জন ওয়াটকিন্স (অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জন ওয়াটকিন্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন রাসেল ওয়াটকিন্স
জন্ম (1943-04-16) ১৬ এপ্রিল ১৯৪৩ (বয়স ৭৮)
নিউক্যাসল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক গুগলি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২৬৪)
৬ জানুয়ারি ১৯৭৩ বনাম পাকিস্তান
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফিসি
ম্যাচ সংখ্যা ১০
রানের সংখ্যা ৩৯ ৭০
ব্যাটিং গড় ৩৯.০০ ১০.০০
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৩৬ ৩৬
বল করেছে ৪৮ ১১৬৭
উইকেট ২০
বোলিং গড় ৩৬.২৯
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ০/২১ ৪/৭২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ১০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৬ জুলাই ২০২০

জন রাসেল ওয়াটকিন্স (ইংরেজি: John Watkins; জন্ম: ১৬ এপ্রিল, ১৯৪৩) নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০-এর দশকের শুরুরদিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, লেগ ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জন ওয়াটকিন্স

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী জন ওয়াটকিন্স তার ক্রিকেট খেলার অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষার্ধ্বে ওয়ারাতাহ-মেফিল্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। চার মৌসুম তিনি সিডনিতে ভ্রমণ করতেন ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার অ্যালান ডেভিডসনের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্টার্ন সাবার্বস ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবে খেলেন।[১]

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে তাসমানিয়ার বিপক্ষে সিডনি মেট্রোপলিটন কোল্টসের সদস্যরূপে খেলেন।[২] সফররত ফিজীয় দলের বিপক্ষে নিউক্যাসলের সদস্যরূপে ৫/১৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।[৩] ঐ গ্রীষ্মে তিনি এনএসডব্লিউ কান্ট্রি দ্বিতীয় একাদশের সদস্যরূপে নিউক্যাসলের বিপক্ষে খেলেন।[৪]

১৯৬০-৬১ মৌসুমে জন ওয়াটকিন্স এনএসডব্লিউ কোল্টসের পক্ষে খেলেন।[৫][৬] একই গ্রীষ্মে নর্দার্ন নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে খেলেন। সাউদার্ন এনএসডব্লিউ’র বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৮১ রান তুলেন।[৭][৮]

১৯৬১-৬২ মৌসুমে কোল্টসের একটি খেলায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে এক ওভারে তিন উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।[৯][১০][১১] ঐ গ্রীষ্মে সাউদার্ন এনএসডব্লিউ’র বিপক্ষে ৬/৬৬ পান।[১২] ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে কোল্টসের খেলায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ডগ ওয়াল্টার্সের সাথে শতরানের জুটি গড়েন।[১৩][১৪] ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে কোল্টসের খেলায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে সাত উইকেট লাভ করেন।[১৫] পরবর্তী গ্রীষ্মেও এনএসডব্লিউ কোল্টসের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।[১৬]

ভ্রমণের এক পর্যায়ে জন ওয়াটকিন্স অসুস্থতার কবলে পড়েন ও সিডনিতে গ্রেড ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। তবে, ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীবিহীন খেলায় নর্দার্ন নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে খেলে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। খেলায় তিনি দশ উইকেট লাভ করেছিলেন।[১৭] পরবর্তী গ্রীষ্মে নিউক্যাসলের সদস্যরূপে এসিটি’র বিপক্ষে ৫/৪২ পান।[১৮] ১৯৬৯-৭০ মৌসুমের ফিরতি খেলায় অপরাজিত ৬৬ রানের পাশাপাশি ৫/৫৭ লাভ করেন।[১৯] পরের বছর ৬/৫৪ পান।[২০] ১৯৭০-৭১ মৌসুমে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে নর্দার্ন এনএসডব্লিউ’র সদস্যরূপে প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে, ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে কম সফল ছিলেন ও তিন উইকেট পেলেও তাকে বেশ রান খরচ করতে হয়েছিল।[২১][২২]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত জন ওয়াটকিন্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। মাত্র পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩৭.১৮ গড়ে ১১ উইকেট লাভের পরপরই জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। তবে, ঐ সময়ে নিউক্যাসলের পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে দূর্দান্ত সফলতা লাভ করেছেন।

১৯৭১-৭২ মৌসুমে নর্দার্ন এনএসডব্লিউ’র সদস্যরূপে সফররত বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে খেলেন। গ্রেইম পোলকের উইকেটসহ ৪/৯৯ পান।[২৩] ঐ গ্রীষ্মে ‘দ্য থ্রাশার্সের’ বিপক্ষে এনএসডব্লিউ’র সদস্যরূপে খেলেন। রিচি বেনোনীল হার্ভে’র উইকেটসহ ৪/১৯ লাভ করেন।[২৪]

এর কয়েক সপ্তাহ পর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে দলে অন্তর্ভূক্ত হন। আঘাতের কারণে জন গ্লিসন নাম প্রত্যাহার করে নিলে তিনি এ সুযোগ পান।[২৫] প্রথম ইনিংসে ২৫২/৫ তুলে ইনিংস ঘোষণাকালে জন ওয়াটকিন্স ৪/৭২ পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে ইয়ান চ্যাপেলকে স্ট্যাম্পিং ও গ্রেগ চ্যাপেলকে আউট করেছিলেন তিনি।[২৬]

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে এনএসডব্লিউ দল থেকে জন গ্লিসন বাদ পড়েন ও জন ওয়াটকিন্স তার স্থলাভিষিক্ত হন।[২৭] তবে, শেফিল্ড শিল্ডের চারটি খেলায় অংশ নিয়ে তিনি কেবলমাত্র ছয় উইকেট দখল করেছিলেন।[২৮][২৯] এ ছয় উইকেট একটিমাত্র খেলা থেকেই লাভ করেছিলেন। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে এ সাফল্য পান। তন্মধ্যে, গ্রাহাম ইয়ালপ তার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[৩০]

সফররত পাকিস্তানি একাদশের বিপক্ষে নর্দার্ন নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে ৬/৩৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলকে বিজয়লাভে সহায়তা করেন।[৩১] এরফলে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন ও এক মাস পর সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে দলের একমাত্র স্পিনার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হন। এ পর্যায়ে তিনি মাত্র পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩৯.০০ গড়ে ১০ উইকেট লাভ করেছিলেন। অন্যদিকে, নর্দার্ন নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে সফররত দলগুলোর বিপক্ষে চার খেলায় অংশ নিয়ে ২১.৩৫ গড়ে ২৪ উইকেট পেয়েছিলেন।[৩২] ব্যবসায়িক কারণে অ্যাশলে মলেট দল থেকে স্বীয় নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলী ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে জন ওয়াটকিন্স, টেরি জেনারকেরি ও’কিফ - এ তিনজন লেগ স্পিনারকে অন্তর্ভূক্ত করে।[৩৩][৩৪] পরের খেলায় এনএসডব্লিউ’র সদস্যরূপে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে বাজেভাবে বোলিং করেন।[৩৫][৩৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন জন ওয়াটকিন্স। ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে সিডনিতে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। বল হাতে ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত সেরা ৩৬ রানের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া দল অপ্রত্যাশিতভাবে বিজয়ের সন্ধান পায়। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

জন ওয়াটকিন্সের টেস্ট অভিষেকের পূর্বে রোহন রিভেট লিখেছিলেন যে,

আগামীকাল মাঠে নামার পূর্বে ওয়াটকিন্সের প্রতি অবশ্যই এক পশলা সহানুভূতি ছিল। তাকে দলে অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি ২৪ ঘণ্টার ছিল না। সাবেক অস্ট্রেলীয় টেস্ট অধিনায়কের পরামর্শক্রমে এগারো ঘণ্টা পূর্বে দল নির্বাচকমণ্ডলী পুণঃবিবেচনা করে। সৌভাগ্যবশতঃ মেসার্স হার্ভে, লক্সটন ও রাইডিংস তাদের বিদ্যালয় জীবন ত্যাগ করার পর ভালোমানের স্পিন বোলিংয়ের মোকাবেলা করেছিলেন। তারা মন পরিবর্তন করে ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে ওয়াটকিন্স আগামীকাল ক্রিকেটের বড় ধরনের আসরে নিজের অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পাবেন। যারা বড়দিনে এমসিজিতে এনএসডব্লিউ বনাম ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলা দেখেছিলেন তারা বিজ্ঞ পণ্ডিতদের সাথে একমত পোষণ করবেন না ও তার অন্তর্ভূক্তিতে সমালোচনায় মুখরিত হবেন। খুব সাধারণভাবে বলা যায় যে, আমাদের মেইলি নেই, গ্রিমেট নেই, ও’রিলি নেই। আমাদের সেরা স্পিনার হচ্ছেন অ্যাশলে মলেট। তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে যাননি ও আগামীকালের খেলা থেকে বাদ পড়েছেন। ওয়াটকিন্সকে যে-কেউ মাঠের বাইরে রাখবেন ও যদি দল নির্বাচকমণ্ডলী তাকে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখে তাহলেও আশ্চর্য্য হবার কিছু নেই।[৩৭]

ঐ টেস্টে জন ওয়াটকিন্স অনিয়ন্ত্রিতভাবে বোলিং করেন ও সংক্ষিপ্ত সময় বোলিং করে কোন উইকেট পাননি।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে আট উইকেটের পতন ঘটে ও মাত্র ৭৫ রানে এগিয়ে যায়। তবে, নবম উইকেট জুটিতে বব ম্যাসি’র সাথে ৮৩ রান সংগ্রহ করেন। এরফলে, অস্ট্রেলিয়ার স্বল্প ব্যবধানের বিজয়ে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। ওয়াটকিন্স ৩৬ রান তুলেন। অথচ, এরপূর্বে অংশগ্রহণকৃত পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় মাত্র ১২ রান তুলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি কোন বোলিং করার সুযোগ পাননি। তবে, ক্যাচ তালুবন্দী করার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে সহায়তা করেন।[৩৮][৩৯]

ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন[সম্পাদনা]

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে দলের সদস্যরূপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনের শুরুটা বেশ নাজুক অবস্থায় ছিল। বব ম্যাসি ও ডেনিস লিলি’র আঘাতপ্রাপ্তির ফলে জন ওয়াটকিন্সের টেস্ট খেলার পথ সুগম হয়।[৪০] তবে, তাকে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়। প্রথম পাঁচটি খেলার তিনটিতেই তাকে এ অবস্থানে রাখা হয়েছিল।[৪১]

লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে ২/২৮ পান।[৪২] এরপর, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে চার উইকেট লাভ করেন।[৪৩][৪৪] গায়ানার বিপক্ষে চার উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, ক্লাইভ লয়েড তার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[৪৫][৪৬] তাসত্ত্বেও, তাকে টেস্ট দলের বাইরে রাখা হয়। উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলে কোন উইকেট পাননি। এটিই তার সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়া ছিল।[৪৭] তার পুরো প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন ১০ খেলায় ও ১৪ মাসের মধ্যে সম্পাদন হয়েছিল।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে খেলাকালীন ডগ ওয়াল্টার্স একবার দুষ্টুমি করে মন্তব্য করেন যে, ওয়াটকিন্সের বোলিং মোকাবেলা করাই তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ওয়াটকিন্সও তাই করেছিলেন। ওয়াল্টার্সও অধিকাংশ সময় সেভাবেই উপভোগ করেন। তাসত্ত্বেও, তিনি বলকে স্ট্যাম্পের বেশ বাইরের দিকে ফেলছিলেন।[৪৮]

এ প্রসঙ্গে জন ওয়াটকিন্স মন্তব্য করেন যে,

যখন আপনি আত্মবিশ্বাস হারাবেন, তখন নিশ্চয়ই আবারও বোলিং করতে চাইবেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আমার কোন আত্মবিশ্বাস ছিল না। তাসত্ত্বেও, প্রায় ২৫ গড়ে ১৭ উইকেট লাভ করেছি। তন্মধ্যে, প্রথম-শ্রেণীর খেলায় পেয়েছি ১০টি। আমি এ সফরে মাত্র ৭৮ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছি। যখন আপনার আত্মবিশ্বাস হারাবে, তখন নিশ্চয়ই তা আনন্দদায়ক অনুভূতি ছিল না। একবার করার পর আর করতে চাইবেন না। দূর্ভাগ্যজনকভাবে সিডনিতে ভুলের দিনে আমি কেবল দুঃখিতই বলতে পারি। আমি আরও টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি। কিন্তু তা কেবলমাত্র আমার দিক থেকে আগ্রহ রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ অভিজ্ঞতা উপযুক্ত ছিল। কিন্তু, এর তিন মাস পর্যন্ত বোলিংয়ে কোন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাইনি।[১]

কিথ স্ট্যাকপোল ব্যাঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেছিলেন যে, খুব সম্ভবতঃ সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন। এ প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, প্রস্তুতিমূলক একটি খেলায় বড় ধরনের ফুল টস বলে স্কয়ার-লেগ অঞ্চলে দণ্ডায়মান আম্পায়ারকে প্রায় আহত করে ফেলেছিলেন যা আমি আর কোথাও দেখিনি।

অবসর[সম্পাদনা]

তিনি প্রায়শঃই ঠুনকো আত্মবিশ্বাসে ভেঙ্গে পড়েন ও এরপর আর কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেননি। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের শুরুরদিকে এনএসডব্লিউ দল থেকে বাদ পড়েন।[৪৯] তাসত্ত্বেও, ক্লাব ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এ পর্যায়ে তিনি ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নিউক্যাসলে তিনি জাহাজীকরণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে থাকেন।[৫০]

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিউক্যাসলের সদস্যরূপে সিডনির বিপক্ষে ৪/৬৬ লাভ করেন।[৫১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Eva, Bruce। "Pssst"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  2. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  3. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  4. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  5. "Country Has 3 In Colts Team."The Canberra Times। ২৫ অক্টোবর ১৯৬০। পৃষ্ঠা 24। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  6. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  7. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  8. "COUNTRY CRICKET MATCHES REVERSAL Northern Batsmen Master Bowling."The Canberra Times। ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১। পৃষ্ঠা 28। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  9. "Three Quick Victims To Colts Spinner."The Canberra Times। ১০ নভেম্বর ১৯৬১। পৃষ্ঠা 32। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  10. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  11. He also played South Australia – see https://cricketarchive.com/Archive/Scorecards/97/97112.html
  12. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  13. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  14. See also https://cricketarchive.com/Archive/Scorecards/109/109168.html
  15. https://cricketarchive.com/Archive/Scorecards/109/109169.html – he also played Victoria – see https://cricketarchive.com/Archive/Scorecards/169/169732.html
  16. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  17. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  18. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  19. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  20. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  21. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  22. "Both out of form."The Canberra Times। ১৯ জানুয়ারি ১৯৭১। পৃষ্ঠা 20। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  23. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  24. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  25. "NSW will play without Gleeson."The Canberra Times। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২। পৃষ্ঠা 14। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  26. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  27. "Gleeson out of shield side."The Canberra Times। ১৭ নভেম্বর ১৯৭২। পৃষ্ঠা 18। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  28. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  29. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  30. "The Home of CricketArchive"। ২৮ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  31. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  32. Statistics derived from scorecards under Miscellaneous matches played by John Watkins at Cricket Archive
  33. "Record score by Pakistan in Test."The Canberra Times। ২ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 16। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  34. "WEST INDIES TOUR Australia names strong team."The Canberra Times। ৫ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 16। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  35. "Walters hero of I NSW victory."The Canberra Times। ৩ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 26। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  36. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  37. "Pakistanis have nothing to lose."The Canberra Times। ৬ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 28। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  38. "Tailenders save face Australia."The Canberra Times। ১১ জানুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  39. "3rd Test: Australia v Pakistan at Sydney, Jan 6-11, 1973 - Cricket Scorecard - ESPN Cricinfo"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  40. "3rd Caribbean tour opens."The Canberra Times। ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 16। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  41. "Bob Massie gets chance to show form."The Canberra Times। ২ মার্চ ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 16। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  42. "AUSTRALIA VERGES ON DEFEAT."The Canberra Times। ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  43. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  44. "Australia faces uphill battle."The Canberra Times। ২০ মার্চ ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 24। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  45. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  46. "Lloyd savages weak Australian attack."The Canberra Times। ৩ এপ্রিল ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 22। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  47. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  48. The Doug Walters Story, Rigby, Adelaide, 1981, p. 112.
  49. "Two may miss team."The Canberra Times। ৯ অক্টোবর ১৯৭৩। পৃষ্ঠা 18। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ – National Library of Australia-এর মাধ্যমে। 
  50. The Oxford Companion to Australian Cricket, OUP, Melbourne, 1996, p. 566.
  51. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]