কুয়েতের রাজনীতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
Emblem of Kuwait.svg
 এই নিবন্ধটি কুয়েত রাজনীতি ও সরকার
ধারাবাহিকের অংশ

কুয়েত একটি অর্ধগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক আমিরতন্ত্রের দেশ।[১][২][৩] একটি মিশ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা কুয়েতে নির্বাচিত সংসদীয় পদ্ধতি এবং নির্ধারিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে।[১][৪][৫]

কুয়েতের সংবিধান ১৯৬২ সালে প্রণীত হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের দিক দিয়ে কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উদার রাষ্ট্র।[৬][৭][৮][৯] ফ্রিডম হাউস বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার জরিপে দেশটিকে "আংশিক মুক্ত" দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে।[১০] কুয়েত উপসাগরীয় দেশসমূহের মধ্যে একমাত্র "আংশিক মুক্ত" দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়।[৯]

সংবিধান[সম্পাদনা]

কুয়েতের সংবিধান ১৯৬২ সালে অনুমোদিত হয়, এতে প্রেসিডেন্সিয়াল ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার কথা আছে। সংবিধান অনুসারে কুয়েতে অবশ্যই একটি নির্বাচিত আইনসভা (জাতীয় সংসদ) থাকতে হবে। আমির হলেন রাষ্ট্রের প্রধান, যার ক্ষমতা সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

যে সকল নাগরিকের বয়স একুশের উপরে, তারা ভোট দিতে পারেন। সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদেরকে অবশ্যই ভোটার হতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ত্রিশ বছর হতে হবে। সংবিধান সুস্পষ্টরূপে রাজনৈতিক দল গঠন করাকে সমর্থন করে, কিন্তু তা সত্ত্বেও ইহা অবৈধ, কেননা রাজনৈতিক দলসমূহকে অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কুয়েতে কোন আইন নাই। সংসদ সদস্যরা সাধারণত স্বাধীনভাবে অথবা আদর্শ, সামাজিক শ্রেণি কিংবা গোত্রভিত্তিক ডি ফেক্টো (কার্যত আছে, কিন্তু আইনত অনুমোদিত নয় এমন) রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

আইন সভা (সংসদ)[সম্পাদনা]

জাতীয় পরিষদ হলো কুয়েতের আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ।[১১] সরকারের মন্ত্রীদেরকে মন্ত্রপরিষদ থেকে অব্যহতি দেওয়ার অধিকার জাতীয় পরিষদের আছে। সংসদ সদস্যরা প্রায়ই সরকারের সদস্যদের (মন্ত্রীদের) নিকট বিভিন্ন বিষয়ে ব্যখ্যা দাবি করে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। জাতীয় পরিষদের এ ধরনের প্রশ্নোত্তর পর্ব কুয়েতি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। সংসদ সদস্যদের কোন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যখ্যা দাবি করার অধিকারও আছে।, এমনকি সরকারের সাথে অসহযোগিতার ঘোষণাও তারা দিতে পারেন, এক্ষেত্রে অবশ্যই পুনরায় সরকার গঠন করতে হয়।

জাতীয় পরিষদে কমপক্ষে ৫০ জন সদস্য থাকেন। ৫০ জন সদস্য জনগণের ভোটে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। মন্ত্রীসভার সদস্যরাও সংসদে সদস্য হবেন। সংবিধান মন্ত্রীসভার আকার ষোল জনে সীমাবদ্ধ করেছে, তন্মধ্যে কমপক্ষে একজন অবশ্যই নির্বাচিত সংসদ সদস্য হতে হবে। মন্ত্রীসভার সদস্যরা নির্বাচিত সদস্যদের সমান অধিকার ভোগ করবেন, তবে দুটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রম দুটি হলো: তারা কোন কমিটির কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপিত হলে তারা ভোট দিতে পারবেন না।

সংসদ ভেঙে দেওয়ার এবং দুই মাসের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা সাংবিধানিক আদালতের আছে। সাংবিধানিক আদালতকে আরব বিশ্বের সব চেয়ে স্বাধীন বিচারিক আদালত বলে মনে করা হয়।[১২] আমিরও সংসদ ভেঙে দেওয়ার এবং দুই মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রাখেন, কিন্তু সাংবিধানিক আদালত আমিরের সংসদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ বাতিল করতে পারে।

জাতীয় পরিষদ কুয়েতের প্রধান আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ। আমির সংসদে ভেটো দিতে পারেন কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের ভিত্তিতে জাতীয় পরিষদ এই ভেটোকে অগ্রাহ্য করতে পারে। আমির নিয়োগ অনুমোদন কিংবা অনুেমোদন করার সাংবিধানিক অধিকার জাতীয় পরিষদের (সংবিধানের চতুর্থ অনুচ্ছেদ অনুসারে) রয়েছে। জাতীয় পরিষদ ২০০৬ সালে কার্যকরভাবে আমির সা’দ আস সাাবাহকে অপসারণ করে, কেননা অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতে অক্ষম ছিলেন। কুয়েতের জাতীয় পরিষদ আরব বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন সংসদ,[১৩] এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী সংসদসমূহের মধ্যে অন্যতম।[১৪]

নির্বাহী বিভাগ[সম্পাদনা]

সরকার[সম্পাদনা]

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদ (সরকার) গঠন করেন। নবনিযুক্ত সরকার জাতীয় পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। আমির কর্তৃক মনোনীত শাসক পরিবারের একজন সদস্য হবেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রীসভার কমপক্ষে একজন সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য হতে হবে। ১৯৯২ সালের মন্ত্রীসভায় মোট ছয়জন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন, যা কুয়েতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

আমির[সম্পাদনা]

আমিরের ক্ষমতা ১৯৬১ সালের সংবিধান দ্বারা সুনির্দিষ্ট। তার অধিকার আছে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার, যিনি মন্ত্রী পরিষদ (সরকার) গঠন করবেন। যুবরাজকে অবশ্যই জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন পেতে হয়। নতুন যুবরাজ যদি জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন, তবে আমির রাজপরিবারের তিনজন উপযুক্ত সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন, জাতীয় পরিষদ তাদের মধ্য থেকে একজনকে যুবরাজ নির্বাচিত করবে। আমিরের মৃত্যুর পর যুবরাজ আমির হবেন।

জানুয়ারি ২০০৬[সম্পাদনা]

২০০৬ সালের জানুয়ারিতে কুয়েতি সংসদ অসুস্থ আমির সা’দকে তার পদ থেকে অপসারণ করে। ২০০৬ সালের ১৫ জানুয়ারিতে আমির জাবের আস সাবাহর মৃত্যুর পর সা’দ ছিলেন শুধুমাত্র কাগজে কলমে আমির। মন্ত্রীসভা পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী সাবাহ আস সাবাহকে আমির মনোনীত করে। তিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাভ করে দেশটির ১৫তম আমির নির্বাচিত হন।

নির্বাচন[সম্পাদনা]

সংবিধান অনুসারে অনধিক চার বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে (সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে আরো আগে হতে পারে)। কুয়েতে একুশ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক কুয়েতি নাগরিকদের ভোটাধিকার রয়েছে।

কুয়েতি আইন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। কিন্তু অনেকগুলো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নির্বাচনে ডি ফেক্টো (কার্যত আছে, কিন্তু আইনত নেই এমন) রাজনৈতিক দল হিসেবে অংশগ্রহণ করে। বড় ডি ফেক্টো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট, পপুলার একশন ব্লক, হাদাস (কুয়েতি মুসলিম ব্রাদারহুড), জাতীয় ইসলামী জোট এবং জাস্টিস এন্ড পিস এলায়েন্স।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kuwait's Democracy Faces Turbulence"Wall Street Journal 
  2. Selvik, Kjetil (২০১১)। "Elite Rivalry in a Semi-Democracy: The Kuwaiti Press Scene"Middle Eastern Studies: 478। 
  3. "Kuwait Country Report"Bertelsmann Foundation 
  4. Selvik, Kjetil (২০১১)। "Elite Rivalry in a Semi-Democracy: The Kuwaiti Press Scene"। Middle Eastern Studies47 (3): 477–496। doi:10.1080/00263206.2011.565143 
  5. Ulrichsen, Kristian Coates (২০১৪)। "Politics and Opposition in Kuwait: Continuity and Change"Journal of Arabian Studies: Arabia, the Gulf, and the Red Sea4 (2): 214–230। doi:10.1080/21534764.2014.974323 
  6. Ibrahim Ahmed Elbadawi, Atif Abdallah Kubursi। "Kuwaiti Democracy: Illusive or Resilient?" (PDF)American University of Beirut। পৃষ্ঠা 7। 
  7. "Kuwait"। Reporters without Borders। 
  8. "Kuwait - The New York Times"New York TimesKuwait has long ranked highly among Middle East nations for its protection of civil liberties, judicial independence and freedom of expression 
  9. "Kuwait rated 'partly free' by Freedom House"। Mubasher। 
  10. "Freedom in the World: Kuwait"। Freedom House। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১২ 
  11. Robert F. Worth (২০০৮)। "In Democracy Kuwait Trusts, but Not Much"New York Times 
  12. "Kuwait court ruling may threaten economic recovery"Reuters। ১৫ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৩ 
  13. Nathan J. Brown। "Mechanisms of accountability in Arab governance: The present and future of judiciaries and parliaments in the Arab world" (PDF)। পৃষ্ঠা 16–18। 
  14. Eran Segal। "Kuwait Parliamentary Elections: Women Making History" (PDF)। Tel Aviv Notes। পৃষ্ঠা 1। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:কুয়েতের নির্বাচনসমূহ টেমপ্লেট:কুয়েতের বিষয়সমূহ