হাতিবাগান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
হাতিবাগান নবীন পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসবের প্রতিমা শিল্পগুণসমৃদ্ধ প্রতিমা, ২০১০।

হাতিবাগান হল উত্তর কলকাতার একটি অঞ্চল। শ্যামবাজারের দক্ষিণে বিধান সরণিঅরবিন্দ সরণির (সাবেক গ্রে স্ট্রিট) সংযোগস্থলে অবস্থিত এই অঞ্চলটি শ্যামপুকুর[১] ও বড়তলা থানা এলাকার এক্তিয়ারভুক্ত। হাতিবাগান-শ্যামবাজার অঞ্চলটি কলকাতা পৌরসংস্থার ১১ নং১২ নং ওয়ার্ডের একটি বড়ো অংশ জুড়ে বিস্তৃত।[২]

নাম-ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

"হাতিবাগান" নামটির উৎপত্তি নিয়ে দু'টি মত প্রচলিত আছে। বাংলায় "হাতি" শব্দের অর্থ হস্তী ও "বাগান" শব্দের অর্থ উদ্যান। একটি মত অনুসারে, ১৭৫৬ সালে কলকাতা আক্রমণ করার সময় নবাব সিরাজদ্দৌলার হাতিগুলিকে এখানে রাখা হয়েছিল। অন্য মতে, এই অঞ্চলে "হাতি" পদবীধারী জনৈক ব্যক্তির একটি বাগানবাড়ি ছিল। তা থেকেই "হাতিবাগান" নামটি এসেছে। মেহতাব চাঁদ মল্লিক পরে সেই বাগানবাড়িটি কিনে নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই মেহতাব চাঁদ মল্লিকই হাতিবাগান বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেন।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হাতিবাগান কলকাতার সবচেয়ে পুরনো জনবসতিগুলির মধ্যে একটি। সেই কারণে এই অঞ্চলটি বহু ঐতিহ্যবাহী দোকান, শতাব্দীপ্রাচীন হাতিবাগান বাজার, স্টার থিয়েটার সহ একাধিক পুরনো নাট্যমঞ্চ ও বেশ কয়েকটি সিনেমা হলের জন্য বিখ্যাত। কলকাতার অন্য কোথাও এতগুলি নাট্যমঞ্চ বা সিনেমা হল দেখা যায় না। স্টার থিয়েটার এই অঞ্চলের জনপ্রিয়তম ও অন্যতম প্রাচীন নাট্যমঞ্চ ও সিনেমা হল। ১৯শ শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত এই নাট্যমঞ্চে গিরিশচন্দ্র ঘোষের একাধিক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। রামকৃষ্ণ পরমহংসও একাধিকবার এই নাট্যমঞ্চে নাটক দেখতে আসেন। বর্তমানে সিনেমা হলে রূপান্তরিত স্টার থিয়েটারে টিকিটের দাম কম হওয়ায় কলকাতার অনেক মানুষ মাল্টিপ্লেক্সের পরিবর্তে এখানেই সিনেমা দেখতে আসেন। হাতিবাগানের শতাব্দীপ্রাচীন বাজারটি বাংলার রেশম ও তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। ২০১২ সালের ২২ মার্চ একটি অগ্নিকাণ্ডে এই বাজারের একটি বড়ো অংশ পুড়ে যায়।[৩]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বিমানবাহিনী হাতিবাগানে একটি বোমা ফেলেছিল। কিন্তু সেটি ফাটেনি।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Shyapukur Police Station"Kolkata Policeআসল থেকে ২০০৭-০৯-২৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-১০ 
  2. Map no. 7, Detail Maps of 141 Wards of Kolkata, D.R.Publication and Sales Concern, 66 College Street, Kolkata – 700073
  3. "দশ ঘণ্টার যুদ্ধে হেরে নিঃস্ব হাতিবাগান" [Hatibagan loses in ten-hours long fight]Anandabazar Patrika। ২৩ মার্চ ২০১২। সংগৃহীত ২৩ মার্চ ২০১২ 
  4. "Hatibagan Market: Too strong for WW II, too weak for fire"BengalThe Statesman, 17 May 2002। আসল থেকে ২০০৭-০৯-২৬-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৭-০৮-১৬ 

See also[সম্পাদনা]