দাগেস্তান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
দাগেস্তান প্রজাতন্ত্র
Республика Дагестан (রুশ)
—  প্রজাতন্ত্র  —

পতাকা

Coat of arms
Anthem: দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত
স্থানাঙ্ক: স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ অনুপস্থিত
স্থানাঙ্ক: স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ অনুপস্থিত
{{#coordinates:}}: অক্ষাংশ সঠিক নয়
রাজনৈতিক অবস্থা
দেশ  রাশিয়া
ফেডারেল জেলা উত্তর ককেশিয়[১]
অর্থনৈতিক অঞ্চল উত্তর ককেশাস[২]
স্থাপিত জানুয়ারি ২০, ১৯২১[৩]
রাজধানী মাখাচকালা
সরকার (অক্টোবর ২০১৭ হিসাবে)
 - প্রধান[৪] ভ্লাদিমির ভ্যাসিলিয়েভ (সাময়িক)
 - আইনসভা পিপলস এসেম্বলি[৪]
পরিসংখ্যান
আয়তন (২০০২ এর আদমশুমারি হিসেবে)[৫]
 - মোট ৫০,৩০০ বর্গকিমি (১৯,৪২০.৯ বর্গ মাইল)
আয়তনের স্থান ৫২তম
জনসংখ্যা (২০১০ আদমশুমারি)[৬]
 - মোট ২৯,১০,২৪৯
 - স্থান ১২তম
 - ঘনত্ব[৭] ৫৭.৮৬ /কিমি (১৪৯.৯ জন/বর্গমাইল)
 - শহুরে ৪৫.২%
 - গ্রাম্য ৫৪.৮%
সময় অঞ্চল [৮]
আইএসও ৩১৬৬-২ RU-DA
লাইসেন্স প্লেট 05
অফিসিয়াল ভাষাসমূহ রুশ;[৯] Aghul, আভার, আজারবাইজানি, চেচেন, Dargwa, Kumyk, লেজগিয়ান, Lak, নোগাই, রুতুল, তাবাসারান, তাত, Tsakhur[১০][১১]
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
গানিবে অবস্থিত একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ প্রাচীর।

দাগেস্তান প্রজাতন্ত্র (রুশ: Респу́блика Дагеста́н), বা দাগেস্তান (/ˌdæɡɪˈstæn/ বা /ˌdæɡɪˈstɑːn/; রুশ: Дагеста́н), হল উত্তর ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত রাশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত একটি প্রজাতন্ত্র। এর রাজধানী এবং সর্ববৃহৎ শহর হলো মাখাচকালা, যা দাগেস্তান অঞ্চলের মাঝামাঝি কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে অবস্থিত। দাগেস্তান সরকার ২০১৮ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি একটি বড় আকারের দুর্নীতি বিরোধী তদন্তের সম্মুখীন হয় এবং বর্তমানে অঞ্চলটি সরাসরি রুশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন।[১২][১৩][১৪][১৫]

দাগেস্তানের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২,৯১০,২৪৯ জন।[৬] এই অঞ্চলটি জাতিগতভাবে খুবই বৈচিত্র্যময় এবং এটি রাশিয়ার সবথেকে বৈচিত্র্যময় প্রজাতন্ত্র। এই অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক জাতিগোষ্ঠি ও উপজাতি বসবাস করলেও তাদের কেউই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এখানে বসবাসকারীদের মধ্যে বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী সমূহ হলো আভার, দারগিন, কুমিক, লেজগিয়ান, লাক, আজারবাইজানি, তাবাসারান, চেচেন ইত্যাদি।[১৬] দাগেস্তানের মোট জনসংখ্যার ৩.৬% মানুষ জাতিগতভাবে রুশ।[১৭] প্রজাতন্ত্রের সাধারন দাপ্তরিক ভাষা হলো রুশ এবং স্থানীয় জাতিগোষ্ঠিগুলো নিজেদের মধ্যে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসেবে রুশ ভাষাকেই ব্যবহার করে।[১৮]

দাগেস্তানে ১৯৯০ এর দশকে ইসলামি বিদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জাতিগত উত্তেজনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, ইসলামী সশস্ত্র সংগঠন শরীয়ত জামাত বেশিরভাগ সহিংসতার জন্য দায়ী।[১৯]

গতানুগতিক সুফি মতাবলম্বী দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারকে সমর্থন করলেও, সম্প্রতি সালাফি মতবাদের ধর্মপ্রচারকগণ দাগেস্তানে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবী তুলেছে। এধরণের বিভিন্ন ইসলামিক দলগুলোর মধ্যকার মতভেদই দাগেস্তানের সমস্যার মূল কারন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

পরিচ্ছেদসমূহ

নামকরন[সম্পাদনা]

দাগেস্তান শব্দটি তুর্কিফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। তুর্কি দাগ শব্দটির অর্থ 'পর্বত' এবং -স্তান শব্দটি এসেছে একটি ফার্সি প্রত্যয় হতে, যার অর্থ 'ভূমি'। অর্থাৎ, দাগেস্তান শব্দের অর্থ দাঁড়ায় 'পার্বত্য ভূমি'।

দাগেস্তানের কিছু এলাকা অতীতে বিভিন্ন সময়ে আলবেনিয়া, লেজিগিস্তান, আভারিয়া এবং তারকোভ নামে পরিচিত ছিল।[২০]

দাগেস্তান নামটি দ্বারা ১৮৬০ হতে ১৯২০ সাল পর্যন্ত মূলত দাগেস্তান অব্লাস্টকে(প্রদেশ) বোঝান হতো, এই প্রদেশটি বর্তমানে দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ-পূর্বাংশে অবস্থিত। ১৯২১ সালে দাগেস্তান স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে প্রজাতন্রের সীমানা নির্ধারিত হয়। এ সময়ে তেরেক নদী হতে দক্ষিণে কাস্পিয়ান সাগরের তীর পর্যন্ত তেরেক প্রদেশের পূর্বাংশের অপার্বত্য সমতল ভুমি প্রজাতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়।

দাগেস্তানের নামসমূহ[সম্পাদনা]

দাপ্তরিক ভাষাসমূহ[সম্পাদনা]

  • রুশ – Респу́блика Дагеста́н (Respublika Dagestan)
  • আভার – Дагъистаналъул Жумгьурият (Daɣistanaĺul Jumhuriyat)
  • দারগিন – Дагъистанес Республика (Daɣistanes Respublika)
  • কুমিক – Дагъыстан Джумгьурият (Dağıstan Cumhuriyat)
  • লেজগিয়ান – Республика Дагъустан (Respublika Daɣustan)
  • লাক – Дагъустаннал Республика (Daɣustannal Respublika)
  • তাবাসারান – Дагъустан Республика (Daɣustan Respublika)
  • রুতুল – Республика Дагъустан (Respublika Daɣustan)
  • আঘুল – Республика Дагъустан (Respublika Daɣustan)
  • তসাখুর – Республика Дагъустан (Respublika Daɣustan)
  • নোগাই – Дагыстан Республикасы (Dağıstan Respublikası)
  • চেচেন – Деxастан пачхьалкъ (Dexastan Pačxalqʼ)
  • আজারবাইজানি – Дағыстан Республикасы (Dağıstan Respublikası)

অন্যান্য ভাষাসমূহ[সম্পাদনা]

ভূগোল[সম্পাদনা]

কৃষ্ণ সাগর-কাস্পিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রীয় রাজ্য সমূহ।
*উত্তর ককেসাস সংলগ্ন প্রজাতন্ত্রগুলো হলো কারাচাই-চেরকেসিয়া, কারবাদিনো-বাল্কারিয়া, উত্তর অশেতিয়া-আলানিয়া, ইঙ্গুশেতিয়া এবং চেচনিয়া।
*দক্ষিণের যুক্তরাষ্ট্রীয় রাজ্যগুলোকে হলুদ এবং উত্তর ককেশীয় রাজ্যগুলোকে গোলাপী রঙয়ে দেখানো হয়েছে।

দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রটি উত্তর ককেশাস পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। এটি রাশিয়ার দক্ষিণাংশে অবস্থিত এবং দাগেস্তানের পূর্ব সীমান্তে কাস্পিয়ান সাগর অবস্থিত।

  • আয়তন: ৫০,৩০০ বর্গকিলোমিটার (১৯,৪০০ মা)
  • সীমানা:
  • সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: বাজারদুজু পর্বত: ৪,৪৪৬ মিটার (১৪,৫৮৭ ফু)
  • উত্তর ও দক্ষিণের সর্বোচ্চ দূরত্ব: ৪০০ কিলোমিটার (২৫০ মা)
  • পূর্ব-পশ্চিমের সর্বোচ্চ দূরত্ব: ২০০ কিলোমিটার (১২০ মা)

নদীসমূহ[সম্পাদনা]

দাগেস্তানের মানচিত্র

দাগেস্তানের উপর দিয়ে প্রায় ১,৮০০টি নদি প্রবাহিত হয়েছে। তা মধ্যে প্রধান নদীগুলো হলোঃ

  • সুলাক নদী
  • সামুর নদী
  • তেরেক নদী
  • ভ্লাদাস নদী
  • সেন্তার নদী

হ্রদ[সম্পাদনা]

দাগেস্তানের কাস্পিয়ান সাগর উপকূল বরাবর প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার (২৫২ মা) দীর্ঘ তটরেখা রয়েছে।

পর্বতসমূহ[সম্পাদনা]

দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের অধিকাংশই পার্বত্য এলাকা, যার দক্ষিণাংশ বৃহত্তর ককেশাস পর্বত দ্বারা আবৃত। এই অঞ্চলের উচ্চতম স্থান হলো আজারবাইজান সীমান্তে অবস্থিত বাজারদুজু পর্বতের চূড়া, যার উচ্চতা প্রায় ৪,৪৭০ মিটার (১৪,৬৭০ ফু)। এই পর্বতশৃঙ্গ হতে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে রাশিয়ার সর্বদক্ষিণ বিন্দু অবস্থিত। দাগেস্তানের অন্যান্য পর্বতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দিক্লোস্মতা (৪,২৮৫ মি (১৪,০৫৮ ফু)), গোরা আদ্দালা শুকগেল্মেযর (৪,১৫২ মি (১৩,৬২২ ফু)) এবং গোরা দিউলতিদাগ (৪,১২৭ মি (১৩,৫৪০ ফু))।

প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ[সম্পাদনা]

এই অঞ্চলটি বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন, জ্বালানী তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলে উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ু দেখা যায়। পার্বত্য এলাকা গুলোতে খুবই রুক্ষ শীত পরিলক্ষিত হয়।

  • জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা: +২ °সে (৩৬ °ফা)
  • জুলাই মাসের গড় তাপমাত্রা: +২৬ °সে (৭৯ °ফা)
  • গড় বার্ষিক বারিপাত: ২৫০ মিমি (১০ ইঞ্চি) (উত্তরের সমতল ভূমি) এবং ৮০০ মিমি (৩১ ইঞ্চি) (পার্বত্য এলাকা)।

প্রশাসনিক বিভাগ[সম্পাদনা]

দাগেস্তান প্রশাসনিকভাবে ৪১টি জেলা ও ১০ টি শহরে বিভক্ত। প্রশাসনিক কাজে সুবিধার্থে জেলাগুলোকে ১৯টি শহুরে বসতি এবং ৩৬৩টি গ্রাম্য বসতিতে বিভক্ত করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৫৬ সালে জে. গ্রাস্লের দ্বারা নকশাকৃত ও অংকিত ককেশীয় সংযুক্তকারী অঞ্চলের মানচিত্র
দাগেস্তান ১৮১৮-১৮২৬।

প্রথম সহস্রকের শুরুর দিকে[সম্পাদনা]

খ্রিস্ট পরবর্তী প্রথম কয়েক শতকে ককেশিয় আলবেনিয়া (বর্তমান আধুনিক আজারবাইজান এবং দাগেস্তানের দক্ষিণাংশ) পার্থিয়ান সম্রাজ্যের অধীনে সামন্ত রাজ্য হিসেবে ছিল। পরবর্তীতে সাসানীয় সম্রাজ্যের উত্থান হলে এই অঞ্চলটি বিশাল বিস্তৃত সাসানীয় সম্রাজ্যের একটি প্রদেশের মর্যাদা লাভ করে। অতীতে, এই অঞ্চল শাসন অধিকার নিয়ে রোমান সাম্রাজ্য এবং সাসানীয় পারস্যদের মধ্যে বেশ কিছু যুদ্ধ হয়, যদিও তা থেকে কোন ফলাফল আসেনি। এসময়ে শতাব্দী ধরে দাগেস্তান অঞ্চলের মানুষ ধীরে ধীরে খ্রিস্টানজরথ্রুস্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে থাকে।

দারবান্দ দুর্গ, সাসানীয় দুর্গের জন্য দাগেস্তান সুপরিচিত, ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

খ্রিস্ট পরবর্তী ৫ম শতাব্দির দিকে এই অঞ্চলে সাসানীয়রা ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে শক্তিশালী দেরবেন্ত দুর্গ গড়ে তোলে, যেটি পরবর্তীতে কাস্পিয়াস গেট নামে পরিচিত হয়। অপরদিকে, দাগেস্তানের উত্তরাঞ্চল শাসন করতো হান জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা, পরবর্তীতে, ককেশীয় আভার জনগোষ্ঠীর মানুষ তা দখলে নেয়। সাসানীয় শাসনামলে দেরবেন্তকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ দাগেস্তান ইরানীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার একটি দুর্গ হয়ে ওঠে[২১] এবং এই অঞ্চলের পারস্যকরন নীতি পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত চলতে থাকে।[২২]

ইসলামিকরন[সম্পাদনা]

৬৬৪ সালে পারস্যদের হটিয়ে দেরবেন্তে মুসলিম বিজয় সংঘঠিত হয় এবং আরবরা ক্ষমতা দখল করে। পরবর্তীতে, ৮ম শতাব্দীতে আরবগণ খাজারদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যদিও, ৯০৫ ও ৯১৩ সালে দেরবেন্তে স্থানীয় জনগণ আরবদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, কিন্তু, সামান্দারকুবাচি (জেরেচগেরান) -এর মতো নগরকেন্দ্রগুলো ইসলাম গ্রহণ করে নেয় এবং তা ধীরে ধীরে পার্বত্য এলাকায় ছড়িয়ে পরতে থাকে। পনের শতাব্দীর মধ্যেই এই অঞ্চল থেকে আলবেনীয় খ্রিস্টান ধর্ম বিলুপ্ত হয়। দাটুনাতে দশম শতাব্দীর একটি চার্চ এই অঞ্চলে খ্রিস্টানদের অস্তিত্বের একটি স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

চিত্র:Kaitag.jpg
উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দক্ষিণ দাগেস্তানে বুননকৃত কাইতাগ কাপড়।

পালাবদলক্রমে পারসীয় ও রুশ শাসন[সম্পাদনা]

মঙ্গোলদের ক্ষমতা ও প্রভাব ধ্বংস হবার পর এই অঞ্চলে টার্কি ও কাইতাগিকে কেন্দ্র করে নতুন শক্তি কেন্দ্র গড়ে ওঠে। ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে এই অঞ্চলকে পারসিয়রা (সাফাভি শাসনাধীন) তাদের শাসনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে। তারা প্রায় উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমাংশ পর্যন্ত এই অঞ্চল শাসন করে। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে এই অঞ্চলের বৈধ ঐতিহ্যগুলোকে সুসংহত করা হয় এবং পাহাড়ী সম্প্রদায়গুলো বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে থাকে।

১৭২২-২৩ সালে সংঘটিত রুশো-পারসিক যুদ্ধের সময় পিটার দা গ্রেট পারস্যের সাফাভীদের নিকট হতে দাগেস্তানের উপকূল দখল করে নেন। ফলে অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো রাশিয়ানরা এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৭৩৫ সালে গাঞ্জা চুক্তির মাধ্যমে অঞ্চলটিকে পারস্যের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

১৭৩০ এর দশকের মধ্যে এবং ১৭৪০ এর দশকের শুরুর দিকে নিজের ভাইদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে এবং দাগেস্তান অঞ্চল পুরোপুরি দখল করতে ইরানের শাসক ও সামরিক জিনিয়াস নাদির শাহ্ দাগেস্তানে একটি দীর্ঘস্থায়ী অভিযান পরিচালনা করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর অভিযান সফল হলেও, পরবর্তীতে দাগেস্তানের বেশ কিছু জাতিগোষ্ঠীর সাথে যুদ্ধে চূড়ান্ত পরাজয়ের ফলে নাদির শাহ্‌ তাঁর বাহিনী নিয়ে পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হন। ১৭৪৭ সালের পর থেকে দাগেস্তানের ইরান শাসিত অংশটুকু দারবান্দ খানাতের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, যার কেন্দ্র ছিল দারবান্দ। ১৭৯৬ সালে রাশিয়ার শাসক ক্যাথেরিন দা গ্রেটের পারস্য অভিযানের সময় দারবান্দ রাশিয়ার হস্তগত হয়। যদিও পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যার কারনে রাশিয়ানরা এই অঞ্চল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় এবং ইরান পুনরায় দাগেস্তান দখল করে।

রুশ শাসন শক্তিশালীকরণ[সম্পাদনা]

১৮০৬ সালে দারবান্দ খানাত স্বেচ্ছায় রুশ কর্তৃপক্ষের নিকট নিজেদের সমর্পণ করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৮০৪ হতে ১৮১৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত রুশো-পারসিক যুদ্ধের ফলাফল স্বরূপ দাগেস্তান অঞ্চল পুরোপুরি ভাবে রাশিয়ার হস্তগত হয় এবং ইরানের কাজার রাজবংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অঞ্চলটিকে রাশিয়ার কাছে সমর্পণ করে। ১৮১৩ সালে রাশিয়ার যুদ্ধজয়ের ফলাফল স্বরূপ গুলিস্তান চুক্তির মাধ্যমে ইরান প্রধান শহর দারবান্দ সহ সমগ্র দক্ষিণ দাগেস্তান এবং ককেসাসের বিস্তীর্ণ এলাকা রাশিয়ার কাছে সমর্পণ করতে বাধ্য হয়।[২৩] ১৮২৮ সালে তুরকমেনচাই চুক্তির মাধ্যমে দাগেস্তান অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার হস্তগত হয় এবং এই অঞ্চলে ইরানের সামরিক ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে যায়।[২৪]

রুশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ[সম্পাদনা]

রাশিয়ার শাসনাধীন প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারনে দাগেস্তান অঞ্চলের পাহাড়ি উপত্যকার মানুষেরা ধীরে ধীরে হতাশ এবং ত্যক্তবিরক্ত হয়ে ওঠে। সে সময়ে রুশ প্রশাসন এই অঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত করারোপ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরন এবং বিভিন্ন দুর্গ গড়ে তোলে, যা স্থানিয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে মুসলিমরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং দাগেস্তান ইমামতের পতাকা তলে একত্রীত হয়। এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন গাজী মোহাম্মেদ (১৮২৮-৩২), ঘামজাত-বেজ (১৮৩২-৩৪) এবং ইমাম শামিল (১৮৩৪-৫৯)। ককেসিয়ার এই যুদ্ধ ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

দাগেস্তানি পুরুষ, ১৯০৭ হতে ১৯১৫ সালের মধ্যে সের্গেই প্রোকুদিন-গোর্স্কির তোলা ছবি

১৮৭৭-৭৮ সালে সংঘটিত রুশো-তুর্কি যুদ্ধের ফলে দাগেস্তান ও চেচেনিয়ার অধিবাসীরা উপকৃত হয় এবং সে সময়ে তারা একত্রীতভাবে শেষবারের মতো রুশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে (পরবর্তীতে উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে চেচনিয়া বেশ কয়েকবার এককভাবে রুশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে)।

সোভিয়েত যুগ[সম্পাদনা]

১৯১৭ সালে ২১ ডিসেম্বর ইঙ্গুশেতিয়া, চেচনিয়া এবং দাগেস্তান একত্রে রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ইউনাইটেড মাউন্টেইন ডুয়েলারস অব দা নর্থ ককেসাস নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে (উত্তর ককেসিয় পর্বত প্রজাতন্ত্র নামেও পরিচিত)। বিশ্বের প্রধান শক্তিশালী দেশগুলো এই নবগঠিত রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। নবগঠিত রাষ্ট্রের রাজধানী দাগেস্তানের তেমির-খান শুরা'তে স্থানান্তরিত করা হয়।[২৫][২৬][২৭] বিশিষ্ট চেচনিয় কূটনৈতিক তাপা চেরমোয়েভ ছিলেন দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ইঙ্গুশ কূটনৈতিক ভাসান-গিরেয় ঝাবাগিয়েভ ছিলেন দেশটির দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯১৭ সালে গৃহীত দেশটির সংবিধানের রচিয়তা ছিলেন। ১৯২০ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে পুনঃনির্বাচিত হন। ১৯২১ সালে রাশিয়ানরা দেশটিতে আক্রমণ করে এবং জোরপূর্বক অঞ্চলটিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে। এর পরেও ককেসিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ চলতে থাকে, তবে দেশটির সরকার নির্বাসনে চলে যায়।[২৮] বলশেভিক বিপ্লবের পরে অটোমান সৈন্যরা আজারবাইজান দখল করে এবং দাগেস্তান উত্তর ককেসীয় মাউন্টেন রিপাবলিক নামক ক্ষণস্থায়ী রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। এদিকে রাশিয়ায় সাদা আন্দোলন এবং স্থানীয় জাতীয়তাবাদীদের সাথে তিন বছরের লড়াইয়ের পরে অবশেষে বলশেভিকরা বিজয় লাভ করে, যার ফলশ্রুতিতে ১৯২১ সালে ২০ জানুয়ারি দাগেস্তান স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়। তবে পরবর্তীতে স্ট্যালিনের শিল্পায়ন পরিকল্পনায় দাগেস্তান উপেক্ষিত হয় এবং এই অঞ্চলের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পরে। যা প্রজাতন্ত্রটিকে রাশিয়ার সবথেকে দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত করে।

সোভিয়েত পরবর্তী যুগ[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে স্বাধীন ইসলামিক দাগেস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চেচনীয় ইসলামিক সংগঠন দাগেস্তানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন শামিল বাসায়েভ এবং ইবনে আল-খাত্তাব। রুশ সামরিক বাহিনী আক্রমণকারীদের প্রতিহত করে এবং ফেরত পাঠায়। এর প্রতিশোধ স্বরূপ রাশিয়ান বাহিনী ঐ বছরের শেষের দিকে পুনরায় চেচনিয়ায় অভিযান পরিচালনা করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] দাগেস্তান প্রজাতন্ত্র ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পুনরায় সহিংসতার শিকার হয়। এই সহিংসতার ফলে দাগেস্তান একটি সাম্প্রদায়িক গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।[২৯] দাগেস্তান বর্তমানে উত্তর ককেসাস অঞ্চলে সহিংসতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মাখাচকালা, কাস্পিস্ক, দারবান্দ, খাসাভিউরট, কিজলিয়ার, উন্তসুকুল এবং সুমাদা প্রভৃতি এলাকা বিদ্রোহের উর্বর ভূমি হয়ে উঠেছে।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের সরকারী ভবন

দাগেস্তানের সংসদ পিপলস এসেম্বলি অব দাগেস্তান নামে পরিচিত। সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৭২ এবং প্রত্যেক সংসদ সদস্য ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। পিপলস এসেম্বলি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহী এবং আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।

২০০৩ সালের ১০ জুলাই দাগেস্তানের সংবিধান গৃহীত হয়। এটি অনুসারে সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় পরিষদের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সাংবিধানিক পরিষদের মাধ্যমে দাগেস্তানের রাষ্ট্রীয় পরিষদের সদস্যদের চার বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। রাষ্ট্রীয় পরিষদ সরকারের অভ্যন্তরীণ সদস্যদের নিয়োগ দেয়।

রাষ্ট্রীয় পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী জাতিগোষ্ঠী সমূহ হলো আভার, দারগিন, কুমিক, লেজগিন, লাক, আজারবাইজানি, তাবাসারানীয়, রাশিয়ান, চেচেনীয়, নোগাই, আগুল, রুতুল, সাখুর, এবং তাত জনগোষ্ঠী।

পূর্বে, রাষ্ট্রীয় পরিষদের সভাপতি দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রধান কার্যনির্বাহীর দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন মাগোমেডালি মাগোমেডভ। ২০০৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পিপলস এসেম্বলি একটি রেজুল্যুশন পাশ করে যার মাধ্যমে এই পদটি রহিত করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় পরিষদকে ভেঙ্গে দেয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন নতুন গঠিত দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির পদে বসার জন্য পিপলস এসেম্বলির কাছে মুখু আলিয়েভের নাম প্রস্তাব করেন। পিপলস এসেম্বলি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে এবং মুখু আলিয়েভ প্রজাতন্ত্রটির প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মাগোমেদসালাম মাগোমেদভ রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হন। প্রজাতন্ত্রের বর্তমান প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি হলেন রামাজান আব্দুলাতিপোভ (২০১৩ সালে মাগোমেদভের পদত্যাগের পরে রামাজান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন)।[৩০]

জনসংখ্যা উপাত্ত[সম্পাদনা]

ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত দাগেস্তানি দম্পতি, ১৯০৭ হতে ১৯১৫ সালের মধ্যে সের্গেই প্রোকুদিন-গোর্স্কির তোলা ছবি।
ককেসাস অঞ্চলের জাতিভাষা গ্রুপ সমূহ।
দাগেস্তানি পুরুষ ও মহিলা, এপ্রিল ১৯০৪।

দাগেস্তানের অধিকাংশ অঞ্চল পাহাড়ি ভূখন্ড হওয়ায় তা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্থ করে, ফলে এই অঞ্চলে ভ্রমণ বেশ দূরহ। দাগেস্তান অঞ্চলটি জাতিগতভাবে অস্বাভাবিক বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ উপজাতি গোষ্ঠীর। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রজাতন্ত্র। দাগেস্তানের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।[৩১]

জনসংখ্যা: ২,৯১০,২৪৯ (আদমশুমারি ২০১০);[৬] ২,৫৭৬,৫৩১ (আদমশুমারি ২০০২); ১,৮০২,৫৭৯ (আদমশুমারি ১৯৮৯)।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

উৎস: Russian Federal State Statistics Service
গড় জনসংখ্যা (x ১০০০) জীবন্ত বাচ্চা প্রসব মৃত্যু স্বাভাবিক পরিবর্তন অশোধিত জন্মহার (প্রতি ১০০০) অশোধিত মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০) স্বাভাবিক পরিবর্তন (প্রতি ১০০০) উর্বরতা হার
১৯৭০ ১,৪৩৮ ৪১,৩৮১ ৯,৫৪৩ ৩১,৮৩৮ ২৮.৮ ৬.৬ ২২.১
১৯৭৫ ১,৫৪৪ ৪২,০৯৮ ১০,২৯২ ৩১,৮০৬ ২৭.৩ ৬.৭ ২০.৬
১৯৮০ ১,৬৫৫ ৪৪,০৮৮ ১১,১৮৮ ৩২,৯০০ ২৬.৬ ৬.৮ ১৯.৯
১৯৮৫ ১,৭৪৪ ৫০,০৫৩ ১২,০১০ ৩৮,০৪৩ ২৮.৭ ৬.৯ ২১.৮
১৯৯০ ১,৮৪৮ ৪৮,২০৯ ১১,৪৮২ ৩৬,৭২৭ ২৬.১ ৬.২ ১৯.৯ ৩.০৭
১৯৯১ ১,৯০৬ ৪৭,৪৬১ ১২,০৬২ ৩৫,৩৯৯ ২৪.৯ ৬.৩ ১৮.৬ ২.৯৪
১৯৯২ ১,৯৬৪ ৪৪,৯৮৬ ১২,৯৮৪ ৩২,০০২ ২২.৯ ৬.৬ ১৬.৩ ২.৭০
১৯৯৩ ২,০১২ ৪১,৮৬৩ ১৪,৭৭৭ ২৭,০৮৬ ২০.৮ ৭.৩ ১৩.৫ ২.৪৬
১৯৯৪ ২,১১৭ ৪৪,৪৭২ ১৫,২৫৩ ২৯,২১৯ ২১.০ ৭.২ ১৩.৮ ২.৪৫
১৯৯৫ ২,২০৯ ৪৫,৬৮০ ১৫,৭০০ ২৯,৯৮০ ২০.৭ ৭.১ ১৩.৬ ২.৪১
১৯৯৬ ২,২৫১ ৪২,২৮২ ১৫,৫৬৫ ২৬,৭১৭ ১৮.৮ ৬.৯ ১১.৯ ২.১৯
১৯৯৭ ২,৩০৮ ৪১,২২৫ ১৫,৬৬২ ২৫,৫৬৩ ১৭.৯ ৬.৮ ১১.১ ২.১০
১৯৯৮ ২,৩৬৩ ৪১,১৬৪ ১৫,৭৯৩ ২৫,৩৭১ ১৭.৪ ৬.৭ ১০.৭ ২.০৫
১৯৯৯ ২,৪১৭ ৩৮,২৮১ ১৬,০২০ ২২,২৬১ ১৫.৮ ৬.৬ ৯.২ ১.৮৭
২০০০ ২,৪৬৪ ৩৮,২২৯ ১৬,১০৮ ২২,১২১ ১৫.৫ ৬.৫ ৯.০ ১.৮২
২০০১ ২,৫১১ ৩৮,৪৮০ ১৫,২৯৩ ২৩,১৮৭ ১৫.৩ ৬.১ ৯.২ ১.৭৯
২০০২ ২,৫৬৩ ৪১,২০৪ ১৫,৮৮৭ ২৫,৩১৭ ১৬.১ ৬.২ ৯.৯ ১.৮৫
২০০৩ ২,৬০৯ ৪১,৪৯০ ১৫,৯২৯ ২৫,৫৬১ ১৫.৯ ৬.১ ৯.৮ ১.৮১
২০০৪ ২,৬৪৭ ৪১,৫৭৩ ১৫,৭২৪ ২৫,৮৪৯ ১৫.৭ ৫.৯ ৯.৮ ১.৭৬
২০০৫ ২,৬৮৪ ৪০,৮১৪ ১৫,৫৮৫ ২৫,২২৯ ১৫.২ ৫.৮ ৯.৪ ১.৬৯
২০০৬ ২,৭২১ ৪০,৬৪৬ ১৫,৯৩৯ ২৪,৭০৭ ১৪.৯ ৫.৯ ৯.১ ১.৬৪
২০০৭ ২,৭৬১ ৪৫,৪৭০ ১৫,৩৫৭ ৩০,১১৩ ১৬.৫ ৫.৬ ১০.৯ ১.৮১
২০০৮ ২,৮০৪ ৪৯,৪৬৫ ১৫,৭৯৪ ৩৩,৬৭১ ১৭.৬ ৫.৬ ১২.০ ১.৯৪
২০০৯ ২,৮৫০ ৫০,৪১৬ ১৬,৭৩৭ ৩৩,৬৭৯ ১৭.৭ ৫.৯ ১১.৮ ১.৯২
২০১০ ২,৮৯৬ ৫২,০৫৭ ১৭,০১৩ ৩৫,০৪৪ ১৮.০ ৫.৯ ১২.১ ১.৯২
২০১১ ২,৯১৪ ৫৪,৪২৭ ১৬,৯১৭ ৩৭,৫১০ ১৮.১ ৫.৮ ১২.৩ ১.৯৮
২০১২ ২,৯৩১ ৫৬,১৮৬ ১৬,৬৪২ ৩৯,৪৯২ ১৯.১ ৫.৭ ১৩.৪ ২.০৩
২০১৩ ২,৯৫৫ ৫৫,৬৪১ ১৬,২৫৮ ৩৯,৩৮৩ ১৮.৮ ৫.৫ ১৩.৩ ২.০২
২০১৪ ২,৯৮২ ৫৬,৮৮৮ ১৬,৪৯১ ৪০,৩৯৭ ১৯.১ ৫.৫ ১৩.৬ ২.০৮
২০১৫ ৩,০০৩ ৫৪,৭২৪ ১৬,১৩২ ৩৮,৫৯২ ১৮.২ ৫.৪ ১২.৮ ২.০২
২০১৬ ৩,০২৯ ৫২,৯২৪ ১৫,৬৪২ ৩৭,২৮২ ১৭.৪ ৫.২ ১২.২ ১.৯৮(e)
২০১৭ ৩,০৪১ ৫০,৩২২ ১৫,৫৬২ ৩৪,৭৬০ ১৬.৪ ৫.১ ১১.৩

জাতিগোষ্ঠী সমূহ[সম্পাদনা]

দাগেস্তানের জনসংখ্যার অন্তর্ভুক্ত জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়। ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী,[৬] দাগেস্তানের জনসংখ্যার ৭৫% হলো উত্তর ককেসীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, যার মধ্যে রয়েছে আভার, দারগিন, লেজগিন, লাক, তাবাসারান, এবং চেচেন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। তুর্কিক, কুমিক, আজারবাইজানি এবং নোগাই জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সম্মিলিতভাবে মোট জনসংখ্যার ২১% এবং দাগেস্তানে জাতিগতভাবে রাশিয়ান রয়েছে ৩.৬%। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী গুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা প্রজাতন্ত্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.৪%।

উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন গ্রুপ যেমন, বোটলিখ, আন্ডি, আখভাখ, সেয এবং আরো অন্যান্য দশটি গ্রুপকে ১৯২৬ ও ১৯৩৯ সালের আদমশুমারীতে আভার জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়েছে।[৩২]

জাতিগোষ্ঠী
১৯২৬ আদমশুমারি ১৯৩৯ আদমশুমারি ১৯৫৯ আদমশুমারি ১৯৭০ আদমশুমারি ১৯৭৯ আদমশুমারি ১৯৮৯ আদমশুমারি ২০০২ আদমশুমারি ২০১০ আদমশুমারি1
সংখ্যা % সংখ্যা % সংখ্যা % সংখ্যা % সংখ্যা % সংখ্যা % সংখ্যা % সংখ্যা %
আভার ১৭৭,১৮৯ ২২.৫% ২৩০,৪৮৮ ২৪.৮% ২৩৯,৩৭৩ ২২.৫% ৩৪৯,৩০৪ ২৪.৫% ৪১৮,৬৩৪ ২৫.৭% ৪৯৬,০৭৭ ২৭.৫% ৭৫৮,৪৩৮ ২৯.৪% ৮৫০,০১১ ২৯.৪%
দারগিন ১২৫,৭০৭ ১৬.০% ১৫০,৪২১ ১৬.২% ১৪৮,১৯৪ ১৩.৯% ২০৭,৭৭৬ ১৪.৫% ২৪৬,৮৫৪ ১৫.২% ২৮০,৪৩১ ১৫.৬% ৪২৫,৫২৬ ১৬.৫% ৪৯০,৩৮৪ ১৭.০%
কুমিক ৮৭,৯৬০ ১১.২% ১০০,০৫৩ ১০.৮% ১২০,৮৫৯ ১১.৪% ১৬৯,০১৯ ১১.৮% ২০২,২৯৭ ১২.৪% ২৩১,৮০৫ ১২.৯% ৩৬৫,৮০৪ ১৪.২% ৪৩১,৭৩৬ ১৪.৯%
লেজগিয় ৯০,৫০৯ ১১.৫% ৯৬,৭২৩ ১০.৪% ১০৮,৬১৫ ১০.২% ১৬২,৭২১ ১১.৪% ১৮৮,৮০৪ ১১.৬% ২০৪,৩৭০ ১১.৩% ৩৩৬,৬৯৮ ১৩.১% ৩৮৫,২৪০ ১৩.৩%
লাক ৩৯,৮৭৮ ৫.১% ৫১,৬৭১ ৫.৬% ৫৩,৪৫১ ৫.০% ৭২,২৪০ ৫.১% ৮৩,৪৫৭ ৫.১% ৯১,৬৮২ ৫.১% ১৩৯,৭৩২ ৫.৪% ১৬১,২৭৬ ৫.৬%
আজারবাইজানি ২৩,৪২৮ ৩.০% ৩১,১৪১ ৩.৩% ৩৮,২২৪ ৩.৬% ৫৪,৪০৩ ৩.৮% ৬৪,৫১৪ ৪.০% ৭৫,৪৬৩ ৪.২% ১১১,৬৫৬ ৪.৩% ১৩০,৯১৯ ৪.৫%
তাবাসারান ৩১,৯১৫ ৪.০% ৩৩,৪৩২ ৩.৬% ৩৩,৫৪৮ ৩.২% ৫৩,২৫৩ ৩.৭% ৭১,৭২২ ৪.৪% ৭৮,১৯৬ ৪.৬% ১১০,১৫২ ৪.৩% ১১৮,৮৪৮ ৪.১%
রাশিয়ান ৯৮,১৯৭ ১২.৫% ১৩২,৯৫২ ১৪.৩% ২১৩,৭৫৪ ২০.১% ২০৯,৫৭০ ১৪.৭% ১৮৯,৪৭৪ ১১.৬% ১৬৫,৯৪০ ৯.২% ১২০,৮৭৫ ৪.৭% ১০৪,০২০ ৩.৬%
চেচেন ২১,৮৫১ ২.৮% ২৬,৪১৯ ২.৮% ১২,৭৯৮ ১.২% ৩৯,৯৬৫ ২.৮% ৪৯,২২৭ ৩.০% ৫৭,৮৭৭ ৩.২% ৮৭,৮৬৭ ৩.৪% ৯৩,৬৫৮ ৩.২%
নোগাই ২৬,০৮৬ ৩.৩% ৪,৬৭৭ ০.৫% ১৪,৯৩৯ ১.৪% ২১,৭৫০ ১.৫% ২৪,৯৭৭ ১.৫% ২৮,২৯৪ ১.৬% ৩৮,১৬৮ ১.৫% ৪০,৪০৭ ১.৪%
আঘুল ৭,৬৫৩ ১.০% ২০,৪০৮ ২.২% ৬,৩৭৮ ০.৬% ৮,৬৪৪ ০.৬% ১১,৪৫৯ ০.৭% ১৩,৭৯১ ০.৮% ২৩,৩১৪ ০.৯% ২৮,০৫৪ ১.০%
রুতুল ১০,৩৩৩ ১.৩% ৬,৫৬৬ ০.৬% ১১,৭৯৯ ০.৮% ১৪,২৮৮ ০.৯% ১৪,৯৫৫ ০.৮% ২৪,২৯৮ ১.০% ২৭,৮৪৯ ১.০%
সাখুর ৩,৫৩১ ০.৪% ৪,২৭৮ ০.৪% ৪,৩০৯ ০.৩% ৪,৫৬০ ০.৩% ৫,১৯৪ ০.৩% ৮,১৬৮ ০.৩% ৯,৭৭১ ০.৩%
অন্যান্য ৪৩,৮৬১ ৫.৬% ৫২,০৩১ ৫.৬% ৬১,৪৯৫ ৫.৮% ৬৩,৭৮৭ ৪.৫% ৫৭,৮৯২ ৩.৬% ৫৮,১১৩ ৩.২% ২৫,৮৩৫ ১.০% ১৯,৬৪৬ ০.৭%
1 প্রশাসনিক উপাত্তে এমন ১৮,৪৩০ জনকে নবন্ধিত করা হয়েছে যারা তাদের কোন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষণা করেনি। এটা অনুমান করা হয় যে এই গোষ্ঠীতে জাতিগুলির অনুপাত উপরে উল্লেখিত গ্রুপগুলোর মতই।[৩৩]

দাগেস্তানের স্থানীয় জাতিগুলোকে মোটা দাগে দেখানো হয়েছে।

এই অঞ্চলে আরও প্রায় ৪০টি অতিক্ষুদ্র জনসংখ্যার জাতির মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে রয়েছে হিনুখ, যাদের জনসংখ্যা মাত্র ৪৩৯ জন। এছাড়াও রয়েছে আখভাখ জাতির মানুষ, যারা আদিবাসি ককেসীয় জাতি পরিবারেরই সদস্য। এছাড়াও উল্লেখ করা মতো রয়েছে হুনজিব বা খুঞ্জাল জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, যারা দাগেস্তানের অভ্যন্তরীণ মাত্র চারটি মফস্বল শহরে বসবাস করে।

ভাষা[সম্পাদনা]

দাগেস্তানে প্রায় ৩০টির মতো স্থানীয় ভাষা প্রচলিত রয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই উত্তর ককেসীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বিংশ শতাব্দী হতে রুশ ভাষা এই অঞ্চলে প্রধান লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কায় পরিণত হয়েছে;[৩৪] যদিও অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমাংশ পর্যন্ত ধ্রুপদি আরবি ছিল প্রধান লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা।[৩৫] খুঞ্জাখের উত্তর আভারীয় উপভাষাকে দাগেস্তানের মধ্যাঞ্চলে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।[৩৬] রাশিয়ার প্রায় ১৩১টি ভাষাকে ইউনেস্কো বিপন্ন ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এর মধ্যে দাগেস্তানের প্রায় ২০টি ভাষা রয়েছে। দাগেস্তান-জর্জিয়া সীমান্তের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী দাগেস্তানিরা এসকল বিপন্ন ভাষা কথা বলে থাকে।[৩৭]

ধর্ম[সম্পাদনা]

২০১২ সাল পর্যন্ত দাগেস্তানের ধর্মসমূহ (স্রেডা এরেনা এটলাস)[৩৮][৩৯]
ইসলাম
  
৮২.৬%
"আধ্যাত্মিক কিন্তু ধার্মিক নয়"
  
৮.৬%
রুশ অর্থোডক্স
  
২.৪%
Rodnovery ও স্থানীয় বিশ্বাসসমূহ
  
১.৬%
অন্যান্য খ্রিস্টান ধর্মালম্বী
  
০.৮%
নাস্তিক্যবাদ and ধর্মহীনতা
  
২.২%
অন্যান্য ও অঘোষিত
  
১.৮%
মাখাচকালা গ্র্যান্ড মসজিদ
সাসিতলি গ্রামে অবস্থিত ইসলামিক বিদ্যালয়।
জনামেন্সকি ক্যাথিড্রাল।

২০১২ সালের জরিপ অনুযায়ী,[৩৮] দাগেস্তানের ৮৩% মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। অন্যদিকে, ২.৪% রুশ অর্থোডক্স চার্চ, ২% ককেশীয় লোকধর্ম ও স্থানীয় ধর্মবিশ্বাস এবং ১% জনগণ খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। এছাড়াও, ৯% মানুষ আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী হলেও ধার্মিক নন, ২% নাস্তিক এবং ০.৬% মানুষ তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ে উত্তর দেননি।[৩৮]

দাগেস্তানিরা মূলত শাফি মতবাদে বিশ্বাসী সুন্নি মুসলিম এবং তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তা পালন করছে। কাস্পিয়ান উপকূলে মূলত বন্দর নগরী দারবান্দ ও তাঁর আশেপাশের এলাকার জনগণ প্রধানত শিয়া (প্রাথমিকভাবে আজারবাইজানি জাতিগোষ্ঠীর)। এই অঞ্চলে কিছু সালাফি মতবাদের মানুষও বসবাস করে, যারা প্রায়শই প্রশাসনিক দমনপীড়নের শিকার হয়।[৪০]

এই অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যক তাতি ভাষাভাষি ইহুদি ধর্মের মানুষ বসবাস করে। তাদেরকে সোভিয়েত রাষ্ট্রীয় আদমশুমারিতে পার্বত্য ইহুদি বলে আখ্যায়িত করা হয়। এসকল ইহুদিরা এখনও কাস্পিয়ান সাগর উপকূলে বসবাস করে। তবে, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রচুর সংখ্যক ইহুদি ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিগমন করে চলে যায়। তারা পূর্বে আজারবাইজান সীমান্ত বরাবর কুবা এবং শামাখি জেলায় বসবাস করতো।[৪১]

১৪ শতকে দাগেস্তানে সুফি ভাববাদের আগমন ঘটে। এসময়ে উত্তর ককেসাসে নকশবন্দি এবং কাদেরিয়া নামক দুইটি সুফি তরিকার প্রসার ঘটে। এই নিগূঢ় তরিকাগুলো বিচিত্র মানুষদের মধ্যে সহনশীলতা এবং সহাবস্থানের ধারনা প্রচার করে। ১৯১৭ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর এই অঞ্চলে সকল ধর্মের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সে সময়ে সুফী আন্দোলনকেও দমন করা হয়। শেখ সাঈদ আফান্দি আল-চিরকাওি ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ সুফি পণ্ডিত। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নকশবন্দি এবং শাধিলি তরিকার একজন আধ্যাত্মিক নেতা এবং মুরশিদ ছিলেন।[৪২]

এই অঞ্চলে অ-স্লাভিক স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা খুবই কম, তাদের সংখ্যা ২০০০ থেকে ২৫০০ জন। এদের অধিকাংশই লেক জাতিগোষ্ঠীর পেন্টেকোস্টাল খ্রিস্টান।[৪৩][৪৪] তাদের সবথেকে বড় ধর্মীয় স্থান হলো মাখাচকালায় অবস্থিত ওসানা ধর্মপ্রচারক খ্রিস্টান চার্চ (পেন্টেকোস্টাল), যাদের সদস্য সংখ্যা ১০০০ এর অধিক।[৪৫]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

দাগেস্তানের প্রধান শিল্প গুলো হলো তেল উৎপাদন, প্রকৌশল, রাসায়নিক শিল্প, যন্ত্র প্রকৌশল শিল্প, বস্ত্র শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাঠ শিল্প ইত্যাদি। দাগেস্তানের তেল ক্ষেত্র গুলো মূলত উপকূলীয় এলাকা গুলোতে অবস্থিত। এখানে প্রাপ্ত তেল খুবই উচ্চমানের এবং এই তেল অন্যান্য অঞ্চলে প্রেরণ করা হয়। দাগেস্তানে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিকাংশই স্থানীয় চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের কৃষি কাজ প্রচলিত রয়েছে, এর মধ্যে শস্য উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, ওয়াইন তৈরি, ভেড়া পালন, দুগ্ধ খামার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। প্রকৌশল এবং লৌহ শিল্প প্রজাতন্রের মোট শিল্প উৎপাদনের ২০% যোগান দেয় এবং এই দুটি শিল্পে প্রায় ২৫% শিল্প শ্রমিকের কর্মসংস্থানের যোগান দেয়। দাগেস্তানের জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন শিল্প খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুলাক নদীর উপরে বর্তমানে মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো জলবিদ্যুৎ শক্তি প্রদান করছে। দাগেস্তানের সাম্ভাব্য অনুমিত জলবিদ্যুৎ শক্তি সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন কিলোওয়াট। দাগেস্তানে একটি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী মাখাচকালার সাথে মস্কো, অস্ত্রখান, এবং আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর রেল যোগাযোগ রয়েছে। মস্কো-বাকু হাইওয়ে দাগেস্তানের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সাথে দাগেস্তানের বিমান চলাচল ব্যবস্থা রয়েছে।[৪৬][৪৭]

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যে সকল শর্ত পূরন হওয়া প্রয়োজন দাগেস্তানের ক্ষেত্রে তার সবগুলোই অনুকূলে রয়েছে। কিন্তু ২০০৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাজার সম্পর্কের সফল রূপান্তরে ধীরগতি এবং ব্যপক মাত্রায় দুর্নীতির ফলে এই অঞ্চল তাঁর ভূগর্ভস্থ অর্থনীতি এবং রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভর্তুকির উপরে উচ্চমাত্রায় নির্ভরশীল।[৪৭][৪৮] সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত অন্য যেকোন অঞ্চলের তুলনায় দাগেস্তানে দুর্নীতির মাত্রা অনেক বেশি। যার ফলে এখানে উদীয়মান কালো বাজার এবং গোষ্ঠিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।[১৯]

২০১১ সালে রস্টেলকম দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রে তথ্য ট্রান্সমিশনের জন্য ডাব্লিউডিএম ভিত্তিক যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ শুরু করে। ডাব্লিউডিএম এর সূচনার জন্য ফাইবার-অপটিক যোগাযোগ লাইনের ব্যন্ডউইথ ২.৫ Gbit/s পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। রস্টেলেকম এই প্রকল্পে ৪৮ মিলিয়ন রুবল বিনিয়োগ করে।[৪৯]

দাগেস্তানের সংঘাত[সম্পাদনা]

একটি সীমান্ত চৌকি।

২০০০ সাল হতে দাগেস্তান একটি স্বল্পমাত্রার গেরিলা যুদ্ধের স্থান হয়ে উঠেছে, যার সূত্রপাত হয়েছে চেচনিয়া থেকে। এই সংঘর্ষের ফলে শত শত সেনা ও সরকারী কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটেছে। এদের অধিকাংশই স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সদস্য। এছাড়াও এই যুদ্ধে প্রচুর দাগেস্তানি জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহী এবং জনসাধারণের প্রাণহানি ঘটেছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • ২০০৮ সালের ১৫ মে, গাবডেনে সরকারী গাড়ির উপরে আক্রমণের ফলে দুজন এমভিডি কর্মকর্তা নিহত এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা মারাত্মকভাবে জখম হন।
  • ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, রাশিয়ান স্পেশাল ফোর্সের আক্রমনে আবদুল মাদঝিদ সহ বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নিহত হন।
  • ২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর, বিদ্রোহীরা একটি সামরিক ট্রাকে হামলা করে পাঁচজন সৈন্যকে হত্যা করে এবং নয় সৈন্য আহত হয়।
  • ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি, মাখাচকালা পুলিশ স্টেশন উড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়, এতে ছয়জন কর্মকর্তা নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়।
  • ২০১০ সালের ৩১ মার্চ, কিজলিয়ার শহরের স্থানীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়।
  • ২০১০ সালের ১৫ জুলাই, ইসলাম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া পেস্টর আর্থার সুলেইমানভ একজন অস্ত্রধারীর হামলায় নিহত হন। পেস্টর মাখাচকালার হোসানা প্রার্থনা কেন্দ্র হতে বের হয়ে তাঁর গাড়িতে ওঠার পরে তাঁকে হত্যা করা হয়।[৫০]
  • ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, একজন উচ্চপর্যায়ের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা মাগোমেড মুর্তুজালিয়েভ অস্ত্রধারীর হমালায় নিহত হন।[৫১]
  • ২০১১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, হাজ্জালমাখি গ্রামে একটি গাড়ি বোমা হামলায় সাতজন বেসামরিক মানুষ এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।[৫২]
  • ২০১২ সালের ৪ মে, মাখাচকালার আউটিস্কিরটে দুটি পৃথক বোমা হামলায় ১২ জন সাধারন মানুষ নিহত হন।[৫৩]
  • ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট, ৭৫ বছর বয়সী প্রভাবশালী সুফি সাধক শেখ সাঈদ আফান্দি সহ আরো ছয়জন ব্যক্তি একটি আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। আফান্দি ছিলেন একজন সুফি মুসলিম, যিনি দাগেস্তানে জিহাদী সহিংসতার বিপক্ষে ছিলেন।[৫৪]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ[সম্পাদনা]

  • আদম আমিরিলায়েভ, রাজনীতিবিদ।
  • আব্দুলখাকিম ইসমাইলভ (১৯১৬-২০১০), দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের একজন সৈনিক।
  • আব্দুলরাশিদ সাদুলায়েভ - দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান (২০১৪, ২০১৫), ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ান (২০১৪), ইউরোপীয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ান (২০১৫), দুইবারের ক্যাডেট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ান (২০১০, ২০১৩), গোল্ডেন গ্রান্ড-প্রিক্স চ্যাম্পিয়ান, অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ী (২০১৬)।
  • আব্দুসসালাম গাদিসোভ - ফ্রীস্টাইল রেস্লিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান।
  • অ্যাডাম সাইতিয়েভ (১২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭, খাসাভিউরট, দাগেস্তান এএসএসআর – তিনি চেচেন বংশোদ্ভূত একজন রাশিয়ান ফ্রীস্টাইল রেসলার, আন্তর্জাতিক মানে রাশিয়ান স্পোর্টস মাস্টার, মাস্টার অব স্পোর্টস অব রাশিয়া (২০০০) খেতাব প্রাপ্ত, রাশিয়ায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ান (১৯৯৯, ২০০০, ২০০২), ইউরোপে তিনবারের চ্যাম্পিয়ান (১৯৯, ২০০০, ২০০৬), দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান (১৯৯৯, ২০০২) অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান (২০০০)।
  • আলি আলিয়েভ (মুষ্ঠিযোদ্ধা) - পাঁচটি বিশ্ব খেতাব বিজয়ী আভার বংশোদ্ভূত দাগেস্তানি।
  • আলি বাগাউতিনভ – ফ্লাইওয়েট বিভাগে ইউএফসি যোদ্ধা। কম্বাট সামবোতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান।
  • বেক্ষান গয়গেরিয়েভ - ২০১৩ সালের বিশ্ব রেস্লিং চ্যাম্পিয়ানশিপে স্বর্ণপদক বিজয়ী।
  • বুভাইসার সাইতিয়েভ (জন্ম ১১ মার্চ, ১৯৭৫, দাগেস্তানের খাসাভিউরটে) – রাশিয়ার ফ্রীস্টাইল রেসলার, তিনবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান, ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান, পাঁচবারের রাশিয়ান চ্যাম্পিয়ান। মাস্টার অব দা স্পোর্টস অব রাশিয়া (১৯৯৫) খেতাব প্রাপ্ত।
  • ঝাবার আস্কেরভ - তিনি মুয়ায় থাই ওয়েল্টারোয়েটে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ান এবং ম্যাক্স স্ক্যান্ডিনেভিয়া ২০০৮ টুর্নামেন্টের ফাইনালিস্ট।
  • ঝামাই ওটারসুলতানভ - ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে পুরুষদের ৫৫ কেজি ফ্রীস্টাইলে স্বর্ণপদক বিজয়ী।
  • এডুয়ার্ড পুটেরবর্ট - দাগেস্তানি শিল্পী এবং ইউএসএসআর ইউনিয়ন অব আর্টিস্ট এর সদস্য।
  • গাস্রেত আলিয়েভ - সোভিয়েত ইউনিয়নের হিরো
  • গায়দারবেক গায়দারবেকভ - আভার বংশোদ্ভূত বক্সার, তিনি মিডিলওয়েট শ্রেণিতে অলিম্পিক মেডেল বিজয়ী।
  • হিজগিল আভশালুমভ (১৯১৩-২০০১) – সোভিয়েত উপন্যাসিক, কবি, নাট্যকার। তিনি পার্বত্য ইহুদী (জুহুরি) এবং রাশিয়ান ভাষায় লিখেছেন।
  • ইসরাইল সভায়গেনবাউম (জন্ম ১৯৬১) – রুশো- আমেরিকান শিল্পী।
  • খাবিব নুরমাগোমেদভ – লাইট ওয়েট শাখার একজন ইউএফসি ফাইটার।
  • খাদঝিমুরাদ মাগোমেডভ - অলিম্পিক স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং দুই বারের সিশ্ব রেসলিং চ্যাম্পিয়ান।
  • কুরামাগোমেদ কুরামাগোমেদভ (জন্ম. ১৯৭৮), একজন ফ্রীস্টাইল রেসলার যিনি ২০০০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে একটি বিশ্ব খেতাব জেতেন।
  • মাগোমেদ ইব্রাগিমহালিলোভিচ ইব্রাগিমভ - তিনি ২০০০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে পুরুষদের ৮৫ কেজি ফ্রীস্টাইলে অংশগ্রহণ করেন এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জেতেন।
  • মন্সুর ইসায়েভ - ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে জুডোতে স্বর্ণপদক বিজয়ী।
  • মাখাঞ্চ মুর্তাজালিয়েভ - ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে রেসলিংয়ে রাশিয়ার হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।
  • মাগোমেদ আব্দুসসালামভ - তিনি রাশিয়ার একজন পেশাদার হেভিওয়েট বক্সার, তিনি ২০০৮ হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।i
  • মাগোমেদরাসুল গাজিমাগোমেদভ - তিনি ২০১৫ ওয়ার্ল্ড রেসলিং চ্যাম্পিয়ানশিপে পুরুষদের ৭০ কেজি ফ্রীস্টাইলে স্বর্ণপদক জয় করেন।
  • মাগোমেদ খান আরাতসিলভ - ১৯৮০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী একজন সাবেক অপেশাদার রেসলার।
  • মাগোমেদ কুরবানালিয়েভ - দাগেস্তানে জন্মগ্রহণকারী আভার বংশোদ্ভূত রাশিয়ান ফ্রীস্টাইল রেসলার। তিনি ২০১৬ সালের বিশ্ব ফ্রীস্টাইল রেসলিং চ্যাম্পিয়ানশিপে ৭০ কেজি ভর শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ান হন।
  • মাগোমেদ মাগোমেদভ - পেশাদার ডাব্লিউএমএফ এবং আইএমএফ হেভিওয়েট মুয়াই থাই চ্যাম্পিয়ান।[clarification needed]
  • মাগোমেদরাসুল খাসবুলায়েভ - আভার বংশোদ্ভূত মিশ্র মার্শাল আর্টস খেলোয়াড়।
  • মাভ্লেত বাতিরভ - আভার বংশোদ্ভূত ফ্রীস্টাইল রেসলার, একবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান এবং দুইবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান। তিনি ২০০৪ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে পুরুষদের ৫৫ কেজি ফ্রীস্টাইলে অংশগ্রহণ করেন এবং স্বর্ণপদক জয় করেন।
  • মিকাইল বোরিসোভিচ দাদাশেভ - (জন্ম ১৯৩৬) ইহুদী লেখক এবং কবি। তিনি দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের একজন সম্মানিত অর্থনীতিবিদ। তিনি ২০ বছর দারবান্দের শুল্ক বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
  • মুরাদ উমাখানভ - উমাখানভ সিডনিতে অনুষ্ঠিত ২০০০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেন এবং ফ্রীস্টাইল রেসলিংয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন।
  • মুশাইল মুশাইলভ (১৯৪১-২০০৭) – একজন চিত্রশিল্পী এবং ইসরাইলের একজন সদস্য।
  • মুসলিম সালিকভ - চাইনিজ বংশোদ্ভূত নন এমন একমাত্র সান্দার রাজা। মুসলিম সালিকভকে প্রায়ই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ উশু সান্দা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  • নুরমাগোমেদ শানাভাজভ - শানাভাজভ সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে ১৯৮৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে বক্সিংয়ে সিল্ভার পদক জয় করেন।
  • রামজান সাহিন - ফ্রীস্টাইল রেসলিংয়ে অলিম্পিক স্বর্ণপদক (২০০৮) বিজয়ী এবং ২০০৭ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হন।
  • রাশিদ মাগোমেদভ - লাইটওয়েট শাখার একজন ইউএফসি ফাইটার।
  • রাশিয়ান মাগোমেদভ - হেভিওয়েট শাখার একজন ইউএফসি ফাইটার।
  • রাসুল গামজাতভ (১৯২৩-২০০৩) – আভারীয় ভাষার একজন কবি, লেখন এবং রাজনৈতিক কর্মী।
  • রুস্তম খাবিলভ – লাইটওয়েট শাখার একজন ইউএফসি ফাইটার। কম্ব্যাট সাম্বোতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান।
  • সাগিদ মুরতাজালিয়েভ - ফ্রীস্টাইল রেসলিংয়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান এবং একবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান।
  • সায়ফুল্লাহ আবসাইদভ - অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ান এবং ১৯৮১ সালে ফ্রিস্টাইল রেসলিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান।
  • সাজহিদ সাজহিদভ - দাগেস্তানে জন্মগ্রহনকারী একজন আভার বংশোদ্ভূত রাশিয়ান অলিম্পিক রেসলার। তিনি বিশ্ব পর্যায়ে ২০০৩ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি এথেন্সে অনুষ্ঠিত ২০০৪ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ মেডেল জয় করেন।
  • শামিল জাভুরভ - তিনবারের কম্ব্যাট সাম্বো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান।
  • শিরভানি মুরাদভ - েকজন স্পোর্টস রেসলার। তিনি ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় করেন এবং ২০০৭ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ান।
  • সেরগেই ইজগিয়ায়েভ (১৯২২-১৯৭২) – পর্বত ইহুদি সোভিয়েত কবি।
  • সুলেমান কেরিমভ - ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, জনহিতৈষী এবং রাজনীতিবিদ। ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী রাশিয়ার ধন্যাঢ মানুষদের মধ্যে একজন। দাতব্য কাজের জন্য তিনি সুলেমান কেরিমভ ফাউন্ডেশন নামক একটি দতব্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
  • সুলতান ইব্রাগিম - পেশাদার মুষ্ঠিযোদ্ধা, তিনি ২০০৭-২০০৮ সালে বিশ্ব বক্সিং অর্গানাইজেশনের হেভিওয়েট খেতাবধারী ছিলেন। অপেশাদার অক্সার হিসেবে তিনি ২০০০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সিলভার মেডেল জয় করেন।
  • তাগির খায়বুলায়েভ - তিনি আভার বংশোদ্ভূত জুডোকা। ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে তিনি স্বর্ণপদক জয় করেন।
  • তামারা মুসাখানোভা (১৯২৮-২০১৪) – একজন ভাস্কর এবং মৃত্শিল্পী। তিনি ইউএসএসআর ইউনিয়ন অব আর্টিস্ট এবং ইসরাইলের সদস্য।
  • তানখো ইসরায়েলভ (১৯১৭-১৯৮১) – ব্যালে ডান্সার, নৃত্য পরিচালক।
  • ভাজিফ মেয়লানভ (১৯৪০-২০১৫) – সোভিয়েত ভিন্নমতালম্বী, রাজনৈতিক বন্দী এবং রাজনৈতিক কর্মী।
  • ইয়াগুতিল মিশিয়েভ (জন্ম. ১৯২৭) – রাশিয়ান ফেডারেশন এবং দাগেস্তানের সম্মানিত শিক্ষক, প্রকাশক, দারবান্দের ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন বইয়ের লেখন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Президент Российской Федерации. Указ №849 от 13 мая 2000 г. «О полномочном представителе Президента Российской Федерации в федеральном округе». Вступил в силу 13 мая 2000 г. Опубликован: "Собрание законодательства РФ", №20, ст. 2112, 15 мая 2000 г. (President of the Russian Federation. Decree #849 of May 13, 2000 On the Plenipotentiary Representative of the President of the Russian Federation in a Federal District. Effective as of May 13, 2000.).
  2. Госстандарт Российской Федерации. №ОК 024-95 27 декабря 1995 г. «Общероссийский классификатор экономических регионов. 2. Экономические районы», в ред. Изменения №5/2001 ОКЭР. (Gosstandart of the Russian Federation. #OK 024-95 December 27, 1995 Russian Classification of Economic Regions. 2. Economic Regions, as amended by the Amendment #5/2001 OKER. ).
  3. Всероссийский Центральный Исполнительный Комитет. Декрет от 20 января 1921 г. «Об Автономной Дагестанской Социалистической Советской Республике». (All-Russian Central Executive Committee. Decree of জানুয়ারি ২০, ১৯২১ On Autonomous Dagestan Socialist Soviet Republic. ).
  4. Constitution, Article 8
  5. Федеральная служба государственной статистики (Federal State Statistics Service) (২০০৪-০৫-২১)। "Территория, число районов, населённых пунктов и сельских администраций по субъектам Российской Федерации (Territory, Number of Districts, Inhabited Localities, and Rural Administration by Federal Subjects of the Russian Federation)"Всероссийская перепись населения 2002 года (All-Russia Population Census of 2002) (Russian ভাষায়)। Federal State Statistics Service। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১১-০১ 
  6. Russian Federal State Statistics Service (২০১১)। "Всероссийская перепись населения 2010 года. Том 1" [2010 All-Russian Population Census, vol. 1]। Всероссийская перепись населения 2010 года (2010 All-Russia Population Census) (রুশ ভাষায়)। Federal State Statistics Service। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৯, ২০১২ 
  7. The density value was calculated by dividing the population reported by the 2010 Census by the area shown in the "Area" field. Please note that this value may not be accurate as the area specified in the infobox is not necessarily reported for the same year as the population.
  8. Правительство Российской Федерации. Постановление №725 от 31 августа 2011 г. «О составе территорий, образующих каждую часовую зону, и порядке исчисления времени в часовых зонах, а также о признании утратившими силу отдельных Постановлений Правительства Российской Федерации». Вступил в силу по истечении 7 дней после дня официального опубликования. Опубликован: "Российская Газета", №197, 6 сентября 2011 г. (Government of the Russian Federation. Resolution #725 of August 31, 2011 On the Composition of the Territories Included into Each Time Zone and on the Procedures of Timekeeping in the Time Zones, as Well as on Abrogation of Several Resolutions of the Government of the Russian Federation. Effective as of after 7 days following the day of the official publication.).
  9. Official the whole territory of Russia according to Article 68.1 of the Constitution of Russia.
  10. According to Article 11 of the Constitution of Dagestan, the official languages of the republic include "Russian and the languages of the peoples of Dagestan"
  11. Solntsev et al., pp. XXXIX–XL
  12. https://www.rt.com/politics/417983-dagestan-government-dissolved-as-former/ Russia Today - "Dagestan government dissolved amid major corruption investigation"
  13. http://tass.com/politics/988511 "High-ranking Dagestani officials detained on fraud charges" - Tass Russian News Agency
  14. https://themoscowtimes.com/news/golden-pistol-seized-raid-dagestani-premier-amid-anti-corruption-crackdown-60393 "Golden Pistol Seized in Anti-Corruption Raid on Dagestani Prime Minister" - The Moscow Times
  15. https://lenta.ru/articles/2018/02/06/dagestan/ "They held Dagestan for decades. Now they have questions." - Lenta
  16. Dagestan. Most inhabitants speak Caucasian and Turkic languages. In terms of religion, however, Dagestan is homogeneously Muslim. Encyclopædia Britannica (Online edition)
  17. Heinrich, Hans-Georg; Lobova, Ludmila; Malashenko, Alexei (২০১১)। Will Russia Become a Muslim Society?। Peter Lang। পৃষ্ঠা 46। আইএসবিএন 3631609132। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৬, ২০১২ 
  18. Dalby, Andrew (২০০৪)। Dictionary of Languages: The Definitive Reference to More Than 400 Languages। Columbia University Press। পৃষ্ঠা 59। আইএসবিএন 0231115695। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৬, ২০১২ 
  19. Russia’s Dagestan: Conflict Causes Archived মার্চ ২৮, ২০১৪, at the Wayback Machine.. International Crisis Group Europe Report N°192. 3 June 2008. Access date: 07 April 2014.
  20. Zonn, Igor S.; ও অন্যান্য। The Caspian Sea Encyclopedia। Berlin: Springer। পৃষ্ঠা 280। 
  21. Michael Khodarkovsky. "Bitter Choices: Loyalty and Betrayal in the Russian Conquest of the North Caucasus" Cornell University Press, 12 mrt. 2015. আইএসবিএন ০৮০১৪৬২৯০৮ pp 47-52
  22. "DAGESTAN"। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫ 
  23. Timothy C. Dowling Russia at War: From the Mongol Conquest to Afghanistan, Chechnya, and Beyond pp 728-730 ABC-CLIO, 2 dec. 2014 আইএসবিএন ১৫৯৮৮৪৯৪৮৪
  24. Aksan, Virginia. (2014). Ottoman Wars, 1700-1870: An Empire Besieged page 463. Routledge. আইএসবিএন ৯৭৮-১৩১৭৮৮৪০৩৩
  25. http://1900.ethnia.org/polity.php?ASK_CODE=KC__&ASK_YY=1919&ASK_MM=05&ASK_DD=07&SL=en[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  26. Russian Civil War Polities
  27. Общественное движение ЧЕЧЕНСКИЙ КОМИТЕТ НАЦИОНАЛЬНОГО СПАСЕНИЯ Archived ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৪, at the Wayback Machine.
  28. Вассан-Гирей Джабагиев Archived ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৪, at the Wayback Machine.
  29. Nick Paton Walsh, “Dagestan Edged Closer to Civil War” The Guardian
  30. "Putin replaces head of South Russian republic of Dagestan"। RT। জানুয়ারি ২৮, ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ২৮, ২০১৩ 
  31. Ware, Robert Bruce (২৯ মার্চ ২০০৮)। "Islamic Resistance and Political Hegemony in Dagestan"। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৪ 
  32. Wixman, Ronald (১৯৮৪)। "The Peoples of the USSR: An Ethnographic Handbook"। Armonk, New York: M. E. Sharpe, Inc: 11। 
  33. Перепись-2010: русских становится больше (Russian ভাষায়)। Perepis-2010.ru। ২০১১-১২-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-১৫ 
  34. Beliaev, Edward; Oksana Buranbaeva (২০০৬)। Dagestan। New York: Marshall Cavendish Benchmark। পৃষ্ঠা 89। আইএসবিএন 0761420150। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৪-০৪ 
  35. Kemper, Michael (২০১১)। "An Island of Classical Arabic in the Caucasus: Dagestan"। Françoise Companjen; László Károly Marácz; Lia Versteegh। Exploring the Caucasus in the 21st Century: Essays on Culture, History and Politics in a Dynamic Context। Amsterdam: Pallas Publications। পৃষ্ঠা 63–90। আইএসবিএন 9789089641830। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৪-০৪ 
  36. Comrie, Bernard (১৯৮১)। The Languages of the Soviet Union। Cambridge, UK: Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 199। আইএসবিএন 0521232309। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৪-০৪ 
  37. Moseley, Christopher (২০১০)। "UNESCO Interactive Atlas of the World's Languages in Danger"United Nations Education, Scientific, and Cultural Organization। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৬ 
  38. "Arena: Atlas of Religions and Nationalities in Russia". Sreda, 2012.
  39. 2012 Arena Atlas Religion Maps. "Ogonek", № 34 (5243), 27/08/2012. Retrieved 21/04/2017. Archived.
  40. Russia’s crackdown on Salafis may be breeding extremism
  41. Mountain Jews at World Culture Encyclopedia
  42. "Biography of Shaykh Said Afandi al-Chirkawi"। Islamdag.info। জুলাই ২২, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ মে ৪, ২০১২ 
  43. "Slavic Center for Law & Justice"। SCLJ। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ১৫, ২০১২ 
  44. Magomed Gasanov (২০০১)। "On Christianity in Dagestan"। Iran & the Caucasus5: 79–84। জেস্টোর 4030847 
  45. [১] Archived আগস্ট ১১, ২০১০, at the Wayback Machine.
  46. Dagestan Microsoft Encarta Online Encyclopedia 2008. Archived 2009-10-31.
  47. Dagestan Republic Archived সেপ্টেম্বর ৬, ২০০৯, at the Wayback Machine. Kommersant 2004-03-10
  48. Dagestan’s Economic Crisis: Past, Present and Future North Caucasus Weekly 2006-12-31
  49. Broadband Russia Newslatter
  50. "The Voice of the Martyrs' Be-A-Voice Network"। Be-a-voice.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০১-১৫ 
  51. "Russia: Official Killed in Dagestan"The New York Times। সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১১। 
  52. https://www.nytimes.com/reuters/2011/09/28/world/europe/international-us-russia-dagestan-bomb.html?hp[অকার্যকর সংযোগ]
  53. "BBC News – Dagestan Russia blasts: At least 12 dead in Makhachkala"Bbc.co.uk। মে ৪, ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-০৪ 
  54. "Sheikh Murdered Over Religious Split Say Analysts | Russia | RIA Novosti"। En.rian.ru। ৩০ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 

উৎসসমূহ[সম্পাদনা]

  • В. М. Солнцев и др., সম্পাদক (২০০০)। Письменные языки мира: Российская Федерация. Социолингвистическая энциклопедия. (Russian ভাষায়)। Москва: Российская Академия Наук. Институт языкознания.। проект №99-04-16158। 
  • 10 июля 2003 г. «Конституция Республики Дагестан», в ред. Закона №45 от 7 октября 2008 г. (July 10, 2003 Constitution of the Republic of Dagestan, as amended by the Law #45 of October 7, 2008. ).

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]