীরা বিশেষ টার্মিনাল দিয়ে কাজ করত অথবা পরে, ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে টার্মিনাল ইমুলেটর সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ১৯৮০ দশকের সময় মেইনফ্রেমগুলোতে চিত্রভিত্তিক টার্মিনাল এবং টার্মিনাল ইমুলেশন সমর্থন করত কিন্তু ব্যবহারকারী চিত্রভিত্তিক মাধ্যম তখনো শুরু হয়নি। ১৯৯০ দশকে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে চিত্রভিত্তিক পরিচালন ব্যবস্থা আসার ফলে মেইনফ্রেমেও ব্যবহারকারীর ব্যবহার সিস্টেম পরিবর্তন হয়। ২০০০ সালের পরে বেশিরভাগ আধুনিক মেইনফ্রেমেই আংশিক বা পুরোপুরি টার্মিনালের ব্যবহার মুছে যায়। কারণ তখন ওয়েব-ঘরানার ব্যবহারকারী মাধ্যম ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

মেইনফ্রেমের অবকাঠামোর চাহিদাও কমে যায় ১৯৯০ দশকের মধ্যভাগে যখন সিমোস (সিএমওএস) মেইনফ্রেম নকশা আগের বাইপোলার প্রযুক্তিকে প্রতিস্থাপিত করে। আইবিএম দাবি করে তাদের নতুন মেইনফ্রেম কেন্দ্রীয় ডাটার শক্তি খরচ কমিয়ে এনেছে এবং শীতল রাখতে পারছে এবং এগুলো আগের সার্ভারফ্রেমগুলোর তুলনায় জায়গা কম নিচ্ছে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  • কম্পিউটারের প্রকারভেদ
  • ফেইলওভার
  • গেমফ্রেম
  • চ্যানেল আই/ও
  • ক্লাউড কম্পিউটিং

টীকা[সম্পাদনা]

  1. কিছু ক্ষেত্রে ষাটের দশকে ইন্টারফেস/মাধ্যমের সূচনা হয়েছিল কিন্তু তাদের উন্নয়ন সত্তরের দশকেই বেশি হয়েছিল

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "IBM preps big iron fiesta"। The Register। জুলাই ২০, ২০০৫। 
  2. "mainframe, n"। Oxford English Dictionary (on-line সংস্করণ)। 
  3. Ebbers, Mike; O’Brien, W.; Ogden, B. (২০০৬)। "Introduction to the New Mainframe: z/OS Basics" (PDF)। IBM International Technical Support Organization। সংগৃহীত ২০০৭-০৬-০১ 
  4. Beach, Thomas E.। "Computer Concepts and Terminology: Types of Computers"। সংগৃহীত নভেম্বর ১৭, ২০১২ 
  5. "National Vulnerability Database"। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ২০, ২০১১ 

বহিঃ সংযোগ[সম্পাদনা]