ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ধুলোর দিনে ফেরা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প
ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প বইয়ের প্রচ্ছদ
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ
লেখকশহীদুল জহির
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
ধরনছোটগল্প সংগ্রহ
প্রকাশিত১৯৯৯
প্রকাশকশিল্পতরু প্রকাশনী
মিডিয়া ধরনছাপা (শক্তমলাট)
পৃষ্ঠাসংখ্যা১৩৯ (প্রথম সংস্করণ)
আইএসবিএন৯৮৪৭০১৫৬০১৮০৫ আইএসবিএন বৈধ নয়
ওসিএলসি৪৩৯৬৯২৮৯
এলসি শ্রেণীPK1730.25.A445 D86 1999
পূর্ববর্তী বইপারাপার (১৯৮৫) 
পরবর্তী বইডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪) 

ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প বাংলাদেশি লেখক শহীদুল জহির রচিত বাংলা ছোটগল্প সংগ্রহ। এটি ১৯৯৯ সালে শিল্পতরু প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত জহিরের দ্বিতীয় গল্প সংগ্রহ। এতে আটটি গল্প সংকলিত হয়েছে, যেগুলি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে রচিত। সংকলনের অধিকাংশ গল্পের পটভূমিতে বাস্তবতার সাথে অবাস্বত এক বাস্তবতার রূপ পাওয়া যায়। বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প সংগ্রহটি জাদুবাস্তবতাশ্রিত সাহিত্যধারার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে বিবেচিত হয়।[১] এছাড়াও সংকলনের ছয়টি গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চনাটক নির্মিত হয়েছে।

গল্পসমূহ[সম্পাদনা]

ক্রম শিরোনাম রচনাকাল প্রথম প্রকাশ
"আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" ১৯৯১
"কাঠুরে ও দাঁড়কাক" ১৯৯২
"ডুমুরখেকো মানুষ" ১৯৯২
"এই সময়" ১৯৯৩
"কাঁটা" ১৯৯৫
"আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস" ১৯৯৫ মাটি (সম্পা. মারুফ রায়হান)[২][৩]
"ধুলোর দিনে ফেরা" ১৯৯৭
"চতুর্থ মাত্রা" ১৯৯৮

আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে দেখা যায় এমন "Vinca" প্রজাতির নয়নতারা উদ্ভিদ "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্পের বিশেষ চরিত্র।

১৯৯১ সালে রচিত "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্পে প্রকৃতি ও প্রেমের রূপক দৃষ্টান্ত রয়েছে।[৪] ঔপনিবেশিক জীবনের অবরুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে গল্পে ঢাকার আগারগাঁও নামক সরকারি কলোনিতে বসবাসরত মানুষের বৃত্তান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।[৫] গাঠনিক দিক থেকে এই গল্পের প্রধান হাতিয়ার জাদুবাস্তবতার বিবিধ প্রকৌশল। আগারগাঁও মূলত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসের জন্য সৃষ্ট একটি কলোনি, যেখানে সামাজিক মর্যাদা ও আধিপত্যের মানদণ্ডে বসবাসরত কেরানিদের অবস্থান তলদেশে। এধরনের একজন কেরানি মধ্যবয়সী আবদুস সাত্তার এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। এবং বিশেষ চরিত্র নয়নতারা গাছ। তার জীবনচর্যার রূপায়ণে গল্প উদ্দেশ্যপুষ্ট হয়। গল্পের এক পর্যায়ে আকস্মিক ভূমিকম্পকালে তার বারান্দায় থাকা নয়নতারা গাছ রক্ষার প্রচেষ্টায় মারা পড়ে। দেখা যায় এ দুর্যোগে একমাত্র নিহত আবদুস সাত্তারের পাশাপাশি আগারগাঁও কলোনির সকল নয়নতারা গাছের উন্মূলিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। সাহিত্যালোচকদের মতে এর মাধ্যমে বাস্তবতার গণ্ডি অতিক্রমপূর্বক জাদুবাস্তবতায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। এরপর কলোনিবাসীর পুনরায় নয়নতারার চারা রোপণ করার পর সেগুলোর অকালমৃত্যু ঘটে। এতে তারা বিস্মিত হয় তারা কৃষি কলেজের জনৈক অধ্যাপকের সরনাপন্ন হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তবে তার গবেষণায় দেখা যায় যে কলোনির যে স্থানে আবদুস সাত্তারের মস্তিষ্কের গলিত মগজ পতিত হয়েছিল, শুধুমাত্র সেখানেই নতুন চারটি নয়নতারা গাছ জন্মেছে। এমনকি এদের কোনটিকে অন্যত্র সরানোর প্রচেষ্টা চালাতেই সেটি মুমূর্ষু হয়ে পড়ছে। আবার এ ঘটনার অস্বাভাবিক ও অব্যাখ্যাত কার্য-কারণের স্বরূপ সম্পর্কে কৃষিবিদের অনুমানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে পূর্বে ঘটে যাওয়া হলুদ প্রজাপতির উদ্দীপক ভূমিকা পালনের প্রসঙ্গ। শেষে কৃষিবিদের মতে, জানা যায় গাছগুলো আত্মহত্যা করেছে।[৫]

কাঠুরে ও দাঁড়কাক[সম্পাদনা]

দেশি দাঁড়কাক। সাহিত্যে প্রায়শই কাক অশুভ, অমঙ্গল ও অকল্যাণের প্রতীক হলেও এই গল্পে কাক বিপন্ন মানুষকে সহায়তা ও লোভী-স্বার্থপরের প্রতি বিরূপতার প্রতীক।[৬]

বাস্তবতা এবং অবাস্তবতার সমন্বয়ে "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" রচিত হয় ১৯৯২ সালে। গল্পে রূপকথার আবহে প্রান্তিক এক দম্পতির জীবনের সঙ্গে কাকের বিচিত্র সম্পৃক্ততার কাাহিনী বর্ণিত হয়েছে। গল্পের ভাষ্য নির্মাণে তিনি অবলম্বন করেছেন জাদুবাস্তবতাধর্মী আখ্যান ও ঘটনাংশ, লোককথা এবং ব্যাখ্যাতীত পরিসমাপ্তি। বহুদিন আগে ঢাকা শহর কাকশূন্য হওয়ার বৃত্তান্তের মধ্য দিয়ে গল্পের সূত্রপাত ঘটে। সেই ইতিবৃত্ত নির্মাণের জন্য বাস্তবতা ও রূপকথার সংমিশ্রণের মাধ্যমে পরাবাস্তব চিত্র তুলা ধরা হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র ভূমিহীন দরিদ্র কাঠুরে আকালু ও তার স্ত্রী টেপি সিরাজগঞ্জের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের পরিত্যক্ত ভিটায় বাস করে। সন্তানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হলেও আকালুর স্ত্রীর অবচেতনে এর রূপায়ণ ঘটে। প্রায়শই তাকে কখনো আপনমনে, কখনো গাছ, পাখি ও বাতাসের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এই ঘটনায় এক সকালে একজোড়া দাঁড়কাকের সঙে টেপির বাক্যালাপ ঘটে। এ প্রকিয়ার ভেতর যাওয়ার ফলে পরবর্তীতে নিজেদের ভালো-মন্দের বিষয়ে তারা কাকদের সম্পৃক্ত করতে শুরু করে। বটগাছের গুঁড়ি কাটার সময় আকালুর টাকা পাওয়ার ঘটনায় টেপির মনে হতে থেকে সে তাদের ভালো-মন্দের সঙ্গে কাকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আকালুর সরলতা বা মূর্খামির ফলে শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ তাদের পক্ষে ভোগ অসম্ভব হয়ে ওঠে। এরপর এক ঘটনায় কারণে গ্রাম ছেড়ে তারা ঢাকায় আসে। সেখানে রিকশাচালক চান্দুর সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাদের এবং সেই সুবাদে একই বসিত্মতে আশ্রয় নিয়ে আকালু রিকশা চালনার কাজ নেয়। নিজেদের নানা দুর্ভোগের জন্য আকালু কাককেই দায়ী মনে করায়, পুনরায় স্ত্রীকে কাকের সঙ্গে কথা বলতে দেখে সে ক্ষিপ্ত হয়। আদতে নিজের সততা ও সারল্যের কারণে আকালু বিভিন্ন জটিলতার পড়ে ফলে সে তার এই দুর্ভোগের কারণে কাকের বিষয়ে চান্দুর কাছে অভিযোগ করে। এরপর রত্নচুরির অভিযোগে স্ত্রীসহ আকালুকে কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। কারাভোগের পরে মগবাজারের নয়াটোলায় কারারক্ষকের পরিত্যক্ত ভিটায় আকালু ও টেপির নতুন জীবন শুরু হয় এবং তাদের জীবনে পুনরায় কাকের আবির্ভাব ঘটে। তাদের বাসস্থানের নিকট তালগাছে ছিল অজস্র কাকের বাসা, যেগুলি ক্রমশই আকালুদের কুড়েঘরের ছাদেও বাসা তৈরি করে। একপর্যায়ে আকালু নিজেই বাঁশ দিয়ে কাকের জন্য স্থায়ী বাসা বানিয়ে দেয়। কয়েক মাস পর কাকের বাসা ভেঙে সাড়ে আঠারো মণ সাইকেলের স্পোক, লোহার তার, ইস্পাত বিক্রি করে প্রচুর অর্থ কামানোর ঘটনায় নয়াটোলার মহলস্নাবাসী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ঈর্ষাকাতরতাপন্য হয়ে কবুতরের বাসাকে কাকের বাসায় রূপান্তরের পরও ব্যর্থতার কারণে মহলল্লাবাসীর আকালু ও টেপির ওপর মারমুখী আচরণ করেতে দেখা যায়। মহলল্লাবাসীরা বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে আকালু ও টেপিকে ঝুপড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। ফলে কাকের ডিম আর চাপকলের পানি হয়ে ওঠে আকালু-টেপির জীবনধারণের মাধ্যম। এভাবে কাটানোর ত্রিশ দিন পর একরাতে মহলল্লাবাসী আকালুদের ঝুপড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দিলে তার ভেতর কোনো মৃতদেহ পায় না। আকস্মিক এই ঘটনায় কাকের ঠোঁটে ভর করে আকালু-টেপি দম্পতির উড়ে যাওয়ার জনশ্রুতি সংক্রান্ত কিংবদন্তির জন্ম হয়। এই ঘটনার বাস্তবতা প্রমাণের জন্য রয়েছে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে রামপুরা ঝিলে নৌকায় রাত্রিযাপনকারী মাঝিদের কথন।[৬] গল্পের বাস্তবতার সাপেক্ষে জহির এখানে কিছুটা মার্কেসিয় রীতিতে অবাস্তব ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য বা বাস্তব করে তুলতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার ব্যবহার করেছেন। কাকের মুখে করে আকালু ও তার স্ত্রী টেপিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি প্রমাণিত সত্য হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে জাদুবাস্তবতার প্রয়োগ দেখা যায়।[৭]

ডুমুরখেকো মানুষ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশি ডুমুর

"ডুমুরখেকো মানুষ" ১৯৯২ সালে রচিত আপাতপাঠে নির্বোধ গল্প মনে হতে পারে।[৭] এই গল্প সম্পর্কে জহির এক বক্তব্যে বলেছেন, অ্যাবস্ট্রাক্ট চিত্রকর্মের মতো গল্পটিকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। তিনি এটিকে একটা ভাষাগত স্ট্রাকচার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। একজন আগন্তুকের শারীরিক ও চারিত্রিক বর্ণনার ভেতর দিয়ে গল্পের সূত্রপাত ঘটে, যিনি একজন ডুমুরবিক্রেতা। গল্পের শেষে পাঁচজন ডুমুরখেকো মানুষ শ্যামবাজার থেকে দক্ষিণে নদীর কিনারে একটি অট্টালিকায় প্রবেশ করে জাদুকর ডুমুরবিক্রেতাকে খুন করে।[৭] "ডুমুরখেকো মানুষ" তার জাদুবাস্তবতাশ্রিত সাহিত্যধারার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে বিবেচিত হয়।[১]

এই সময়[সম্পাদনা]

"এই সময়" ১৯৯৩ সালে রচিত। এই গল্পের মূল চরিত্র মোহাম্মদ সেলিম জন্মের পর বাবা-মা হারায়। পুরান ঢাকার একটি মহল্লায় সেলিম তার দাদীর কাছে বেড়ে উঠে। সে তার মাকে একটি লালপরী হিসাবে কল্পনা করে। যে কারণে সে ফুলের বাগান করে। তার আছে স্বপ্নের এক দুনিয়া, যেখানে তার মা ফুলপরী হয়ে হাজির হয়। ফুল বাগান সেলিমকে আনন্দ দেয়, আর মহল্লার মানুষকে দেয় এলার্জির মহামারি। বাগানের দিকে নজর যায় মহল্লার তিন হিরো আবু, হাবু আর শফি তিন ভাইয়ের। এলার্জি হটাতে বাগানের ওপর হামলা করে তারা। আবার সেই বাগানেই তারা ফিরে আসে ফুলের সন্ধানে। সেলিমের হাত দিয়ে ফুল পাঠায় শিরীনের কাছে, যার দিকে নজর রাখে মহল্লার আরো সব পান্ডা, মেজর সাব আর মওলানা সাব। সবার সব উপহার ফিরিয়ে দেয় শিরীন, রয়ে যায় শুধু সেলিমের বয়ে আনা ফুল। একদিন - কেবল ফুল নয়, ফুলকুমারকেই টেনে নেয় সে।[৮]

কাঁটা[সম্পাদনা]

ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িকতা প্রেক্ষাপটে ১৯৯৫ সালে রচিত "কাঁটা" একটি মনোজাগতিক গল্প। যেখানে ভূতের গলির আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়িতে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার আগমণের পর সময়ের কাঠামো ভেঙে যায় এবং ভূতের গলির লোকেদের অতীত ও বর্তমান এলোমেলো হয়ে পড়ে। এই দম্পতিকে দেখে মহল্লাবাসিদের সংশয় জাগে যে, সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী যেন আবার আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়ির উঠোনে থাকা কুয়োতে পড়ে না যায়। তাদের এই ভাবনার পেছনে রয়ে অতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা। যখন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে অবস্থান নিয়েছিল সুবোধচন্দ্র ও স্বপ্না রানী দম্পতি। সে সময়ে সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দুধর্মালম্বীদের উৎখাত এবং নিপিড়ণের এক পয়ায়ে ধরা পনা পড়ার জন্য সুবোধচন্দ্র এবং তার স্ত্রী স্বপ্না চিত্র আব্দুল আজিজ ব্যাপারির কুয়োতে পড়ে যায় বা তাাদের ফেলে দেয়া হয়। পরে ঢাকা শহরের কোনো এক দাঙ্গা চলাকালীন একই সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী নাটকীয়ভাবে পুনরায় কুয়ায় পড়ে যায় বা তাদের ফেলে দেয়া হয়। এই ঘটনার সাত বছর পর সুবোধচন্দ্র দম্পতিকে পুনরায় ভূতের গলির আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে পাওয়া যায়। সে সময় অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের খবর পায়। এতে সুবোধচন্দ্র দম্পতি ভীত হলে এলাবাসি তাদের অভয় দেয়। এরপর একদিন মহল্লার লোকেরা জানতে পারে যে মসজিদ ভাঙার খবর শুনে সুবোধচন্দ্র নাকি মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কিনে এনে স্ত্রীকে নিয়ে খেয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহল্লাবাসী ক্ষিপ্ত হয় এবং সুবোধচন্দ্রের বাড়িতে হাজির হয়। সেখানে তারা কুয়োর ভেতরে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার লাশ খুঁজে পায়।[৯] গল্পে একটি কথা উল্লেখযোগভাবে উঠে এসেছে তা হলো, "ছুবোধচন্দ্রের বউয়ের নাম ছবছম পরাণই অয়"।

এই গল্প জহিরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বহন করে। তিনি হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয়-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে তিনটি ভিন্ন কালিক পটভূমিতে প্রতিস্থাপন করলে অন্তিম পর্যায়ে একই পরিণতি দেখিয়েছেন। অর্থাৎ সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের দ্বারা সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন চিরকালীন। শশুরুতে গল্পের নাম "কাঁটা" রাখা হলেও পরে তা বদলে "মনোজগতের কাঁটা" এবং অবশেষে "কাঁটা" শিরোনামে স্থির করা হয়। এই প্রসঙ্গে লেখকের যুক্তি ছিল, 'কাঁটা'র প্রতীকে হিন্দু-মুসলমানের চেতনালোকে পরস্পরের প্রতি বৈরিতা, সাম্প্রদায়িকতা, সংশয় ও আস্থাহীনতা বহুকাল ধরে এতটাই পরিপুষ্ট হয়েছে যে সেটি উপড়ে ফেলা অসম্ভব।[১০]

আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালে রচিত গল্পটির সর্বশেষ লাইনে একটি "কমা" (,) ব্যবহার হবার কথা থাকলেও এই সংকলনে তা "দাড়ি" (।) ব্যবহার করে প্রকাশ করা হয়। পলে জহির পরবর্তীতে তার তৃতীয় গল্প সংকলনে তা সংশোধন করে পুন-প্রকাশ করেছিলেন। "আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস" একটি বহুমাত্রিক সরবতা নিয়ে বাংলা গল্পসাহিত্যে আলোকময় অস্তিত্ব জানান দেয় বলে লেখক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর মন্তব্য করেছেন।[১১] পরবর্তীতে জহির গল্পটিকে "History of Our Cottage Industry" নামে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন।[১২]

ধুলোর দিনে ফেরা[সম্পাদনা]

১৯৯৭ সালে রচিত "ধুলোর দিনে ফেরা" গল্পে নকশালপন্থীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সমান্তরালে লেখকের ব্যক্তিচিত্তের প্রেম, স্বপ্ন, রোমান্টিকতাজাত বিচিত্র উপলব্ধির বৃত্তান্ত পাওয়া যায়।[৬] গল্পের চরিত্র আব্দুল ওয়াহিদ সিরাজগঞ্জ কলেজ থেকে বি.এ পাশের পর এমএ পড়তে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী বছর ঢাকায় আসে এবং একসময় নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। পরিণতিতে লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়ার পরও গ্রামে আব্দুল ওয়াহিদের প্রত্যাবর্তন না ঘটায়, সেখানে ঘটতে থাকে ভিন্ন কাাহিনী। এসবের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে নকশালপন্থী কার্যকলাপের প্রভাব। ব্যাঙনাই নামক গ্রামে এক বাড়িতে ডাকাতিতে সম্পৃক্ত থাকায় ওয়াহিদের নকশালপন্থী কর্মকান্ড সম্পর্কে গ্রামবাসী অবহিত হয়। অন্যদিকে কৃষক আবদুর রশিদ প্রামাণিকের নাটকীয়ভাবে অপ্রকৃতিস্থ হওয়ার ঘটনায় তার কামলা আকালুর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামবাসীর ওপর নকশালপন্থীদের প্রভাব ও সমীহ অর্জনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। অন্যদিকে এসব ঘটনায় নকশালপন্থী আন্দোলনের প্রতি লেখকের প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেখা যায়। এই গল্পেও জাদুবাস্তবতার ব্যবহার করেছেন জহির। যার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গল্পে, আব্দুল ওয়াহিদ ও নূরজাহানের মধ্যে ময়নাপাখি বিষয়ক নাটকীয় ক্রিয়াকলাপ। গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় চাচাতো বোন নূরজাহানকে অপ্রকাশিত ভালোবাসার প্রতীক হিসাবে ওয়াহিদ একটি শালিকের ছানাকে ময়নার বাচ্চা বলে উপহার দেয়। পরিচর্যায়কালীন একসময়ে নূরজাহান বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হলেও সে তার যত্ন চালিয়ে যায়। যদিও ওয়াহিদেরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবুল হোসেনের সঙ্গে নূরজাহানের বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হওয়ার পরপরই সে শালিকের কথা ভুলে যায়। এদিকে বিয়ের পরদিন খাঁচায় বন্দি শালিকের অনাহারে মৃত্যুর পর নূরজাহানের সেটিকে বাড়ির পেছনে বাঁশঝাড়ে নিক্ষেপ করার ঘটনায় ওয়াহিদের প্রতি তার ভালোলাগার অনুভবের অর্থহীনতা প্রতীয়মান হয়। শেষে একুশ বছর পর ওয়াহিদের সুহাসিনীতে প্রত্যাবর্তন ঘটে। এসময় নূরজাহানের সাথে সাক্ষাতের পর রাজনৈতিক আদর্শের মায়ামোহে জীবনের মহার্ঘ সময় হারানোর আক্ষেপ তার চেতনায় প্রবল হয়ে ওঠে। এদিকে তার প্রতি নূরজাহানের ভালোবাসা পূনরায় গভীরতর হতে লাগলে উদ্বেগে বিপর্যস্ত হয়ে উঠে ওয়াহিদ। অন্যদিকে রয়েছে একটি গোলাপ গাছের বর্ণনা, যে গাছে বিগত সত্তর-আশি বছরে কোনো ফুল ফোটেনি এবং ফুল ফোটানোর জন্য গাছটির সাথে কথা বলতে হয়। কেননা সেই গোলাপ গাছটির রয়েছে 'মানুষের কথার শব্দ শোনার স্মৃতির নেশা'।[১৩] আমিনুদ্দিন নামের একজনের উপস্থিতিতে এক রাতে গাছটির ফুল ফোটানোর ঘটনায় বাস্তবতার শর্তকে অস্বীকার করা হতে পারে। অনেকে একে পরাবাস্তব বর্গের গল্পহীন গল্প হিসেবেও চিহ্ণিত করেছেন।[৭] উপর্যুক্ত ঘটনাগুলোর সঙ্গে জাদুবাস্তবতার প্রাসঙ্গিক যোগসাজুস ঘটানার মাধ্যমে নকশালপন্থী আদর্শে আস্থাশীল ওয়াহিদের স্বরূপ চিত্রাহিত হয়েছে।[৬]

চতুর্থ মাত্রা[সম্পাদনা]

"চতুর্থ মাত্রা" গল্পটি রচিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। গল্পটি ইতোপূর্বে কায়সুল হক সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা শৈলীতে প্রকাশিত হয়েছিল।[১৪] গল্পের আখ্যান রচিত হয়েছে ক্রিয়াপদের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ কাল প্রয়োগের মাধ্যমে।[৭] সময়ের চতুর্মাত্রিক ক্ষেত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল করিম নামের এক অবিবাহিত ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনাচারের পুনরাবৃত্তিক উপস্থাপনা রয়েছে এতে।[১৫] যেখানে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ, ব্যক্তিক-পারিবারিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক দায়-দায়িত্ব থেকে তার বিচ্ছিন্নতা দেখানো।[১৪] এসবের মধ্য দিয়ে রচিত বিচ্ছিন্নকরণ প্রভাবপ্রসূত এই নাট্যধর্মী কাহিনী।

অভিযোজন[সম্পাদনা]

এই বইয়ে সংকলিত একাধিক গল্প অবলম্বনে মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৯৩ সালে রচিত "এই সময়" গল্প অবলম্বনে আশিক মোস্তফার পরিচালনায় ২০০২ সালে ফুলকুমার নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ১৯৯১ সালে রচিত জাদুবাস্তবতাবাদী গল্প হিসেবে পরিচিত, "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্প থেকে ২০১২ সালে টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করেছেন জাহিন জামাল, যেটি চ্যানেল নাইনে প্রচারিত হয়েছিল।[১২][১৬] যেটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আজাদ আবুল কালাম, নাজনীন হাসান চুমকি প্রমূখ।[১৭] সংকলনের পঞ্চম গল্প "মনোজগতের কাঁটা" অবলম্বনে ২০১০ সালে কাঁটা শিরোনামে নাটক পরিচালনা করেছেন অনিমেষ আইচ, যেটি দেশ টিভিতে প্রচারিত হয়।[১৮] এছাড়াও এই গল্প অবলম্বনে একই শিরনামে টোকন ঠাকুর চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন।[১৯] সংকলনের সর্বশেষ গল্প ১৯৯৮ সালে রচিত "চতুর্থ মাত্রা" গল্প অবলম্বনে একই শিরনামে নুরুল আলম আতিক ২০০১ সালে টেলিভিশন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। যেটি তিনটি বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পছন্দ পুরস্কার জিতে।[২০] ১৯৯২ সালে রচিত "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" গল্প থেকে দেশ নাট্যদল "জন্মে জন্মান্তর" নামে মঞ্চনাটকও প্রযোজনা করেছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. হাবিব, তাশরিক-ই- (১৭ মার্চ ২০১৭)। "শহীদুল জহিরের জাদুবাস্তবতা"দৈনিক সমকাল। ৯ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ 
  2. শামীম, ইমতিয়ার (২৭ মার্চ ২০০৮)। "সেদিন তুষার ঝরেছিল"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৪ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০২৩ 
  3. ফাল্গুনী, অদিতি। "লেখকের প্রয়াণ: শহীদুল জহির ও আমাদের কথাশিল্পের ভুবন"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৪ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০২৩ 
  4. মারুফ, মোহাম্মদ (১৫ অক্টোবর ২০১৭)। "শহীদুল জহিরকে নিয়ে গাঁথার আয়োজন"ঢাকা: বাংলা ট্রিবিউন। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  5. হাবিব, তাশরিক-ই- (২ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "জাদুবাস্তবতা অথবা নয়নতারা ফুলের কথামালা"জনকণ্ঠ। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  6. হাবিব, তাশরিক-ই- (২ জানুয়ারি ২০১৭)। হাসনাত, আবুল, সম্পাদক। "শহীদুল জহিরের তিনটি গল্পে জাদুবাস্তবতার অন্বেষণ"কালি ও কলমঢাকা: আবুল খায়ের। ১৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  7. হোসেন, মোজাফফর (১৬ অক্টোবর ২০১৭)। "শহীদুল জহিরের প্রবণতা ও স্বকীয়তা"ঢাকা: বাংলা ট্রিবিউন। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  8. রেজা, অমিতাভ (৩ আগস্ট ২০০২)। "ফুলকুমারঃ চলচ্চিত্রে অন্য ধারার সম্ভাবনা"। ঢাকা: প্রথম আলো 
  9. ওয়াহিদ, সবুজ (১৮ মে ২০১৩)। "শহীদুল জহির-এর ছোট গল্প "কাঁটা"-- সাম্প্রদায়িকতার কুয়ো ও অপরাধ বোধের কাঁটা"প্রিয়.কম। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  10. হাবিব, তাশরিক-ই- (৯ ডিসেম্বর ২০১৬)। "শহীদুল জহিরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা"ঢাকা: কালের কণ্ঠ। ২৭ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  11. জাহাঙ্গীর, কামরুজ্জামান (২৯ আগস্ট ২০১৫)। "শহীদুল জহির: তার গল্পের পতনশীল মানুষেরা"। amarbarta24। ৩০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  12. মজিদ, পিয়াস (২৮ জুলাই ২০১৪)। "একজন অন্যবিধরোদে পোড়াশহীদুল জহির"ঢাকা: ইত্তেফাক। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  13. হাসান, মাজুল (১ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "শহীদুল জহিরের গল্পে জাদুআবহ ও কয়েনেজসমূহ"arts.bdnews24.comঢাকা: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  14. দীপ, কুমার (২৩ মার্চ ২০১৮)। "অপরূপ শহীদুল জহির"এনটিভি। ১৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  15. হাবিব, তাশরিক-ই- (ডিসেম্বর ২০১২)। "'চতুর্থ মাত্রা' : ছোটগল্প ও একাঙ্কিকার" (পিডিএফ)বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকাবাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি৩০। ১৫ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  16. "শহীদুল জহিরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত"ঢাকা: যুগান্তর। ৩০ মার্চ ২০১৪। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  17. "শহীদুল জহিরের গল্প নিয়ে নাটক"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২৬ ডিসেম্বর ২০১২। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  18. "Victory Day specials on TV channels"দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ১৬ ডিসেম্বর ২০১০। ৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১ 
  19. মাহমুদ, রাসেল (২০১৮-০৯-২৭)। "কী অবস্থায় কোটি টাকার 'কাঁটা'"প্রথম আলো। ২০২০-০১-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-২৮ 
  20. রায়হান, সিয়াম (৫ আগস্ট ২০১৯)। "Atique's upcoming film Manusher Bagan unveils poster"ঢাকা ট্রিবিউন। ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]