ডার্ক ওয়েলহাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডার্ক ওয়েলহাম
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডার্ক ম্যাকডোনাল্ড ওয়েলহাম
জন্ম (1959-03-13) ১৩ মার্চ ১৯৫৯ (বয়স ৬০)
মারিকভিল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩১৪)
২৭ আগস্ট ১৯৮১ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১০ জানুয়ারি ১৯৮৭ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক১৭ ডিসেম্বর ১৯৮১ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই৯ এপ্রিল ১৯৮৭ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮০–১৯৮৮নিউ সাউথ ওয়েলস
১৯৮৮–১৯৯১তাসমানিয়া
১৯৯১–১৯৯৩কুইন্সল্যান্ড বুলস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ১৭
রানের সংখ্যা ২৫৭ ৩৭৯
ব্যাটিং গড় ২৩.৩৬ ২৫.২৬
১০০/৫০ ১/- -/১
সর্বোচ্চ রান ১০৩ ৯৭
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/- ৮/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ জুলাই ২০১৮

ডার্ক ম্যাকডোনাল্ড ওয়েলহাম (ইংরেজি: Dirk Wellham; জন্ম: ১৩ মার্চ, ১৯৫৯) নিউ সাউথ ওয়েলসের মারিকভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ও সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস, তাসমানিয়া ও কুইন্সল্যান্ড বুলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ডার্ক ওয়েলহাম। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৬ টেস্ট ও ১৭টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন ডার্ক ওয়েলহাম। দুইজন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও টেস্ট ক্রিকেট - উভয় স্তরের ক্রিকেট অভিষেকে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেছেন। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ডার্ক ওয়েলহাম তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে নিউ সাউথ ওয়েলস, তাসমানিয়া ও কুইন্সল্যান্ড - এ তিনটি অস্ট্রেলীয় রাজ্য দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, নিউ সাউথ ওয়েলসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনকালে ১৯৮৪-৮৫ ও ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের শেফিল্ড শিল্ড এবং ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ম্যাকডোনাল্ডস কাপের শিরোপা জয় করে তাঁর দল।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৮০-৮১ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে দুইটি শতরান করেন। তন্মধ্যে, ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে অভিষেক প্রথম-শ্রেণীর খেলায় করেছিলেন ১০০ রানের ইনিংস। পরের মৌসুমে টেস্ট ও রাজ্য দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু, ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে দলে ফিরে আসেন। ঐ বছর উপর্যুপরী দুইটি শেফিল্ড শিল্ড ও ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে ম্যাকডোনাল্ডস কাপ জয় করেন।

প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪২.২৫ গড়ে ১৬ সেঞ্চুরি সহযোগে ৮,৬৬২ রান তুলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে দল বদল করে তাসমানিয়ায় স্থানান্তরিত হন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান। ঐ দায়িত্বে তিন মৌসুম অতিবাহিত করেন। তাসমানিয়ার পক্ষে ৩২ খেলায় অংশ নিয়ে ৩৯.৭৩ গড়ে ১,৬২৯ রান তুলেন। এতে ১৫টি অর্ধ-শতরানের ইনিংস থাকলেও কোন শতক ছিল না।

১৯৯১-৯২ মৌসুমের শুরুতে ওয়েলহাম ব্রিসবেনে চলে যান ও অ্যাঙ্গলিকান চার্চ গ্রামার স্কুলে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন। ইস্টার্ন সাবার্বস ক্লাবে যোগ দেন ও কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্য মনোনীত হন। ৫৮.২০ গড়ে দুই সেঞ্চুরি সহযোগে ৮৭৩ রান তুলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমের পর এটিই তাঁর সেরা মৌসুম ছিল। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে প্রথমবারের মতো কুইন্সল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করার জন্য মনোনীত হন। ফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি অস্ট্রেলীয় রাজ্য দলের অধিনায়কত্ব করার গৌরব অর্জন করেন। কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে ৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় নেতৃত্ব দেন। ঐ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ড প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় তাঁর দল নিউ সাউথ ওয়েলসের কাছে পরাভূত হয়েছিল। এরপর ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে তিনি আরও তিনটি খেলায় অংশ নেয়ার পর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদায় জানান।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮১ সালে ইংল্যান্ড সফরে যাবার জন্য অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য মনোনীত হন তিনি। ঐ সফরে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে মনোরম অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের ষষ্ঠ টেস্টে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় ওয়েলহাম ২৪ ও ১০৩ রান তুলেন। ফলে, ১২শ অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করেন তিনি। তবে, ওয়েলহামের এ সেঞ্চুরিটি কয়েকজন ধারাভাষ্যকারের সমালোচনার পাত্রে পরিণত হয়। ধীরগতিতে সেঞ্চুরি করার ফলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। তবে, ৯০ বল খরচায় ৮০ রান তোলার পর অধিনায়ক কিম হিউজ রানার পাঠান। এতে সিরিজের ফলাফলের গুরুত্বতা হারিয়ে যাবার কথা বলা হয়। ২২১ বলে ১০৩ রান তোলার প্রাক্কালে এক পর্যায়ে ৯৯ রানের সময় তিনি ২৫ মিনিট খরচ করেন।

১৯৮৫ মৌসুমে অ্যাশেজ সফরের চূড়ান্ত টেস্ট এবং ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের চূড়ান্ত টেস্ট খেলার জন্য আমন্ত্রিত হন। তবে, দুই খেলায় অংশ নিয়ে তিনি মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

একদিনের আন্তর্জাতিক[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৭টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন ডার্ক ওয়েলহাম। তন্মধ্যে, ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের বিশ্ব সিরিজ কাপের ৯ খেলায় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর। ঐ প্রতিযোগিতার উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সিডনিতে ৯৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে, চূড়ান্ত ওভারে ব্রুস রিডের বোলিংয়ে অ্যালান ল্যাম্ব ১৮ রান তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড জয় পায়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

নিউ সাউথ ওয়েলসের মারিকভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ডার্ক ওয়েলহাম অ্যাশফিল্ড বয়েজ হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন।[১] প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ওয়াল্টার ওয়েলহাম সম্পর্কে তাঁর কাকা।[২][৩]

২০০৯ সালে ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[২][৪] পূর্বে অ্যাঙ্গলিকান চার্চ গ্রামার স্কুলে ডেপুটি প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৩ সালে কালুন্দ্রা সিটি প্রাইভেট স্কুলে প্রিন্সিপাল হিসেবে নিযুক্ত হন।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Parker, Maralyn (৪ মার্চ ২০০৮)। "Public schools rule at noble art of cricket"Daily Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১১ 
  2. "Cricket Players and Officials – Dirk Wellham"। cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১০ 
  3. "Players – Dirk Welham"। Queensland Cricket। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১০ 
  4. "The Role of Sport in Boys' Schools" (PDF)। International Boys’ Schools Coalition। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১১ 
  5. City Observer, 24 May 2012.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


পূর্বসূরী
ডেভিড বুন
তাসমানীয় ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮৭/৮৮–১৯৯০/৯১
উত্তরসূরী
রড টাকার
পূর্বসূরী
ডেভিড বুন
তাসমানীয় ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৮৮/৮৯–১৯৯০/৯১
উত্তরসূরী
রড টাকার