ডায়োনিসীয় রহস্যবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ডায়োনিসীয় রহস্যবাদ (Dionysian Mysteries) ছিল প্রাচীন গ্রিস এবং রোমের একটি ধর্মীয় আচার ছিল যা কখনও কখনও বাধা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতাগুলি অপসারণের জন্য এবং একটি প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরে যেতে ব্যক্তিসত্তাকে মুক্তি দেবার জন্য মাদক এবং অন্যান্য বোধি-সঞ্চারণ পদ্ধতি যেমন নৃত্য ও সঙ্গীত ব্যবহার করত। এটি গ্রীক সমাজ দ্বারা প্রান্তিকায়িতদের, যেমন নারী, দাস, বিতাড়িত এবং অনাগরিকদের জন্যেও কিছু মাত্রায় মুক্তির ব্যবস্থা রেখেছিল। গ্রিক দেবতা ডায়োনিসাস সম্পর্কিত ধারণা ক্রমশ পাতালপুরী থেকে অতিন্দ্রীয় জগতের দিকে সরে আসার সাথে সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে ডায়োনিসীয় রহস্যবাদের কেন্দ্রও পাতালপুরী থেকে অতিন্দ্রীয়বাদের দিকে সরে যায়। ডায়োনিসীয় রহস্যবাদ একটি রহস্যবাদ হওয়ায় এটি কেবল দীক্ষিতদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল, ফলে এর উপাসক সম্প্রদায় সম্পর্কিত অনেক বিষয়ই অজানা রয়ে গেছে এবং গ্রেকো-রোমান বহুঈশ্বরবাদের পতনের কারণে হারিয়ে গেছে; এটি সম্পর্কে আধুনিক কালে যা যা জানা যায় তা এসেছে এই রহস্যবাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিবরণ, চিত্রকর্ম এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক অধ্যয়নের মাধ্যমে।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকের ডেরভেনি ক্রেটার, উচ্চতা ৯০.৫ সেমি (৩৫.৫ ইঞ্চি)

গ্রীক মূলভূমি ও রোমান সাম্রাজ্যের ডায়োনিসীয় রহস্যবাদ কোন অজানা স্থানের (সম্ভবত থ্রেসীয় বা ফ্রিজীয়) আরও আদিম দীক্ষামূলক উপাসক সম্প্রদায় থেকে উদ্ভূত হয়েছে যা সনাতন গ্রিক পর্যায়ে সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত হয়। ডায়োনিসীয় রহস্যবাদের প্রসারণ ছিল দ্রাক্ষাসুরা বা ওয়াইনের প্রসারের সাথে সম্পর্কিত, ধর্মানুষ্ঠান বা স্যাক্রামেন্ট এর সাথে এই দ্রাক্ষাসুরার সম্পর্ক ছিল, এই রহস্যবাদের স্যাক্রামেন্টে দ্রাক্ষাসুরা পান করতে হত। একই সাথে এনথিওজেন বা ধর্মের সাথে সম্পর্কিত মানসিক অবস্থা পরিবর্তনকারী মাদকের সাথেও এর সম্পর্ক ছিল, যদিও মিড (mead, মূলত মধু বা ফল থেকে প্রস্তুত সুরা বা মদ) এর উৎপত্তিগত ধর্মানুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত হয়ে থাকতে পারে। একটি সরল ধর্মীয় আচার হিসাবে শুরু হয়ে, এটি গ্রীক সংস্কৃতিতে দ্রুত একটি জনপ্রিয় রহস্যবাদে বিকশিত হয়েছিল, যা গ্রিক অঞ্চলের বিভিন্ন অনুরূপ উপাসক সম্প্রদায়কে (এবং তাদের দেবদেবীদেরকে) সেসময়ের আদর্শরূপ গ্রিক সংশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহণ করে নিয়েছিল, যার শেষ দিকের একটি প্রকরণ ছিল অর্ফিকবাদ। যাই হোক, গ্রিক ইতিহাসের শেষ দিকে এবং জোড়পূর্বক খ্রিস্টায়ন পর্যন্ত এই রহস্যবাদের বিকাশমূলক বর্ণালীর সকল ধাপই পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে সমান্তরালভাবে টিকে ছিল।

শুরুর দিকের ডায়োনিসীয় উপাসক সম্প্রদায়[সম্পাদনা]

থ্রেস এবং এশিয়া মাইনোর উভয় স্থানেই ডায়োনিসাস জনপ্রিয়তার জন্য, এবং দ্বাদশ অলিম্পীয় দেবদেবীদের মধ্যে ডায়োনিসাস না থাকায়, প্রাচীন গ্রিসে ডায়োনিসাসের পরমানন্দময় কাল্ট থ্রেস ও এশিয়া মাইনোর থেকে পরবর্তীকালে এসেছে বলে পূর্বে মনে করা হত। তবে মাইসিনীয় লিনিয়ার বি ট্যাবলেটগুলিতে ডায়োনিসাসের নাম আবিষ্কৃত হবার পর এই তত্ত্বটি পরিত্যাগ করা হয়, এবং মনে করা হয় প্রাচীন গ্রিসে ডায়োনিসাসের কাল্টটি গ্রিক সভ্যতা গড়ে ওঠার পূর্বেই তৈরি হয়েছিল। প্রথমদিকে অলিম্পীয় দেবদেবীদের মধ্যে ডায়োনিসাসের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে ধরা হয় তার সামাজিক বর্জন এবং তার কাল্টের প্রান্তিকীকরণ। এই কাল্টটি মিনোয়ান ক্রিট (প্রাচীন দেবতা জাগ্রিয়াসের দিক থেকে) নাকি আফ্রিকা, নাকি প্রোটো-স্যাবাজিয়স হিসেবে থ্রেস বা এশিয়া মাইনোরে উদ্ভূত হয়েছিল, সেই উত্তর পাওয়া যায়নি। কোন কোন পণ্ডিত মনে করেন, এই কাল্টটি এই স্থানগুলোর স্থানীয় নয়, বরং গৃহীত কাল্ট ছিল, এবং প্রারম্ভিক দিকে এটি একটি পরমানন্দময় কাল্ট ছিল, যদিও মিনোয়ান সংস্কৃতি থেকে অবশ্যই এটি অনেক উপাদান গ্রহণ করেছে।[১]

দ্রাক্ষাসুরার ভূমিকা[সম্পাদনা]

এথেন্সের ন্যাশনাল আর্কিওলজিকাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ১৭০-১৮০ খ্রিস্টাব্দে এশিয়া মাইনোরের একটি ওয়ার্কশপে বানানো একটি মার্বেল পাথর নির্মিত টেবিলের পায়া, যা ডায়োনিসাস, প্যান এবং একজন স্যাটরের মূর্তি দ্বারা সজ্জিত। এখানে ডায়োনিসাস একটি চিতা বাঘের আকৃতি নিয়ে একটি রাইটন (পান করার জন্য তৈরি পাত্র) ধরে আছেন, মূর্তিগুলোর চুল ও শাখাগুলোতে যে লাল ও হলুদ রং করা হয়েছিল তার কিছু চিহ্ন এখনও টিকে আছে।

প্রাচীন মধ্য আমেরিকার এনথিওজেন-জনিত কাল্টের মত ডায়োনিসাসের কাল্ট মূলগতভাবে দ্রাক্ষাসুরা কাল্ট ছিল। এই দ্রাক্ষাসুরা কাল্টের সাথে সম্পর্কিত ছিল দ্রাক্ষালতা বা আঙ্গুরের চাষ, এর জীবনচক্র সম্পর্কিত বোধ এবং আঙ্গুরের বিভাজিত শরীর থেকে গাঁজনের মাধ্যমে দ্রাক্ষাসুরার প্রস্তুতি। এই জীবনচক্রের বোধ ছিল দ্রাক্ষালতার শরীরকে দেবতা ডায়োনিসাসের শরীরের সাথে একাত্ম ভাবা, গাঁজনের সাথে তারা পাতালপুরীতে থেকে যাওয়া দেবতা ডায়োনিসাসের সারকে সম্পর্কিত করত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়তি হল, দ্রাক্ষাসুরার মাদক এবং বাধাহীনতার প্রভাবকে দেবতা ডায়োনিসাসের আত্মার ভর করা বলে মনে করাহত, মনে করা হত এর মাধ্যমেই একজন ডায়োনিসাসকে লাভ করতে পারে। দ্রাক্ষাসুরাকে মাটিতেও ঢালা হত, মনে করা হত এখান থেকে দ্রাক্ষালতার পুনর্জন্ম হবে, আর এভাবে চক্রটি পূর্ণ হত। এই কাল্ট কেবল দ্রাক্ষালতার সাথেই সম্পর্কিত ছিল না, দ্রাক্ষাসুরার বা ওয়াইনের অন্যান্য উপাদানগুলোর সাথেও এটি সম্পর্কিত ছিল। গন্ধ ও ওষধিগুণের জন্য দ্রাক্ষাসুরার মধ্যে অন্যান্য উপাদান যেমন ভেষজ, ফুল এবং রেসিনজাতীয় দ্রব্য মেশানো হত। পণ্ডিতরা প্রস্তাব দিয়েছেন যে, প্রাথমিক দ্রাক্ষাসুরায় অ্যালকোহলের পরিমাণ অম থাকায়, যথার্থ মানসিক অবস্থা পরিবর্তনকারী প্রভাবের জন্য ধর্মানুষ্ঠান বা স্যাক্রামেন্টের দ্রাক্ষাসুরার মধ্যে এনথিওজেন জাতীয় দ্রব্যাদি মেশানো হত। মধু এবং মোমকে প্রায়শই দ্রাক্ষাসুরায় মেশানো হত, আরও প্রাচীন মদ্য মিডও ব্যবহার করা হত। ক্যারোলি কেরানি প্রস্তাব করেছেন, পূর্বে গ্রিকরা ডায়োনিসাসের সাথে মৌমাছির ঝাঁককে সম্পর্কিত করতেন, এবং নব্যপ্রস্তরযুগীয় মদ্য মিডের প্রথার সাথে এই মৌমাছির ঝাঁকের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে দ্রাক্ষাসুরার প্রথা এই মিডের প্রথাকে প্রতিস্থাপিত করে এবং আংশিকভাবে গ্রহণ করে নেয়।[২] সম্ভবত থ্রেসীয় ভুট্টা দেবতা সাবাজিয়াসের সাথে একাত্ম করার মধ্য দিয়ে মিড এবং বিয়ারকে (খাদ্যশস্য ভিত্তিক মদ) ডায়োনিসাসের কাল্টের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

অন্যান্য উদ্ভিদগুলি যেগুলি দ্রাক্ষাসুরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয় সেগুলিও দ্রাক্ষাসুরার রীতিতে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়, যেমন আইভি (মাদকতার বিরুদ্ধে কাজ করে বলে মনে করা হত, তাই দ্রাক্ষাসুরার বিপরীত, এই ফুল গ্রীষ্মের বদলে শীতকালে ফুটতে দেখা যায়); ডুমুর (অধিবিষ বা টক্সিন থেক শুদ্ধির জন্য) এবং পাইন (দ্রাক্ষাসুরার একটি সংরক্ষণকারী বা প্রিজারভেটিভ হিসেবে)। ষাঁড় (যার শিং দিয়ে দ্রাক্ষাসুরা পান করা হত) এবং ছাগলও (যার চামড়া সেলাই করে দ্রাক্ষাসুরার ধারক বা ওয়াইনস্কিন বানানো হত, এবং যার চড়ার ফলে দ্রাক্ষালতার ছাটাই হয়ে যায়) এই ধর্ম বা কাল্টের অংশ ছিল, শেষ পর্যন্ত এদেরকে ডায়োনিসাসের প্রকাশ হিসাবে দেখা হয়। এই সম্পর্কগুলোর কয়েকটি উর্বরতা দেবদেবীদের (ডায়োনিসাসের মতো) সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়, এবং এই দেবদেবীদের নতুন ভূমিকার অংশ হয়ে যায়। দ্রাক্ষাসুরা সংক্রান্ত মতবাদ ও রীতি (Wine lore) এবং এর প্রতীকবাদ বুঝতে পারাটা এখান থেকে যে কাল্ট উদ্ভূত হয়েছে তা বোঝার মূল চাবিকাঠি, দ্রাক্ষাসুরা তৈরির প্রক্রিয়ায় দ্রাক্ষাসুরা প্রস্তুত ছাড়াও অন্যান্য তাৎপর্য ছিল, যার মধ্যে জীবন, মরণ, পুনর্জন্ম অন্তর্ভূক্ত ছিল, এবং এটি মানব মনস্তত্ত্ব সম্পর্কেও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

ডায়োনিসাসের কাল্টটি প্রাচীন গ্রিসে দ্রাক্ষাসুরা (ওয়াইন) এর আমদানির সাথে সাথে এসেছে ধরে নেয়া হয়। সম্ভবত দ্রাক্ষাসুরার উদ্ভব হয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ অব্দে দুটি স্থানের একটিতে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] - মেসোপটেমিয়া এবং পারস্যের সীমানারেখা এবং জাগ্রোস পর্বতমালার অঞ্চলে (সাথে এশিয়া মাইনোরের সমৃদ্ধ দ্রাক্ষাসুরা সংস্কৃতি), বা উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া বা অন্যান্য অঞ্চলের পর্বত ঢালের বুনো দ্রাক্ষালতা থেকে। উত্তর আফ্রিকা থেকে প্রাচীন মিশরে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে দ্রাক্ষাসুরা প্রবেশ করে, এবং উত্তর আফ্রিকাতেই শরীরে পশুর ভর করার মত ধারণা সম্বলিত পরমানন্দগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল, যার একটি রূপ বর্তমান মরক্কোর আইসাওয়া সুফি সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায়, এই আইসাউয়া সুফি কাল্টে ছাগল-মানব এবং চিতাবাঘ-মানব এর বিষয় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে (যদিও এই সম্প্রদায়টি ডায়োনিসীয় কাল্ট দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে)। যাই হোক, এই শৃঙ্খলের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে মিনোয়ান ক্রিট, যেখানে মিশরীয়, থ্রেশীয় এবং ফিনিশীয়দের কাছ থেকে দ্রাক্ষাসুরা আমদানি করা হয় এবং এর উপনিবেশগুলোতে (যেমন গ্রীসে) তা রপ্তানি করা হয়। যেহেতু "ডায়োনিসাস" নামটি ক্রিট এবং গ্রিস ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া যায়না, তাই সম্ভবত ডায়োনিসীয় রহস্যবাদ সম্ভবত প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ থেকে ১০০০ অব্দের মধ্যে নিজের রূপ পরিগ্রহ করে নিয়েছিল।

ধর্মীয় আচার[সম্পাদনা]

একটি হেলেনবাদী গ্রিক মোজাইক যেখানে ডায়োনিসাসের পাখা দেখানো হয়েছে, এবং তাকে একটি ঘোড়ার উপর দেখানো হয়েছে। এটি খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতকের শেষের দিকের বানানো মোজাইক, যা পাওয়া গেছে গ্রিসের দক্ষিণ ঈজীয় অঞ্চলের ডেলসের (যা একসময় এথেন্সের নিয়ন্ত্রণে ছিল) ডায়োনিসাসের গৃহে। বর্তমানে এটি আর্কিওলজিকাল মিউজিয়াম অফ ডেলোসে সংরক্ষিত।

আচার অনুষ্ঠানগুলো ছিল ঋতুভিত্তিক মৃত্যু-পুনর্জন্ম ধারণার ভিত্তিতে ঘটত, যা কৃষিভিত্তিক কাল্টগুলোর মধ্যে সাধারণ ছিল, যেমন এলিউসিনীয় রহস্যবাদ। সমসাময়িক গ্রীক এবং মিশরীয় পর্যবেক্ষকদের মতে ওসিরীয় রহস্যবাদ ডায়োনিসীয় রহস্যবাদের সমান্তরাল ছিল। আত্মার ভর করার (স্পিরিট পোজেশন) সাথে সভ্যতার নিয়ম এবং সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তির ধারণা জড়িত ছিল। এটি সভ্য সমাজের বাইরে এবং আদিম প্রকৃতির ফিরে আসাকে উদযাপন করত - যা পরবর্তীতে রহস্যবাদী ভাব তৈরি করে। এটি সামাজিকীকরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং অহং থেকে মুক্ত হয়ে ঐশ্বরিক অবস্থা বা আদিম অবস্থায় গমনের (কখনও দুটোই) সাথে সম্পর্কিত ছিল। এই অর্থে ডায়োনিসাস ছিলেন পশু-দেবতা বা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ভাষায় অচেতন মন[৩] এ জাতীয় ক্রিয়াকলাপটিকে উর্বরতামূলক, বলদায়ক, ক্যাথারটিক (পীড়ন কমানোর জন্য আবেগের বহিঃপ্রকাশ জাতীয়), মুক্তিদাত্রী এবং রূপান্তরমূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আর তাই সমাজের প্রান্তিকীকৃত লোকেদের, যেমন নারী, দাস, বহিরাগত ও "বিদেশীদের" (অনাগরিক) জন্য এটি আবেদনময় ছিল। রোমান স্যাটার্নালিয়ার মতোই এই কাল্টে সকল অংশগ্রহণকারীর ভূমিকা পাল্টে যেত, এবং এখানে সবাই সমান ছিল। যদিও গ্রীক ডায়োনিসীয় অনুষ্ঠানগুল নারীর সাথে সম্পর্কিত ছিল, এই কাল্টের কর্মকর্তাদের উপাধি নারী ও পুরুষ উভয় লিঙ্গেরই পাওয়া গেছে, যা এই কাল্টটি কেবলমাত্র নারীর জন্য ছিল - এমন দাবির বিরুদ্ধে যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভাবসমাধি তৈরি এই কাল্টের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল, কিন্তু এটি কেবল রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমেই আনা হত না[৪], একই সাথে এখানে বুলরোরার (প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র) এর সাহায্যে আত্মাকে আনয়ন এবং ড্রাম ও বাঁশির সাথে সাথে সামষ্টিক নৃত্যের ব্যবস্থাও ছিল (যা ভাবসমাধি আনয়নে অবদান রাখত)। ভাবসমাধিকে (ট্রেন্স) পরিচিত নৃতাত্ত্বিক পদগুলির সাহায্যে বর্ণনা করা হয়, এর সাথে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অঙ্গসঞ্চালন (যেমন সকল ভাবসমাধি আনয়নমূলক কাল্টে পেছন দিকে মাথা ঝাঁকানো দেখা যায়) আজকের দিনে অ্যাফ্রো-আমেরিকান ভুডু এবং সম্পর্কিত কাল্টগুলোতে দেখা যায়। ভুডুর রীতি অনুসারে, ভাবসমাধির সাথে নির্দিষ্ট ছন্দের সম্পর্ক ছিল। ডায়োনিসীয় অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত গ্রীক গদ্যেও ছন্দ পাওয়া যায় (যেমন ইউরিপিদেসের দ্য বাক্কি)। সনাতন উক্তিগুলির এই সংগ্রহটি গ্রীক পাহাড়ের পল্লীতে সংঘটিত অনুষ্ঠানগুলোর বর্ণনা করে, যেখানে ভোজনের দিন মিছিল শোভাযাত্রা হত:

অন্ধকারে ডুবে যেত বলে তারা মশাল জ্বালায়, তারপর তারা পেছন দিকে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে উজ্জ্বল চোখে সামনে এগিয়ে চলে, ড্রামের বাজনার সাথে তারা নেচে চলে যাতে তাদের রক্ত আলোরিত হয় (অথবা তারা মাতালের মত করে হাঁটে যা ডায়োনিসীয় চলনভঙ্গী নামে পরিচিত)। পরমানন্দের এই অবস্থায় তারা নিজেরা নিজেদের ত্যাগ করে, তারা বন্যভাবে নাচে এবং 'ইউওই!' বলে চিৎকার করে (যা ঈশ্বরেরই নাম), আর সেই গভীর পরমানন্দের সময় তারা ঈশ্বরের সাথে একাত্ম হয়ে যায়। তারা ঈশ্বরের আত্মায় পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ঐশ্বরিক ক্ষমতা অর্জন করে।[৫]

এই চর্চা গ্রীক সংস্কৃতিতে মায়েনাড, থাইয়াদেস এবং বাক্কোইইদের বাক্কানালদের দ্বারা প্রদর্শিত হত; অনেক গ্রীক শাসক এই কাল্টকে সভ্য সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন এবং এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন (যদি পুরোপুরি দমন না করা হয়)। পরেরটি ব্যর্থ হয়; পূর্বেরটি এথেন্সে গৃহচর্চিত ডায়োনিসাসবাদকে এথেন্সের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল ডায়োনিসাসবাদের একটি রূপ- একটি কাল্ট যা বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রূপ গ্রহণ করে (প্রায়ই আদিবাসী দেবতা এবং তাদের আচার-অনুষ্ঠানকে গ্রহণ করে, যেমনটা ডায়োনিসাস নিজেও করেছিলেন)। গ্রীক বাক্কোই দাবি করে যে, দ্রাক্ষাসুরার মত, ডায়োনিসাসের স্বাধ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ছিল; যা তাদের পুরাণ ও সংস্কৃতিকে প্রতিফলিত করে, তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নাম এবং রূপে আবির্ভূত হন।

ডায়োনিসীয় উপকরণাদি[সম্পাদনা]

  • কান্থারস, বড় হাতল সহ পান করার পেয়ালা, উৎপত্তিগতভাবে রাইথন (ষাঁড়ের শৃঙ্গ থেকে নির্মিত), পরবর্তীতে কাইলিক্স বা দ্রাক্ষাসুরার গবলেট।
  • থাইরস, শীর্ষে পাইন শঙ্কুযুক্ত দীর্ঘ দণ্ড (জাদুদণ্ড), দীক্ষাপ্রাপ্ত এবং ঈশ্বর যাদের উপর ভর করেছেন তারা বহন করত।
  • স্টেভ, আচারের স্থান চিহ্নিত করার জন্য একবার মাটিতে ছুড়ে ফেলা হত।
  • ক্রেটার, মিশ্রিত করার বাটি
  • ফ্ল্যাগেলাম, একটি চাবুক
  • মিনোয়ান দ্বিমুখী কুড়াল, একবার বলিদানের জন্য ব্যবহৃত হত, পরবর্তীতে গ্রীক কোপিস দ্বারা প্রতিস্থাপিত (বাঁকা ছোড়া)
  • রেটিস, শিকারির জাল
  • লরেল মুকুট এবং জোব্বা জাতীয় পোশাক, বেগুনি রঙের জোব্বা, বা চিতাবাঘ বা হরিণের চামড়া দিয়ে নির্মিত পোশাক নেবিক্স
  • শিকারের বুটজুতা
  • পার্সোনা মুখোশ
  • বুলরোরার (বাদ্যযন্ত্র)
  • সালপিনেক্স, লম্বা, সোজা ডঙ্কা বা শিঙা
  • প্যান বাঁশি
  • টিম্পেনান, হ্যান্ড ড্রাম
  • লিকনন, ডুমুরের সাথে পবিত্র ঘুড়ি

ডায়োনিসাসের জন্য ঐতিহ্যবাহী নৈবেদ্য[সম্পাদনা]

কস্তুরী, ভাম, লোবান, শিলারস, আইভি, আঙ্গুর, পাইন, ডুমুর, দ্রাক্ষাসুরা, মধু, আপেল, গাঁজা, অর্কিসের মূল, কাঁটাগাছ (থিস্টল), সমস্ত বন্য ও গার্হস্থ্য বৃক্ষ।

ডায়োনিসাসের কাছে পবিত্র প্রাণী[সম্পাদনা]

ডায়োনিসাসে চিতা বা ষাঁড়ের মতো অসংখ্য পবিত্র প্রাণী রয়েছে। [৬] অন্যান্য পবিত্র প্রাণীগুলির মধ্যে রয়েছে: সিংহ এবং অন্যান্য বড় বিড়াল, ছাগল, গাধা এবং সর্পগুলি।

ষাঁড় এবং ছাগল এবং তাদের "শত্রু", চিতাবাঘ (বা কোনও বড় বিড়াল - গ্রীকরা ভারতের কিছু অংশে উপনিবেশ স্থাপন করার পর, শিবের বাঘ কখনও কখনও ঐতিহ্যবাহী প্যান্থার বা লেপার্ডকে (চিতাবঘকে) প্রতিস্থাপিত করে), এবং সর্প (সম্ভবত সাবাজিয়াস থেকে প্রাপ্ত, তবে এটি উত্তর আফ্রিকীয় কাল্টেও পাওয়া গেছে); এছাড়াও, ডলফিন, সিংহ এবং মৌমাছিও রয়েছে

ষাঁড়

ষাঁড়ের সাথে ডায়োনিসাসের সংযোগ একাধিক বিশেষণে পাওয়া যায়। দ্য বাক্কি নাটকে পেন্থাস, যিনি থিবিসে ডায়োনিসাসের উপাসনার বিরোধিতা করতেন, তিনি ডায়োনিসাসের মাথায় ষাঁড়ের শিং দেখেছিলেন।

ষাঁড়ের সাথে সংযুক্ত ডায়োনিসাসের বিশেষণগুলো নিম্নরূপ:

টরোকেফ্লোস / টরোক্রানোস / টরোমেটোপোস গ্রীক: Ταυροφαγος; অর্ফিকবাদে ব্যবহৃত ডায়োনিসাসের একটি পদবি। (Orph. Hymn. 51. 2.) এটি নদী এবং সমুদ্রের একটি পদবি হিসাবেও দেখা যায়, যেগুলো ভূমিতে তাদের উর্বরাক্তির প্রভাবকে নির্দেশ করার জন্য প্রতীকীভাবে ষাঁড়কে প্রতিনিধিত্ব করত। (Eurip. Iphig. Aul. 275, Orest. 1378 ; Aelian, V. H. ii. 33; Horat. Carm. iv. 14, 25. ) [৭]

টরোস; একটি ষাঁড়, ডায়োনিসাসের একটি পদবি হিসাবে দেখা যায়। (Eurip. Bacch. 918 ; Athen. xi. p. 476; Plut. Quaest. Graec. 36 ; Lycoph. Cass. 209. ) [৭]

ডায়োনিসাসের আহ্বান (অরফিক স্তোত্র থেকে)[সম্পাদনা]

"আমি জোরে গর্জনশীল এবং উল্লসিত ডায়োনিসাসকে আহ্বান জানাচ্ছি,
আদিম, দ্বৈত প্রকৃতির, তিনবার জন্মগ্রহণকারী, বাক্কীয় প্রভু,
বন্য, অনবদ্য, গোপনীয়, দুই শিং এবং দুই আকৃতির।
আইভী আবৃত, ষাঁড়মুখী, যোদ্ধা, গর্জক, বিশুদ্ধ,
তুমি কাঁচা মাংস নাও, তোমার ভোজ আছে, গাছপালায় মোড়ানো, আঙ্গুরের গুচ্ছ দিয়ে সাজানো।
সম্পদশালী ইউবুলিয়াস, জিউস দ্বারা পরিণত অমর দেবতা
যখন সে পার্সিফোনের সাথে অবর্ণনীয় মিলনে মিলিত হয়।
আমার কণ্ঠে কান দাও, হে ধন্য,
আর তোমার সুন্দরী নিম্ফ আমার উপর নিঃশ্বাস নিচ্ছে নিখুঁত হাঁ এর চেতনায়"।
"শারীরিক বা আধ্যাত্মিকভাবে নেশাগ্রস্ত হয়ে একজন দীক্ষাপ্রাপ্ত এমন বোধের তীব্রতা পুনরুদ্ধার করে যা পূর্বে তার বিচক্ষণতা ধ্বংস করে দিয়েছিল; তিনি বিশ্বকে দেখেন আনন্দ এবং সৌন্দর্যে ভরা হিসেবে, এবং তার কল্পনা হঠাৎ করে প্রতিদিনের ব্যস্ততার কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে। বাক্কীয় আচার 'enthusiasm' তৈরি করে, যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে, ঈশ্বর প্রার্থনাকারীর মধ্যে প্রবেশ করেন, যে প্রার্থনাকারী মনে করেন যে তিনি ঈশ্বরের সাথে একাত্ম হয়ে গেছেন।"[৮]
অরফিক স্তোত্র ৪৪, ডায়োনিসাস বাসারিয়াসের উদ্দেশ্যে
একটি স্তোত্র
এসো, ধন্য ডায়োনিসাস [ডায়োনিসোস], বিভিন্ন নামযুক্ত, ষাঁড়মুখী, বজ্র থেকে জন্মগ্রহণকারী, বাক্কাস [বাক্কোস]। তুমি সর্বজনীন শক্তির বাসারীয় দেবতা, যার তরবারি, রক্ত এবং পবিত্র ক্রোধ আনন্দিত থাকে। তুমি স্বর্গীয় আনন্দের আত্মহারা, প্রচণ্ড গর্জনশীল, প্রচণ্ড অনুপ্রেরণাকারী, দণ্ডধারী। দেবতা হয়েও তুমি মানুষের মাঝে বাস করো। হে প্রসন্ন দেব, তুমি আমাদের কাছে এসো, আনন্দিত মনে এসো।[৯]
অরফিক স্তোত্র ৪৫, লিকনিটাস বাক্কাসের উদ্দেশ্যে [লিকনিটোস ডায়োনিসাস]
অমৃত থেকে উপধূপন
লিকনিতান বাক্কাস [লিকনিটোস ডায়োনিসস], দ্রাক্ষালতার বাহক, তোমাকে এই স্বর্গীয় অনুষ্ঠানের প্রতি আশীর্বাদ বর্ষণ করতে আহ্বান জানাই, যেখানে নিম্ফরা অলঙ্কৃত হয়ে, হাসোজ্জল মুখে আসে, যেখানে পরমানন্দের দেবী ভেনাস [অ্যাফ্রোডাইটি] আসে। তোমার ক্ষেপাটে পদক্ষেপের সাথে পাগল নিম্ফের পদক্ষেপ মেলে, এবং তোমরা হালকা পদক্ষেপে নেচে যাও। জোভের [জিউস] পরামর্শে ও প্রোসারপিনার [পার্সিফোন] পালনে তুমি সকল দেবদেবীদের মধ্যে সবচেয়ে ভীতিকর হয়ে ওঠো। এসো, এই মিনতিকরের কণ্ঠস্বর শোনো, হে প্রসন্ন এসো, আর এই অনুষ্ঠানও প্রসন্নতার সহিত চালিত হোক।
অরফিক স্তোত্র ৪৬। বাক্কাস পেরিকিওনিয়াস [ডায়োনিসাস পেরিকিওনিওস]
সুগন্ধী থেকে উপধূপন
বাক্কাস পেরিসিওনিয়াস [ডিওনিসোস পেরিকিওনিওস], আমার প্রার্থনা শোনো, তোমার যত্নের জন্য ক্যাডমাসের পরিবার পাগল হয়ে গিয়েছিল, যখন পৃথিবীতে বজ্রের বর্ষন হয়, পৃথিবী অগ্নিদগ্ধ হয়, তীব্র জলস্রোত তৈরি হয়, তখন তোমার স্তম্ভগুলো অতুলনীয় শক্তির সাথে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। হে শক্তিশালী বাক্কাস, এই অনুষ্ঠানকে আশীর্বাদ করো, এবং আনন্দের সহিত এসে এই মিনতিকরকে আশীর্বাদ করো।

প্লোভদিভের রহস্যবাদ সম্পর্কিত শিলালিপি[সম্পাদনা]

প্লোভদিভের (প্রাচীন ফিলিপ্পোপোলিস) গ্রেট ব্যাসিলিকায় প্রাচীন গ্রিক ভাষায় লেখা ২৫৩ - ২৫৫ সালের একটি প্রাচীন রোমান শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়। শিলালিপিটি ডায়োনিসীয় রহস্যবাদকে নির্দেশ করে এবং রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ান এবং গ্যালিয়েনাসের কথাও উল্লেখ করে। এটি একটি বৃহৎ কেন্দ্রস্তম্ভে পাওয়া গেছে যা গ্রেট ব্যাসিলিকা নির্মাণের সময় নির্মাণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। [১০]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rostovtzeff, M. Rome (translated from the Russian by J. D. Duff). London: Oxford University Press (1960), pp. 93–94.
  2. Die Religion der Griechen und Römer (The Religion of the Greeks and Romans), (1963).
  3. Aziz, Robert (1990). C.G. Jung's Psychology of Religion and Synchronicity (10 ed.). The State University of New York Press. আইএসবিএন ০-৭৯১৪-০১৬৬-৯.
  4. An altered state caused by drug use.
  5. Hoyle, Peter, Delphi, London : Cassell, 1967. Cf. p. 76.
  6. "DIONYSUS : Summary of the Olympian God"www.theoi.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৮ 
  7. "DIONYSUS TITLES & EPITHETS - Ancient Greek Religion"www.theoi.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৮ 
  8. Bertrand Russell, A History of Western Philosophy.
  9. "ORPHIC HYMNS 41-86 - Theoi Classical Texts Library"www.theoi.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-০৮ 
  10. "Huge Roman inscription of Dionysus cult secret society after 251 Goth invasion found in early Christian great basilica in Bulgaria's Plovdiv"

আরও পড়া[সম্পাদনা]

  • Merkelbach, Reinhold, Die Hirten des Dionysos. Die Dionysos-Mysterien der römischen Kaiserzeit und der bukolische Roman des Longus (Stuttgart, Teubner, 1988).
  • Padilla, Mark William (editor), "Rites of Passage in Ancient Greece: Literature, Religion, Society", Bucknell University Press, 1999.
  • Brigitte Le Guen, Les Associations de Technites dionysiaques à l'époque hellénistique, 2 vol. (Nancy, 2001).
  • Sophia Aneziri, Die Vereine der dionysischen Techniten im Kontext der hellenistischen Gesellschaft (Stuttgart, 2003).
  • Michael B. Cosmopoulos (ed), Greek Mysteries: the archaeology and ritual of ancient Greek secret cults (London, Routledge, 2003).
  • Delneri, Francesca, I culti misterici stranieri nei frammenti della commedia attica antica (Bologna, Patron Editore, 2006) (Eikasmos, Studi, 13).
  • Giovanni Casadio and Patricia A. Johnston (eds), Mystic Cults in Magna Graecia (Austin, TX, University of Texas Press, 2009).
  • Hugh Bowden, Mystery Cults of the Ancient World (Princeton, Princeton UP, 2010).
  • Richard Noll, Mysteria: Jung and the Ancient Mysteries (unpublished page proofs, 1994)