গোন্দি শাপুর একাডেমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

গোন্দি শাপুর বা গোন্দি শাপুর একাডেমি (ফার্সি: فرهنگستان گندی‌شاپور : ফারহাঙ্গেস্তান-ই গোন্ডিসাপুর), যা গোন্দি শাপুর বিশ্ববিদ্যালয় (دانشگاه گندی شاپور : দানেসগাহ-ই গোন্ডি সাপুর) নামেও পরিচিত, এটি ছিল তিনটি সাসানী শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে একটি। প্রতিষ্ঠানটি তিসফুনের রাস আল আইনে অবস্থিত ছিলো।[১] এটি ইরানের প্রাচীনকালের শেষ–দিকে প্রতিষ্ঠিত সাসানীয় সাম্রাজ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র গোন্ডিশাপুর শহরে একটি শিক্ষার একাডেমি ছিল। এটি চিকিৎসা, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করত এবং এর শিক্ষকরা পারস্যিক ঐতিহ্যে পারদর্শী ছিলেন। ইরানের কেমব্রিজ হিস্ট্রি অনুসারে, এটি ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে প্রাচীন বিশ্বের সবচে' গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র ছিল।[২] বিজ্ঞানের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ জর্জ সার্টন গোন্ডি শাপুর একাডেমিকে 'সেই সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র' বলেছেন।[৩]

পাহলভি রাজবংশের অধীনে ১৯৫৫ সালে আহওয়াজ শহরের কাছেই গোন্দি শাপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার সহ-প্রতিষ্ঠান "আহওয়াজ গোন্দি সাপুর ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্সেস" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গোন্ডি শাপুরের ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে আহওয়াজ শহীদ চাম্রান বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়; কিন্তু সহকারী প্রতিষ্ঠানটির নাম গোন্ডিশাপুর রাখা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

৪৮৯ খ্রিস্টাব্দের ভিতরে এডেসার পূর্ব সিরীয় খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক কেন্দ্রটি বাইজেন্টাইন সম্রাট জেনো দ্বারা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে আনাতোলিয়ায় স্কুল অফ নিসিবিসে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল,[৪] যা "নিসিবিন" নামেও পরিচিত ছিল এবং এটি তখন পারস্যিক শাসনের অধীনে। তার পর এখানে নেস্টোরীয় পণ্ডিতরা ৫২৯ সালে জাস্টিনিয়ান কর্তৃক এথেন্স থেকে নির্বাসিত হেলেনিস্টিক দার্শনিক দলের সাথে চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যাগণিত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালিয়েছিলেন।[৫]

যাইহোক, এটি যখন তৎকালীন সাসানীয় সম্রাট খসরু প্রথমের শাসনাধীন ছিল (৫৩১–৫৭৯ খ্রি.), যা গ্রীকরোমানদের কাছে চোসরো নামে পরিচিত ছিল–তখন গোন্দি শাপুর চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে। খসরু বিভিন্ন গ্রীক দার্শনিক এবং সিরিয়া-ভাষী নেস্টারীয় খ্রিস্টানদের আশ্রয় দেন, যারা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। বর্তমান ইরাকসিরিয়ার নিয়ন্ত্রণের জন্য সাসানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে রোমান এবং বাইজেন্টাইনদের সাথে যুদ্ধ করেছিল এবং স্বাভাবিকভাবেই শরণার্থীদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত ছিল।

সম্রাট খসরু প্রথম শরণার্থীদের গ্রীক ও সিরীয় ভাষার গ্রন্থাবলী পাহলভি ভাষায় অনুবাদ করার দায়িত্ব দেন। তারা চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন ও বিভিন্ন দরকারী কারুশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজ অনুবাদ করেছেন।

পূর্ব মঠের একটি চার্চও ৩৭৬/৭৭ সালের আগে গোন্দি শাপুর শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ৬ শতকের মধ্যে শহরটি তার ধর্মতাত্ত্বিক বিদ্যালয়ের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে, যেখানে রাব্বান হরমিজডও একবার পড়াশোনা করেছিলেন।[৬]

যদিও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সকল চিকিৎসকই ছিলেন পার্সিক, তথাপি তারা সিরীয় ভাষায় নিজেদের গ্রন্থ রচনা করতেন। এর কারণ হলো সিরীয় ভাষায় চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি সাহিত্যময় ঐতিহ্য ছিল।[৭]

গোন্দি শাপুরের তাৎপর্য[সম্পাদনা]

অনেক বড় পরিসরে একটি পুরো হাসপাতাল ব্যবস্থার কৃতিত্ব অবশ্যই পারস্যকে দিতে হবে।[৮]

— সিরিল এলগড, পারস্যের চিকিৎসার ইতিহাস (A Medical History of Persia)

চিকিৎসাচিকিৎসাবিজ্ঞান পদ্ধতিগত করার সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটির পণ্ডিতগণ চিকিৎসার শিক্ষাকেও রূপান্তরিত করেছেন; শুধুমাত্র একজন চিকিৎসকের সাথে অনুশীলন করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের পুরো চিকিৎসা বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে কাজ করা খুবই জরুরি ছিল। এমনকি এমনও প্রমাণ রয়েছে যে, স্নাতকদের গোন্ডি শাপুরের স্বীকৃত চিকিত্সক হিসাবে অনুশীলন করার জন্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছিল (যেমন: একটি আরবি গ্রন্থ তারিখুল হুকামায় বিষয়টি লিপিবদ্ধ রয়েছে)। গণিতের ইতিহাসেও গোন্ডিশাপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।[৯]

মুসলিম শাসনাধীন গোন্দি শাপুর[সম্পাদনা]

৮৩২ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খলিফা আল মামুন বিখ্যাত বায়তুল হিকমাহকে শক্তিশালী করেছিলেন। সেখানে গোন্ডি শাপুরেরই পদ্ধতি অনুকরণ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, বায়তুল হিকমাহ গোন্ডি শাপুরের পুরানো একাডেমির স্নাতক কর্মীদের নিয়ে গঠিত ছিল।

যাহোক, ততক্ষণে আব্বাসীয় খিলাফতের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রটি নিশ্চিতভাবেই বাগদাদে স্থানান্তরিত হয়েছিল। কারণ, তখনকার সমসাময়িক সাহিত্যে গোন্দিশাপুরের বিশ্ববিদ্যালয় বা হাসপাতালের খুব কম উল্লেখ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই কেন্দ্রটির গুরুত্ব ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। আল-মাকদিসি সেই অঞ্চলে জ্ঞানার্জন করার জন্য সেরা প্রতিষ্ঠান (আনুমানিক ১০০০ খ্রি.) গোন্ডি শাপুরকে ধ্বংসস্তূপে পতিত বলে বর্ণনা করেন।

গোন্ডি শাপুর হাসপাতালের সর্বশেষ পরিচিত প্রধান ৮৬৯ সালে মারা যান[১০]

আরব ও গোন্দি শাপুর[সম্পাদনা]

আরবরা ইসলামের আগেই গোন্ডি শাপুর একাডেমির সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং আরবের কিছু ছাত্র সেখানে গিয়ে নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল এবং সম্ভবত তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন আল হারিস বিন কালাদা আল সাকাফী। তিনি তায়েফের সাকিফ গোত্র থেকে আসেন এবং তিনি ইয়েমেনপারস্য ভ্রমণ করেন, তখন তিনি গোন্ডি শাপুরে গিয়ে চিকিৎসা শিখেছিলেন। তিনি নবী মুহাম্মদের যুগে বসবাস করতেন এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের রাজত্ব কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন রাসূল মুহাম্মদ সা. আল হারিস বিন কালাদাকে তার চিকিৎসার জন্য ডাকতে সাহাবিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন তিনি তার চিকিৎসা করলেন এবং তিনি অসুস্থতা থেকে সুস্থ হলেন। এছাড়াও তার ছেলে আল নাদর ইবেন আল হারিস একজন ডাক্তার ছিলেন এবং তিনি ছিলেন নবী মুহাম্মদ সা. এর চাচাতো ভাই।

অনুবাদ আন্দোলন[সম্পাদনা]

গোন্ডি শাপুর একাডেমি মূলত ছিল একটি উপনদীর মত, যেখান থেকে আরবরা গ্রীক এবং সিরীয় বিজ্ঞান পেয়েছিল এবং এর ডাক্তারগণ–বিশেষ করে–তাদের জ্ঞানের জন্য গর্বিত ছিল। এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুনাইন ইবনে ইসহাক (১৯৪ হি.–২৬০ হিজরি) ছিলেন আল হিরাহের বাসিন্দা, যিনি বাগদাদে ইউহান্না ইবনে মাসাওয়াইহের অধীনে চিকিৎসাবিদ্যার অধ্যয়ন শেষ করতে গিয়েছিলেন; তখন ইউহান্না তাকে ওষুধ শেখার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; কারণ তিনি অহংকার পছন্দ করতেন এবং হুনাইন আল হিরাহের অধিবাসী ছিলেন।

কিন্তু হুনাইন ইবনে ইসহাক তার শিক্ষকের অহংকার ও তার আঞ্চলিক মনোভাবকে ঘৃণা করেন–যেমন ম্যাক্স মেয়ার্হফ দ্য টেন এসেস অন দ্য আই বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন– এবং তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করতে সর্বদাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তখন তিনি দেখতে পান যে, গ্রীক ভাষা শেখা ব্যতীত এটি সম্ভব হবে না। তাই তিনি রোমান ভূমিতে ভ্রমণ করেছেন এবং ইবনে আরাবী তার বই 'মুখতাসার তারিখুল দালে' বলেছেন যে, হুনাইন ইবনে ইসহাক সেখানে গ্রীক, ফার্সি এবং সিরীয় ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন এবং তিনি সেই সব ভাষা থেকে বইগুলি আরবিতে অনুবাদ করা শুরু করে দেন, যতক্ষণ না তিনি আরব সভ্যতাকে উপকৃত করা সেরা অনুবাদকদের একজন হয়ে ওঠেন। চিকিৎসা চর্চায় নিজেদের বিরল দক্ষতার পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে বখতিশুর পরিবার অনেক গোন্ডি শাপুরের পণ্ডিতের উপকার করেছিলেন।

ভারতীয় প্রভাব[সম্পাদনা]

বেশ কিছু ভারতীয় গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা এবং ওষুধের অনুশীলনকারী নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করার জন্যে গোন্দি শাপুর ভ্রমণ করেছিলেন। পর্বর্তীতে নির্ভরযোগ্য আরব-ইসলামী সূত্রগুলি এটিকে যাচাই করেছে এবং গোন্ডিশাপুরের তাৎপর্যের পাশাপাশি ভারতীয় মূল্যবান অবদানগুলিকে তুলে ধরেছে।[১১]

গোন্দি শাপুরের বিখ্যাত চিকিৎসকগণ[সম্পাদনা]

পতন[সম্পাদনা]

সময়ের সাথে সাথে, গোন্দি সাপুর একাডেমির প্রভাব কমতে থাকে; কারণ বিজ্ঞান তখন বাগদাদে কেন্দ্রীভূত হতে শুরু করেছিল এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিজ্ঞানবিষয়ক জ্ঞানগুলি দারুল হিকমায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। এরপর গোন্ডি সাপুরের প্রসিদ্ধি হ্রাস পেলেও এটি বিশ্বের বিজ্ঞান এবং চিকিৎসার ইতিহাসে একটি প্রধান স্থান হিসেবে থেকে যায়।

আধুনিক গোন্দি শাপুর[সম্পাদনা]

পাহলভি রাজবংশের অধীনে ১৯৫৫ সালে আহওয়াজ শহরের কাছে গোন্ডি শাপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও এর যমজ প্রতিষ্ঠান গোন্ডি শাপুর ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গোন্ডি শাপুরের ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গোন্ডিশাপুর ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ১৯৫৯ সালে আহওয়াজে এটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম চ্যান্সেলর ডক্টর মুহাম্মদ করের পিতা সাইরাস কারের নামে নামকরণ করা হয়েছিল।

মোস্তফা চামরানের সম্মানে ১৯৮১ সালে গোন্ডি শাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার পর শহীদ চাম্রান বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়। সম্প্রতি এটিকে আহওয়াজ গোন্ডিশাপুর ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্সেস নামে পুনরায় নামকরণ করা হয়েছে।

ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিযুক্ত প্রথম মহিলা ড. তাল'আত বাসারি ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৮ থেকে শুরু করে আধুনিক ক্যাম্পাসের পরিকল্পনা বিখ্যাত স্থপতি কামরান দিবা দ্বারা নকশা করা হয়েছিল।[১২]

প্রাচীন গোন্ডিশাপুরও একটি প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের জন্য নির্ধারিত স্থান। ইরানি সাংস্কৃতি সংগঠনের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাকেন্দ্র ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা ২০০৬ সালের প্রথম দিকে এর খনন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Spangler, decline of the west, pp200
  2. Vol 4, p396. আইএসবিএন ০-৫২১-২০০৯৩-৮
  3. Brickman, William W. (১৯৬১)। "The Meeting of East and West in Educational History": 85। ডিওআই:10.1086/444875 
  4. "University of Tehran Overview/Historical Events"। ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. Hill, Donald. Islamic Science and Engineering. 1993. Edinburgh Univ. Press. আইএসবিএন ০-৭৪৮৬-০৪৫৫-৩, p.4
  6. Baum ও Winkler 2010
  7. "SYRIAC LANGUAGE i. IRANIAN LOANWORDS IN SYRIAC – Encyclopaedia Iranica"www.iranicaonline.org 
  8. Elgood, Cyril. A medical history of Persia, Cambridge University Press, 1951, p. 173
  9. Joseph, George Gheverghese (১৯৯১)। The crest of the peacock : non-European roots of mathematics। I. B. Tauris। 
  10. Alireza Shapour Shahbazi; Lutz Richter-Bernburg। GONDĒŠĀPUREncyclopaedia Iranica 
  11. Avari, Burjor (২০১৬)। India: the ancient past: a history of the Indian subcontinent from c. 7000 BCE to CE 1200 (2nd সংস্করণ)। Routledge। পৃষ্ঠা 297–298। আইএসবিএন 978-1-138-82820-9 
  12. "artnet AG Products - Investor Relations"www.artnet.com