নয়নতারা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Catharanthus roseus
Nayantara.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Gentianales
পরিবার: Apocynaceae
গণ: Catharanthus
প্রজাতি: C. roseus
দ্বিপদী নাম
Catharanthus roseus
(L.) G.Don
প্রতিশব্দ

Vinca rosea

Catharanthus roseus

নয়নতারা, একটি উদ্ভিদ, যা তার লালচে গোলাপি পাঁচ পাপড়ির ফুল গুলোর জন্য পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Catharanthus roseus, এটি Apocynaceae (dogbane, অথবা oleander পরিবার) পরিবারের একটি উদ্ভিদ। বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামেও পরিচিত, যেমন Cape periwinkle, Madagascar periwinkle, periwinkle, sadabahar, sadaphuli, sadasuhagi, sadsuhagan ইত্যাদি। এর আরেকটি প্রজাতি হলো Vinca rosea।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

আদি নিবাস মাদাগাস্কার। বাংলাদেশ, ভারত ও আফ্রিকা সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে এঁর দেখা পাওয়া যায়। এটি একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। বর্ষজীবী। কখনো কখনো অনেক বছর বেঁচে থাকতেও দেখা। তবে পুরনো হয়ে গেলে ও যত্নে না রাখলে গাছটি শক্ত হয়ে যায়, ফুলও ধরে না। ২/৩ ফুটের বেশি বাড়তে দেখা যায় না। পাতা বিপরীত, মসৃণ, আয়তাকার বা ডিম্বাকৃতি।[১] পাঁচ পাপড়ি বিশিষ্ট ফুল। গোলাপি, হালকা গোলাপি ও সাদা রঙের ফুল ফোটে। তবে গন্ধ নেই নয়নতারা ফুলে। কাণ্ড কোনাচে ধরণের, রঙ বেগুনি। সারা বছর জন্মে, বীজের সাহায্যে বংশ বৃদ্ধি।

নয়নতারা ওয়েস্ট ইণ্ডিজের প্রজাতি। এরা ছোট গাছ, ৬০-৮০ সেমি উঁচু। এদের কাণ্ড কোনাচে বেগুনি। এদের পাতা আয়তাকার, ৫-৭ সেমি লম্বা, মসৃণ। এসব গাছে প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে। ফুল সাদা বা গোলাপি রঙের, গন্ধহীন। ফুলের মাপ ৩-৩.৫ সেমি চওড়া, দলনল সরু, ২.৫ সেমি লম্বা, ৫ পাপড়ির মাঝখানে একটি গাঢ় রঙের ফোঁটা। এদেরকে বীজে চাষ করা যায়। বাগানের বাইরে ও দেখা যায়।[২]

রাসায়নিক উপাদান[সম্পাদনা]

গাছটির পাতা, ফুল ও ডালে বহু মূল্যবান রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। ৭০ টিরও বেশি উপক্ষার পাওয়া যায় এ গাছ থেকে। ভিনক্রিস্টিন ও ভিনব্লাস্টিন নামের উপক্ষার দুটি লিউকেমিয়া রোগে বিশেষ ব্যাবহার রয়েছে। ডেলটা-ইহোহিম্বিন নামের এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যায় যার চাহিদা অনেক। গাছ তিক্ত বলে গাছটিকে গরু বা ছাগল খায় না।

ব্যাবহার[সম্পাদনা]

ক্রিমি রোগে, মেধাহ্রাসে, লিউকেমিয়া, মধুমেহ, রক্ত প্রদরে, রক্তচাপ বৃদ্ধিত, সন্ধিবাত সহ নানা রোগে এঁর ব্যাবহার রয়েছে। বোলতা প্রভৃতির হুলের জ্বালায়/কীট দংশনে দ্রুত উপশম পেতে নয়নতারা ফুল বা পাতার রস ব্যাবহারের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=93129
  2. দ্বিজেন শর্মা, ফুলগুলি যেন কথা, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ডিসেম্বর ২০০৩, পৃষ্ঠা-৫৬।
  3. https://www.facebook.com/FloraBangladesh

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]