কেন টেলর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কেন টেলর
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকেনেথ টেলর
জন্ম (1935-08-21) ২১ আগস্ট ১৯৩৫ (বয়স ৮৫)
হাডার্সফিল্ড, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম পেস
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কনিক টেলর (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৯৫)
৪ জুন ১৯৫৯ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২ জুলাই ১৯৬৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩১৩
রানের সংখ্যা ৫৭ ১৩,০৫৩
ব্যাটিং গড় ১১.৪০ ২৬.৭৪
১০০/৫০ –/– ১৬/৬৮
সর্বোচ্চ রান ২৪ ২০৩*
বল করেছে ১২ ১০,৬৩১
উইকেট ১৩১
বোলিং গড় ২৮.৭২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৭৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ১৫০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৮ এপ্রিল ২০২০
ফুটবল খেলোয়াড়ী জীবন
মাঠে অবস্থান ডিফেন্ডার
জ্যেষ্ঠ পর্যায়*
সাল দল ম্যাচ (গোল)
১৯৫৩ - ১৯৬৫ হাডার্সফিল্ড টাউন ২৫০ (১৪)
১৯৬৫ - ১৯৬৭ ব্রাডফোর্ড (পার্ক এভিনিউ) ৫১ (১)
১৯৬৮ স্লিগো রোভার্স (০)
* শুধুমাত্র ঘরোয়া লীগে ক্লাবের হয়ে ম্যাচ ও গোলসংখ্যা গণনা করা হয়েছে

কেনেথ টেলর (ইংরেজি: Ken Taylor; জন্ম: ২১ আগস্ট, ১৯৩৫) ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ফুটবলার[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন কেন টেলর

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

কেন টেলরের পিতা স্থানীয় তাঁত শিল্পে যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ করতেন। জেফ টেলর তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন। পেশাদারী পর্যায়ে হাডার্সফিল্ড টাউন, ফুলহাম ও ব্রেন্টফোর্ড দলের পক্ষে ফুটবল খেলতেন।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। এরপর, মিউজিক রয়্যাল একাডেমিতে পড়াশুনো করেন ও অপেরা গায়ক হিসেবে কাজ করেছিলেন। হাডার্সফিল্ডের স্টাইল কমন স্কুলে ভর্তি হন। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন কেন টেলর। শীতকালে পেশাদারী পর্যায়ে ফুটবলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। পরবর্তীকালে পেশাদার চিত্রকর ছিলেন।

ফুটবলে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

বিদ্যালয় জীবন ত্যাগ করে ১৯৫০ সালে হাডার্সফিল্ড টাউনে মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত প্রথম একাদশ দলের সদস্যরূপে ২৫০টি খেলায় অংশ নেন। পরবর্তীতে, ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ব্রাডফোর্ড (পার্ক এভিনিউ) দলের পক্ষে সেন্টার হাফ অবস্থানে খেলেন।[১] এছাড়াও, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন তিনি। ফুলহামে থাকাকালে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেফ টেলরের সাথে একত্রে ফুটবল খেলতেন।

২১ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে অসাধারণ খেলায় অংশ নেন। ডেরেক আফটনের আঘাতপ্রাপ্তির ফলে চার্লটন দল অধিকাংশ সময় দশ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে থাকে। ২৭ মিনিট বাকী থাকতে হাডার্সফিল্ড ৫-১ ব্যবধানে এগিয়েছিল। তবে, ঐ সময়ে জনি সামার্স অসাধারণ খেলা উপহার দেন। তিনি পাঁচ গোল করেন ও অপর দুইজন দুই গোল করলে চার্লটন ৭-৬ ব্যবধানে জয় পায়। এরফলে, ইংরেজ ফুটবল লীগের খেলায় হাডার্সফিল্ড প্রথম ও অদ্যাবধি একমাত্র দল হিসেবে ছয় গোল করে পেশাদারী খেলায় পরাজিত দল হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কেন টেলরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। চমৎকার স্পিন বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনি তার সময়কালে অন্যতম সেরা কভার ফিল্ডার ছিলেন। কাউন্টি দলের অধিনায়ক ভিক উইলসনব্রায়ান ক্লোজের পরামর্শক্রমে মিডিয়াম পেস বোলিং করে থিতু হয়ে আসা জুটি ভাঙ্গতে তার জুড়ি মেলা ভার ছিল।[১]

ক্রিকেট সংবাদদাতা কলিন বেটম্যান তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, চমৎকার, সোজা-সাপ্টা আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যান ও চমৎকার ফিল্ডার ছিলেন। তবে, তিনি কখনো নিজের যোগ্যতার সদ্ব্যবহার করতে পারেননি। দলের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী চাপ নিয়ে খেলতে পারতেন না।[১]

১৯৬০-এর দশকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে একচ্ছত্র প্রভাববিস্তারকারী ও সফলতম দল ইয়র্কশায়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। দলটি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে সাতবার শিরোপা জয় করেছিল। প্রায়শঃই তিনি ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন ও মাঝে-মধ্যে বোলার হিসেবে আবির্ভূত হতেন।

১৭ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথম অংশ নেন। ২১ বছর বয়সে কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৩১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছেন কেন টেলর। ১৯৬৫ সালে জিলেট কাপের তৃতীয় আসরের চূড়ান্ত খেলায় ইয়র্কশায়ার দলের পক্ষে অংশ নেন ও শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন।[২] ১৯৬৮ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন ও অবসর গ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন কেন টেলর। ৪ জুন, ১৯৫৯ তারিখে নটিংহামে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে লিডসে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২৩ বছর বয়সে আর্থার মিল্টনের সাথে ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে প্রথম নামেন। তবে, দুই খেলার পরই দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু, ১৯৬৪ সালে পুণরায় তাকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। এ পর্যায়ে শেফিল্ডে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে দূর্দান্ত ১৬০ রান তুলেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ খেলায় তার আঙ্গুল ভেঙ্গে যায় ও আর তাকে দেশের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়নি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

খেলায় অংশগ্রহণ না করলে জীবিকার তাগিদে চাকুরীর সন্ধান করতে তার পিতা তাকে উৎসাহিত করেন। হাডার্সফিল্ড আর্ট স্কুলে ভর্তি হন ও এরপর ১৯৫৬ সালে লন্ডনের ফাইন আর্ট স্লেড স্কুলে পড়াশুনো করেন।[১] এরপর তিনি পেশাদার চিত্রকরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর নরফোকভিত্তিক গ্রেশামস স্কুলে ত্রিশ বছরের অধিক সময় চিত্রকলা বিষয়ে শিক্ষা দেন। ক্রিকেট কোচ হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করেন। ২০০৬ সালে স্টিফেন চক কর্তৃক কেন টেলর: ড্রন টু স্পোর্ট শীর্ষক টেলরের সচিত্র আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়।[৩]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তার সন্তান নিক টেলর ইয়র্কশায়ার, সারেসমারসেটের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 167আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Cricketarchive.com
  3. Fairfield Books website আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ১২ আগস্ট ২০১৩ তারিখে Retrieved 12 August 2013.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]