কণা পদার্থবিজ্ঞান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

কণা পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজিঃ Particle Physics), পদার্থবিদ্যার একটি প্রধান শাখা যার কাজ হল পদার্থ এবং বিকিরণের মৌলিক উপাদান এবং তাদের মাধ্যে মিথষ্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা । এই শাখার আর এক নাম হল উচ্চ-শক্তি পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজিঃ High Energy Physics) ।এই নামকরণের প্রধান কারণ হল এই যে, অধিকাংশ মৌলিক কণাই সাধারণ পবপ্সথায় প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না কিন্তু অতিশক্তি সম্পন্ন কণা সংঘাতে এই সকল কণার সৃষ্টি এবং পর্যবেক্ষণ সম্ভব । আধুনিক কণা ত্বরণ যন্ত্রে (ইংরেজিঃ Particle Accelerator) অতি শক্তি সম্পন্ন দুটি কণার মুখোমুখি সাংঘাতের পর্যবেক্ষণ সম্ভব ।

সমস্ত আবিষ্কৃত মৌলিক ক্ষেত্র ও তাদের গতিবিদ্যা "স্ট্যান্ডার্ড মডেল"-এ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। সুতরাং কণা পদার্থবিজ্ঞান মূলত এই "স্ট্যান্ডার্ড মডেল"-এর চর্চা ও বিস্তার এর প্রচেষ্টা।

ইতিহাস[উৎস সম্পাদনা]

সমস্ত পদার্থ যে মৌলিক কণা দিয়ে গঠিত, সেই ধারণা খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকেই আছে।[১] ঊনবিংশ শতাব্দীতে জন ডাল্টন ধারণা করেন যে সমস্ত পদার্থ মৌলিক পরমাণু দিয়ে গঠিত।[২] তবে পরে প্রমাণিত হয় যে পরমাণু ক্ষুদ্রতর কণার সমস্তি। পরবর্তী কালে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানকোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান-এর সাহায্যে নিউক্লীয় ফিশনকেন্দ্রীণ সংযোজন সম্ভব হয়।

১৯৫০ ও ১৯৬০ দশকে অনেক অদ্ভুত কণা আবিষ্কৃত হয়। তবে ১৯৭০ দশকে "স্ট্যান্ডার্ড মডেল"-এর প্রণয়নের পর এই সকল পদার্থকে মৌলিকতর কণার সমষ্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

উপপারমানবিক কণা[উৎস সম্পাদনা]

আধুনিক কণা পদার্থবিজ্ঞান এর গবেষণা উপপারমানবিক কণাকে(Subatomic particles) কেন্দ্র করে করা হয় যেখানে মৌলিক কনিকা electrons,protons,neutrons (protons ও neutrons যৌগিক কণা যারা quarks দিয়ে গঠিত) অন্তরভুক্ত। মৌলিক কণিকা সমূহ radioactive এবং scattering প্রক্রিয়ায় photons,neutrinos,muons ও exotic particle দিয়ে গঠিত। কণা সমূহের গতিবিদ্যা quantum mechanics এ আলোচিত হয়। সকল কণা এবং তাদের পারস্পরিক ক্রিয়া বিক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণভাবে একটি কুয়ানটাম ফিল্ড দ্বারা ব্যখ্যা করা যায় যাকে বলা হয় standard model.standard model এ বরতমান এ ৬১ টি প্রাথমিক কণা অন্তর্ভুক্ত। এখনও বিজ্ঞানীগণ মনে করেন এটি অসম্পূর্ণ রয়েছে।

"স্ট্যান্ডার্ড মডেল"[উৎস সম্পাদনা]

সব কণার বর্তমান শ্রেণীবিভাগ "স্ট্যান্ডার্ড মডেল"-এর দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। এই মডেলে শক্তিশালী, দুর্বল ও তড়িৎচুম্বকীয় মৌলিক শক্তিগুলিকে গেজ বোসনএর সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়। গেজ বোসন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হল গ্লুয়ন, W-, W+ ও Z বোসন ও ফোটন।[৩] এ ছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অন্তর্ভুক্ত ১২টি মৌলিক কণা ও তাদের বিপরিত কণা।[৪] অবশেষে, স্ট্যান্ডার্ড মডেল আরও একটি কণা, হিগ্স্ বোসনএর অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেয়। ৪ঠা জুলাই ২০১২-এ, CERN-এর বিজ্ঞানীরা হিগ্স্ বোসন জাতীয় একটি পদার্থের আবিষ্কারের খোঁজ জানান।[৫]

তত্ত্ব[উৎস সম্পাদনা]

তাত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞান বর্তমানের বিভিন্ন পরীক্ষা তথা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরীক্ষার পরিণাম বিভিন্ন তাত্বিক কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা ও পূর্বাভাষ করার চেষ্টা করে। এর একটি শাখা চেষ্টা করে স্ট্যান্ডার্ড মডেল ও তার পরীক্ষার ফলাফলগুলিকে আরও কম অনিশ্চয়তার সঙ্গে বুঝতে। অপর একটি শাখা চেষ্টা করে স্ট্যান্ডার্ড মডেলেরও অতীতের পদার্থবিজ্ঞান, অর্থাৎ আরও উচ্চশক্তি ও ক্ষুদ্রতর দূরত্বের পদার্থবিজ্ঞান বুঝতে।

তৃতীয় একটি শাখা আছে যার নাম স্ট্রিং তত্ত্ব (ইংরেজিঃ String Theory), যেটি কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানসাধারণ আপেক্ষিকতা-র মিলন ঘটানোর চেষ্টা করে। এই শেষ শাখাটি সফল হলে হয়তো তাকে “সবকিছুর তত্ব” (ইংরেজিঃ Theory of Everything) বলা যেতে পারে।

এ ছাড়াও বর্তমানে তাত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যান্য শাখাও আছে।

প্রয়োগ[উৎস সম্পাদনা]

নীতিগত ভাবে সমস্ত পদার্থবিজ্ঞান তথা পদার্থবিজ্ঞানের প্রয়োগকে কণা পদার্থবিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তবে কার্যকরী ভাবে, কণা পদার্থবিজ্ঞানের প্রথমিক কিছু আবিষ্কার পরবর্তীকালে সমাজের উপকারে লেগেছে। যেমন, সাইক্লট্রন দিয়ে ঔষধিক আইসোটোপ তৈরি বা সরাসরি ক্যান্সার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। এছাড়াও অতিপরিবাহক, ওয়ার্ল্ড অয়াইড ওয়েব, টাচস্ক্রিন ও প্রভৃতি প্রযুক্তির উন্নয়ন কণা পদার্থবিজ্ঞানের প্রয়োজন মেটাতে ঘটেছে।



ফলিত পদার্থবিজ্ঞান · পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান · আলোক পদার্থবিজ্ঞান · চিরায়ত বলবিদ্যা · ঘনীভূত পদার্থ পদার্থবিজ্ঞান · পরম্পরা বলবিদ্যা · তড়িচ্চুম্বকত্ব · বিশেষ আপেক্ষিকতা · সাধারণ আপেক্ষিকতা · কণা পদার্থবিজ্ঞান · কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব · কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান · পরিসাংখ্যিক বলবিদ্যা · তাপগতিবিজ্ঞান


বিজ্ঞানের শাখাসমূহ

পদার্থবিজ্ঞান · রসায়নবিজ্ঞান · আলোকবিজ্ঞান · জীববিজ্ঞান · সামাজিক বিজ্ঞান · পরম্পরা বলবিদ্যা · তড়িচ্চুম্বকত্ব · বিশেষ আপেক্ষিকতা · সাধারণ আপেক্ষিকতা · মনোবিজ্ঞান · কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব · কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান · পরিসাংখ্যিক বলবিদ্যা · তাপগতিবিজ্ঞান

  1. "Fundamentals of Physics and Nuclear Physics" 
  2. "Scientific Explorer: Quasiparticles"sciexplorer.blogspot.com। সংগৃহীত ২২ মে ২০১২ 
  3. "Particle Physics and Astrophysics Research"। The Henryk Niewodniczanski Institute of Nuclear Physics। 
  4. Nakamura, K (১ জুলাই ২০১০)। "Review of Particle Physics"Journal of Physics G: Nuclear and Particle Physicsডিওআই:10.1088/0954-3899/37/7A/075021 
  5. Mann, Adam। "Newly Discovered Particle Appears to Be Long-Awaited Higgs Boson - Wired Science"wired.com