সোনাগাছি নিষিদ্ধ পল্লি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(সোনাগাছি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সোনাগাছি ২০০৫

সোনাগাছি কলকাতা শহরে অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম নিষিদ্ধ পল্লি। এই পতিতালয়ের কয়েকশত বহুতল ভবনে প্রায় ১০০,০০০ যৌনকর্মী বসবাস করেন।[১] সোনাগাছি উত্তর কলকাতার মার্বেল প্যালেসের উত্তরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, শোভাবাজারবিডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলের নিকটে অবস্থিত। নিষিদ্ধ পল্লিটির যৌনকর্মীরা দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি নামে একটি সমিতির অধীনে গণস্বাস্থ্য ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি বাবু সম্প্রদায় এই অঞ্চলে নিজ নিজ উপপত্নীদের প্রতিপালন করতেন। এই অঞ্চলের বেশ কিছু বাড়ি নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ যুগে। কথিত আছে প্যারিসের বিখ্যাত যৌনকর্মীরাও কলকাতার এই সোনালি অঞ্চল (Golden district)-এর খ্যাতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।

গণস্বাস্থ্য কর্মসূচি[সম্পাদনা]

বর্তমানে বেশ কয়েকটি এনজিও ও সরকারি সংস্থা এখানে এইডস সহ যৌনরোগ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এনজিও সংলাপ-এর প্রতিষ্ঠাতাদের দ্বারা রচিত বই গিলটি উইথআউট ট্রায়াল এই অঞ্চলের দেহব্যবসার বহু তথ্য জ্ঞাপন করে।

সোনাগাছির একটি দৃশ্য, ২০০৫

সোনাগাছি প্রকল্প যৌনকর্মীদের সমবায়। এটি এই অঞ্চলের যৌনকর্মীদের মধ্যে কাজ করে তাদের মধ্যে কন্ডোম ব্যবহার ও মানুষ পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বিষয়ে সচেতনতার কথা প্রচার করে। ১৯৯২ সালে জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী স্মরজিৎ জানা এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে মুখ্যত যৌনকর্মীরাই এটিকে চালিয়ে থাকেন। এই সংস্থার কৃতিত্ব যৌনকর্মীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশে কমিয়ে আনা, যা ভারতের অন্যান্য নিষিদ্ধ পল্লির তুলনায় অনেক কম। সেই জন্য রাষ্ট্রসংঘের এইডস কর্মসূচিতে এটি শ্রেষ্ট অনুশীলন মডেল বা বেস্ট প্র্যাকটিশ মডেল আখ্যাত হয়েছে।[২]

দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি (ডিএমএসসি) সোনাগাছি প্রকল্প সহ পশ্চিমবঙ্গের ৬৫,০০০ যৌনকর্মী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে। এই সংস্থা যৌনকর্মীদের অধিকার স্বীকৃতি ও যৌনব্যবসার বৈধীকরণের দাবি জানিয়ে থাকে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন শিক্ষা ও কর্মসংস্থানগত কর্মসূচি পালন করে এবং ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে থাকে।[৩] বাংলা ভাষায় "দুর্বার" শব্দটির অর্থ অপ্রতিরোধ্য। ডিএমএসসি ভারতের প্রথম জাতীয় যৌনকর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে। ১৯৯৭ সালের ১৪ নভেম্বর কলকাতায় আয়োজিত এই সম্মেলনের শিরোনাম ছিল 'সেক্স ওয়ার্ক ইজ রিয়েল ওয়ার্কঃ উই ডিম্যান্ড ওয়ার্কার্স রাইট' ('Sex Work is Real Work: We Demand Workers Rights')।[৪] ফরিদপুর শহরের হাজী শরিয়তুল্লাহ বাজার সংলগ্ন রথখোলা এবং ডিক্রীরচর ইউনিয়ন-এর সিএন্ডবি ঘাট যৌনপল্লিতে সরকারি হিসাবে প্রায় ৩০০ যৌনকর্মী রয়েছেন।[৫][৬] বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যাটি দ্বিগুনও হতে পারে।[৫] এখানে সচেতনতাবৃদ্ধির কাজ রীতিমতো দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। যৌনকর্মীদের নিজস্ব সংগঠন দুর্বার সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন যৌনকর্মীরাও। কিন্তু তা সত্যেও মাঝেমধ্যেই এই যৌনপল্লী থেকে বিভিন্ন নারী পাচারের অভিযোগ ওঠে। যদিও খবর পাওয়া মাত্র কলকাতা পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেয়।

জনপ্রিয় সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

সোনাগাছি ২০০৫

তথ্যচিত্র বর্ন ইনটু ব্রথেলস ২০০৫ সালে শ্রেষ্ঠ তথ্যচিত্র বিভাগে অস্কার জয় করে। এই তথ্যচিত্রে সোনাগাছির যৌনকর্মী-সন্তানদের জীবনযাত্রা চিত্রিত হয়েছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Girl-trafficking hampers Aids fight BBC news. 30 November, 2004
  2. "The Prostitutes' Union ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে", Scientific American, April 1, 2006
  3. durbar.org, home page of the Durbar Mahila Samanwaya Committee
  4. Sex work is real work: We demand workers rights ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে, announcement of the 1997 sex worker convention
  5. ফরিদপুর সংবাদদাতা, ফরিদপুরে ‘লকডাউন’ হলো দু’টি পতিতাপল্লী, নয়া দিগন্ত, ২১ মার্চ ২০২০
  6. ফরিদপুর সংবাদদাতা, ফরিদপুরে ‘লকডাউন’ হলো দু’টি পতিতাপল্লী, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২১ মার্চ ২০২০

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]