পরিবেশ এবং যৌন অভিমুখীতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(পরিবেশ এবং যৌন অভিমুখিতা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পরিবেশ এবং যৌন অভিমুখিতা নিয়ে যে গবেষণা করা হয়; তা দ্বারা বুঝানো হয় মানুষের যৌন অভিমুখিতার ক্রমবিকাশে পরিবেশগত প্রভাবের একটি সম্ভাবনা আছে। কিছু গবেষকের মতে পরিবেশগত প্রভাব হরমোনের প্রভাব কে প্রভাবিত করে।[১] আবার কিছু গবেষক মনে করেন মানুষের যৌন অভিমুখিতা পরিবেশগত নয় বরং তাঁর জন্মপূর্ব থেকে নির্ধারিত; যেখানে জন্মপূর্ব হরমোন ক্রিয়া করে[২] বিজ্ঞানীরা যৌন অভিমুখিতার একদম সঠিক কারণ সম্বন্ধে জ্ঞাত নন। তারা বিশ্বাস করেন জিনগত, হরমোনগত, এবং পরিবেশগত প্রভাব যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে একত্রে মিথস্ক্রিয়া করে।[৩][৪][৫] যৌন অভিমুখিতার পরিচয় যেভাবে পরিবর্তন করা যায়, এমনটা সবাই নিশ্চিত থাকলেও, যৌন অভিমুখিতা পরিচয়ের মত যৌন অভিমুখিতা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা যায়; এমনটা তারা বিশ্বাস করেন না।[৩][৪][৬]

এমন কোন চুড়ান্ত গবেষণা নেই; যা থেকে বলা যায় পরিবারের পরিচর্যা অথবা শৈশবের প্রথমার্ধে কোনো অভিজ্ঞতা যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে,[৭][৮] কিছু গবেষণা পারিবারিক পরিবেশ আর পরিচর্যাকে অবিষমকামী পরিচয়ের জন্য,[২][৯] শৈশবের লিঙ্গ অসংগতির জন্য এবং সমকামিতার জন্য দায়ী করেছে।[১০][১১][১২]

যৌন অভিমুখিতার সাথে যৌন অভিমুখিতার পরিচয়ের তুলনা[সম্পাদনা]

যৌন অভিমুখিতার সাথে অনেক সময় যৌন অভিমুখিতার পরিচয়ের পার্থক্য বিবেচনা করা হয় না। ফলে এটা নিয়ে দ্বিধা থাকে, যৌন অভিমুখিতার পরিচয়ের মত; অভিমুখিতাও পালটানো যাবে কিনা। যৌন অভিমুখিতার পরিচয়; জীবনের যে কোনো সময় পালটানো যায়।[১৩][১৪][১৫] আসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কেন্দ্রমার্কিন মনস্তাত্বিক সংগঠন উদ্ধৃতিতে বলে, যৌন অভিমুখিতা সহজাত, চলমান অথবা জীবনভর স্থিতিশীল থাকতে পারে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা অন্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হতে পারে বা তারল্যরুপ প্রদর্শন করতে পারে,[১৬][১৭] মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন যৌন অভিমুখিতা (সহজাত আকর্ষণ) এবং যৌন অভিমুখিতার পরিচয়ে (যা ব্যক্তির জীবনে যে কোনো সময় পাল্টানো যায়) পার্থক্য বর্ননা করেছে।[১৮] বিজ্ঞানী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটা বিশ্বাস করেন না যে, সমকামিতা ইচ্ছাকৃত।[১][৬]

মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন তার উদ্ধৃতিতে বলেছে, "যৌন অভিমুখিতা কোনো ইচ্ছাকৃত চয়েজ না, যা ইচ্ছাকৃতভাবে পালটানো যাবে এবং যৌন অভিমুখিতা হলো পরিবেশ, বোধশক্তি, জৈবিক ফ্যাক্টরের মিশ্রণে একটি জটিল মিথস্ক্রিয়া; যা শৈশবের প্রথমার্ধে তৈরী হয়... এবং প্রমাণ গুলো থেকে এটাই অনুমেয় হয় যে, জৈবিক, জিনগত ও হরমোনাল ফ্যাক্টর মানুষের যৌনতা নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে"।[৪] তারা বলেছে যৌন অভিমুখিতার পরিচয় (যৌন অভিমুখিতা নয়), মনোথেরাপি দিয়ে পরিবর্তন করা যায়।[১৮] মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন তাদের বিবৃতিতে বলেছে" ব্যক্তি তার জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের অভিমুখিতা সম্বন্ধে জ্ঞাত হতে পারে। এই সংগঠন যদিও বিষমকামীতে রুপান্তরকারী অপবৈজ্ঞানিক পন্থা কনভার্সন থেরাপিকে নিরুৎসাহিত করে, তবে সমকামিতাকে স্বীকার করে নেওয়া থেরাপিকে উৎসাহিত করে।[১৭]

লিসা ডায়মন্ডের ন্যায় বিশেষজ্ঞ নারী সমকামী এবং উভকামী নারীদের উপর পুনঃবেষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, "সমলৈঙ্গিক যৌনতায় পরিবর্তন এবং তারল্য (বিঃদ্রঃ তারল্য বলতে বুঝানো হয়েছে যৌনতার তারল্য, যেমনঃ একটা মেয়ে হয়তো বিবাহ করলো, তার নিজের মতামতে কোনো পুরুষকে, কিন্তু বিবাহের পর তার মধ্যে ধীরে ধীরে যেগে উঠতে শুরু করলো নারী আসক্তি, এই যে বিষমকামী থেকে সমকামী হবার যে প্রবণতা, এটা একপ্রকার যৌনতার তারল্য। তরল পদার্থ তার ধর্ম পরিবর্তন করর, কঠিন বা বায়বীয় হতে পারে, এজন্য তরলের ধর্মকে তারল্য বলে অভিহিত করা হয়।) চিরাচরিত নকশার বিরুদ্ধে যায় যা যৌন অভিমুখিতাকে একটি কঠিন, নির্ধারিত ও সমরূপ হিসেবে দেখে, এবং এই অবস্থা পূর্বের যৌনতা বিকাশকালীন অবস্থায় এটি যেমন ছিল সবসময় এরকমই থাকবে বলে মনে করে।"[১৯]

শৈশবকালীন লৈঙ্গিক সঙ্গতিহীনতা[সম্পাদনা]

গবেষকরা দেখেছেন শৈশবকালীন লৈঙ্গিক সঙ্গতিহীনতা [লৈঙ্গিক সঙ্গতিহীনতার উদাহরণমুলক ব্যাখ্যা হলো, কোনো শিশু জন্মের পর তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে সবাই নির্ধারণ করলো, নবজাতক ছেলে সন্তান; কিন্তু বয়োঃসন্ধিকালীন সময়ে, ছেলে সন্তান টি তার যৌনতা বা লিঙ্গ নিয়ে দিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে উঠলো, সে ছেলেরা যেমন আচরণ করে, এরকম প্রত্যাশিত আচরণ করতে বিব্রত বোধ করে, এই যে লিঙ্গের সাথে তার আচরণের সঙ্গতিহীনতা, এটাকেই লৈঙ্গিক সঙ্গতিহীনতা বলা হয়] সৃষ্টি ভবিষ্যতে তার সমকামী হওয়ার পিছনে অন্যতম সুচক হিসেবে কাজ করে।[১০][১১][১২][২০] ড্যারিল বেম তার প্রস্তাবনায় বলেন, কিছু শিশু এমনভাবে আচরণ করে, যা দেখে মনে হয়, তার আচরণ অন্য লিঙ্গের সন্তানের ন্যায় আদর্শ। জৈবিক ভাবে একজন পুরুষ পুরুষালি আচরণ করবে, সামাজিকভাবে এটাই অনুমেয়। কিন্তু দেখা যায়, তার আচরণ বিপরীত লিঙ্গের মানুষের আচরণের ন্যায়। তখনি তৈরী হয়, লৈঙ্গিক সঙ্গতিহীনতা। কিন্তু যদি জৈবিক ভাবে একজন ছেলে শিশু, ছেলের মতই আচরণ করে, তখন একে লৈঙ্গিক সঙ্গতিপূর্ণতা বলা হবে। উভয়ক্ষেত্রেই লৈঙ্গিক পার্থক্যের অনুভূতি মনস্তাত্ত্বিকভাবে একজনকে উত্তেজিত করতে পারে যখন সে লৈঙ্গিকভাবে "পৃথক" বলে মনে করে, আর এটিই সেই মানসিক উত্তেজনাকে যৌন উত্তেজনায় পরিণত করে। গবেষকরা অনুমান করছেন, এই লৈঙ্গিক সঙ্গতিহীনতা জিনগত, জন্মপুর্ব হরমোন, ব্যক্তিত্ব, পারিবারিক পরিচর্যা অথবা পরিবেশগত কারণে তৈরি হতে পারে।

বিয়ারম্যান এবং ব্রুকনার দেখান, যদি যমজ শিশুর একজন নারী ও অপরজন পুরুষ হয়; তবে পুরুষের মধ্যে সমলৈঙ্গিক আকর্ষণ তৈরি হবার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি থাকে। তবে, যদি সেই যমজ সহোদরের পুর্বেই কোনো বড় ভাই থাকে, তবে যমজের মধ্যে ছেলেটির সমলৈঙ্গিক আকর্ষণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দ্বিগুণ হবার পরিবর্তে হ্রাস পায়। গবেষকদ্বয় বলেন, তাদের এই আবিষ্কারকে আরেকটি গবেষণাকে ব্যাখ্যা করে। সেটি হল, প্রাথমিক শৈশবকালে এবং বয়োসন্ধির পূর্বে অল্পমাত্রার লৈঙ্গিক সামাজিকীকরণ (জেন্ডার সোশালাইজেশন) [অল্পমাত্রার লৈঙ্গিক সামাজিকীকরণ বলতে বুঝানো হয়েছে, জৈবিকভাবে সন্তান যে লিঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, সেই লিঙ্গ অনুযায়ী তার সাথে প্রকট ব্যবহার না করা, যেমনঃ সমাজে ছেলে সন্তান বা মেয়ে সন্তান সুনির্দিষ্টভাবে কেমন আচরণ করবে, এই বিষয়ে তাদেরকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ওয়াকিবহাল না করা] পরবর্তীতে সমপ্রেমের অভিরুচি তৈরি করে। তারা প্রস্তাব করেন, বিপরীত লিঙ্গের যমজের পিতামাতা তাদের উভয় সন্তানের সাথে একইরকমভাবে লৈঙ্গিক আচরণ করে। কিন্তু যদি কোন বড় ভাই থাকে, তাহলে সে তার ছোট ভাই এর জন্য একরকম লৈঙ্গিক সামাজিকীকরণ কৌশলকে প্রতিষ্ঠিত করে।[১০] অর্থাৎ বড়ভাইয়ের আচরণ দেখে ছেলে বুঝতে পারে, ছেলেদের সমাজে কেমন আচরণ হওয়া উচিত, ফলে সে সমকামী হবার পরিবর্তে বিষমকামী হয়ে উঠে। যাইহোক, বিয়ারম্যান এবং ব্রুকনার এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পান নি, যা থেকে বলা যায় লৈঙ্গিক সামাজিকীকরণ যৌন অভিমুখিতায় প্রভাব ফেলে।[২১] প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি, যা থেকে বলা যায়, পিতামাতার লৈঙ্গিক সামাজিকীকরণ এর সাথে সন্তানের যৌন অভিমুখিতার সংযোগ আছে।[২১] এছাড়াও সহোদর বড় ভাই থাকলে ছোট ছেলে সন্তান, তার বড় ভাইয়ের আচরণ দেখে বিষমকামী হবার পরিবর্তে সমকামী হবার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়, এমনটা পুনঃপুন গবেষণাগুলোতে প্রমাণিত হয়েছে। (নীচের অনুচ্ছেদে দেখুন) একইসাথে যমজ নিয়ে গবেষণা থেকে এটিও দেখা গিয়েছে, যৌন অভিমুখিতার সাথে পারিবারিক পরিবেশ নয় বরং জিনগত সংযোগ বিদ্যমান।[২১][২২] গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বয়োসন্ধিকালীন সময়ে সমলিঙ্গে যৌন অভিজ্ঞতার তুলনায় সমলিঙ্গে আকর্ষণ এর অনুপাত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। আকর্ষণ ছাড়াও এখানে সুযোগের ব্যাপার জড়িত। যেহেতু সুযোগ পরিষ্কারভাবে সমাজ নির্মিত, তাই আকর্ষণের চাইতে আচরণের উপর সামাজিক প্রভাব বেশি হবে, এটাই প্রত্যাশিত।[১০]

পারিবারিক প্রভাব[সম্পাদনা]

সাধারণ[সম্পাদনা]

গবেষকরা তাদের প্রমাণের মাধ্যমে দেখেছেন, সমকামী পুরুষরা, বিষমকামী পুরুষের তুলনায়; তাদের পিতার থেকে কম ভালোবাসা পেয়েছে অথবা প্রত্যাখাত হয়েছে এবং পক্ষান্তরে গভীর বন্ধন মায়ের সাথে সৃষ্টি হয়েছে। একারণে কিছু গবেষক মনে করেন, শৈশবের অভিজ্ঞতা হয়তো সমকামিতার দিকে ধাবিত করতে পারে,[২৩] অথবা পিতামাতার ব্যবহার শিশুর লিঙ্গ প্রকরণ বৈশিষ্ট্যে প্রভাব ফেলতে পারে।[২৪][২৫] মাইকেল রুস তার প্রস্তাবনায় বলেন, উভয় সম্ভাবনাই ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে সত্যি হতে পারে।[২৬]

তাইওয়ানেজ সামরিক বাহিনীর ২৭৫ জন পুরুষের উপর করা গবেষণা থেকে শু এবং লুং এই বলে সমাপ্তি টানেন যে, "পৈর্তৃক প্রতিরক্ষা এবং মার্তৃত্বের যত্ন সমকামী পুরুষের ক্রমবিকাশে একটা প্রভাব ফেলে।"[২৭] একটি গবেষণা দেখিয়েছে যে, সমকামী পুরুষরা সমকামী নারীদের তুলনায় মায়ের সাথে অধিক বেশি সংযুক্ত থাকে।[২৮] মার্কিন যমজ পরীক্ষার একটি গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে, সমকামিতা আংশিকভাবে জিনগত হতে পারে, তা প্রভাবিত করতে পারে তবে নির্ধারণ নয়।[২৯]

গবেষণা আরো দেখিয়েছে, সমকামী পুরুষের; সমকামী নারীর তুলনায় অধিক সংখ্যক বড় ভাই থাকে।[৩০] ২০০৬ সালের একটি ড্যানিশ গবেষণা হয়। এগবেষণাটা ছিল বিপরীত লিঙ্গের বিবাহ বিবাহ যারা করেছে; তাদের সাথে সমলিঙ্গের বিবাহ সম্পন্নকারী মানুষের বিবাহের তুলনা। বিষমকামী বিবাহ যাদের হয়েছে, দেখা গিয়েছে, সেসব দম্পতির পিতামাতারা অল্পবয়সী, পিতা এবং মাতার বয়সের পার্থক্য কম, তাদের সম্পর্ক একটা স্থায়ী সম্পর্ক, প্রচুর ভাইবোন আছে এবং দেরী করে সন্তান নিয়েছে। যেসব সন্তান বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেছে তাদের মধ্যে বিষমকামী বিবাহ করার আগ্রহ কম থাকে। পক্ষান্তরে, যেসব পুরুষ সমকামী বিবাহ করতে অধিক আগ্রহী থাকে, দেখা গিয়েছে তাদের মা অধিক বয়সী হয়, সংসারে পিতার অনুপস্থিতি থাকে, অথবা পিতা-মাতায় বিচ্ছেদ থাকে এবং সংসারের কনিষ্ঠ সন্তান হয়। নারীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যেসব মেয়েদের কৈশোরে মার্তৃবিয়োগ হয় এবং সংসারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে হয়, অথবা পরিবারের একমাত্র মেয়ে হলে, তাহলে তার মধ্যে সমলিঙ্গে বিবাহ করার আগ্রহ জেগে উঠে।[২৩]

২০০৮ সালের যমজ পরীক্ষার পরে, যে বিষয়টা দেখা যায় এবং গবেষণার সমাপ্তিকায় বলা হয়, পুরুষ সমকামিতায় পারিবারিক বা পরিবেশগত প্রভাব কোনোভাবেই কার্যকর নয় এবং নারীর ক্ষেত্রে তা খুবই স্বল্পমাত্রায় কার্যকর।[২] বিপরীতক্রমে ৪০৯ জোড়া সমকামী ভাইয়ের (যমজও অন্তর্ভুক্ত ছিল) উপর একটা গবেষণা করা হয়েছে। যেখান থেকে এটা বলা যায়, পুরুষ সমকামীরা জন্মগতভাবেই সমকামী, এবং এই দাবীর একটা শক্ত ভিত্তি দাঁড়িয়ে গেছে। এই প্রসঙ্গে এখানে নমুনার সংখ্যা আগের গবেষণাগুলোর প্রায় তিনগুন। যার ফলে পারিসংখ্যানিক দিক থেকে এটা নির্ভরযোগ্য। এই গবেষণা থেকে সমকামিতার সাথে জড়িত মানব জিনোমের দুইটি এলাকা নির্ধারণ করা হয়; যা আগেও অনুমান করা হয়েছিল।[৩১] যাইহোক, এই গবেষণার মুল অথর এলান স্যান্ডারস উদ্ধৃতিতে বলেন, "যৌন অভিমুখিতার জটিল বৈশিষ্ট্য অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। পরিবেশগত এবং জিনগত উভয় বিষয়ের উপর নির্ভর করে।"[৩২] ১৯৯৩ সালে মারিল্যান্ডের তে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল ইন্সটিউটের ডিন হ্যামার এক্স ক্রমোজমের এলাকা এক্সকিউ২৮ প্রথম শনাক্ত করেন। ২০০৫ সালে ৮ নং ক্রমোজমের এইটকিউ১২ প্রথম শনাক্ত করা হয়।[৩৩][৩৪] মানব জিনোমের এই দুই এলাকাই সমকামিতার সাথে ইতিবাচকভাবে সংযুক্ত বলে গবেষণা থেকে প্রতীয়মান হয়েছে।

পরিবার পরিচর্যা[সম্পাদনা]

যদিও এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি, যার থেকে বলা যায়, শিশুর পারিবারিক পরিচর্যা তার যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণ করে,[৭][৮] তবে ক্যামেরনের ২০০৬ সালের গবেষণা থেকে বলা যায়, পিতামাতার যৌন প্রবৃত্তি শিশুকে প্রভাবিত করে।[৩৫] ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা এই ফলাফল নিশ্চিত করে এবং এখানে বলা হয়, "যদিও এই গবেষণার ফলাফলকে ভুল প্রমাণ করার জন্য অনেকগুলো চেষ্টা করা হয়, এবং ২০টি পর্যন্ত কোডিং এররকে অনুমতি দেয়া হয়, তবুও দেখা যায় যে সমকামী পিতা বা মাতাদের সন্তানদের সমকামী বা উভকামী বা অনিশ্চিত যৌন অভিমুখী হবার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে - ক্যামেরনের এসম্পর্কিত ২০০৬ সালের গবেষণাটিকে নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে... সামাজিক ও পিতামাতার প্রভাবসমূহ বিষমকামীদের পরিচয় এবং/অথবা আচরণের প্রকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।"[৯] অন্যদিকে বিয়ারম্যান বলেন, সামাজিকীকরণ আকাঙ্ক্ষার কিছুটা আকৃতি দান করতে পারলেও প্রাপ্তবয়স্কের যৌন অভিমুখিতার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধন করতে পারে না। বরং জেনেটিক প্রভাবই আকর্ষণ থেকে আচরণ পর্যন্ত গতিবিধিকে ঠিক করে দেয়।[১০]

জন্মসুত্রে ভ্রার্তৃসম্পর্ক[সম্পাদনা]

বেশ অনেকগুলো গবেষণা থেকে এটা বলা যায়, প্রত্যের বড় ভাই থাকার দরুণ ছোট ভাইয়ের সমকামী হবার সম্ভাবনা উত্তোরোত্তর বাড়তেই থাকে এবং এ সম্ভাবনা ২৮-৪৮% পর্যন্ত হতে পারে। অনেক গবেষক একে জন্মপূর্ব পরিবেশ যেমন হরমোনের জন্য হয় বলে অনুমান করেছেন।[৩৬][৩৭][৩৮][৩৯]

শহুরে অবস্থা[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রে যৌন স্বভাব নিয়ে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী এডওয়ার্ফ লম্যান এবং তার সহযোগীরা একটি গবেষণা করেন। তারা গবেষণায় দেখতে পান, সমকামিতার সাথে শহুরে এলাকার একটা ইতিবাচক সংযোগ আছে, ১৪ বছর বয়সেই এই সমকামিতার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। এই ইতিবাচক আন্তঃসম্পর্ক এমনকি নারীর চেয়ে পুরুষই বেশি গবেষকরা তাদের প্রকল্পে বলেন "বৃহৎ শহরগুলো সমলিঙ্গে মানুষের আকর্ষণ বহিঃপ্রকাশে অনুকুল পরিস্থিতি তৈরী করে।"[৪০][৪১] এই ধারনাটি; শহরের যৌন সংগঠন (The Sexual Organization of the City) নামে তার পরবর্তী বইতে আরো বিস্তৃতভাবে বলা হয়। যৌন অভিমুখিতার এই প্রকাশের জন্য কিছু শর্তের প্রয়োজন হয়। নির্দিষ্ট যৌন অভিমুখিতার মানুষরা বেশি জড়ো হতে পারে, সাক্ষাৎ করতে পারে, এরকম জায়গা একটা স্থানে যত বেশি থাকবে, সেখানে সেই যৌন অভিমুখিতা ততটা প্রকাশ পাবে।[৪২]

ডেনমার্কে, যেসব মানুষ পুজিবাদী এলাকায় জন্ম নেয়, তাদের মধ্যে গ্রামাঞ্চলের বিষমকামীদের তুলনায় সমকামীদের বিবাহ করার একটা প্রবণতা বেশি দেখা যায়।[২৩]

সমকামীদের সংখ্যা গ্রামাঞ্চলে কম থাকার অন্যতম কারণ, হচ্ছে গ্রামের মানুষ শহরের তুলনায় অধিক রক্ষণশীল হয়, এই রক্ষণশীলতার জন্য সমকামী সম্প্রদায় তার নিজের অনুভুতি প্রকাশ করতে পিছিয়ে থাকে অথবা নিজেদের বাঁচাতে তারা শহরাঞ্চলে চলে আসে। ফলে জরিপে দেখা যায়, শহরাঞ্চলে সমকামীতার সংখ্যা বেশি।[৪৩]

সাংস্কৃতিক প্রভাব[সম্পাদনা]

মিরন ব্যারনের মতে কিছু সংস্কৃতি; উদাহরণস্বরূপ আসীরীয় এবং গ্রিক- রোমান সম্প্রদায় সমকামীদের প্রতি ঐতিহ্যগতভাবেই সহনশীল ছিল। এই আচরণ উন্মুক্তভাবেই চর্চা করা হত এবং তারা প্রাদুর্ভাব অনেক ছিল। যৌনতার যে বিন্যাস তা সমাজের আগ্রহ দেখে ব্যপ্তি হয়। কিন্তু সাংস্কৃতিক অবস্থা পরিবর্তনের ফলে যৌনতার স্বভাবে পরিবর্তন আসবে কিনা; তা নির্ধারণ করা কঠিন।[৪৪] রিচার্ড বার্টন সোটাডিক এলাকাকে তার দাবীর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে দাবী করেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যুক্তরাষ্টে নারীর প্রতি নারী আসক্তির সংখ্যা বাড়ছে।[ভাল উৎস প্রয়োজন] সুজান বরডো বলেছেন, যখন কোনো ট্যাবু সমাজে বাতিল হয়ে যায়, এটা প্রত্যেককেই সুযোগ দেয়, তার যৌন অভিমুখিতা আবিষ্কারে ও প্রকাশে। বিন্নি ক্লেইন, উদ্ধৃতিতে বলেছেন, যৌন অভিমুখিতা নিয়ে সমাজে এই পরিবর্তন মানুষকে এ সম্বন্ধে জানাতে আরো বেশি উদ্বুদ্ধ করছে; যার ফলে তাকে স্বীকার করার হারও পর্যায়ক্রমে বাড়ছে।"[৪৫]

যৌন নির্যাতনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন উদ্ধৃতিতে বলেছে: "...কোনো সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক অথবা পারিবারিক কারণ এবং যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায় নি, যে প্রমাণ থেকে বলা যায় মানুষ সমকামী এজন্যই হয়। যৌন নির্যাতনের প্রভাব শিশুর জীবনে ততটাও ব্যপ্ত নয়,যা থেকে সে শিশু বিষমকামী শিশু থেকে ভিন্ন হয়, নিজেকে সমকামী বা উভকামী ভাবতে শুরু করবে"।[৭]

মার্কিন চিকিৎসা সংগঠনের সাময়িকী প্রতিবেদনে বলে, "নিপীড়িত কিশোরদের যারা পুরুষ কর্তৃক শারীরিক পীড়নের শিকার হয়েছিল, তাদের সংখ্যা নিপীড়নের শিকার না হওয়া সমকামীদের তুলনায় ৭ গুণ। যাইহোক, এখানে এটা পরিষ্কার নয়, নির্যাতনের শিকার হওয়া সমকামীরা, নির্যাতনের পরে সমকামী হয়েছে নাকি উৎপীড়নের পুর্বেই তারা জানত। তারা প্রতিবেদনে এটাও বলেছে, তারা যে বিষমকামী নয়, এবং এই অভিমুখিতার জন্য যৌন পীড়ন দায়ী নয়। এমন কোনো পুনঃপুন গবেষণার মাধ্যমে যৌন অভিমুখিতার সাথে যৌন নির্যাতনের কার্যকারণ সম্পর্কিত কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় নি।[৪৬]

আরেকটা গবেষণা থেকে দেখা গিয়েছে ৪০ শতাংশ পুরুষ সমকামী সমলিঙ্গের দ্বারা পীড়িত হয়েছে; বিষমকামীরা পীড়িত হয়েছে ৭ শতাংশ। সমকামী নারীদের ২২ শতাংশ সমলিঙ্গের দ্বারা পীড়িত হয়েছে, যেখানে বিষমকামীদের দ্বারা পীড়িত হয়েছে ১ শতাংশ।[৪৭] যাইহোক, এই গবেষণাটি সমালোচিত হয়েছিল [৪৮][৪৯] নন ক্লিনিক্যাল হওয়ায়, বিষমকামী ও সমকামীদের অপ্রতিনিধিত্বসুচক নমুনা ব্যবহার করায়, কিভাবে সমকামীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ না করায়।[৫০] সমালোচিত হয়েছে তত্ত্ব অনুযায়ী ব্যাখ্যা এবং ফলাফলের মধ্যে অমিলের জন্য। দাবী করা হয়েছে, যৌন নির্যাতনের জন্য মানুষ সমকামী হতে পারে, অথচ একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরুষের ৬৮ শতাংশ এবং নারীর ৬২ শতাংশ শারীরিকভাবে পীড়নের শিকার হওয়ার পুর্বেই নিজেকে সমকামী ভাবত।[৪৮] এই গবেষণাটি সমালোচিত হয়েছিল কারণ, এখানে অংশগ্রহণকারী অনেকেই তাদের যৌন অভিমুখিতা সম্বন্ধে, অনেক আগেই জ্ঞাত হয়েছিল। এটা একটা সাধারণ বিষয়, কোনো সমকামী প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই তার অভিমুখিতা সম্বন্ধে জ্ঞাত হয়। এ গবেষণায় এটা প্রশ্ন করা হয় নি, কোন বয়সে তারা তাদের যৌন অভিমুখিতা সম্বন্ধে বুঝতে পেরেছে, বরং তাদের এটা প্রশ্ন করা হয়েছে, কোন বয়সে তারা নিজেদের সমকামী হিসেবে প্রকাশ্যে পরিচয় দিয়েছে। তাই এই গবেষণা থেকে এটা কোনোভাবে সুনিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়; যেসব সমকামী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারা কী উৎপীড়নের পর সমকামী হয়েছে, নাকি তারা সমকামী এটা বুঝার পরে, উৎপীড়নের শিকার হয়েছে।[৪৮] যৌন নির্যাতন এবং সমকামিতার মধ্যে কারণসংক্রান্ত ফলাফল এই গবেষণা থেকে উদঘাটিত হয়নি।[৪৮] এই গবেষণায় এটা বলা হয়েছে যে, এখানকার সমকামীরা সমস্ত সমকামী ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেনা।[৫১] এই গবেষণাটি সমালোচিত হয়েছিল আরও একটি কারণে। কারণ গবেষকরা যখন গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কে প্রশ্ন করছিলেন তখন তারা মলেস্টেশন বা নির্যাতন শব্দটি ব্যবহার করেননি; তারা ব্যবহার করেছিলেন সেক্সুয়াল কন্টাক্ট বা যৌন সংযোগ শব্দটিকে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তারা গবেষণার সমাপ্তি টানেন তারা তখন এই মলেস্টেশন শব্দটিকে ব্যবহার করেন।[৪৭][৫২] এই গবেষণাটি হয়েছে পল ক্যামেরনের নের্তৃত্বে। তিনি নিজেই একজন বিতর্কিত মানুষ। তিনি এর আগে মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। বহিস্কৃত হয়েছিলেন মার্কিন সমাজ তাত্ত্বিক সংগঠন থেকে, কানাডীয় মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন থেকে এবং নেব্রাস্কা মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন থেকে। বহিষ্কারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিনি যৌনতা সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উপাত্তকে ভুলভাবে ব্যবহার করেন। তিনি ভুল উপাত্ত ব্যবহার করেন পুরুষ সমকামিতা, নারী সমকামিতা সংক্রান্ত যৌনতা নিয়ে কাজ করার সময়।[৫৩][৫৪]

আর্কাইভ অফ সেক্সুয়াল বিহ্যাভিয়র জার্নালে দীর্ঘ ৩০ বছরের ডেটা নিয়ে করা একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। সেই গবেষণা অনুসারে, যদিও দেখা যায় সমলিঙ্গের মানুষের দ্বারা শৈশবে যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থাকা পুরুষদের নিজেদের সাতে হওয়া অন্যায় রিপোর্ট করার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তবুও তারা "শিশুর ছোটবেলায় শিকার হওয়া নির্যাতন বা অবহেলার সাথে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সমলৈঙ্গিক যৌন অভিমুখিতার সম্পর্কে" পাওয়া যায় নি। শৈশবে যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বা অবহেলার শিকার এমন নারী বা পুরুষ কারও ক্ষেত্রেই যেসব নারী বা পুরুষের এরকম অভিজ্ঞতা নেই তাদের তুলনায় অধিক পরিমাণে সমকামী আচরণ পাওয়া যায় নি।[৫৫] গবেষণাটির লেখকগণ বলেন, "যৌন নির্যাতন এর কারণে ব্যক্তির মাঝে যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কে একরকম অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, এবং এর ফলে সমলিঙ্গ ও বিপরীত লিঙ্গ উভয়ের সাথেই যৌনতার অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষণ হতে পারে", কিন্তু এটা যে চূড়ান্তভাবে যৌন অভিমুখিতাকে প্রভাবিত করবে, তেমনটা নাও হতে পারে।[৫৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Frankowski BL; American Academy of Pediatrics Committee on Adolescence (জুন ২০০৪)। "Sexual orientation and adolescents"Pediatrics113 (6): 1827–32। doi:10.1542/peds.113.6.1827PMID 15173519 
  2. Långström, Niklas; Qazi Rahman; Eva Carlström; Paul Lichtenstein (৭ জুন ২০০৮)। "Genetic and Environmental Effects on Same-sex Sexual Behaviour: A Population Study of Twins in Sweden"। Archives of Sexual Behavior। Archives of Sexual Behavior। 39 (1): 75–80। doi:10.1007/s10508-008-9386-1PMID 18536986 
  3. Frankowski BL; American Academy of Pediatrics Committee on Adolescence (জুন ২০০৪)। "Sexual orientation and adolescents"Pediatrics113 (6): 1827–32। doi:10.1542/peds.113.6.1827PMID 15173519 
  4. Mary Ann Lamanna; Agnes Riedmann; Susan D Stewart (২০১৪)। Marriages, Families, and Relationships: Making Choices in a Diverse SocietyCengage Learning। পৃষ্ঠা 82। আইএসবিএন 1305176898। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ১১, ২০১৬The reason some individuals develop a gay sexual identity has not been definitively established  – nor do we yet understand the development of heterosexuality. The American Psychological Association (APA) takes the position that a variety of factors impact a person's sexuality. The most recent literature from the APA says that sexual orientation is not a choice that can be changed at will, and that sexual orientation is most likely the result of a complex interaction of environmental, cognitive and biological factors...is shaped at an early age...[and evidence suggests] biological, including genetic or inborn hormonal factors, play a significant role in a person's sexuality (American Psychology Association 2010). 
  5. Gail Wiscarz Stuart (২০১৪)। Principles and Practice of Psychiatric NursingElsevier Health Sciences। পৃষ্ঠা 502। আইএসবিএন 032329412X। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ১১, ২০১৬No conclusive evidence supports any one specific cause of homosexuality; however, most researchers agree that biological and social factors influence the development of sexual orientation. 
  6. Gloria Kersey-Matusiak (২০১২)। Delivering Culturally Competent Nursing CareSpringer Publishing Company। পৃষ্ঠা 169। আইএসবিএন 0826193811। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ১০, ২০১৬Most health and mental health organizations do not view sexual orientation as a 'choice.' 
  7. "Sexual Orientation"American Psychiatric Association। জুলাই ২২, ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ১, ২০১৩ 
  8. "Submission to the Church of England's Listening Exercise on Human Sexuality"। The Royal College of Psychiatrists। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০১৩ 
  9. Schumm, Walter R. (নভেম্বর ২০১০)। "CHILDREN OF HOMOSEXUALS MORE APT TO BE HOMOSEXUALS? A REPLY TO MORRISON AND TO CAMERON BASED ON AN EXAMINATION OF MULTIPLE SOURCES OF DATA"Journal of Biosocial Science42 (06): 721–42। doi:10.1017/S0021932010000325PMID 20642872। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  10. Bearman, Peter; Brückner, Hannah (২০০২)। "Opposite-sex twins and adolescent same-sex attraction" (PDF)American Journal of Sociology107: 1179–1205। doi:10.1086/341906 
  11. Bem, Daryl (১১ অক্টো ২০০৮)। "Is There a Causal Link Between Childhood Gender Nonconformity and Adult Homosexuality?"Journal of Gay & Lesbian Mental Health12 (1-2): 61–79। doi:10.1300/J529v12n01_05। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  12. Rieger G, Linsenmeier JA, Gygax L, Bailey JM (জানু ২০০৮)। "Sexual orientation and childhood gender nonconformity: evidence from home videos"। Dev Psychol44 (1): 46–58। doi:10.1037/0012-1649.44.1.46PMID 18194004 
  13. Sinclair, Karen, About Whoever: The Social Imprint on Identity and Orientation, NY, 2013 আইএসবিএন ৯৭৮০৯৮১৪৫০৫১৩
  14. Rosario, M.; Schrimshaw, E.; Hunter, J.; Braun, L. (২০০৬)। "Sexual identity development among lesbian, gay, and bisexual youths: Consistency and change over time"Journal of Sex Research43 (1): 46–58। doi:10.1080/00224490609552298পিএমসি 3215279অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  15. Ross, Michael W.; Essien, E. James; Williams, Mark L.; Fernandez-Esquer, Maria Eugenia (২০০৩)। "Concordance Between Sexual Behavior and Sexual Identity in Street Outreach Samples of Four Racial/Ethnic Groups"। Sexually Transmitted Diseases। American Sexually Transmitted Diseases Association। 30 (2): 110–113। doi:10.1097/00007435-200302000-00003PMID 12567166 
  16. "Question A2: Sexual orientation"। Centre for Addiction and Mental Health। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  17. "LGBT-Sexual Orientation: What is Sexual Orientation?" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ জুন ২০১৪ তারিখে, the official web pages of APA. Accessed April 9, 2015
  18. "Appropriate Therapeutic Responses to Sexual Orientation" (PDF)American Psychological Association। ২০০৯: 63, 86। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৫ 
  19. Diamond, Lisa (২০০৩)। "Was it a phase? Young women's relinquishment of lesbian/bisexual identities over a 5-year period" (PDF)Journal of Personality and Social Psychology84 (2): 352–364। doi:10.1037/0022-3514.84.2.352PMID 12585809। ২০১০-০৬-১০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  20. Bailey, J.M.; Zucker, K.J (১৯৯৫)। "Childhood sex-typed behavior and sexual orientation: A conceptual analysis and quantitative review"Developmental Psychology31 (1): 43–55। doi:10.1037/0012-1649.31.1.43 
  21. Jacob Felson (২০১১)। "The Effect of Religious Background on Sexual Orientation"। Interdisciplinary Journal of Research on Religion7আইএসএসএন 1556-3723এসএসআরএন 2008124অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  22. Kendler KS; Thornton LM; Gilman SE; Kessler RC (২০০০)। "Sexual orientation in a U.S. national sample of twin and nontwin sibling pairs"। Am J Psychiatry157 (11): 1843–6। doi:10.1176/appi.ajp.157.11.1843PMID 11058483 
  23. Frisch M, Hviid A (অক্টো ২০০৬)। "Childhood family correlates of heterosexual and homosexual marriages: a national cohort study of two million Danes"। Arch Sex Behav35 (5): 533–47। doi:10.1007/s10508-006-9062-2PMID 17039403 
  24. Isay, Richard A. (1990). Being homosexual: Gay men and their development. HarperCollins. আইএসবিএন ০-৩৮০-৭১০২২-৬.
  25. Isay, Richard A. (1996). Becoming gay: The journey to self-acceptance. New York, Pantheon. আইএসবিএন ০-৬৭৯-৪২১৫৯-৯.
  26. Ruse, Michael Homosexuality: a philosophical inquiry (1988) আইএসবিএন ০-৬৩১-১৭৫৫৩-৯
  27. Lung, F.W.; Shu, B.C. (২০০৭)। "Father-son attachment and sexual partner orientation in Taiwan"। Comprehensive Psychiatry48 (1): 20–6। doi:10.1016/j.comppsych.2006.08.001PMID 17145277 
  28. Ridge SR, Feeney JA (ডিসে ১৯৯৮)। "Relationship history and relationship attitudes in gay males and lesbians: attachment style and gender differences"Aust N Z J Psychiatry32 (6): 848–59। doi:10.3109/00048679809073875PMID 10084350 
  29. Kendler KS, Thornton LM, Gilman SE, Kessler RC (নভে ২০০০)। "Sexual orientation in a U.S. national sample of twin and nontwin sibling pairs"Am J Psychiatry157 (11): 1843–6। doi:10.1176/appi.ajp.157.11.1843PMID 11058483 
  30. Bogaert AF (ফেব্রু ২০০৫)। "Sibling sex ratio and sexual orientation in men and women: new tests in two national probability samples"। Arch Sex Behav34 (1): 111–6। doi:10.1007/s10508-005-1005-9PMID 15772774 
  31. Miller, Susan (২৪ জুলাই ১৯৯৩)। "Gene hunters sound warning over gay link"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১২-২৭ 
  32. Coghlan, Andy (১৭ নভেম্বর ২০১৪)। "Largest study of gay brothers homes in on 'gay genes'"Psychological Medicine45: 1–10। doi:10.1017/S0033291714002451PMID 25399360। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১২-২৭ 
  33. Hamer, Dean (১৯৯৩-০৭-১৬)। "A linkage between DNA markers on the X chromosome and male sexual orientation."। Science261: 321–7। doi:10.1126/science.8332896PMID 8332896 
  34. Mustanski (২০০৫-০১-১২)। "A genomewide scan of male sexual orientation."। Hum. Genet.116: 272–8। doi:10.1007/s00439-004-1241-4PMID 15645181 
  35. Cameron, Paul (২০০৬)। "CHILDREN OF HOMOSEXUALS AND TRANSSEXUALS MORE APT TO BE HOMOSEXUAL"Journal of Biosocial Science38 (03): 413–418। doi:10.1017/S002193200502674X। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  36. Blanchard R, Zucker KJ, Siegelman M, Dickey R, Klassen P (অক্টো ১৯৯৮)। "The relation of birth order to sexual orientation in men and women"। J Biosoc Sci30 (4): 511–9। doi:10.1017/S0021932098005112PMID 9818557 
  37. Ellis L, Blanchard R (মার্চ ২০০১)। "Birth order, sibling sex ratio, and maternal miscarriages in homosexual and heterosexual men and women"। Personality and Individual Differences30 (4): 543–52। doi:10.1016/S0191-8869(00)00051-9 
  38. Blanchard R (সেপ্টে ২০০১)। "Fraternal birth order and the maternal immune hypothesis of male homosexuality"। Horm Behav40 (2): 105–14। doi:10.1006/hbeh.2001.1681PMID 11534970 
  39. Puts DA, Jordan CL, Breedlove SM (জুলাই ২০০৬)। "O brother, where art thou? The fraternal birth-order effect on male sexual orientation"Proc Natl Acad Sci USA103 (28): 10531–2। doi:10.1073/pnas.0604102103PMID 16815969পিএমসি 1502267অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  40. Laumann, Edward O.; John H. Gagnon; Robert T. Michael; Stuart Michaels (১৯৯৪)। The Social Organization of Sexuality: Sexual Practices in the United States। পৃষ্ঠা 308। আইএসবিএন 0-226-46957-3 
  41. Laumann, Edward; Michael, Robert; Kolata, Gina (সেপ্টেম্বর ১, ১৯৯৫)। Sex in America: A Definitive SurveyGrand Central Publishingআইএসবিএন 978-0-446-67183-5 
  42. Edward O. Laumann, Stephen Ellingson, Jenna Mahay, Anthony Paik, and Yoosik Youm (Eds.). (2004). The Sexual Organization of the City, Chicago: University of Chicago Press.
  43. "গ্রামাঞ্চলের সমকামীরা সুযোগ সুবিধার আশায় শহরাঞ্চলে স্থানান্তরিত হচ্ছে"। পিঙ্ক নিউজ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৮ 
  44. Baron M (আগস্ট ১৯৯৩)। "Genetic linkage and male homosexual orientation"BMJ307 (6900): 337–8। doi:10.1136/bmj.307.6900.337PMID 8374408পিএমসি 1678219অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  45. "Why women are leaving men for other women"cnn.com 
  46. Holmes, William C. (২ ডিসেম্বর ১৯৯৮)। "Sexual Abuse of Boys"। The Journal of the American Medical Association280 (21)। 
  47. Tomeo, M.E.; Templer D.L. (২০০১)। "Comparative data of childhood adolescence molestation in heterosexual and homosexual persons"। Archives of Sexual Behavior30 (5): 535–541। doi:10.1023/A:1010243318426PMID 11501300 
  48. Throckmorton, Warren। "A major study of child abuse and homosexuality revisited"Patheos.com। ২৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০১৫ 
  49. Gerry Dantone। "Anti-gay Activism and the Misuse of Science" (PDF)centerforinquiry.net। Center for Inquiry। পৃষ্ঠা 5–8। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৫ 
  50. Gerry Dantone। "Anti-gay Activism and the Misuse of Science" (PDF)centerforinquiry.net। Center for Inquiry। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৫it was a non-clinical study and the data concerning homosexuals was gathered by setting up an interview booth at a “Gay Pride” parade while the data for heterosexuals was gathered at a college. Did the signage attracting participants at the Gay Pride parade booth ask specifically for victims of abuse who were willing to tell their story? The study does not say anything on this point – we do not know how participants were attracted. How likely is it that all the persons who took the questionnaire at the booth just happened to be gay, as it is claimed in this study? [...] Meanwhile, the data on heterosexuals was obtained at colleges; is this a group that one could then compare to persons attracted by unknown means to a booth at a gay pride parade? Can one then ethically extrapolate the findings to the general public? [...] A non-clinical and flawed study with a much skewed sample that even the authors suggest may not be representative. 
  51. Tomeo, M.E.; Templer D.L. (২০০১)। "Comparative data of childhood adolescence molestation in heterosexual and homosexual persons"। Archives of Sexual Behavior30 (5): 535–541। doi:10.1023/A:1010243318426PMID 11501300It must also be borne in mind that the present homosexual participants may not be representative of homosexual persons. The overwhelming preponderance of homosexual participants was in the gay pride group. There were only three homosexual men and seven homosexual women in the college group. 
  52. Gerry Dantone। "Anti-gay Activism and the Misuse of Science" (PDF)centerforinquiry.net। Center for Inquiry। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৫Another interesting aspect of this study is the use of the word “molestation.” In the questionnaire given to participants, the word “molestation” is never used; “sexual contact” is used. What does this phrase mean to the various participants? Does it mean one thing to those participating in a festive Gay Pride Parade and something quite different to a student at a perhaps more subdued or introspective University setting? Since 84% of gay men and 95% of women considered themselves gay before the “sexual contact” according to the study, could it be something less nefarious than, for example, forcible rape they were recounting? Could it be that the college students were only counting more disturbing experiences, such as forcible rape? Of course it is possible the two groups were defining “sexual contact” in precisely the same manner, but we really should not have to assume such a thing; our doubts are due to the absence of pertinent info from the researchers – this should have been made clear. The study does not even attempt to quantify these probably relevant differences in these two groups. And, instead of continuing to use the phrase “sexual contact” in their closing discussions, the authors of the study switch to “molestation” in their analysis of the data 
  53. Gerry Dantone। "Anti-gay Activism and the Misuse of Science" (PDF)centerforinquiry.net। Center for Inquiry। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৫Also cited in the Tomeo, et al. report are studies conducted by Paul Cameron that supported the contention that gays are more likely to have been molested and to molest others [...] The American Sociological Association has criticized Dr. Cameron, stating that "Cameron has consistently misinterpreted and misrepresented sociological research on sexuality, homosexuality, and lesbianism" and that he was kicked out of the American Psychological Association. Further, in a court case in 1985, a judge saw fit to characterize Paul Cameron’s “expert” testimony thusly: Second, this Court reaffirms its findings that Dr. Simon and Dr. Marmor were very credible witnesses and that their qualifications were impeccable. In contrast, Dr. Paul Cameron--the basis of the claim that Drs. Simon and Marmor committed fraud in their testimony--has himself made misrepresentations to this Court. For example: (i) his sworn statement that "homosexuals are approximately 43 times more apt to commit crimes than is the general population" is a total distortion of the Kinsey data upon which he relies--which, as is obvious to anyone who reads the report, concerns data from a non-representative sample of delinquent homosexuals (and Dr. Cameron compares this group to college and non-college heterosexuals); (ii) his sworn statement that "homosexuals abuse children at a proportionately greater incident than do heterosexuals" is based upon the same distorted data--and, the Court notes, is directly contrary to other evidence presented at trial besides the testimony of Dr. Simon and Dr. Marmour. (553 F. Supp. 1121 at 1130 n.18.) n309 Yes, this study used data from this same researcher without commenting on his questionable credibility and the possible fraudulence of his data. 
  54. UC Davis। "Paul Cameron Bio and Fact Sheet"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৫-১৩ 
  55. Wilson, H. W.; Widom, C. S. (২০০৯)। "Does Physical Abuse, Sexual Abuse, or Neglect in Childhood Increase the Likelihood of Same-sex Sexual Relationships and Cohabitation? A Prospective 30-year Follow-up"। Archives of Sexual Behavior39 (1): 63–74। doi:10.1007/s10508-008-9449-3PMID 19130206