বহনযোগ্য কম্পিউটার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আধুনিক সামরিক কম্পিউটার বহনযোগ্য আদলে
৩" এলসিডি প্রদশর্নীসহ সমসাময়িক বহনযোগ্য কম্পউটার
২০.১" এলসিডি ও ইএটিএক্স মাদারবোর্ডসহ সমসাময়িক বহনযোগ্য কম্পিউটার

বহনযোগ্য কম্পিউটার (ইংরেজি: Portable computer) বা সহজে বহনযোগ্য কম্পিউটার হল এমন এক ধরনের কম্পিউটার যাকে নকশা করা হয়েছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করার জন্য। এতে প্রদর্শনী এবং কিবোর্ড রয়েছে। এরকম বহনযোগ্যতার জন্য এধরনের কম্পিউটারকে মাইক্রোকম্পিউটার[১] হিসেবে ধরা হয়। এগুলো আবার লাঞ্চবক্স, বহনযোগ্য ওয়ার্কস্টেশন বা বহনযোগ্য পিসি নামেও পরিচিত।

বহনযোগ্য কম্পিউটার ডেস্কটপ কম্পিউটারের থেকে ভিন্ন হলেও তৈরী করা হয় ডেস্কটপ কম্পিউটারের মত সমস্ত গুনাগুন ও উপাদান দিয়ে কিন্তু এগুলো ল্যাপটপ বা মোবাইল ডিভাইসের বৈশিষ্ট্য ও সুযোগসমূহ ধারণ করে না। মূল সুবিধা হল এতে সাধারন মানের মাদারবোর্ড ও স্লট ব্যবহার করা যায় বিভিন্ন প্লাগ ইন ডিভাইসের জন্য। এতে করে বিভিন্ন টেস্ট করা যায়, যোগাযোগ প্রটোকল স্থাপন করা যায়। এতে সাধারন মানের ৩-১/২" ড্রাইভ ব্যবহার করে জায়গা বাড়ানো যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এসসিএএমপি[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সালে আইবিএম একটি বহনযোগ্য কম্পিউটারের পরিক্ষামূলক সংস্করন তৈরি করে যার নাম এসসিএএমপি (SCAMP - Special Computer APL machine Portable) এটি আইবিএমর পালম প্রসেসর উপর ভিত্তি করে ফিলিপস ক্যাসেট ড্রাইভ, ছোট সিআরটি এবং পূর্ন কার্যক্ষম কিবোর্ড দ্বারা তৈরী করা হয়। এটি আইবিএমের ১১৩০ মিনিকম্পিউটারের অনুরূপে তৈরি করা হয় যাতে তা এপিএল\১১৩০[২] চালাতে পারে। ১৯৭৩ সালে এপিএল শুধুমাত্র মেইনফ্রেম কম্পিউটারেই প্রচলিত ছিল। যেহেতু সেসময় এটি মেইনফ্রেমের কার্যক্ষমতার আদলে বহনযোগ্য কম্পিউটার ছিল সেহেতু পিসি ম্যাগাজিন ১৯৮৩ সালে এটিকে "বৈপ্লবিক ধারনা" এবং "পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তিগত কম্পিউটার" হিসেবে আখ্যা দেয়।[৩][৪]

আইবিএম ৫১০০[সম্পাদনা]

পূর্বের এসসিএমপি'র সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রথম ব্যবসায়িক বহনযোগ্য মাইক্রোকম্পিউটার আইবিএম ৫১০০ বাজারে ছাড়া হয় ১৯৭৫ সালে। যাতে ছিল পালম প্রসেসর, ৫" সিআরটি প্রদর্শনী, কার্যক্ষম কিবোর্ড এবং এপিএল ও বেসিক উভয় প্রোগ্রামিংয়ের সক্ষমতা। এতে করে ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্লষনকারি, পরিসংখ্যানকারি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানকারিদের কাজ সহজ হয়।

এমআইটি স্যুটকেস কম্পিউটার[সম্পাদনা]

জানা যায়, এটি ১৯৭৫ সালে তৈরী করা হয় যা প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর দ্বারা নির্মিত বহনযোগ্য কম্পিউটার। এটি মোটোরোলা ৬৮০০ উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়। স্যুটকেসের আদলে যার আকৃতি ছিল ২০"x৩০"x8" ওজন প্রায় ২০ lbs। এতে ৪০০০ এসর‍্যাম, সিরিয়াল পোর্ট যা ডাউনলোড করা সফটওয়্যার প্রবেশ করাতে এবং মডেম লাগাতে ব্যবহার করা হয়, কিবোর্ড এবং ৪০ কলামের থার্মাল প্রিন্টার ছিল। ডেবিড এমবারসন এটি তৈরি করেন তার এমআইটি ডিজিটাল সিস্টেমস ল্যাবরেটরির থিসিস প্রজেক্ট হিসেবে। তাই এটি ব্যবসায়িক উৎপাদনের মুখ দেখেনি।

জেরক্স নোটটেকার[সম্পাদনা]

জেরক্স নোটটেকার ১৯৭৬ সালে তৈরি করা হয় জেরক্স পার্কে (Xerox Parc)। এটি পরবর্তীতে তৈরি করা অসবর্ন কম্পিউটার কর্পোরেশন এবং কম্পেকের পূর্বসুরি। কিন্তু এটি পরিক্ষামূলক ছিল এবং কখনো তা উৎপাদনের মুখ দেখেনি।

মাইক্রো স্টার অথবা স্মল ওয়ান[সম্পাদনা]

জিএম রিসার্চ[৫] ১৯৭৯ সালে একটি পোর্টবল কম্পিউটার উৎপাদন করে। এটির নকশা এবং পেটেন্ট করেন জেমস মুরেজ। এটিকে প্রথমে মাইক্রো স্টার পরে স্মল ওয়ান নামে ডাকা হয়। যদিও জেরক্স দাবি করে তারাই এরকম সিস্টেমের ডিজাইন প্রথম করেছে তবুও পর্যাপ্ত প্রকাশিত দলিলাদি না পাওয়ায় মুরেজকে এটির প্যাটেন্ট দেয়া হয়। আমেরিকা সরকার এসব মেশিন কেনার জন্য চুক্তি করে এছাড়াও আছে স্যান্ডিয়া ল্যাবস, জেনারেল ডাইনামিক্স, বিবিএন সহ আরো বেসরকারি কোম্পানি ও স্বতন্ত্র ব্যক্তি। ১৯৭৯ সালে প্রথম কম্পিউটার প্রদর্শনীতে এবং পরবর্তিতে প্রথম কমডেক্স প্রদর্শনীতে এটি প্রদর্শন করা হয়।

অসবর্ন ১[সম্পাদনা]

প্রথম বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গনহারে উৎপাদিত মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক পোর্টবল কম্পিউটার ছিল অসবর্ন ১। এটি অসবর্ন তৈরী করেন।

কেইপ্রো[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালে প্রথম দিকের বহনযোগ্য কম্পিউটারের একটি কেইপ্রো।

বহনযোগ্য কম্পেক[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে, আইবিএম পিসির উপযুক্ত/পুরোপুরি নকল ছিল বহনযোগ্য কম্পেক।

কমোডর এসএক্স-৬৪[সম্পাদনা]

কমোডর এসএক্স-৬৪ ১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম সম্পূর্ন রঙ্গিন কম্পিউটার ছিল কমডর এসএক্স-৬৪।

এ্যপল মেকিন্টোস[সম্পাদনা]

এ্যপল ইকর্পোরেটস প্রথম এ্যপল বহনযোগ্য দেখায়, এ্যপল IIc নামে ১৯৮৪ সালে। কিন্তু ১৯৮৯ সালের আগে মেকিন্টোস বহনযোগ্য ছাড়ে নি বাজারে।

আধুনিক ব্যবহার[সম্পাদনা]

ছোট বহনযোগ্য কম্পিউটারগুলো মোবাইল কম্পিউটার নামেও পরিচিত। আরো বিশেষভাবে সংজ্ঞায়িত করলে-

  • ল্যাপটপ (বা নোটবুক) যেগুলোর ফ্লাট প্যানেল প্রদশর্নী, কিবোর্ড, মাউসপ্যাড, হাত রাখার সুবিধা এবং যেগুলোর অবস্থানের জন্য বসানোর প্রয়োজন হয় সেগুলোকে বুঝায়। অন্যদিকে, বর্তমানে এর আরো একটি জনপ্রিয় রূপান্তর হল ট্যাবলেট পিসি যা আসলে একটি ল্যাপটপ কিন্তু চালাতে হলে স্টাইলাস পেন বা স্পর্ষ করা লাগে।
  • তারপর আছে উপ নোটবুক, যা ল্যাপটপ এবং পিডিএ দুটোর মাঝখানে অবস্থান করে। এতে সম্পূর্ন কিবোর্ড (কখনো কখনো আকৃতিতে ছোট), ১১"-১৩" প্রদর্শনী এবং কোন অপটিক্যাল ড্রাইভ থাকে না।
  • উইয়্যারেবল কম্পিউটার যেগুলো হাতের ব্যবহার ছাড়াই চালানো যায়, সাধারনত কন্ঠ নিয়ন্ত্রিত।

বর্তমানে বহনযোগ্য কম্পিউটারের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি যা গত কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান। ভবিষ্যতেও এর জনপ্রিয়তা কমার কোন লক্ষন দেখা যায় না। এর একমাত্র কারণ এর সহজবহযোগ্যতা। এছাড়া তার বিহিন ইন্টারনেট, বাড়তি ব্যাটারির চলন সক্ষমতা এবং সহজবোধ্যতা এর জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণ হিসেবে দেখা হয়। অল-ইন-ওয়ান পিসিগুলো যেমন আইম্যাক কেও বহনযোগ্য কম্পিউটার হিসেবে বিবেচনা করা যায় এবং এগুলোতে বহন করার জন্য বাক্সের সাথে হাতল থাকে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Name: (২০১৪-০৫-২৩)। "What is a Portable Computer? | ACME Portable Machines"। Acmeportable.com। সংগৃহীত ২০১৪-০৭-২২ 
  2. Freeman, Shanna (২০১২-০৯-১৯)। "HowStuffWorks "What was the first portable computer?""। Computer.howstuffworks.com। সংগৃহীত ২০১৪-০৭-২২ 
  3. PC Magazine, Vol. 2, No. 6, November 1983, ‘’SCAMP: The Missing Link in the PC's Past?‘’
  4. "IBM Archives: IBM 5100 Portable Computer"। 03.ibm.com। সংগৃহীত ২০১৪-০৭-২২ 
  5. Computer History Museum