বেনিয়াপুকুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বেনিয়াপুকুর
কলকাতার অঞ্চল
পার্কসার্কাস বেনিয়াপুকুর অঞ্চলের একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপ
পার্কসার্কাস বেনিয়াপুকুর অঞ্চলের একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপ
স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′৪৭″ উত্তর ৮৮°২২′১০″ পূর্ব / ২২.৫৪৬৩৩৩° উত্তর ৮৮.৩৬৯৫২৫° পূর্ব / 22.546333; 88.369525স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′৪৭″ উত্তর ৮৮°২২′১০″ পূর্ব / ২২.৫৪৬৩৩৩° উত্তর ৮৮.৩৬৯৫২৫° পূর্ব / 22.546333; 88.369525
দেশ ভারত
পশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ
শহরকলকাতা
জেলাকলকাতা
পৌরসংস্থাকলকাতা পৌরসংস্থা
পৌরসংস্থার ওয়ার্ড৬০
জনসংখ্যা
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
এলাকা কোড+৯১ ৩৩
লোকসভা কেন্দ্রকলকাতা দক্ষিণ
বিধানসভা কেন্দ্রবালিগঞ্জ

বেনিয়াপুকুর হল মধ্য কলকাতার একটি অঞ্চল।

নাম-ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

"বেনিয়াপুকুর" নামটির উৎপত্তি "বেনিয়া" অর্থাৎ বণিক ও "পুকুর" শব্দ দু’টি থেকে। অতীতে কয়েকটি গন্ধবণিক (গন্ধদ্রব্য ও মশলা ব্যবসায়ী) পরিবার এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। সেই সব বণিকেরা এই অঞ্চলে একটি পুকুর খনন করেছিলেন। সেই থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয় বেনিয়াপুকুর।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭১৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সম্রাট ফর‌রুখসিয়ারের কাছ থেকে কলকাতা অঞ্চলে তাদের বাণিজ্যকুঠির পার্শ্ববর্তী বেনিয়াপুকুর সহ ৩৮টি গ্রামের রাজস্ব সত্ত্ব আদায় করে। এর মধ্যে পাঁচটি গ্রাম ছিল হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত অধুনা হাওড়া জেলার অন্তর্গত ভূখণ্ডে। অবশিষ্ট ৩৩টি গ্রাম ছিল কলকাতার দিকে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর ১৭৫৮ সালে কোম্পানি এই গ্রামগুলি মীর জাফরের থেকে কিনে নিয়ে সেগুলি পুনর্গঠিত করে। এই গ্রামগুলি একত্রে "ডিহি পঞ্চান্নগ্রাম" নামে পরিচিত ছিল।[২][৩][১]

১৭৪২ সালে বেনিয়াপুকুরের সীমানা বরাবর মারাঠা খাত খনন করা হয় এবং ১৭৯৯ সালে সার্কুলার রোড (অধুনা আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডআচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড) নির্মাণকালে সেই খাতের কিছু অংশ বুজিয়ে ফেলা হয়।[১]

১৮৮৮ সালে এন্টালি, মানিকতলা, বেলেঘাটা, উল্টোডাঙা, চিৎপুর, কাশীপুর, বেনিয়াপুকুরের কিছু অংশ, বালিগঞ্জ, ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর এবং গার্ডেনরিচ ও টালিগঞ্জের কিছু কিছু অংশ কলকাতা পৌরসংস্থার অধীনে আসে।[৪] সেই বছরই কলকাতাকে ২৫টি থানা এলাকায় বিভক্ত করা হয় এবং সেগুলির অন্যতম বেনিয়াপুকুর থানা গঠিত হয়।[১]

ভূগোল[সম্পাদনা]

থানা[সম্পাদনা]

বেনিয়াপুকুর থানাটি কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ পূর্ব বিভাগের অন্তর্গত। এই থানার ঠিকানা ৪৮এ, গোরাচাঁদ রোড, কলকাতা – ৭০০০১৪ এবং এর এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার সীমানা নিম্নরূপ:

  • উত্তরে: গিরিশ বসু রোড ও আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের সংযোগ স্থল, ড. সুরেশ সরকার রোড, ড. সুন্দরীমোহন অ্যাভিনিউ মোড়, ফুলবাগান রোড, বেচুলাল রোড থেকে ৩ নং রেলওয়ে ওভারব্রিজ পর্যন্ত;
  • পূর্বে: পণ্যবাহী রেল লাইন থেকে উক্ত রেল লাইন ও বেচুলাল রোডের সংযোগ স্থল ৩ নং রেলওয়ে ওভারব্রিক থেকে ৪ নং রেলওয়ে ওভারব্রিজ পর্যন্ত;
  • দক্ষিণে: ৪ নং রেলওয়ে ওভারব্রিজ, দিলখুশা রোড, কংগ্রেস এক্সিবিশন রোড, নাসিরুদ্দিন রোড, সার্কাস অ্যাভিনিউ থেকে শেষোক্ত পথের সঙ্গে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের সংযোগ স্থল পর্যন্ত; এবং
  • পশ্চিমে: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ও সার্কাস অ্যাভিনিউয়ের সংযোগ স্থল থেকে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড ও গিরিশ বসু রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত।[৫]

সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব বিভাগের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা অর্থাৎ তপসিয়া, বেনিয়াপুকুর, বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, লেক, কড়েয়া, রবীন্দ্র সরোবর ও তিলজলা থানা এলাকা কড়েয়া মহিলা থানার এক্তিয়ারভুক্ত।[৫]

শিক্ষাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

প্র্যাট মেমোরিয়াল স্কুল[সম্পাদনা]

প্র্যাট মেমোরিয়াল স্কুল হল বেনিয়াপুকুরে অবস্থিত একটি ইংরেজি-মাধ্যম বালিকা বিদ্যালয়। এই স্কুলে ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট (আইএসসি) ও ইন্ডিয়ান সার্টিফিকেট অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (আইসিএসই) নির্ধারিত পাঠক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা চলে। ১৮৭৬ সালে আর্কডায়াকন জন হেনরি প্র্যাটের স্মৃতিরক্ষার্থে প্রধানত অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ও খ্রিস্টান শিশুদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই স্কুলটি স্থাপিত হয়েছিল। এটি চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ডায়োসিস অফ কলকাতার অধীনস্থ পৃষ্ঠপোষকবিহীন একটি সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান।[৬][৭][৮]

দ্য ফ্র্যাঙ্ক অ্যান্টনি পাবলিক স্কুল, কলকাতা[সম্পাদনা]

বেনিয়াপুকুরে অবস্থিত দ্য ফ্র্যাঙ্ক অ্যান্টনি পাবলিক স্কুল হল একটি ইংরেজি-মাধ্যম সহশিক্ষা-মূলক বিদ্যালয়। ১৯৬৫ সালে সমাজকর্মী ফ্যাঙ্ক অ্যান্টনি এই স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই স্কুলেও ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট (আইএসসি) ও ইন্ডিয়ান সার্টিফিকেট অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (আইসিএসই) নির্ধারিত পাঠক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা চলে।[৯]

স্বাস্থ্যব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কলিকাতা জাতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান বিদ্যামন্দির[সম্পাদনা]

কলিকাতা জাতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান বিদামন্দিরের শিক্ষণ বিভাগ

বেনিয়াপুকুরে অবস্থিত কলিকাতা জাতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান বিদ্যামন্দিরে (ক্যালকাটা ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ) এমবিবিএস, স্নাতকোত্তর (এমডি, এমএস, ডিপ্লোমা) ও উত্তর-ডক্টোরাল (ডিএম, এমসিএইচ) পাঠক্রমে পড়াশোনা চলে। এই কলেজটি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত। ১৯১১ সালে বউবাজারে রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই কলেজের নাম পরিবর্তন করে ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ অফ ইন্ডিয়া রাখা হয়। তারও পরে আপার সার্কুলার রোডে মহারাজা স্যার মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর দান করা জমিতে এই কলেজটি স্থানান্তরিত হয় এবং সেই সময় এই কলেজের নাম হয় ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ। ১৯১০ সালে বউবাজারে ক্যালকাটা ফ্রি হসপিটাল নামে আরেকটি স্বাস্থ্যবিজ্ঞান শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপিত হয়। এই কলেজটির নাম পরে হয় কিংস হসপিটাল ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ বা জাতীয় বৈদ্য শাস্ত্রপীঠ। পরবর্তীকালে এই কলেজের নাম হয় ন্যাশানাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট বা জাতীয় আয়ুর্বিজ্ঞান বিদ্যালয়। ১৯২৩ সালে দু’টি শিক্ষাকেন্দ্র নিয়ে গঠিত হয় ক্যালকাটা মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট। ১৯২৫ সালে কলকাতার তদনীন্তন মেয়র দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ন্যাশানাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্যে বেনিয়াপুকুরে জমি বরাদ্দ করেন। তিনিই সেই হাসপাতালের ভিত্তপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সেই কারণে কিছুকাল এই হাসপাতালটি তাঁর নামাঙ্কিত ছিল। ১৯৪৮ সালে ন্যাশানাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট ও ক্যালকাটা মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট একত্রীভূত করে ক্যালকাটা ন্যাশানাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট গঠিত হয়। আপার সার্কুলার রোডে শেষোক্ত সংস্থাটির সম্পত্তির বিলিব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালে ক্যালকাটা ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল সামগ্রিকভাবে বেনিয়াপুকুরে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৯৬৭ সালে সরকার এটি অধিগ্রহণ করে।[১০] এই হাসপাতালটি বর্তমানে ১,৪৭০টি শয্যাবিশিষ্ট একটি রাজ্য সরকারি হাসপাতাল[১১]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিভ্রমণ থেকে বেনিয়াপুকুর ভ্রমণ নির্দেশিকা পড়ুন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nair, P. Thankappan, The Growth and Development of Old Calcutta, in Calcutta, the Living City, Vol. I, edited by Sukanta Chaudhuri, pp. 18-19, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬৩৬৯৬-৩.
  2. "District Census Handbook Kolkata, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Pages 6-10: The History। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  3. Cotton, H.E.A., Calcutta Old and New, first published 1909/reprint 1980, pages 103-4 and 221, General Printers and Publishers Pvt. Ltd.
  4. Bagchi, Amiya Kumar, Wealth and Work in Calcutta, 1860-1921, in Calcutta, the Living City, Vol. I, p. 213.
  5. "Kolkata Police"South East Division। KP। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০১৮ 
  6. "Pratt Memorial School"। PMC। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৮ 
  7. "Pratt Memorial School"। ICBSE। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৮ 
  8. "Pratt Memorial School, Beniapukur"। School Connects। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৮ 
  9. "The Frank Anthony Public School"। FAPS। ৭ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৮ 
  10. "Welcome to Calcutta National Medical College"। Calcutta National Medical College and Hospital। সংগ্রহের তারিখ ৫ এপ্রিল ২০১৮ 
  11. "Health and Family Welfare Department" (PDF)Health Statistics -> Hospital। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৮