বিষয়বস্তুতে চলুন

আইপ্যাড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আইপ্যাড
আইপ্যাড
নির্মাতাঅ্যাপল ইংক
প্রস্তুতকারক
ধরনট্যাবলেট কম্পিউটার
বিক্রির পরিমাণ২৫০ মিলিয়ন[]
অপারেটিং সিস্টেমআইওএস
সধারণ ক্ষমতা১৬, ৩২, ৬৪, ১২৮, ২৫৬ অথবা ৫১২ জিবি ফ্লাশ মেমরি[]
শব্দব্লুটুথ, স্পিলার, মাইক্রোফোন, ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক
ইনপুটমাল্টি-টাচ স্ক্রিন, হেডসেট কন্ট্রোল, প্রক্সিমিটি এবং অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সির, ৩-অক্ষ একসিলেরোমিটার, ডিজিটাল কম্পাস
অনলাইন সেবাআইটিউন্স স্টোর, অ্যাপ স্টোর, আইক্লাউড, আইবুকস্টোর
আইপ্যাড হাতে স্টিভ জবস

আইপ্যাড (ইংরেজি: iPad) অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড কর্তৃক ডিজাইনকৃত, ডেভলপকৃত, ও বাজারকৃত নির্মিত ট্যাবলেট কম্পিউটার, যেটি আইওএস মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে চলে। প্রথম আইপ্যাড এপ্রিল, ২০১০ সালে মুক্তি পায়, সর্বশেষ আইপ্যাড (iPad) মডেল মার্চ ২৭, ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আইপ্যাড (২০১৮)। একই ওএস হওয়া সত্তেও আইপ্যাডের ব্যবহারকারী ইন্টারফেস আইফোন থেকে কিছুটা ভিন্ন। আইপ্যাডের বড় স্ক্রিনের কথা মাথায় রেখে আইওএসে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

পটভূমি

[সম্পাদনা]

অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্টিভ জবস এক ভাষণে বলেছিলেন:

"আমরা যা করতে চাই তা হলো এমন একটি দুর্দান্ত কম্পিউটার একটি বইয়ের মধ্যে রাখতে, যা আপনি আপনার সাথে নিয়ে যেতে পারেন এবং ২০ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার করতে শিখতে পারেন এবং আমরা এটাকে রেডিও লিংকের মাধ্যমে করতে চাই যাতে আপনার কিছু সংযোগ করার দরকার না পড়ে এবং আপনি বড় ডেটাবেস এবং অন্যান্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগে থাকতে পারেন।"

১৯৯৩ সালে অ্যাপল নিউটন মেসেজপ্যাড নামে একটি ট্যাবলেট আকৃতির পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করেছিল। তবে মেসেজপ্যাডের হাতের লেখা চিনতে পারার ফিচার ভালো সাড়া পায়নি এবং পরে বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে আইপ্যাডের ধারণা অনেক বড় হয়ে ওঠে, যদিও তখনও বাজারে এর দাম ও সাপোর্ট পরিষেবা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনার অবকাশ ছিল।

২০০৪ সালে অ্যাপল ইউরোপে একটি হ্যান্ডহেল্ড কম্পিউটারের ডিজাইন পেটেন্টের জন্য আবেদন করে, যা আইপ্যাডের পূর্বসূরী হিসেবে ধরা হয়। তখন থেকে আইপ্যাড নিয়ে নানা গুঞ্জন ও প্রতীক্ষা শুরু হয়েছিল।[]

আইপ্যাড

[সম্পাদনা]

আইপ্যাডের প্রথম প্রজন্ম ২০১০ সালে বাজারে আসে, যা স্মার্ট ডিভাইসের দুনিয়ায় নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। তখন থেকে এই ডিভাইসটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে বাংলাদেশে আইপ্যাডের দাম অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইপ্যাডের বিভিন্ন প্রজন্ম বাজারে আসার সাথে সাথে এর দাম, ফিচার, ও পারফরম্যান্স উন্নত হয়েছে।

প্রথম প্রজন্মের আইপ্যাডের দাম বাংলাদেশে প্রায় মধ্যম আয়ের মানুষের পক্ষে একটু বেশি ছিল, তবে পরবর্তী মডেলগুলো অনেক বেশি অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।

দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড ছিল আগের তুলনায় ৩৩% পাতলা ও ১৫% হালকা, এবং দামও কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল। এই প্রজন্মের আইপ্যাড বাংলাদেশে শিক্ষার্থী ও অফিসকর্মীদের মাঝে খুবই জনপ্রিয় হয়।

তৃতীয় প্রজন্ম থেকে রেটিনা ডিসপ্লে যুক্ত হওয়ার ফলে, দাম কিছুটা বেড়েছিল, কিন্তু গ্রাফিক্স ও পারফরম্যান্স এতটাই উন্নত হয়েছিল যে ব্যবহারকারীরা সহজেই সেই অতিরিক্ত খরচ মেনে নিয়েছিলেন।

চতুর্থ থেকে নবম প্রজন্ম পর্যন্ত আইপ্যাডের দাম ও ফিচার ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশে আইপ্যাডের দাম বাজারের চাহিদা ও আমদানি করের উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে।

দশম প্রজন্মের আইপ্যাড ২০২২ সালে মুক্তি পায়, যেখানে ইউএসবি-সি পোর্ট, বড় স্ক্রিন ও উন্নত প্রসেসর দেওয়া হয়েছে। এই মডেলের দাম বাংলাদেশে মাঝারি থেকে উচ্চবিত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত ছিল।

এগারোতম প্রজন্ম ২০২৫ সালে এসেছে, যা আধুনিক চিপ ও উন্নত স্টোরেজ অপশন নিয়ে বাজারে আসছে। বাংলাদেশে নতুন মডেলগুলো আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশে আইপ্যাডের দাম নিয়মিত আপডেট হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

আইপ্যাড মিনি

[সম্পাদনা]

আইপ্যাড মিনি ছোট আকারের একটি ট্যাবলেট, যা বিশেষ করে যারা হালকা ও পোর্টেবল ডিভাইস পছন্দ করেন তাদের জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশে আইপ্যাড মিনি এর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

প্রথম প্রজন্ম থেকে সপ্তম প্রজন্ম পর্যন্ত আইপ্যাড মিনির দাম ও ফিচার পরিবর্তিত হয়েছে। বাংলাদেশে এর দাম মূলত আমদানি শুল্ক, ডলারের মান এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

আইপ্যাড এয়ার

[সম্পাদনা]

আইপ্যাড এয়ার হালকা ও পাতলা ডিজাইনের জন্য পরিচিত। এটি সাধারণ আইপ্যাডের থেকে উন্নত ফিচার নিয়ে আসে, যেমন উন্নত প্রসেসর, উচ্চ রেজুলেশনের ডিসপ্লে এবং ইউএসবি-সি পোর্ট। বাংলাদেশে আইপ্যাড এয়ার এর দাম বিভিন্ন মডেলের জন্য ভিন্ন হলেও, এটি প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের কাছে বেশ পছন্দের ট্যাবলেট

আইপ্যাড প্রো অ্যাপলের উচ্চমানের, পেশাদারদের জন্য ডিজাইন করা ট্যাবলেট। উন্নত প্রসেসর, বড় ডিসপ্লে, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রিমিয়াম ফিচারের কারণে দাম অনেক বেশি।

বাংলাদেশে আইপ্যাড প্রো-এর দাম সাধারণত অন্যান্য আইপ্যাডের থেকে অনেক বেশি থাকে, যা পেশাদার গ্রাহকদের জন্য মানানসই।

বাংলাদেশে আইপ্যাডের দাম বিভিন্ন মডেল ও স্টোরেজ অপশনের উপর নির্ভর করে। বাজারে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বিক্রেতাদের কারণে দাম ভিন্ন হতে পারে। তাই বাংলাদেশে আইপ্যাডের দাম নিয়মিত আপডেট করা জরুরি এবং ব্যবহারকারীদের কেনার আগে ভালোভাবে গবেষণা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। []

বর্তমানে উৎপাদনাধীন আইপ্যাড মডেলসমূহ[]

[সম্পাদনা]
মুক্তির তারিখ মডেল সিস্টেম-অন-এ-চিপ কীবোর্ড অ্যাপল পেন্সিল গুলো
১৫ মে, ২০২৪ আইপ্যাড প্রো (৭ম প্রজন্ম) অ্যাপল এম৪ আইপ্যাড প্রো এর জন্য ম্যাজিক কীবোর্ড ইউএসবি-সিঅ্যাপল পেন্সিল প্রো
২৩ অক্টোবর, ২০২৪ আইপ্যাড মিনি (৭ম) অ্যাপল এ১৭
১২ মার্চ, ২০২৫ আইপ্যাড এয়ার (৭ম প্রজন্ম) অ্যাপল এম৩ আইপ্যাড এয়ারের জন্য ম্যাজিক কীবোর্ড
আইপ্যাড (১১তম প্রজন্ম) অ্যাপল এ১৬ ম্যাজিক কীবোর্ড ফোলিও ইউএসবি-সি (১ম প্রজন্ম)

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Kastrenakes, Jacob (৩ এপ্রিল ২০১৫)। "The iPad's 5th anniversary: a timeline of Apple's category-defining tablet"The VergeVox Media। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৭
  2. Murphy, Samantha (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Apple's 128GB iPad Now on Sale"। Mashable। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৩
  3. "Apple iPad"Apple Official Website। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৫
  4. "A brief history of the iPad, Apple's once and future tablet"AppleInsider। ৩ এপ্রিল ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  5. "Apple iPad Price in Bangladesh"DevicesFinder.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৫
  6. "Manuals, Specs, and Downloads"Apple Support (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৫