দিলীপ সামারাবীরা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দিলীপ সামারাবীরা
දුලිප් සමරවීර
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামদিলীপ প্রসন্ন সামারাবীরা
জন্ম (1972-02-12) ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ (বয়স ৪৮)
কলম্বো, শ্রীলঙ্কা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান, কোচ
সম্পর্কথিলান সামারাবীরা (ভ্রাতা), বাথিয়া পেরেরা (ভগ্নীপতি)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬০)
৮ ডিসেম্বর ১৯৯৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১৮ মার্চ ১৯৯৫ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৭৩)
৩ নভেম্বর ১৯৯৩ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ২১১ ৯১
ব্যাটিং গড় ১৫.০৭ ২২.৭৫
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ৪২ ৪৯
বল করেছে - -
উইকেট - -
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/- ৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ মে ২০২০

দিলীপ প্রসন্ন সামারাবীরা (সিংহলি: දුලිප් සමරවීර; জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২) কলম্বো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝে-মধ্যে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন দিলীপ সামারাবীরা

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দিলীপ সামারাবীরা’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া আসরে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন দিলীপ সামারাবীরা। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার।[১] দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব ও একাগ্রচিত্তে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর অফ স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে খাঁটিমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তবে, শ্রীলঙ্কার পক্ষে তার খেলার মান আশানুরূপ ছিল না। প্রতিপক্ষের উদ্বোধনী বোলারদের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নেয়ার প্রয়োজনীয় সুযোগে স্ট্রোকপ্লে খেলতে পারেননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে ও পাঁচটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন দিলীপ সামারাবীরা। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে মোরাতুয়ায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ মার্চ, ১৯৯৫ তারিখে ডুনেডিনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। সীমিত সুযোগ ও ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে না পারায় তাকে আর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি।

নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে শারজায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। পেপসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ খেলায় তিনি মাত্র তিন রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।[২] এরপর আরও চারটি খেলায় অংশ নিয়ে ৯১ রান তুলতে পেরেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৪ সালের শুরুরদিকে জলন্ধরে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে জয়ের সফলতম লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয় তার দল। ৪৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।[৩] সর্বোচ্চ রান তুললেও তাকে আর শ্রীলঙ্কার ওডিআই দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।

১৯৯৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল শ্রীলঙ্কা গমনে আসে। শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দুই দলের মধ্যকার উদ্বোধনী টেস্টে ১৬ ও ৫ রান তুলতে পেরেছিলেন। ডিসেম্বর, ১৯৯৩ সালে মোরাতুয়ায় সফরকারীদের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে দিলীপ সামারাবীরা’র। তিনি চণ্ডিকা হাথুরুসিংহা’র স্থলাভিষিক্ত হন ও ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। বেশ ধীরলয়ে ব্যাটিংকর্ম পরিচালনা করেন। ১০৭ বল মোকাবেলায় মাত্র ১৬ রান তুলতে সক্ষম হন। লখনৌয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে নিজস্ব পরবর্তী টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪২ রান তুলেন। ভারতের বিপক্ষে পুরো সিরিজের শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি। এরপর, ১৯৯৫ সালের শুরুরদিকে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। সেখানে নিজস্ব শেষ দুই টেস্টে অংশ নেন। এরপর তিনি বাদ পড়েন ও এভাবেই তার আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকৃত ১৪ ইনিংসের কোনটিতেই ৫০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি তিনি।[৪]

অবসর[সম্পাদনা]

২০০৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত কোল্টস দলের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ওডিআইয়ে তার স্ট্রাইক রেট ৫৩ ও টেস্টে ২৬। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কোন ধরনের খেলাতেই তিনি দ্রুতগতিতে রান তুলতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি বোলিং করার সুযোগ পাননি। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২০ গড়ে ৪১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভের সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬টি শতরান ও ৩৪টি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেললেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি তিনি।[১]

তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা থিলান সামারাবীরা শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে খেলেছেন।[১][৫] অপরদিকে তার ভগ্নীপতি বাথিয়া পেরেরা শ্রীলঙ্কায় ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।[১][৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Dulip Samaraweera"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১২ 
  2. "Full Scorecard of Sri Lanka vs West Indies, Sharjah Champions Trophy, 6th Match"ESPNcricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১২ 
  3. "Full Scorecard of India vs Sri Lanka 3rd ODI 1994"ESPNcricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১২ 
  4. "DP Samaraweera - Tests - Innings by innings list"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১২ 
  5. "Thilan Samaraweera"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১২ 
  6. "Bathiya Perera"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]