ইয়ান ডেভিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইয়ান ডেভিস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামইয়ান চার্লস ডেভিস
জন্ম (1953-06-25) ২৫ জুন ১৯৫৩ (বয়স ৬৬)
নর্থ সিডনি, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কলিব্বি (স্ত্রী)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৬৬)
২৯ ডিসেম্বর ১৯৭৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৫ আগস্ট ১৯৭৭ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ২০)
৩০ মার্চ ১৯৭৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ ওডিআই৪ জুন ১৯৭৭ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৩ - ১৯৮৩নিউ সাউথ ওয়েলস
১৯৭৫ - ১৯৭৬কুইন্সল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৫ ৮৮ ২২
রানের সংখ্যা ৬৯২ ১২ ৪৬০৯ ৪৬২
ব্যাটিং গড় ২৬.৬১ ৬.০০ ৩৩.৩৯ ২৩.১০
১০০/৫০ ১/৪ ০/০ ৭/২৮ ০/৪
সর্বোচ্চ রান ১০৫ ১১* ১৫৬ ৮৪
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯/– –/– ৪৮
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৪ অক্টোবর ২০১৯

ইয়ান চার্লস ডেভিস (ইংরেজি: Ian Davis; জন্ম: ২৫ জুন, ১৯৫৩) নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তর সিডনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডনিউ সাউথ ওয়েলস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ইয়ান ডেভিস। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

শৈশবকালেই ইয়ান ডেভিসের সহজাত ক্রীড়াপ্রতিভা সকলের নজর কাড়ে। ফলশ্রুতিতে, ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে অস্ট্রেলীয় বিদ্যালয় বালকদের নিয়ে গড়া ক্রিকেট একাদশের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনের জন্যে মনোনীত হন। এ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন তার ভ্রমণের জন্যে অর্থ সংগ্রহে অগ্রসর হন। এ ঘটনাটি অদ্যাবধি ইয়ান ডেভিস কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।[১] এ সফরে ভবিষ্যতের টেস্ট খেলোয়াড় গ্যারি কোজিয়ারের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন।

জ্যামাইকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে প্রথম দুই খেলায় অংশ নেন। ১১, ৮ ও ৮ রান তুলেন। সফরের তৃতীয় খেলায় চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে বার্বাডোসের বিপক্ষে এক রান করে রান আউটের শিকারে পরিণত হন। ষষ্ঠ খেলায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে মনোমুগ্ধকর সেঞ্চুরি করেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাত খেলায় অংশ নিয়ে ৪৩.৭১ গড়ে রান তুলে এ সফর শেষ করেন। কোজিয়ার, ট্রেভর চ্যাপেলগ্যারি গিলমোরকে জাতীয় দলে নেয়া হয়। অন্যদিকে, অ্যান্ড্রু সিনকক সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দীর্ঘদিনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে অগ্রসর হন।[২]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত ইয়ান ডেভিসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। নভেম্বর, ১৯৭৩ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে শেফিল্ড শিল্ডে অভিষেক ঘটে ইয়ান ডেভিসের। ওয়াকা গ্রাউন্ডে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ ও ২৫ রান তুলেছিলেন। পরের খেলায় সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৬ রান তুলেন।

১৮ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির সন্ধান পান ইয়ান ডেভিস। অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের বোলার রে ব্রাইট ও সাবেক আন্তর্জাতিক বোলার অ্যালেন থমসনের বোলিং আক্রমণ মোকাবেলা করে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৭টি শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় অংশ নিয়ে ১২ ইনিংসে ৫২.৯০ গড়ে রান তুলে ঐ মৌসুমে এনএসডব্লিউ’র ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন। তবে অপরাজিত ১০৯ রানের একমাত্র সেঞ্চুরিসহ পাঁচটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। শিল্ডের ব্যাটিং গড়ে গ্রেগ চ্যাপেলের ১৩ ইনিংসে সংগৃহীত ৯২.০৯ রান গড়ে শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিতকালে তিনি ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করেছিলেন।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পনেরোটি টেস্ট ও তিনটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন ইয়ান ডেভিস। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মেলবোর্নে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১১ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লিডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হবার জন্য তাকে অস্ট্রেলিয়া দলের প্রথম একাদশে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ সময় তার বয়স ২০ বছর ১ মাস ছিল। দূর্বলতর নিউজিল্যান্ড দল ইনিংস ও ২৫ রানে পরাভূত হয়। একই অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান তুলে ডেল হ্যাডলি’র বলে কেন ওয়াডওয়ার্থের কট পরিণত হন।[৪]

ইয়ান ডেভিস নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। সিরিজের তিনটি টেস্টেই তার অংশগ্রহণ ছিল। মার্চ, ১৯৭৪ সালে ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টেস্ট অর্ধ-শতরান করেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র বোলিংয়ে অধিনায়ক বেভ কংডনের হাতে তালুবন্দী হবার সময় ১০৭ বল মোকাবেলা করে ঠিক ৫০ রান তুলেছিলেন। এ সফরে ওডিআইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ডুনেডিনে অপরাজিত ১১ রান তুলেছিলেন।[৫]

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাননি তিনি। তবে, এনএসডব্লিউর সদস্যরূপে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ ও ৩৮ রান তুলেছিলেন। উভয় ইনিংসেই ক্রিস ওল্ডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ঐ খেলায় এনএসডব্লিউ ১৮৭ রানে পরাজয়বরণ করেছিল।[৬]

জাতীয় দলে প্রত্যাখ্যান[সম্পাদনা]

১৯৭৪-৭৫ মৌসুমটি ইয়ান ডেভিসের জন্যে সুখকর ছিল না। এ মৌসুমে কোন প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করতে পারেননি। কেবলমাত্র একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ৮ খেলায় অংশ নিয়ে ১৫ ইনিংসে মাত্র ১৭.২১ গড়ে রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। টেস্ট একাদশেও এর প্রভাব পড়ে। রস এডওয়ার্ডস ফিরে আসলে তাকে টেস্ট দলের বাইরে রাখা হয়। ডেনিস লিলি ও জেফ থমসনের ক্ষিপ্রগতির ফাস্ট বোলিংয়ের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া দল অ্যাশেজ করায়ত্ত করে।

১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ডের দিকে পাড়ি জমান। গ্রেগ চ্যাপেলের অধিনায়কত্বে ইয়ান ডেভিসকে ব্যাটিং উদ্বোধনের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। উদ্বোধনী মৌসুমে দর্শনীয় তেমন খেলা উপহার দিতে না পারলেও ৮ খেলায় ১২ ইনিংসে ৩৪.০৮ গড়ে রান তুলেছিলেন। সর্বোচ্চ করেন ৬১ রান। ঐ মৌসুমে কুইন্সল্যান্ড দল জিলেট কাপের শিরোপা জয় করে। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় তিনি ৫৭ বলে ৪৪ রান তুলেছিলেন ও দলকে নাটকীয়ভাবে চার রানের জয় এনে দেন।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে ডেভিসের খেলার ছন্দ ফিরে আসে ও এনএসডব্লিউতে প্রত্যাবর্তন করেন। এক মৌসুম বাদেই শেফিল্ড শিল্ডের প্রথম চার খেলায় দুই শতক করেন ও ব্যাটিং গড়ে ৫৩.৮৩ গড়ে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থানে আরোহণ করেন।

জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে স্বদেশে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য ইয়ান ডেভিসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে খেলতে নামেন। প্রথম ইনিংসে ২০১ বল মোকাবেলা করে ১০৫ রানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান। তবে, সরফরাজ নওয়াজের দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে তাকে বিদেয় নিতে হয়েছিল। এমসিজিতে দ্বিতীয় টেস্টে ৫৬ ও ৮৮ রান তুলেন। এ সিরিজে ৪৯.০০ গড়ে রান তুলেছিলেন তিনি।

এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে অংশ নেয়ার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলেন। ঐ সফরে ৩৩.৭২ গড়ে রান তুলেন। ৬ খেলায় ১২ ইনিংস খেলে সর্বোচ্চ করেন ৬৮ রান। টেস্টগুলোয় তিনি মাত্র ৭৫ রান তুলেন। সর্বোচ্চ মাত্র ৩৪ করেন। মার্চ, ১৯৭৭ সালে শতবার্ষিকী টেস্ট খেলার সুযোগ পান তিনি। এমসিজিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয়তায় ভরা খেলায় অসিদের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ঐ খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল ৪৫ রানে জয় পায়। খেলার উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ডেনিস লিলি’র ১১ উইকেট লাভ।[৭]

১৯৭৭ সালের শীতকালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ খেলার জন্যে ইয়ান ডেভিসকে মনোনীত করা হয়।[৮] ডেভিস দুইটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়ে এক রান তুলতে পেরেছিলেন। এরপর আর তিনি ওডিআইয়ে অংশ নেননি। ছয় টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্টে ডেভিসকে রিক ম্যাককস্কারের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে রাখা হয়। তবে, ১৭.৮৩ গড়ে মাত্র ১০৭ রান তুলেছিলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিজস্ব প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪ রানের সর্বোচ্চ রান তুলেন। এরপর ১২, ৩৩, ৯, ০ ও ১৯ রান করলে দলের বাইরে রাখা হয় ও ক্রেগ সার্জেন্টকে ব্যাটিং উদ্বোধনের জন্যে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। হেডিংলির চতুর্থ টেস্টটি শুধুমাত্র ডেভিসের সর্বশেষ টেস্ট ছিল না; বরঞ্চ ১৯৭৯-৮০ মৌসুমের পূর্ব-পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তার শেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ ছিল।

বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলার জন্যে ইয়ান ডেভিস চুক্তিবদ্ধ হন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে তার স্বাক্ষর বাজারজাত ও ব্র্যান্ডের সফলতায় বিরাট প্রভাব ফেলে। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমের প্রথম বছরে বিশ্ব একাদশের সদস্যরূপে তিনটি সুপারটেস্টে অংশ নেন। সর্বোচ্চ করেন ৮৪ রান। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে আরও দুইটি সুপারটেস্টে অংশ নেন। তবে, ১২ গড়ে মাত্র ৪৮ রান তুলতে পেরেছিলেন। ম্যাককস্কার ও ব্রুস লেয়ার্ডের কারণে জাতীয় দলে অংশগ্রহণের পথ অবরুদ্ধ থাকায় ডব্লিউএসসি অস্ট্রেলীয় একাদশে অন্তর্ভূক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন। উচ্চ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক টেস্টে যেভাবে রান তুলেছিলেন, সুপারটেস্টে এর অর্ধেক তুলতে সক্ষম হন। অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান ডেভিড হুকস অ্যান্ডি রবার্টসের বলে চোয়াল ভেঙ্গে ফেলার পর থেকে এ ধারা প্রবাহিত হয়।[৯]

প্যাকার বোলারদেরকে আগ্রাসী বোলিংয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। সনাতনী ক্রিকেট সমর্থকেরা পিচের মাইক্রোফোনে বাজে ভাষার প্রয়োগে বেশ হতাশ হন। দর্শকদের কোলাহল ও প্যাকারের ডব্লিউএসসি তারকা খেলোয়াড়দের অধিকাংশই ফাস্ট বোলার ছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ডেভিসসহ অনেকেই আত্মরক্ষার্থে হেলমেট পরিধান করতে বাধ্য হন। অবসর গ্রহণের পর ইয়ান ডেভিস এই ক্রিকেট সরঞ্জামের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছিলেন। [১০]

ইন্টারন্যাশনাল কাপে অধিক সফলতা পেয়েছেন তিনি। ৪০ ওভারের তিনটি খেলায় অংশ নেন। দুই মৌসুমে ১৮টি ইন্টারন্যাশনাল কাপের খেলায় ২৫.১৮ গড়ে ৪২৮ রান তুলেন। সর্বোচ্চ রান করেন ৬৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ডব্লিউএসসি দলের সফরে অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। তবে, ব্যাংকে চাকুরী করার সুবাদে তার ছুটি প্রত্যাখ্যাত হয়।[১১] ফলে, ডেভিস এ সফরে যেতে পারেননি ও মে, ১৯৭৯ সালে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সাথে প্যাকারের সমঝোতায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটের বিলুপ্তি ঘটে।[১২]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭৯-৮০ মৌসুমে প্যাকারের সাথে জড়িত খেলোয়াড়েরা রাজ্য দলে অংশ নিতে থাকেন। ঐ মৌসুমে তিনটি শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় অংশ নিলেও ব্যাটিংয়ের অবস্থান পরিবর্তন করে চার নম্বরে সড়ে যান। লঞ্চেসটনে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে, আর কোন ইনিংসে ৫০-এর কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে ডেভিসের খেলার মান তুলনামূলকভাবে দূর্বলতর ছিল। ৭ খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ২৫১ রান তুলেন। এ পর্যায়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮১ রান করেছিলেন। ঐ মৌসুমে ২৭.৮৮ গড়ে রান পান। তাসত্ত্বেও, রিক ম্যাককস্কারের অধিনায়কত্বে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র ৩ পয়েন্ট পিছনে থেকে দলের রানার্স-আপে সঙ্গী হন।

১৯৮১-৮২ মৌসুমে ডেভিড হুকসের নেতৃত্বাধীন সাউথ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে রানার্স-আপ হয়েছিল এনএসডব্লিউ দল। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে ৩৮ গড়ে দুই শতক সহযোগে সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি ব্যাটিং উদ্বোধনের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। হোবার্টে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৩৩ রান করেছিলেন। পরের খেলায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৩ রানের আরেকটি সেঞ্চুরি করেন। ঐ খেলায় তার দল ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ইয়ান ডেভিস তার সর্বশেষ মৌসুম অতিবাহিত করেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় চার পয়েন্টের ব্যবধানে আবারও রানার্স-আপ হয় এনএসডব্লিউ দল। তবে, ডেভিস দুই খেলায় অংশ নিয়ে ৮৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঠিক ৩০ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন ইয়ান ডেভিস। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে সফররত শ্রীলঙ্কা একাদশের বিপক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তিনি ১৪ রান তুলেছিলেন।

২০০৪ সালে ‘মোর দেন ক্রিকেট’ শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। ১৯৮৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ডানলপ স্ল্যাজেঞ্জারে কাজ করছেন।[১৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. South Coast Register – Test cricketer backs Matthews 
  2. Cricket Archive – Australian Schoolboys in West Indies 1969/70 
  3. Cricket Archive – Sheffield Shield Batting Averages 1973/74 
  4. Cricinfo – Australia v New Zealand, Melbourne 1974 Scorecard 
  5. Cricket Archive New Zealand v Australia 1st ODI 1974 
  6. Cricket Archive – NSW v MCC 1975 Scorecard 
  7. Cricinfo – 1977 Centenary Test Match Scorecard 
  8. Kay, Oliver, The Times – Caught in Time: Australia Tour of England 1977, London 
  9. Fox Sports – The Packer Revolution 
  10. "BBC Sport Jonathan Agnew column", BBC News, ২৭ ডিসেম্বর ২০০৫, সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০১০ 
  11. Wisden (1980) The Packer Years 
  12. Cricinfo – World Series Cricket Stats 
  13. "Cricinfo – Ian Davis Profile" 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]