বিজয় মার্চেন্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিজয় মার্চেন্ট
Vijay Merchant 1936.jpg
১৯৩৬ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে বিজয় মার্চেন্ট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবিজয়সিংহ মাধবজী মার্চেন্ট
জন্ম(১৯১১-১০-১২)১২ অক্টোবর ১৯১১
বোম্বে, বোম্বে প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২৭ অক্টোবর ১৯৮৭(1987-10-27) (বয়স ৭৬)
বোম্বে, মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৫)
১৫ ডিসেম্বর ১৯৩৩ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২ নভেম্বর ১৯৫১ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯২৯-১৯৫১বোম্বে
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১০ ১৫০
রানের সংখ্যা ৮৫৯ ১৩৪৭০
ব্যাটিং গড় ৪৭.৭২ ৭১.৬৪
১০০/৫০ ৩/৩ ৪৫/৫২
সর্বোচ্চ রান ১৫৪ ৩৫৯*
বল করেছে ৫৪ ৫০৮৭
উইকেট ৬৫
বোলিং গড় ৩২.১২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৭৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/– ১১৫/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বিজয়সিংহ মাধবজী মার্চেন্ট (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: विजय मर्चंट; জন্ম: ১২ অক্টোবর, ১৯১১ - মৃত্যু: ২৭ অক্টোবর, ১৯৮৭) ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল বিজয় মাধবজী থাকেরসে। ১৯২৯ থেকে ১৯৫১ সময়কালে ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন বিজয় মার্চেন্ট

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯১১ সালে সম্পদশালী পরিবারের সন্তানরূপে বোম্বেতে মার্চেন্টের জন্ম। কলেজ পর্যায়েই অসাধারণ ক্রিকেটার ছিলেন। বোম্বের সাইডেনহাম কলেজে অধ্যয়নকালীন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাইডেনহামে তাঁর সফলতা লাভের প্রেক্ষিতে ১৯২৯ সালের বোম্বে চতুর্দেশীয় প্রতিযোগিতায় হিন্দু ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলার জন্য মনোনীত হন তিনি। ১৯৩১ সালের বোম্বে আন্তঃকলেজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৫০৪ রানের পাশাপাশি ২৯ উইকেট লাভ করে রেকর্ড গড়েন।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে অন্যতম ভারতীয় ব্যাটসম্যান বিজয় হাজারের সাথে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে। বোম্বে পঞ্চদেশীয় খেলায় বহিঃএকাদশের বিপক্ষে হাজারের গড়া ২৪২ রানের বিপরীতে তিনি মুসলিম দলের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ২৫০। পরের ইনিংসেই হাজারে দলের ৩৮৭ রানের মধ্যে করেন ৩০৯ রান। পরবর্তীতে রঞ্জি ট্রফিতে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে মনোরম ৩৫৯ রান তুলেন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

মার্চেন্টের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের ব্যাপ্তিকাল ১৮ বছরের ছিল। এ সময়ে তিনি মাত্র দশ টেস্টে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন যার সবগুলোই ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সফলতা লাভের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলার জন্য অন্তর্ভূক্ত হন। সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে বোম্বে জিমখানা তথা ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে অংশ নেন।[১] ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে সফরকারী ইংরেজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। এর পূর্বে ১৯৩২ সালে ভারত দল প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলায় অংশ নেয়। শুরুতে তাঁকে দলের সদস্য করা হলেও বিজয় মার্চেন্টসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও জানুয়ারি, ১৯৩২ সালে মহাত্মা গান্ধীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এতে অংশ নেননি।[২]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা সময় নষ্ট হয়। এছাড়াও দূর্বল স্বাস্থ্যের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারেননি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেননি। তবে দিল্লি টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে ১৫৪ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দেন। এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল। এরফলে ভারতের বয়োঃজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে সেঞ্চুরিকালীন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর ২১ দিন। ফিল্ডিং চলাকালে কাঁধে আঘাত পেলে তাঁকে জোরপূর্বক খেলার জগৎ থেকে বিদায় নিতে হয়।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

বিজয় মার্চেন্টের স্থিরচিত্র

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১০টি টেস্টে ভারত দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। টেস্টে সীমিত পর্যায়ে অংশগ্রহণ করলেও ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত প্রভাববিস্তার করেছেন। ৭১.৬৪ গড়ে রান সংগ্রহ করে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড়ের অধিকারী হন। কেবলমাত্র ডন ব্র্যাডম্যানই তাঁর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। বোম্বে স্কুল থেকে আগত ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে তিনি তাঁর সঠিক কৌশল অবলম্বন, ইস্পাততুল্য ইচ্ছাশক্তি ও স্বাধীনভাবে ব্যাট করতে অনাগ্রহতা প্রকাশের কারণে অনেকের কাছেই তা অনুসরণীয়। পরবর্তীতে শচীন তেন্ডুলকরের আবির্ভাবে এ দৃষ্টিভঙ্গীটি ভেঙ্গে পড়ে ও নতুনভাবে লিখিত হয়।

সমগ্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি দুইবার ইংল্যান্ড সফরে যান ও আট শতাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটার সিবি ফ্রাই মন্তব্য করেন যে, তাঁর মুখে রঙ লাগিয়ে শ্বেতাঙ্গের তকমা লাগিয়ে আমাদের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামাই।[৩]

মূল্যায়ণ[সম্পাদনা]

মাত্র দশ টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও বিজয় মার্চেন্ট তাঁর সময়কালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। চমৎকার পায়ের কারুকাজ, দৃষ্টিনন্দন কাটে আকর্ষণীয় স্ট্রোক মারতেন। এছাড়াও গ্ল্যান্স ও লেট-কাটের সমারোহতায় গড়া খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে হুক স্ট্রোকও মারতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৭১.৬৪ যা অস্ট্রেলিয়ার ডন ব্র্যাডম্যানের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ঘরোয়া রঞ্জি ট্রফিতে ৪৭ ইনিংসে ৯৮.৭৫ গড়ে রান তুলেছেন। উইকেটে আবরণবিহীন অবস্থায় তাঁর এ রানগুলো আসে।

১৯৩৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হন।

অবসর[সম্পাদনা]

ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি হিন্দুস্তান স্পিনিং এন্ড ওয়েভিং মিলসের (থাকেরসে গ্রুপ) সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাই উদয় মার্চেন্ট প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ক্রিকেট প্রশাসক মনোনীত হন। এছাড়াও ধারাভাষ্যকার, লেখক ও জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন বিজয় মার্চেন্ট। ‘বিজয় মার্চেন্টের সাথে ক্রিকেট’ শিরোনামীয় বেতার অনুষ্ঠান বিবিধ ভারতীতে প্রত্যেক রোববার বিকেলে বিজয় মার্চেন্টের উপস্থাপনায় প্রচারিত হতো।[৪] আনু ডি. আগরওয়াল এক জরীপ চালিয়ে দেখেছেন যে, অনুষ্ঠানটি অন্যতম সেরা শ্রোতাপ্রিয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছিল।[৫]

দেহাবসান[সম্পাদনা]

৭৬ বছর বয়সে ২৭ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় বিজয় মার্চেন্টের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "India's original batting hero"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৬ 
  2. Guha, p. 193.
  3. "Vijay Merchant"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১০ 
  4. Memon, Ayaz (২০১২-০৩-২৬)। "Government must infuse life into its dull media"Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। New Delhi। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০১২ 
  5. Aggarwal, Anu D. (১৯৮৪-১০-১৫)। "A Shift Towards Television" (ইংরেজি ভাষায়)। Industrial Times। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০১২ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]