আলাপ:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পরিচ্ছেদসমূহ

দৃষ্টি আকর্ষন[সম্পাদনা]

বাংলা উইকিপিডিয়াতে সম্প্রতি বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে:- ৩০০০ নিবন্ধ হয়েছে, রাগিব ভাই ব্যুরোক্রেট হয়েছেন, বেলায়ত ভাই প্রশাসক হয়েছেন। আশা করছি অচিরেই ডাঃ সপ্তর্ষি প্রশাসক হবেন। কিন্তু আমার কাছে কিছুটা অস্বস্তি লাগে যখন দেখি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। এই ব্যাপারে প্রশাসকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।রাজিবুল ০৯:৫৭, ১৫ জুলাই ২০০৬ (UTC)

Work needed[সম্পাদনা]

এই নিবন্ধটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গত ১ বছরে এর পরিবর্ধন হয়নি। আপাতত ইংরেজি নিবন্ধটআ থেকে অনুবাদ করে কাজ শুরু করা যেতে পারে। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ২২:১৭, ১২ জুলাই ২০০৭ (UTC)

একটি তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ[সম্পাদনা]

এ নিবন্ধে বলা হয়েছে ৭১এ জগন্নাথ হল পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয় । এখানে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার কথাটা সত্য কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার । পুরোপুরি ধ্বংস তখনই বলা যেতে পারে যখন কোন স্থাপত্যের প্রতিটি অংশ গুড়িয়ে দেয়া হয় । স্মৃতি থেকে যদ্দুর মনে পড়ে সেটা হলো অক্টোবর ট্রাজেডীর টিভি ভবনটা স্বাধীনতার অনেক আগের তৈরী এবং সেটা আশির দশকে ধ্বসে পড়ে । কেউ একটু নিশ্চিত হয়ে নিন ।

সেক্টর সমূহের তালিকা[সম্পাদনা]

সেক্টর সমূহের নাম ও তালিকা কি এই নিবন্ধে থাকাটা জরুরি? ইংরেজি উইকিতে এই নিবন্ধটিতে তালিকাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিবন্ধে ব্যবহার করা হয়নি। নিবন্ধটি বেশ বড়সড়, তাই এত বড় একটি তালিকা নিবন্ধকে ভারাক্রান্ত করা খুব ভালো দেখায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টরসমূহের তালিকা এই নিবন্ধে তালিকাটি রয়েছে, আরও দেখুন দিয়ে তা "যুদ্ধক্ষেত্র" প্যারাগ্রাফে থাকতে পারে। -- ফয়সল (আলাপ | অবদান) ১৮:৪৬, ৩০ অক্টোবর ২০০৯ (UTC)

অনুচ্ছেদ খালি করে তালিকা মুছে ফেলে রাখার চেয়ে, তালিকাটি থাকা ভাল। যদি প্যারাগাফ যোগ করা সম্ভব হয় তখনই না হয় তালিকাটি সরিয়ে ফেলা যাবে।--বেলায়েত (আলাপ | অবদান) ০৫:২১, ৩১ অক্টোবর ২০০৯ (UTC)

"স্বাধীনতাযুদ্ধ" হবে বলে মনে হচ্ছে[সম্পাদনা]

নিবন্ধটি মনে হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শিরোনামে রিডিরেক্ট হওয়া দরকার। কেননা, "স্বাধীনতাযুদ্ধ", আমার কাছে মনে হচ্ছে সমাসবদ্ধ শব্ধ। যদি কথা হতো "বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ", তাহলে স্পেসটা ঠিক ছিলো। কিন্তু এখন যখন উচ্চারিত হয়, তখন 'স্বাধীনতা' এবং 'যুদ্ধ' শব্দ দুটো একসাথে উচ্চারিত হয়। তাছাড়া, স্বাধীনতা এবং যুদ্ধের মাঝখানে স্পেস থাকলে উচ্চারণের সময় "বাংলাদেশের স্বাধীনতা, [এবং] যুদ্ধ"-এরকম একটা উচ্চারণগত সুযোগ থেকে যায়। তাই আমার মনে হয় শব্দটা "স্বাধীনতাযুদ্ধ" হবে। 'স্বাধীনতাযুদ্ধ' একটি সমাসবদ্ধ term বলে অনুমিত হচ্ছে। এব্যাপারে দৈনিক প্রথম আলো কী লিখছে, একটু দেখে নেয়া যেতে পারে। কারণ বাংলার ব্যাপারে বেশ কিছু নান্দনিক পরিবর্তন আমি প্রথম আলোতে দেখেছি। ...ব্যাপারটা ঠিক "মুক্তিযুদ্ধ" বলার মতো। 'মুক্তি' এবং 'যুদ্ধ' আলাদা আলাদা অর্থ প্রকাশ করলেও একত্রে "মুক্তিযুদ্ধ" শব্দটি সমাসবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন তথা মুক্তির জন্য করা যুদ্ধকে বোঝায়। আশা করি পরিষ্কার করতে পেরেছি। —মঈনুল ইসলাম (আলাপ * অবদান) ১৭:৪১, ২৬ ডিসেম্বর ২০১০ (ইউটিসি)

  • একথা ঠিক যে "স্বাধীনতাযুদ্ধ" একটি সমাসবদ্ধ পদ; কিন্তু সরকারীভাবে মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য যে সকল ক্ষেত্রে সন্নিহিত পদগুলো সমাসবদ্ধ করা হয় না। -Faizul Latif Chowdhury (আলাপ) ২০:৪৬, ২৯ ডিসেম্বর ২০১২ (ইউটিসি)
ধন্যবাদ। অনেক দেরিতে হলেও একটা গ্রহণযোগ্য উত্তর পেলাম। —মঈনুল ইসলাম (আলাপ * অবদান) ১৫:৫৬, ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ (ইউটিসি)

ছবি দেখাচ্ছে না কেন?[সম্পাদনা]

এই ভুক্তির গণহত্যা অংশে রায়ের বাজারের বধ্যভূমির ছবিটি দেখা যাচ্ছে না। চেষ্টা করেও ঠিক করতে পারলাম না। কেউ কি একটু দেখবেন?

'অপারেশন জ্যাকপট' নামীয় অনুচ্ছেদ অবলোপন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নামীয় নিবন্ধটির সুখপাঠ্যতা এবং বিষয়বস্তুর সৌষাম্যের প্রয়োজনে 'অপারেশন জ্যাকপট' নামীয় অতি দীর্ঘ অনুচ্ছেদটি অবলোপন করা হলো। অপসারিত আংশ নিচে সংরক্ষণ করা হলো। তবে সান্ত্বনা এই যে অপারেশন জ্যাকপট ইতোমধ্যে পৃথক নিবন্ধ প্রণয়ন করা হয়েছে।

অপারেশন জ্যাকপট[সম্পাদনা]

যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের শেষদিকে এসে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজানো হতে থাকে। একই সাথে একই সময়ে দুই সমুদ্র বন্দর ও দুই নদী বন্দরে আক্রমণ চালানোর জন্য চার সেক্টরের পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানো হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম ব্যাচকে চার স্থানে আক্রমণের উদ্দেশ্যে মোট চারটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। ৬০ জনের ২টি দল এবং ২০ জনের আরো ২টি দল। চারটি দলের চারজন লিডার ঠিক করে দেয়া হয়েছিল। টিম লিডারদের অপারেশন পরিচালনার জন্য শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল বিশেষ গোপনীয় পদ্ধতি যা টিমের অন্যান্য সদস্যদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।[১] টিম কমান্ডারদের বলা হয়েছিল যে, দুটি বাংলা গানকে সতর্ক সঙ্কেত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গান দুটি প্রচার করা হবে কলকাতা আকাশবানীর পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শ্রোতাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে সকাল ৬টা থেকে ৬:৩০ মিনিট অথবা রাত ১০:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১টায়। এই ফ্রিকোয়েন্সির নাম ও গান দুইটি শুধু টিমের কমান্ডারই জানতো[১০]। গানদুটি অথবা তাদের সঙ্কেত হলোঃ- ১ '। আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শশুর বাড়ি, আল্পনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া শিশু সংগীত। এটি হবে প্রথম সঙ্কেত, এর অর্থ হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২য় গান প্রচার হবে। এর মধ্যে আক্রমণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। '২.'আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান, বদলে চাইনি প্রতিদান পংকজ মল্লিকের গাওয়া রবীন্দ্র সংগীত। এটি ২য় এবং চূড়ান্ত সঙ্কেত, অর্থাৎ সুস্পষ্ট নির্দেশ যে ঐ রাতে যে ভাবেই হোক আক্রমণ করতেই হবে।[২] [৩]

দলগুলোর গ্রুপ লিডারদের নাম ও তাদের গন্তব্যগুলো হলঃ-[সম্পাদনা]

গ্রুপ ১- কমান্ডার চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরঃ সাবমেরিনার আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী। সদস্য সংখ্যাঃ ৬০ । গন্তব্যঃ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর'

গ্রুপ ২- কমান্ডার মংলা সমুদ্র বন্দরঃ নৌ- কমানডো আমিনুর রহমান,খসরু I সদস্য সংখ্যাঃ ২৬০ ।(৬০জন নৌ কমানডো ও ২০০ জন সি আন্ড সি কমান্ডো ) গন্তব্যঃ মংলা সমুদ্র বন্দর ।

গ্রুপ ৩- কমান্ডার চাঁদপুর নদী বন্দরঃ সাবমেরিনার বদিউল আলম। সদস্য সংখ্যাঃ ২০ । গন্তব্যঃ চাঁদপুর নদী বন্দর I

গ্রুপ ৪- কমান্ডার নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরঃ সাবমেরিনার আবদুর রহমান। সদস্য সংখ্যাঃ ২০। গন্তব্যঃ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর[৪]

যাত্রা শুরু হয়েছিল পলাশির হরিনা ক্যাম্প থেকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল, তারা একযোগে পৌছে যাবেন স্ব স্ব এলাকা চট্টগ্রাম,মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ।তারা যাত্রা করার সময় তাদেরকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র দিয়ে দেয়া হয়। প্রত্যেক নৌ-কমান্ডোকে একটি করে লিমপেট মাইন,ছুরি,একজোড়া সাঁতারের ফিন আর কিছু শুকনো খাবার দেয়া হয়। প্রতি তিন জনের জন্য একটি করে স্টেনগান এবং কমানডারদের দেয়া হয় একটি করে ট্রানজিস্টার। অপারেশনের দিন ধার্য করা হয়েছিল ১৫ আগস্ট '১৯৭১ I

এখানে অপারশনগুলোর বর্ননা দেয়া হলঃ

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর' অপারেশন[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন পরিচালিত হয় ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে।

হরিনা ক্যাম্প থেকে আগত ৬০ জনের দলকে ২০ জন করে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। ১ ও ২ নং দল তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট বেইজ ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং ১৪ আগস্ট তারা প্রথম গানের সংকেত পায়। এই সংকেত পাবার পর তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কর্ণফুলী নদীর পূর্বতীরে চরলক্ষ্যায় তাদের বেইজ ক্যাম্পে পৌছায়। ৩য় দলটির তখনো কোন খবর পাওয়া যায় নি। এরপর ১৫ আগস্ট তারা ট্রানজিস্টারে চূড়ান্ত সংকেত পায়, এবং অপারেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এ অপারেশনে ৩১ জন কমান্ডো যোদ্ধা অংশ নেয়। ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে রাত ১টায় নৌ-কমান্ডোরা তাদের অপারেশনের জন্য যাত্রা করে। রাত ১টা ১৫ তে তারা পানিতে নেমে জাহাজের উদ্দেশ্যে সাঁতরানো শুরু করে, এবং বেশ দ্রুততার সাথে নিজ নিজ বাছাইকৃত টার্গেট জাহাজসমূহের গায়ে মাইন লাগিয়ে সাঁতার কেটে সরে পরে। রাত ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর একে একে সব গুলো মাইন বিস্ফোরিত হয়। এ সফল অপারেশনে তিনটি বড় অস্ত্রবাহী জাহাজ এবং বড় জাহাজ গুলো হলোঃ এম ভি হরমুজ। এটি ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ৯৯১০ টন অস্ত্রসম্ভারবাহী এই জাহাজটি ১৩ নং জেটিতে নোঙর করা ছিল। এম ভি আল-আব্বাস। এটি ১০৪১৮ টন সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে ৯ আগস্ট ১২ নং জেটিতে অবস্থান নেয়। ওরিয়েন্ট বার্জ নং ৬ । এটি ৬২৭৬ টন অস্ত্র,গোলাবারুদ নিয়ে ফিস হারবার জেটির সামনে অবস্থান করছিল

মংলা সমুদ্র বন্দর অপারেশন[সম্পাদনা]

২৭শে জুলাই ১৯৭১ সনে,৬০ জন নৌ- কমান্ডো ও ২০০ জন বাংদেশী সি আন্ড সি বিশেষ কমান্ডো দল আমিনুর রহমান,খসরুর নেতৃত্বে ভারতের পোরট কানিং মাতলার থেকে মংলা অপারেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে Iসুন্দর বনের গভীর জংগল পাড়ি দিয়ে কমান্ডো দলটি ১৩ ই আগস্ট ১৯৭১ সনে সন্ধা ৬ টায় মংলা বন্দর এ পৌঁছায় I ২৬০ জনের কমান্ডো দলটি মংলা বন্দর ও ডাংমারি বিলের পিছনে, পরিতাক্তো জমিদার বাড়িতে অবস্তান নেয়I সেখান থেকে মংলার দুরত্ব ডাংমারি বিলের মাঝ দিয়ে ৬ মাইল,নৌকায় পৌঁছোতে সময় লাগে ১ঘনটা I ১৫ই আগস্ট,৭১ এ রেডিও মারফত একশন গান শোনার পর কমান্ডোরা গায়বি যানযায় অংশ নেয় এবং গায়বি যানাযা শেষে পরম করুনাময় আল্লাহ`র কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদের ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল অপারেশন সাফল্যের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়I ঠিক রাত ১২টায় কমান্ডোরা ১৫টি নৌকায় মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে Iমংলায় পৌঁছোনোর শেষ সময় নিরধারিত ছিল রাত ২ টা কিন্তু পথ পরিদরশকের ভুল পরিচালনায় কমানডোরা নিরধারিত সময়ের অনেক পরে মংলা বন্দরে পৌঁছায়I ইতি মধ্য অপারেশনের নকশা মাফিক বাংলাদেশের সব নদি ও সমুদ্র বন্দর এ অপারেশন শেষI এ অপারেশন শুধু মাত্র জীবনের ঝুকিই নয় বরং মংলার ১৬ আগসট,৭১ ভোরের এ অপারেশন ছিল সরাসরি একটি সুইসাইড একশান I সব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে ভোর ৪.৩০ মিনিটে মংলা অপারেশন শুরু হয়,অপারেশন চলা কালে ২০০ জন সি আন্ড সি বিশেষ কমান্ডো দল ,হেভি মেশিন গান,মেশিন গান,এনরগা সহকারে ৩ জনার ছোট ছোট দল করে, ৬৬টি উপদলে বিভক্ত হয়ে , নৌ- কমান্ডোদের ছাওনি দিতে ( কভারিং দিতে) মংলা বাঁধের পিছনে অবস্তান নেনI অপারেশন চলা কালে, সি আন্ড সি কমান্ডো দলের উপ -কমান্ডার জনাব রাজা ও জনাব খিজির জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌ- কমান্ডোদের সহোযোগিতায় মেশিন গান নিয়ে পশুর নদীর হাটু পানিতে নেমে আসেন I সময় এর অভাবে শুধুমাত্র ২৪ জন নৌ- কমানডো এ অভিযানে অংশ নিতে পেরেছিলেন I ৬টি উপদলে বিভক্ত হয়ে ২৪জন নৌ-কমান্ডো ৬ টি বিদেশী জাহাজে মাইন লাগন,ভোর ৬-৩০ মিনিট থেকে নৌ- কমান্ডোদের লাগানো মাইন বিকট শব্দ করে ফাটতে শুরু করেI ৩০ মিনিটের মধ্যেই পাকিস্তান বিমান বাহিনির ৪টি বিমান মংলা বন্দরের উপরে ঘুরতে দেখা যায়I Iআক্রান্ত জাহজ গুলির মধ্য একটি সোমালিয়ান,একটি মারকিন যুক্তরাষট্রের,২টি চায়নিজ,১টি জাপানি ও ১টি পাকিস্তানী জাহাজ I এ অপারেশনে আক্রান্ত মোট ৬টি বিদেশী জাহাজ ই ধ্বংস হয় এবং ৩০,০০০ হাজার টন গোলা-বারুদ ও যুদ্ধের সরঞ্জাম সহকারে ধীরে ধীরে পশুর নদীতে নিমজ্জিত হয় [৫]I মংলা অপারেশন কমান্ডার আমিনুর রহমান,খসরু ও আরও ২ জন নৌ- কমান্ডো এ অপারেশনে মংলা বন্দর এর অতিরিক্ত বাধা পার হয়ে অসীম সাহসিকতার সাথে সোমালিয়ান ৭,০০০ হাজার টনের অস্ত্রসম্ভারবাহী জাহাজ এস,এস,লাইটং এ মাইন লাগান এবং এস,এস,লাইটংI কে ধ্বংস করেন I[৬]

চাঁদপুর নদী বন্দর অপারেশন[সম্পাদনা]

এটিও ১৯৭১ এর ১৫ আগস্ট মধ্যরাত বা ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে হয়েছিল। এ অপারেশনে ১৮জন নৌ-কমান্ডো অংশ নেন। এ গ্রুপের ১৮ জনকে তিনজন করে মোট ৬টি ছোট দলে ভাগ করা হয়। এই অভিযানে মাইন বিস্ফোরণে ২টি স্টিমার, গমবাহী একটি জাহাজ সহ ছোট বড় আরো অনেকগুলো নৌযান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়I

নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর অপারেশন[সম্পাদনা]

এটিও ১৯৭১ এর ১৫ আগস্ট মধ্যরাত বা ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে হয়েছিলIএ অপারেশনে মোট ৪টি জাহাজ ও বেশ কয়েকটি নৌযান নৌ কমানডোরা ধংস করেনI শহরের মাঝে এ অপারেশনে কমানডোরা বিশেষ সাহসকতার পরিচয় দান করেনIএ অপারেশনে মোট ২০জন কমানডো অংশ নেনI ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ আগস্টের ঐ অপারেশন গুলোতেই প্রায় ২৬টি জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং আরো অনেক নৌযান ক্ষতিগ্রস্থ হয়I[৭] আগস্ট মাসের এসব অপারেশন ছাড়াও আগস্ট-নভেম্বর মাসব্যাপী আরো অনেকগুলো নৌ-কমান্ডো অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এসব অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হলঃ প্রায় সর্বমোট ৫০৮০০ টন জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিমজ্জিত। ৬৬০৪০ টন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত। এবং বেশ কিছু সংখ্যক পাকিস্তানি নৌযান বাংলাদেশী নৌ-কমান্ডোদের হস্তগত।[৮]

অপারেশনের মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

নৌ কমান্ড মিশনগুলোর সবগুলোই কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেনি । অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের পর পাহারা শক্তিশালী করায় চট্টগ্রামে আর কোন অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি[১৭], যার ফলে চারবার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ধ্বংস করার চেষ্টা করা হলেও তা বিফলে যায় । [৯] কয়েকটি কমান্ডো দল শত্রুপক্ষের এম্বুশের কবলে পড়ে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।[১০] দূর্ভাগ্য ও ভুল হিসাবের কারনেও কিছু অভিযান বিফল হয় । শত্রু[১১] পক্ষ তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় নারায়নগঞ্জ, বগুরা, ফরিদপুর এবং চট্টগ্রাম এর তেলের ডিপোগুলো স্যাবোটাজ করা সম্ভব হয়নি । যদিও পরবর্তীতে মুক্তিবাহিনি হেলিকপ্টার এবং টুইন অট্টার বিমানের সাহায্যে ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম এবং নারায়নগঞ্জের তেল ডিপো দুটো ধ্বংস করতে সক্ষম হয় ।

মোট ৫১৫ জন কমান্ডো সিটুপি (C2P) থেকে প্রশিক্ষন নেন । আটজন কমান্ডো শহীদ হন, ৩৪ জন আহত হন এবং আগস্ট-ডিসেম্বরের মাঝে ১৫ জন কমান্ডো শত্রুর হাতে ধরা পড়েন । এই ref>Md.Khaliliur Rahman;Mukti Juddhay Nou Avijan, Pages 268-270,আইএসবিএন ৯৮৪-৪৬৫-৯৪৯-১ ISBN বৈধ নয়</ref> সময় কালের ভেতর নৌ কমান্ডোরা প্রায় ১২৬ টি জাহাজ / কোস্টার/ ফেরি নষ্ট বা ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হন, এবং এক সূত্র মোতাবেক অগাস্ট-নভেম্বর ১৯৭১ এই সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৬৫টি বিভিন্ন ধরনের নৌযান (১৫ টি পাকিস্তানী জাহাজ, ১১ টি কোস্টার, ৭ টি গানবোট, ১১ টি বার্জ, ২ টি ট্যাংকার এবং ১৯টি সাধারন নৌযান) [১২]তারা ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হন । কমপক্ষে ১০০,০০০ টন নৌযান ডুবিয়ে বা বিকল করে দেয়া হয়, জেটি এবং বন্দর অকার্যকর করে দেয়া হয় এবং চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় । কোনো নিজস্ব সামরিক নৌযান না থাকা সত্তেও , নৌ কমান্ডোরা তদানিং পুর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) নৌপথকে একরকম নিজেদের দখলেই রেখেছিলো [১৩] অপারেশন 'হটপ্যান্টস

১৬ অগাস্ট এর অপারেশনের পর, সকল কমান্ডো ভারতে ফেরত যায় । এর পরে নৌকমান্ডোরা আর কোন পূর্ব-পরিকল্পিত এবং একযোগে অভিযান পরিচালনা করেননি । তার বদলে, ছোট ছোট দল পাঠানো হতো কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে, এবং সুযোগ পেলেই কমান্ডোরা সেখানে আক্রমন চালাতেন । মেজর জলিল, মুক্তিবাহিনীর সেক্টর ৯ এর কমান্ডার, অগাস্ট মাসে তত্কালীন বাংলাদেশ সরকার প্রধান তাজউদ্দীন আহমদ কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছিলেন একটি নৌ ইউনিট এর গোড়াপত্তন করার এবং সেই মোতাবেক কমান্ডার এম এন সামান্থ এর কাছে ৪টি গানবোটের জন্য আবেদন করেছিলেন । ১৯৭১ সালের অক্টোবার মাসে কোলকাতা বন্দর ট্রাস্ট ২টি টহলযান (অজয় এবং অক্ষয়) মুক্তিবাহিনীকে দান করে । ৩৮ লাখ ভারতীয় রুপি খরচায় নৌযান দুটি ক্ষিদিরপুর ডকইয়ার্ডে একমাস ধরে মেরামত করা হয় [২৫] যা পরবর্তীতে ২ টি কানাডিয়ান ৪০X৬০ মিমি বোফর গান এবং ২টি হালকা ইঞ্জিন এবং ৮ টি গ্রাউন্ড মাইন (ডেকের দুই পাশে চারটি করে) এবং উপরন্ত আরো ১১টি গ্রাউন্ড মাইন দ্বারা সজ্জিত করা হয় । তাদের নতুন নাম দেয়া হয় বিএনএস পদ্মা এবং পলাশ, এবং তাতে মোট ৪৪ জন বাংগালী নাবিক এবং ১২ জন নৌকমান্ডো ছিলেন । জাহাজ দুটোর নেতৃত্বে ছিলেন ভারতীর নৌবাহিনীর সদস্যরা এবং মুক্তিবাহিনীর কাছে তা পুরোপুরি হস্তান্তর করা হয় ৩০, অক্টোবর, ১৯৭১ সালে । প্রবাসী বাংলাদেশে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেইন কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে কোলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট চেয়ারম্যান মিঃ পি কে সেন জাহাজ দুটো কমিশন করেন। লেঃ কমান্ডার কেপি রায় এবং কে মিত্র ছিলেন জাহাজ দুটোর কমান্ডে নিয়োজিত । বাংলাদেশে নবগঠিত এই নৌবাহিনীর উদ্দেশ্য ছিলোI

 তথ্যসূত্র:—
  1. Shamsul Huda Chowdhury,Ekatorre Roangaon,Publisher Ahmed Publishing Ltd.আইএসবিএন ৯৮৪-১১০৫০৫-০ ISBN বৈধ নয়
  2. Rafiquel Islam,Lokho Praner Binimoye,Aononna Praksahoni, আইএসবিএন ৯৮৪-৪১২-০৩৩-০
  3. Khaliliur Rahman,Mukto Juddhay Nou Avijan,,iSBN 984-465-949-1
  4. Shamsul Huda Chowdhury,Ekatorre Roangaon,Publisher Ahmed Publishing Ltd.আইএসবিএন ৯৮৪-১১০৫০৫-০ ISBN বৈধ নয়
  5. Mir Mustak Ahmed Robi,Chetonai Ekattor Page 69,আইএসবিএন ৯৮৪-৭০২৬-০১১ ISBN বৈধ নয়-2
  6. Mihir,K.Roy,Vice Admiral,War In The Indian Ocean,Page 154,আইএসবিএন ১৮৯-৭৮২৯-১১-৬
  7. Md.Khaliliur Rahman;Mukti Juddhay Nou Avijan,আইএসবিএন ৯৮৪-৪৬৫-৯৪৯-১ ISBN বৈধ নয়
  8. Mohidul Hasan,Mul Dhara-71,The University Press Limited,আইএসবিএন ৯৮৪-০১-০১২১-৬ ISBN বৈধ নয়
  9. Md.Khaliliur Rahman;Mukti Juddhay Nou Avijan, Page 94,আইএসবিএন ৯৮৪-৪৬৫-৯৪৯-১ ISBN বৈধ নয়
  10. Md.Khaliliur Rahman;Mukti Juddhay Nou Avijan, Pages 196,198,217,আইএসবিএন ৯৮৪-৪৬৫-৯৪৯-১ ISBN বৈধ নয়
  11. Md.Khaliliur Rahman;Mukti Juddhay Nou Avijan, Pages 84,119,201ISBN 984-465-949-1
  12. Lt.Gen.Jacob,Surrender at Dhaka Page 91
  13. Mihir,K,Roy,Vice Admiral,War in the Indian Ocean,Page 114

মুক্তিযোদ্ধার ছবি প্রয়োজন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিবন্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মুখ সমরের ছবি প্রয়োজন। তদুপরি, কমপক্ষে তাজউদ্দিন এবং ওসমানীর ছবিও আবশ্যক। সমর সেনানায়কদের ছবিও দু-একটি থাকতে পারে। -Faizul Latif Chowdhury (আলাপ) ০৪:৩২, ৩১ জানুয়ারি ২০১৩ (ইউটিসি)

বর্জিত অংশ সংরক্ষণ[সম্পাদনা]

পূর্ব পাকিস্তানের দুর্দশার ইতিহাস[সম্পাদনা]

অর্থনৈতিক বৈষম্য[সম্পাদনা]

পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য ছিল। মোট জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ থাকত পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য।[১] পাকিস্তানের মূল শাসক গোষ্ঠী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের। পশ্চিমা শাসকেরা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তান চরম অর্থনৈতিক বঞ্চনার শিকার হয়। এ কারণে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পাকিস্তান সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে এবং মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বাধতে শুরু করে।

ভাষা আন্দোলন[সম্পাদনা]

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির গণমিছিল

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি অনুসন্ধান করে দেখা যায় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণমূলক আচরণ। কেবল অর্থনৈতিক শোষণ নয়, বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপরও নিপীড়ন শুরু হয় এবং এর প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় যখন পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা দেন "উর্দু এবং কেবলমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা"। সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীরা এই ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্যে এই আন্দোলন তীব্রতম রূপ ধারণ করে। এদিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ আরো অনেকে। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীকে শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে হয়। আজ পৃথিবীব্যাপী ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

সামরিক অসমতা[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে বাঙ্গালীরা অবহেলিত ছিল। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন অংশে সমগ্র বাহিনীর মাত্র ৫ শতাংশ ছিল বাঙ্গালী অফিসার এবং এদের মধ্যে অধিকাংশই প্রযুক্তিগত বা ব্যবস্থাপনার পদে ছিলেন। খুব অল্প সংখ্যক বাঙ্গালী অফিসার আদেশদানকারী পদ লাভের সুযোগ পেতেন। পশ্চিম পাকিস্তানীরা বিশ্বাস করত বাঙ্গালীরা পশতুন বা পাঞ্জাবীদের মত "সাহসী" নয়। পাকিস্তানের বাজেটের একটি বিশাল অংশ সামরিক খাতে বরাদ্দ থাকলেও পূর্ব পাকিস্তান এর সুফল সামান্যই পেত। ১৯৬৫ সালে কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাঙ্গালীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক অসমতা[সম্পাদনা]

জনসংখ্যার দিক দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তর অংশ হওয়া সত্ত্বেও দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তান কুক্ষিগত করে রাখে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ক্ষমতার বণ্টন পূর্ব পাকিস্তানের অনুকূল হওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তান "এক ইউনিট তত্ত্ব" নামে এক অভিনব ধারণার সূত্রপাত করে, যেখানে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তান একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের ভোটের ভারসাম্য আনা। মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পাঞ্জাব প্রদেশ প্রস্তাব করে পাকিস্তানে সরাসরি জনসংখ্যার বন্টনের ভিত্তিতে ভোট অনুষ্ঠিত হোক, কারণ পাঞ্জাবিরা ছিল সিন্ধি, পশতুন, বালুচ বা পাকিস্তানের অন্য যেকোন গোত্রের তুলনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। একেবারে শুরু থেকেই পাকিস্তানে শাসনের নামে ষড়যন্ত্র শুরু হয়, আর এই ষড়যন্ত্রে মূল ভূমিকা পালন করে সামরিক বাহিনী। যখনই পূর্ব পাকিস্তানের কোন নেতা, যেমন খাজা নাজিমুদ্দিন, মোহাম্মদ আলী বগুড়া, অথবা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতেন, তখনই পশ্চিম পাকিস্তানীরা কোন না কোন অজুহাতে তাদের পদচ্যুত করত। নানারকম টালবাহানা করে জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা দখল করে নেন এবং দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পাকিস্তানে তার স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালু থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের এই অনৈতিক ক্ষমতা দখল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েই চলে।

১৯৭০-এর সাইক্লোনের প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর ভোলার সাইক্লোন পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে, সেই সাথে জোয়ারের কারণে প্রায় ৩,০০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়। প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও এটিকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হারিকেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক সরকার এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও জরুরি ত্রাণকার্য পরিচালনায় গড়িমসি করে। ঘূর্ণিঝড়ের পরও যারা বেঁচে ছিল তারা মারা যায় খাবার আর পানির অভাবে। ঘূর্ণিঝড়ের এক সপ্তাহ পরে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান স্বীকার করে সরকার দুর্যোগের ভয়াবহতা বুঝতে না পারার কারণেই ত্রাণকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষগুলোর প্রতি পাকিস্তান সরকারের এমন নিষ্ঠুরতা দেখে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২৪শে নভেম্বর এক সভায় মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগ তোলেন এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেন। ইতিহাসে প্রথমবারের মত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা একটি দেশে গৃহযুদ্ধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

  1. পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চতুর্থ মেয়াদী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য উপদেষ্টা প্যানেলের রিপোর্ট।