ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প
ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প বইয়ের প্রচ্ছদ
প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ
লেখকশহীদুল জহির
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
ধরনছোট গল্প সংগ্রহ
প্রকাশিত১৯৯৯
প্রকাশকশিল্পতরু প্রকাশনী
মিডিয়া ধরনছাপা (শক্তমলাট)
পৃষ্ঠাসংখ্যা১৩৯ (প্রথম সংস্করণ)
আইএসবিএন৯৮৪৭০১৫৬০১৮০৫ আইএসবিএন বৈধ নয়
ওসিএলসি৪৩৯৬৯২৮৯
এলসি শ্রেণীPK1730.25.A445 D86 1999
পূর্ববর্তী বইপারাপার (১৯৮৫) 
পরবর্তী বইডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প (২০০৪) 

ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প বাঙালি লেখক শহীদুল জহির রচিত বাংলা গল্পসংকলন। এটি ১৯৯৯ সালে শিল্পতরু প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত জহিরের দ্বিতীয় গল্প সংকলন। এতে আটটি গল্প সংকলিত হয়েছে, যেগুলি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে রচিত। সংকলনের অধিকাংশ গল্পের পটভূমিতে বাস্তবতার সাথে অবাস্বত এক বাস্তবতার রূপ পাওয়া যায়। এছাড়াও সংকলনের ছয়টি গল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চনাটক নির্মিত হয়েছে।

সূচী[সম্পাদনা]

ক্রম শিরোনাম রচনা কাল
"আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" ১৯৯১
"কাঠুরে ও দাঁড়কাক" ১৯৯২
"ডুমুরখেকো মানুষ" ১৯৯২
"এই সময়" ১৯৯৩
"কাঁটা" ১৯৯৫
"আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস" ১৯৯৫
"ধুলোর দিনে ফেরা" ১৯৯৭
"চতুর্থ মাত্রা" ১৯৯৮

গল্পসমূহ[সম্পাদনা]

"আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই"[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে দেখা যায় এমন "Vinca" প্রজাতির নয়নতারা উদ্ভিদ "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্পের বিশেষ চরিত্র।

১৯৯৯ সালে রচিত "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্পে প্রকৃতি ও প্রেমের রূপক দৃষ্টান্ত রয়েছে।[১] ঔপনিবেশিক জীবনের অবরুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে গল্পে ঢাকার আগারগাঁও নামক সরকারি কলোনিতে বসবাসরত মানুষের বৃত্তান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।[২] গাঠনিক দিক থেকে এই গল্পের প্রধান হাতিয়ার জাদুবাস্তবতার বিবিধ প্রকৌশল। আগারগাঁও মূলত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসের জন্য সৃষ্ট একটি কলোনি, যেখানে সামাজিক মর্যাদা ও আধিপত্যের মানদণ্ডে বসবাসরত কেরানিদের অবস্থান তলদেশে। এধরনের একজন কেরানি মধ্যবয়সী আবদুস সাত্তার এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। এবং বিশেষ চরিত্র নয়নতারা গাছ। তার জীবনচর্যার রূপায়ণে গল্প উদ্দেশ্যপুষ্ট হয়। গল্পের এক পর্যায়ে আকস্মিক ভূমিকম্পকালে তার বারান্দায় থাকা নয়নতারা গাছ রক্ষার প্রচেষ্টায় মারা পড়ে। দেখা যায় এ দুর্যোগে একমাত্র নিহত আবদুস সাত্তারের পাশাপাশি আগারগাঁও কলোনির সকল নয়নতারা গাছের উন্মূলিত হওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। সাহিত্যালোচকদের মতে এর মাধ্যমে বাস্তবতার গণ্ডি অতিক্রমপূর্বক জাদুবাস্তবতায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। এরপর কলোনিবাসীর পুনরায় নয়নতারার চারা রোপণ করার পর সেগুলোর অকালমৃত্যু ঘটে। এতে তারা বিস্মিত হয় তারা কৃষি কলেজের জনৈক অধ্যাপকের সরনাপন্ন হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তবে তার গবেষণায় দেখা যায় যে কলোনির যে স্থানে আবদুস সাত্তারের মস্তিষ্কের গলিত মগজ পতিত হয়েছিল, শুধুমাত্র সেখানেই নতুন চারটি নয়নতারা গাছ জন্মেছে। এমনকি এদের কোনটিকে অন্যত্র সরানোর প্রচেষ্টা চালাতেই সেটি মুমূর্ষু হয়ে পড়ছে। আবার এ ঘটনার অস্বাভাবিক ও অব্যাখ্যাত কার্য-কারণের স্বরূপ সম্পর্কে কৃষিবিদের অনুমানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে পূর্বে ঘটে যাওয়া হলুদ প্রজাপতির উদ্দীপক ভূমিকা পালনের প্রসঙ্গ। শেষে কৃষিবিদের মতে, জানা যায় গাছগুলো আত্মহত্যা করেছে।[২]

"কাঠুরে ও দাঁড়কাক"[সম্পাদনা]

বাস্তবতা এবং অবাস্তবতার সমন্বয়ে "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" রচিত হয় ১৯৯২ সালে। গল্পে রূপকথার আবহে প্রান্তিক এক দম্পতির জীবনের সঙ্গে কাকের বিচিত্র সম্পৃক্ততার কাাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এ গল্পের ভাষ্য নির্মাণে তিনি অবলম্বন করেছেন জাদুবাস্তবতাধর্মী আখ্যান ও ঘটনাংশ, অবিশ্বাস্য লোককথা এবং সর্বোপরি ব্যাখ্যাতীত পরিসমাপ্তি। বহুদিন আগে ঢাকা শহর কাকশূন্য হওয়ার বৃত্তান্তের মধ্য দিয়ে গল্পের সূত্রপাত ঘটে। সিরাজগঞ্জের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের ভূমিহীন দরিদ্র কাঠুরে আকালু ও তার স্ত্রী টেপি পরিত্যক্ত ভিটায় ঝুপড়ি বেঁধে বাস করে। আকালুর স্ত্রীর সন্তানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হলেও অবচেতনে এর রূপায়ণ ঘটে নিজের খেয়ালে কখনো নিজের সঙ্গে, কখনো গাছ, পাখি ও বাতাসের সঙ্গে কথা বলার প্রবণতায়। এক সকালে তাদের ভিটাসংলগ্ন আমগাছে একজোড়া দাঁড়কাক এসে বসলে তাদের সঙে টেপির বাক্যালাপ শুরু হয়। এ প্রকিয়ার ভেতর যাওয়ার ফলে পরবর্তীতে নিজেদের ভালো-মন্দের বিষয়ে তারা কাকদের সম্পৃক্ত করতে শুরু করে। গল্পের শেষে কাকের ঠোঁটে ভর করে তাদের উড়ে যাওয়া সংক্রান্ত কিংবদন্তির জন্ম হয়। এই ঘটনার বাস্তবতা প্রমাণের জন্য রয়েছে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে রামপুরা ঝিলে নৌকায় রাত্রিযাপনকারী মাঝিদের কথন।[৩] গল্পের বাস্তবতার সাপেক্ষে জহির এখানে কিছুটা মার্কেসীয় রীতিতে অবাস্তব ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য বা বাস্তব করে তুলতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনার ব্যবহার করেছেন। এবং কাকের মুখে করে আকালু ও তার স্ত্রী টেপিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি প্রমাণিত সত্য হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে জাদুবাস্তবতার প্রয়োগ রয়েছে।[৪]

"ডুমুরখেকো মানুষ"[সম্পাদনা]

"ডুমুরখেকো মানুষ" ১৯৯২ সালে রচিত আপাতপাঠে নির্বোধ গল্প মনে হতে পারে।[৪] এই গল্প সম্পর্কে জহির এক বক্তব্যে বলেছেন, অ্যাবস্ট্রাক্ট চিত্রকর্মের মতো গল্পটিকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। তিনি এটিকে একটা ভাষাগত স্ট্রাকচার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। একজন আগন্তুকের শারীরিক ও চারিত্রিক বর্ণনার ভেতর দিয়ে গল্পের সূত্রপাত ঘটে, যিনি একজন ডুমুরবিক্রেতা। গল্পের শেষে পাঁচজন ডুমুরখেকো মানুষ শ্যামবাজার থেকে দক্ষিণে নদীর কিনারে একটি অট্টালিকায় প্রবেশ করে জাদুকর ডুমুরবিক্রেতাকে খুন করে।[৪]

"কাঁটা"[সম্পাদনা]

ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িকতা প্রেক্ষাপটে ১৯৯৫ সালে রচিত "কাঁটা" একটি মনোজাগতিক গল্প। যেখানে ভূতের গলির আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়িতে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার আগমণের পর সময়ের কাঠামো ভেঙে যায় এবং ভূতের গলির লোকেদের অতীত ও বর্তমান এলোমেলো হয়ে পড়ে। এই দম্পতিকে দেখে মহল্লাবাসিদের সংশয় জাগে যে, সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী যেন আবার আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়ির উঠোনে থাকা কুয়োতে পড়ে না যায়। তাদের এই ভাবনার পেছনে রয়ে অতিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা। যখন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে অবস্থান নিয়েছিল সুবোধচন্দ্র ও স্বপ্না রানী দম্পতি। সে সময়ে সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দুধর্মালম্বীদের উৎখাত এবং নিপিড়ণের এক পয়ায়ে ধরা পনা পড়ার জন্য সুবোধচন্দ্র এবং তার স্ত্রী স্বপ্না চিত্র আব্দুল আজিজ ব্যাপারির কুয়োতে পড়ে যায় বা তাাদের ফেলে দেয়া হয়। পরে ঢাকা শহরের কোনো এক দাঙ্গা চলাকালীন একই সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী নাটকীয়ভাবে পুনরায় কুয়ায় পড়ে যায় বা তাদের ফেলে দেয়া হয়। এই ঘটনার সাত বছর পর সুবোধচন্দ্র দম্পতিকে পুনরায় ভূতের গলির আব্দুল আজিজ ব্যাপারির বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে পাওয়া যায়। সে সময় অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের খবর পায়। এতে সুবোধচন্দ্র দম্পতি ভীত হলে এলাবাসি তাদের অভয় দেয়। এরপর একদিন মহল্লার লোকেরা জানতে পারে যে মসজিদ ভাঙার খবর শুনে সুবোধচন্দ্র নাকি মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কিনে এনে স্ত্রীকে নিয়ে খেয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহল্লাবাসী ক্ষিপ্ত হয় এবং সুবোধচন্দ্রের বাড়িতে হাজির হয়। সেখানে তারা কুয়োর ভেতরে সুবোধচন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্নার লাশ খুঁজে পায়।[৫] গল্পে একটি কথা উল্লেখযোগভাবে উঠে এসেছে তা হলো, "ছুবোধচন্দ্রের বউয়ের নাম ছবছম পরাণই অয়"।

এই গল্প জহিরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বহন করে। তিনি হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয়-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে তিনটি ভিন্ন কালিক পটভূমিতে প্রতিস্থাপন করলে অন্তিম পর্যায়ে একই পরিণতি দেখিয়েছেন। অর্থাৎ সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের দ্বারা সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন চিরকালীন। শশুরুতে গল্পের নাম "কাঁটা" রাখা হলেও পরে তা বদলে "মনোজগতের কাঁটা" এবং অবশেষে "কাঁটা" শিরোনামে স্থির করা হয়। এই প্রসঙ্গে লেখকের যুক্তি ছিল, 'কাঁটা'র প্রতীকে হিন্দু-মুসলমানের চেতনালোকে পরস্পরের প্রতি বৈরিতা, সাম্প্রদায়িকতা, সংশয় ও আস্থাহীনতা বহুকাল ধরে এতটাই পরিপুষ্ট হয়েছে যে সেটি উপড়ে ফেলা অসম্ভব।[৬]

"আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস"[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালে রচিত গল্পটির সর্বশেষ লাইনে একটি "কমা" (,) ব্যবহার হবার কথা থাকলেও এই সংকলনে তা "দাড়ি" (।) ব্যবহার করে প্রকাশ করা হয়। পলে জহির পরবর্তীতে তার তৃতীয় গল্প সংকলনে তা সংশোধন করে পুন-প্রকাশ করেছিলেন। "আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস" একটি বহুমাত্রিক সরবতা নিয়ে বাংলা গল্পসাহিত্যে আলোকময় অস্তিত্ব জানান দেয় বলে লেখক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর মন্তব্য করেছেন।[৭] পরবর্তীতে জহির গল্পটিকে "History of Our Cottage Industry" নামে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন।[৮]

"ধুলোর দিনে ফেরা"[সম্পাদনা]

১৯৯৭ সালে রচিত "ধুলোর দিনে ফেরা" গল্পে নকশালপন্থীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সমান্তরালে লেখকের ব্যক্তিচিত্তের প্রেম, স্বপ্ন, রোমান্টিকতাজাত বিচিত্র উপলব্ধির বৃত্তান্ত পাওয়া যায়।[৩] গল্পের চরিত্র আব্দুল ওয়াহিদ সিরাজগঞ্জ কলেজ থেকে বি.এ পাশের পর মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী বছর ঢাকায় আসে এম.এ পড়তে। এভাবে সে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। পরিণতিতে পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার পরও যখন গ্রামে তার প্রত্যাবর্তন ঘটে না তখন ঘটতে থাকে ভিন্ন ভিন্ন কাাহিনী। এসবের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে নকশালপন্থী কার্যকলাপের প্রভাব। এই গল্পেও জাদুবাস্তবতার সাহায্য নিয়েছেন জহির। যার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গল্পে, আব্দুল ওয়াহিদ ও নূরজাহানের মধ্যে ময়নাপাখি বিষয়ক নাটকীয় ক্রিয়াকলাপ। অন্যদিকে রয়েছে একটি গোলাপ গাছের বর্ণনা রয়েছে, যে গাছে ফুল ফোটানোর জন্য গাছটির সাথে কথা বলতে হয়। কেননা সেই গোলাপ গাছটির রয়েছে 'মানুষের কথার শব্দ শোনার স্মৃতির নেশা'।[৯] অনেকে একে পরাবাস্তব বর্গের গল্পহীন গল্প হিসেবেও চিহ্ণিত করেছেন।[৪]

"চতুর্থ মাত্রা"[সম্পাদনা]

"চতুর্থ মাত্রা" গল্পটি রচিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। গল্পটি ইতোপূর্বে কায়সুল হক সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা শৈলীতে প্রকাশিত হয়েছিল।[১০] গল্পের আখ্যান রচিত হয়েছে ক্রিয়াপদের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ কাল প্রয়োগের মাধ্যমে।[৪] সময়ের চতুর্মাত্রিক ক্ষেত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল করিম নামের এক অবিবাহিত ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনাচারের পুনরাবৃত্তিক উপস্থাপনা রয়েছে এতে।[১১] যেখানে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ, ব্যক্তিক-পারিবারিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক দায়-দায়িত্ব থেকে তার বিচ্ছিন্নতা দেখানো।[১০] এসবের মধ্য দিয়ে রচিত বিচ্ছিন্নকরণ প্রভাবপ্রসূত এই নাট্যধর্মী কাহিনী।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

এই বইয়ে সংকলিত একাধিক গল্প অবলম্বনে মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে রচিত জাদুবাস্তবতাবাদী গল্প হিসেবে পরিচিত, "আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই" গল্প থেকে ২০১২ সালে টেলিভিশন নাটক নির্মাণ করেছেন জাহিন জামাল, যেটি চ্যানেল নাইনে প্রচারিত হয়েছিল।[৮][১২] যেটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আজাদ আবুল কালাম, নাজনীন হাসান চুমকি প্রমূখ।[১৩] ১৯৯২ সালে রচিত "কাঠুরে ও দাঁড়কাক" গল্প থেকে দেশ নাট্যদল "জন্মে জন্মান্তর" নামে মঞ্চনাটকও প্রযোজনা করেছে। ১৯৯৩ সালে রচিত "এই সময়" গল্প অবলম্বনে আশিক মোস্তফার পরিচালনায় ২০০২ সালে ফুলকুমার নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। সংকলনের পঞ্চম গল্প "মনোজগতের কাঁটা" অবলম্বনে ২০১০ সালে কাঁটা শিরোনামে নাটক পরিচালনা করেছেন অনিমেষ আইচ, যেটি দেশ টিভিতে প্রচারিত হয়।[১৪] এছাড়াও এই গল্প অবলম্বনে একই শিরনামে টোকন ঠাকুর চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন।[১৫] সংকলনের সর্বশেষ গল্প ১৯৯৮ সালে রচিত "চতুর্থ মাত্রা" গল্প অবলম্বনে একই শিরনামে নুরুল আলম আতিক ২০০১ সালে টেলিভিশন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। যেটি তিনটি বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পছন্দ পুরস্কার জিতে।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মারুফ, মোহাম্মদ (১৫ অক্টোবর ২০১৭)। "শহীদুল জহিরকে নিয়ে গাঁথার আয়োজন"ঢাকা: বাংলা ট্রিবিউন। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  2. হাবিব, তাশরিক-ই- (২ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "জাদুবাস্তবতা অথবা নয়নতারা ফুলের কথামালা"জনকণ্ঠ। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  3. হাবিব, তাশরিক-ই- (২ জানুয়ারি ২০১৭)। হাসনাত, আবুল, সম্পাদক। "শহীদুল জহিরের তিনটি গল্পে জাদুবাস্তবতার অন্বেষণ"কালি ও কলমঢাকা: আবুল খায়ের। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  4. হোসেন, মোজাফফর (১৬ অক্টোবর ২০১৭)। "শহীদুল জহিরের প্রবণতা ও স্বকীয়তা"ঢাকা: বাংলা ট্রিবিউন। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  5. ওয়াহিদ, সবুজ (১৮ মে ২০১৩)। "শহীদুল জহির-এর ছোট গল্প "কাঁটা"-- সাম্প্রদায়িকতার কুয়ো ও অপরাধ বোধের কাঁটা"প্রিয়.কম। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  6. হাবিব, তাশরিক-ই- (৯ ডিসেম্বর ২০১৬)। "শহীদুল জহিরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা"ঢাকা: কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  7. জাহাঙ্গীর, কামরুজ্জামান (২৯ আগস্ট ২০১৫)। "শহীদুল জহির: তার গল্পের পতনশীল মানুষেরা"। amarbarta24। ৩০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  8. মজিদ, পিয়াস (২৮ জুলাই ২০১৪)। "একজন অন্যবিধরোদে পোড়াশহীদুল জহির"ঢাকা: ইত্তেফাক। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  9. হাসান, মাজুল (১ সেপ্টেম্বর ২০১২)। "শহীদুল জহিরের গল্পে জাদুআবহ ও কয়েনেজসমূহ"arts.bdnews24.comঢাকা: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  10. দীপ, কুমার (২৩ মার্চ ২০১৮)। "অপরূপ শহীদুল জহির"এনটিভি। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  11. হাবিব, তাশরিক-ই- (ডিসেম্বর ২০১২)। "'চতুর্থ মাত্রা' : ছোটগল্প ও একাঙ্কিকার" (PDF)বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকাবাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি৩০। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২১ 
  12. "শহীদুল জহিরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত"ঢাকা: যুগান্তর। ৩০ মার্চ ২০১৪। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  13. "শহীদুল জহিরের গল্প নিয়ে নাটক"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ২৬ ডিসেম্বর ২০১২। ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২১ 
  14. "Victory Day specials on TV channels"দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ১৬ ডিসেম্বর ২০১০। ৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১ 
  15. মাহমুদ, রাসেল (২০১৮-০৯-২৭)। "কী অবস্থায় কোটি টাকার 'কাঁটা'"প্রথম আলো। ২০২০-০১-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-২৮ 
  16. রায়হান, সিয়াম (৫ আগস্ট ২০১৯)। "Atique's upcoming film Manusher Bagan unveils poster"ঢাকা ট্রিবিউন। ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]